১৮.মোক্ষযোগ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন

       ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..
১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন
 ১৫.পুরুষোত্তমযোগ........
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ...
১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ..
১২.ভক্তিযোগ.............
শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:- - দেখতে ক্লিক করুন  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:- - ক্লিক করুন  ১০.বিভূতিযোগ.......
শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:- -  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..
সুনির্বাচিত শ্লোক০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
০৬.ধ্যানযোগ........
প্রার্থনা০৫.কর্মসন্যাসযোগ
০৪.জ্ঞানযোগ......
০৩.কর্মযোগ........
০২.সাংখ্যযোগ.......
০১.অর্জুনবিষাদযোগ

কর্মষটক

ভক্তিষটক

জ্ঞানষটক

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

1:প্রকৃতিং পুরুষ 2: ইদং শরীরং 3ক্ষেত্রজ্ঞং চাপি. 4: তৎ ক্ষেত্রং যচ্চ 5: ঋষিভির্বহুধা 6: মহাভূতান্যহঙ্কারো
7:ইচ্ছা দ্বেষঃ সুখ 8: অমানিত্বমদম্ভিত্ব 9: ইন্দ্রিয়ার্থেষু 10:অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ 11:ময়ি চানন্যযোগেন 12:অধ্যাত্মজ্ঞাননিত্যত্ব
13:জ্ঞেয়ং যত্তৎপ্র 14:সর্বতঃ পাণিপাদং 15:সর্বেন্দ্রিয়গুণাভাসং 16:বহিরন্তশ্চ ভূতা 17: অবিভক্তং চ 18: জ্যোতিষামপি
19: ইতি ক্ষেত্রং 20: প্রকৃতিং পুরুষং 21: কার্যকারণকর্তৃত্বে 22: পুরুষঃ প্রকৃতিস্থ 23: উপদ্রষ্টানুমন্তা চ 24:য এবং বেত্তি পুরু
25: ধ্যানেনাত্মনি 26:অন্যে ত্বেবমজানন্ত 27:যাবৎ সংজায়তে 28:সমং সর্বেষু ভূতে 29: সমং পশ্যন্ হি 30:প্রকৃত্যৈব চ
31:যদা ভূতপৃথগ্ 32:অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ 33:যথা সর্বগতং 34:যথা প্রকাশয়ত্যে 35:ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞয়োরেব
শ্লোক: . .

অর্থ:- . . .

ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ - এর সার সংক্ষেপ:-
পোস্টটি বা এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ




শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
অর্জুন উবাচ
প্রকৃতিং পুরুষং চৈব ক্ষেত্রং ক্ষেত্রজ্ঞমেব চ ।
এতদ্ বেদিতু্মিচ্ছামি জ্ঞানং জ্ঞেয়ং চ কেশব ॥১॥

প্রকৃতিম্, পুরুষম্, চ, এব, ক্ষেত্রম্, ক্ষেত্রজ্ঞম্, এব, চ,
এতৎ, বেদিতু্ম্, ইচ্ছামি, জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, চ, কেশব ॥১॥
অর্থ:- অর্জুন বলিলেন- হে কেশব! আমি প্রকৃতি, পুরুষ, ক্ষেত্র, ক্ষেত্রজ্ঞ, জ্ঞান ও জ্ঞেয়- এই সমস্ত তত্ত্ব জানতে ইচ্ছা করি।
শ্লোক:2:
শ্রীভগবানুবাচ
ইদং শরীরং কৌন্তেয় ক্ষেত্রমিত্যভিধীয়তে ।
এতদ্ যো বেত্তি তং প্রাহুঃ ক্ষেত্রজ্ঞ ইতি তদ্বিদঃ ॥২॥

ইদম্, শরীরম্, কৌন্তেয়, ক্ষেত্রম, ইতি, অভিধীয়তে,
এতৎ, যঃ, বেত্তি, তম্, প্রাহুঃ, ক্ষেত্রজ্ঞঃ, ইতি, তৎ-বিদঃ ॥২॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে কৌন্তেয় ! এই শরীর ক্ষেত্র নামে অভিহিত এবং যিনি এই শরীরকে জানেন, তাঁকে ক্ষেত্রজ্ঞ বলা হয়।
শ্লোক:3:
ক্ষেত্রজ্ঞং চাপি মাং বিদ্ধি সর্বক্ষেত্রেষু ভারত ।
ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞয়োর্জ্ঞানং যত্তজ্ জ্ঞানং মতং মম ॥৩॥

ক্ষেত্রজ্ঞম্, চ, অপি, মাম্, বিদ্ধি, সর্বক্ষেত্রেষু, ভারত,
ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞয়োঃ, জ্ঞানম্, যৎ, তৎ, জ্ঞানম্, মতম্, মম ॥৩॥
অর্থ:- হে ভারত ! আমাকেই সমস্ত ক্ষেত্রের ক্ষেত্রজ্ঞ বলে জানবে এবং ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ সম্বন্ধে যে জ্ঞান, সেই জ্ঞানই আমার অভিমত।
শ্লোক:4:
তৎ ক্ষেত্রং যচ্চ যাদৃক্ চ যদ্বিকারি যতশ্চ যৎ ।
স চ যো যৎপ্রভাবশ্চ তৎ সমাসেন মে শৃণু ॥৪॥

তৎ, ক্ষেত্রম্, যৎ, চ, যাদৃক্, চ, যৎ-বিকারি, যতঃ, চ, যৎ,
সঃ, চ, যঃ, যৎ-প্রভাবঃ, চ, তৎ, সমাসেন, মে, শৃণু ॥৪॥
অর্থ:- সেই ক্ষেত্র কি, তার কি প্রকার, তার বিকার কি, তা কার থেকে উৎপন্ন হয়েছে, সেই ক্ষেত্রজ্ঞের স্বরূপ কি এবং তার প্রভাব কি, সেই সব সংক্ষেপে আমার কাছে শ্রবণ কর।
শ্লোক:5:
ঋষিভির্বহুধা গীতং ছন্দোভির্বিবিধৈঃ পৃথক্ ।
ব্রহ্মসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ ॥৫॥

ঋষিভিঃ, বহুধা, গীতম্, ছন্দোভিঃ, বিবিধৈঃ, পৃথক্,
ব্রহ্মসূত্র-পদৈঃ, চ, এব, হেতুমদ্ভিঃ, বিনিশ্চিতৈঃ ॥৫॥
অর্থ:- এই ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে।
শ্লোক:6:
মহাভূতান্যহঙ্কারো বুদ্ধিরব্যক্তমেব চ ।
ইন্দিয়াণি দশৈকং চ পঞ্চ চেন্দ্রিয়গোচরাঃ ॥৬॥

মহাভূতানি, অহঙ্কারঃ, বুদ্ধিঃ, অব্যক্তম্, এব, চ,
ইন্দিয়াণি, দশ, একম্, চ, পঞ্চ, চ, ইন্দ্রিয়-গোচরাঃ ॥৬॥
অর্থ:- পঞ্চ-মহাভূত, অহঙ্কার, বুদ্ধি, অব্যক্ত, দশ ইন্দিয় ও মন, ইন্দিয়ের পাঁচটি বিষয়, ইচ্ছা, দ্বেষ, সুখ, দুঃখ, সংঘাত অর্থাৎ পঞ্চমহাভূতের পরিণামরূপ দেহ, চেতনা ও ধৃতি- এই সমস্ত বিকারযুক্ত ক্ষেত্র সংক্ষেপে বর্ণিত হল।
শ্লোক:7:
ইচ্ছা দ্বেষঃ সুখং দুঃখং সংঘাতশ্চেতনা ধৃতিঃ ।
এতৎ ক্ষেত্রং সমাসেন সবিকারমুদাহৃতম্॥৭॥

ইচ্ছা, দ্বেষঃ, সুখম্, দুঃখম্, সংঘাতঃ, চেতনা, ধৃতিঃ,
এতৎ, ক্ষেত্রম্, সমাসেন, সবিকারম্, উদাহৃতম্॥৭॥
শ্লোক:8:
অমানিত্বমদম্ভিত্বমহিংসা ক্ষান্তিরার্জবম্ ।
আচার্যোপাসনং শৌচং স্থৈর্যমাত্মবিনিগ্রহঃ ॥৮॥

অমানিত্বম্, অদম্ভিত্বম্, অহিংসা, ক্ষান্তিঃ, আর্জবম্,
আচার্য-উপাসনম্, শৌচম্, স্থৈর্যম্, আত্মবিনিগ্রহঃ ॥৮॥
শ্লোক:9:
ইন্দ্রিয়ার্থেষু বৈরাগ্যমনহংঙ্কার এব চ ।
জন্মমৃত্যুজরাব্যাধিদুঃখদোষানুদর্শনম্ ॥৯॥

ইন্দ্রিয়-অর্থেষু, বৈরাগ্যম্, অনহংঙ্কারঃ, এব, চ,
জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ-দোষ-অনুদর্শনম্ ॥৯॥
শ্লোক:10:
অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহাদিষু ।
নিত্যং চ সমচিত্তত্বমিষ্টানিষ্টোপপত্তিষু ॥১০॥

অসক্তিঃ, অনভিষ্বঙ্গঃ, পুত্র-দার-গৃহ-আদিষু,
নিত্যম্, চ, সম-চিত্তত্বম্, ইষ্ট-অনিষ্ট-উপপত্তিষু ॥১০॥
শ্লোক:11:
ময়ি চানন্যযোগেন ভক্তিরব্যভিচারিণী ।
বিবিক্তদেশসেবিত্বমরতির্জনসংসদি ॥১১॥

ময়ি, চ, অনন্যযোগেন, ভক্তিঃ, অব্যভিচারিণী,
বিবিক্ত-দেশ-সেবিত্বম্, অরতিঃ, জনসংসদি ॥১১॥
শ্লোক:12:
অধ্যাত্মজ্ঞাননিত্যত্বং তত্ত্বজ্ঞানার্থদর্শনম্ ।
এতজ্ জ্ঞানমিতি প্রোক্তমজ্ঞানং যদতোহন্যথা ॥১২॥

অধ্যাত্ম-জ্ঞান-নিত্যত্বম্, তত্ত্বজ্ঞান-অর্থ-দর্শনম্,
এতৎ, জ্ঞানম্, ইতি, প্রোক্তম্, অজ্ঞানম্, যৎ, অতঃ, অন্যথা ॥১২॥
অর্থ:- অমানিত্ব, দম্ভশূন্যতা, অহিংসা, সহিষ্ণুতা, সরলতা, সদ্ গুরুর সেবা, শৌচ, স্থৈর্য, আত্মসংযম্, ইন্দ্রিয়-বিষয়ে বৈরাগ্য, অহঙ্কারশূন্যতা, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ আদির দোষ দর্শন, স্ত্রী-পুত্রাদির সুখ-দুঃখে ঔদাসীন্য, সর্বদা সমচিত্তত্ব, আমার প্রতি অনন্যা ও অব্যভিচারিণী ভক্তি, নির্জন স্থান প্রিয়তা, জনাকীর্ণ স্থানে অরুচি, অধ্যাত্ম জ্ঞানে নিত্যত্ববুদ্ধি এবং তত্ত্বজ্ঞানের প্রয়োজন অনুসন্ধান- এই সমস্ত জ্ঞান বলে কথিত হয় এবং এর বিপরীত যা কিছু তা সবই অজ্ঞান।
শ্লোক:13:
জ্ঞেয়ং যত্তৎপ্রবক্ষ্যামি য্জ্ জ্ঞাত্বামৃতমশ্নুতে ।
অনাদি মৎপরং ব্রহ্ম ন সত্তন্নাসদুচ্যতে ॥১৩॥

জ্ঞেয়ম্, যৎ, তৎ, প্রবক্ষ্যামি, য্ৎ, জ্ঞাত্বা, অমৃতম্, অশ্নুতে,
অনাদি, মৎপরম্, ব্রহ্ম, ন, সৎ, তৎ, ন, অসৎ, উচ্যতে ॥১৩॥
অর্থ:- আমি এখন জ্ঞাতব্য বিষয় সম্বন্ধে বলব, যা জেনে অমৃতত্ত্ব লাভ হয়। সেই জ্ঞেয় বস্তু অনাদি এবং আমার আশ্রিত। তাকে বলা হয় ব্রহ্ম এবং তা কার্য ও কারণের অতীত।
শ্লোক:14:
সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্ ।
সর্বতঃ শ্রুতিমৎল্লোকে সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি ॥১৪॥

সর্বতঃ-পাণি-পাদম্, তৎ, সর্বতঃ-হক্ষি-শিরঃ-মুখম্,
সর্বতঃ, শ্রুতিমৎ, লোকে, সর্বম্, আবৃত্য, তিষ্ঠতি ॥১৪॥
অর্থ:- তাঁর হস্ত, পদ, চক্ষু, মস্তক ও মুখ সর্বত্রই এবং তিনি সর্বত্রই কর্ণযুক্ত৷ জগতে সবকিছুকেই পরিব্যাপ্ত করে তিনি বিরাজমান।
শ্লোক:15:
সর্বেন্দ্রিয়গুণাভাসং সর্বেন্দ্রিয়বিবর্জিতম্ ।
অসক্তং সর্বভৃচৈব নির্গুণং গুণভোক্তৃ চ ॥১৫॥

সর্ব-ইন্দ্রিয়-গুণ-আভাসম্, সর্ব-ইন্দ্রিয়-বিবর্জিতম্,
অসক্তম্, সর্বভৃৎ, চ, এব, নিঃ-গুণম্, গুণভোক্তৃ, চ ॥১৫॥
অর্থ:- সেই পরমাত্মা সমস্ত ইন্দ্রিয়ের প্রকাশক, তবুও তিনি সমস্ত ইন্দ্রিয় বিবর্জিত। যদিও তিনি সকলের পালক তবুও তিনি সম্পূর্ণ অনাসক্ত। তিনি প্রকৃতির গুণের অতীত, তবুও তিনি সমস্ত গুণের ঈশ্বর।
শ্লোক:16:
বহিরন্তশ্চ ভূতানামচরং চরমেব চ ।
সুক্ষ্মত্বাত্তদবিজ্ঞেয়ং দূরস্থং চান্তিকে চ তৎ ॥১৬॥

বহিঃ, অন্তঃ, চ, ভূতানাম্, অচরম্, চরম্, এব, চ,
সুক্ষ্মত্বাৎ, তৎ, অবিজ্ঞেয়ম্, দূরস্থম্, চ, অন্তিকে, চ, তৎ ॥১৬॥
অর্থ:- সেই পরমতত্ত্ব সমস্ত ভূতের অন্তরে ও বাহিরে বর্তমান। তাঁর থেকেই সমস্ত চরাচর; অত্যন্ত সূক্ষ্মতা হেতু তিনি অবিজ্ঞেয়। যদিও তিনি বহু দূরে অবস্থিত, তবুও তিনি সকলের অত্যন্ত নিকটে।
শ্লোক:17:
অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্ ।
ভূতভর্তৃ চ তজ্ জ্ঞেয়ং গ্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ ॥১৭॥

অবিভক্তম্, চ, ভূতেষু, বিভক্তম্, ইব, চ, স্থিতম্,
ভূতভর্তৃ, চ, তৎ, জ্ঞেয়ম্, গ্রসিষ্ণু, প্রভবিষ্ণু, চ ॥১৭॥
অর্থ:- পরমাত্মাকে যদিও সমস্ত ভূতে বিভক্তরূপে বোধ হয়, কিন্তু তিনি অবিভক্ত। যদিও তিনি সর্বভূতের পালক, তবুও তাঁকে সংহার-কর্তা ও সৃষ্টিকর্তা বলে জানবে।
শ্লোক:18:
জ্যোতিষামপি তজ্জ্যোতিস্তমসঃ পরমুচ্যতে ।
জ্ঞানং জ্ঞেয়ং জ্ঞানগম্যং হৃদি সর্বস্য বিষ্ঠিতম্ ॥১৮॥

জ্যোতিষাম্, অপি, তৎ, জ্যোতিঃ, তমসঃ, পরম্, উচ্যতে,
জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, জ্ঞানগম্যম্, হৃদি, সর্বস্য, বিষ্ঠিতম্ ॥১৮॥
অর্থ:- তিনি সমস্ত জ্যোতিষ্কের পরম জ্যোতি৷ তাঁকে সমস্ত অন্ধকারের অতীত অব্যক্ত স্বরূপ বলা হয়। তিনিই জ্ঞান, তিনিই জ্ঞেয় এবং তিনিই জ্ঞানগম্য তিনি সকলের হৃদয়ে অবস্থিত।
শ্লোক:19:
ইতি ক্ষেত্রং তথা জ্ঞানং জ্ঞেয়ং চোক্তং সমাসতঃ ।
মদ্ভক্ত এতদ্বিজ্ঞায় মদ্ভাবায়োপপদ্যতে ॥১৯॥

ইতি, ক্ষেত্রম্, তথা, জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, চ, উক্তম্, সমাসতঃ,
মৎ-ভক্তঃ, এতৎ, বিজ্ঞায়, মৎ-ভাবায়, উপপদ্যতে ॥১৯॥
অর্থ:- এভাবেই ক্ষেত্র, জ্ঞান ও জ্ঞেয়- এই তিনটি তত্ত্ব সংক্ষেপে বলা হল। আমার ভক্তই কেবল এই সমস্ত বিদিত হয়ে আমার ভাব লাভ করেন।
শ্লোক:20:
প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি ।
বিকারাংশ্চ গুণাংশ্চৈব বিদ্ধি প্রকৃতিসম্ভবান্ ॥২০॥

প্রকৃতিম্, পুরুষম্, চ, এব, বিদ্ধি, অনাদী, উভৌ, অপি,
বিকারান্, চ, গুণান্, চ, এব, বিদ্ধি, প্রকৃতিসম্ভবান্ ॥২০॥
অর্থ:- প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি বলে জানবে। তাদের বিকার ও গুণসমূহ প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে।
শ্লোক:21:
কার্যকারণকর্তৃত্বে হেতুঃ প্রকৃতিরুচ্যতে ।
পুরুষঃ সুখদুঃখানাং ভোক্তৃত্বে হেতুরুচ্যতে ॥২১॥

কার্য-কারণ-কর্তৃত্বে, হেতুঃ, প্রকৃতিঃ, উচ্যতে,
পুরুষঃ, সুখদুঃখানাম্, ভোক্তৃত্বে, হেতুঃ, উচ্যতে ॥২১॥
অর্থ:- সমস্ত জড়ীয় কার্য ও কারণের কর্তৃত্ত্ব বিষয়ে প্রকৃতিকে হেতু বলা হয়, তেমনই জড়ীয় সুখ ও দুঃখের ভোগ বিষয়ে জীবকে হেতু বলা হয় ।
শ্লোক:22:
পুরুষঃ প্রকৃতিস্থো হি ভুঙ্ ক্তে প্রকৃতিজান্ গুণান্ ।
কারণং গুণসঙ্গোহস্য সদসদ্ যোনিজন্মসু ॥২২॥

পুরুষঃ, প্রকৃতিস্থঃ, হি, ভুঙ্ ক্তে, প্রকৃতিজান্, গুণান্,
কারণম্, গুণসঙ্গঃ, অস্য, সৎ-অসৎ-যোনি-জন্মসু ॥২২॥
অর্থ:- জড়া প্রকৃ্তিতে অবস্তিত হয়ে জীব প্রকৃতিজাত গুণসমূহ ভোগ করে। প্রকৃতির গুণের সঙ্গবসতই তার সৎ ও অসৎ যোনিসমূহে জন্ম হয়।
শ্লোক:23:
উপদ্রষ্টানুমন্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ ।
পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহেহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ ॥২৩॥

উপ-দ্রষ্টা, অনুমন্তা, চ, ভর্তা, ভোক্তা, মহা-ঈশ্বরঃ,
পরম-আত্মা, ইতি, চ, অপি, উক্তো, দেহে, অস্মিন্, পুরুষঃ, পরঃ ॥২৩॥
অর্থ:- এই শরীরে আর একজন পরম পুরুষ রয়েছেন, যিনি হচ্ছেন উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং তাঁকে পরমাত্মাও বলা হয়।
শ্লোক:24:
য এবং বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ ।
সর্বথা বর্তমানোপি ন স ভূয়োহভিজায়তে ।২৪॥

যঃ, এবম্, বেত্তি, পুরুষম্, প্রকৃতিম্, চ, গুণৈঃ, সহ,
সর্বথা, বর্তমানঃ, অপি, ন, সঃ, ভূয়ঃ, অভিজায়তে ।২৪॥
অর্থ:- যিনি এভাবেই পুরুষকে এবং গুণাদি সহ জড়া প্রকৃতিকে অবগত হন, তিনি জড় জগতে বর্তমান হয়েও পুনঃ পুনঃ জন্মগ্রহণ করেন না।
শ্লোক:25:
ধ্যানেনাত্মনি পশ্যন্তি কেচিদাত্মানমাত্মনা ।
অন্যে সাংখ্যেন যোগেন কর্মযোগেন চাপরে ॥২৫॥

ধ্যানেন, আত্মনি, পশ্যন্তি, কেচিৎ, আত্মানম্, আত্মনা,
অন্যে, সাংখ্যেন, যোগেন, কর্মযোগেন, চ, অপরে ॥২৫॥
অর্থ:- কেউ কেউ পরমাত্মাকে অন্তরে ধ্যানের দ্বারা দর্শন করেন, কেউ সাংখ্য-যোগের দ্বারা দর্শন করেন এবং অন্যেরা কর্মযোগের দ্বারা দর্শন করেন।
শ্লোক:26:
অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বান্যেভ্য উপাসতে।
তেহপি চাতিতরন্ত্যেব মৃত্যুং শ্রুতিপরায়ণাঃ ॥২৬॥

অন্যে, তু, এবম্, অজানন্তঃ, শ্রুত্বা, অন্যেভ্যঃ, উপাসতে,
তে, অপি, চ, অতিতরন্তি, এব, মৃত্যুম্, শ্রুতিপরায়ণাঃ ॥২৬॥
অর্থ:- অন্য কেউ কেউ এভাবেই না জেনে অন্যদের কাছ থেকে শ্রবণ করে উপাসনা করেন৷ তাঁরাও শ্রবণ-পরায়ণ হয়ে মৃত্যুময় সংসার অতিক্রম করেন।
শ্লোক:27:
যাবৎ সংজায়তে কিঞ্চিৎ সত্ত্বং স্থাবরজঙ্গমম্।
ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞসংযোগাৎ তদ্বিদ্ধি ভরতর্ষভ ॥২৭॥

যাবৎ, সংজায়তে, কিঞ্চিৎ, সত্ত্বম্, স্থাবর-জঙ্গমম্,
ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ-সংযোগাৎ, তৎ, বিদ্ধি, ভরত-ঋষভ ॥২৭॥
অর্থ:- হে ভারতশ্রেষ্ঠ ! স্থাবর ও জঙ্গম যা কিছু অস্তিত্ত্ব আছে, তা সবই ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের সংযোগ থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে জানবে।
শ্লোক:28:
সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্ ।
বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি ॥২৮॥

সমম্, সর্বেষু, ভূতেষু, তিষ্ঠন্তম্, পরম-ঈশ্বরম্ ,
বিনশ্যৎসু, অবিনশ্যন্তম্, যঃ, পশ্যতি, সঃ, পশ্যতি ॥২৮॥
অর্থ:- যিনি সর্বভূতে সমানভাবে অবস্থিত বিনাশশীল দেহের মধ্যেও অবিনাশী পরমাত্মাকে দর্শন করেন, তিনিই য্থার্থ দর্শন করেন।
শ্লোক:29:
সমং পশ্যন্ হি সর্বত্র সমবস্থিতমীশ্বরম্।
ন হিনস্ত্যাত্মনাত্মানং ততো যাতি পরাং গতিম্ ॥২৯॥

সমম্, পশ্যন্, হি, সর্বত্র, সম্,-অবস্থিতম্, ঈশ্বরম্,
ন, হিনস্তি, আত্মনা, আত্মানম্, ততঃ, যাতি, পরাম্, গতিম্ ॥২৯॥
অর্থ:- যিনি সর্বত্র সমভাবে অবস্থিত পরমাত্মাকে দর্শন করেন, তিনি কখনও মনের দ্বারা নিজেকে অধঃপতিত করেন না। এভাবেই তিনি পরম গতি লাভ করেন।
শ্লোক:30:
প্রকৃত্যৈব চ কর্মাণি ক্রিয়মাণানি সর্বশঃ ।
যঃ পশ্যতি তথাত্মানমকর্তারং স পশ্যতি ॥৩০॥

প্রকৃত্যা, এব, চ, কর্মাণি, ক্রিয়মাণানি, সর্বশঃ,
যঃ, পশ্যতি, তথা আত্মানম্, অকর্তারম্, সঃ, পশ্যতি ॥৩০॥
অর্থ:- যিনি দর্শন করেন যে, দেহের দ্বারা কৃত সমস্ত কর্মই প্রকৃতির দ্বারা সম্পাদিত হয় এবং আত্মা হচ্ছে অকর্তা, তিনিই যথাযথভাবে দর্শন করেন।
শ্লোক:31:
যদা ভূতপৃথগ্ ভাবমেকস্থমনুপশ্যতি।
তত এব চ বিস্তারং ব্রহ্ম সম্পদ্যতে তদা ॥৩১॥

যদা, ভূত-পৃথগ্-ভাবম্, একস্থম্, অনু-পশ্যতি,
ততঃ, এব, চ, বিস্তারম্, ব্রহ্ম, সম্পদ্যতে, তদা ॥৩১॥
অর্থ:- য্খন বিবেকী পুরুষ জীবগণের পৃথক পৃথক অস্তিত্বকে একই প্রকৃতিতে অবস্থিত এবং একই প্রকৃতি থেকেই তাদের বিস্তার দর্শন করেন, তখন তিনি ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হন।
শ্লোক:32:
অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ।
শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে ॥৩২॥

অনাদিত্বাৎ, নির্গুণত্বাৎ, পরম-আত্মা, অয়ম্, অব্যয়ঃ,
শরীরস্থঃ, অপি, কৌন্তেয়, ন, করোতি, ন, লিপ্যতে ॥৩২॥
অর্থ:- ব্রহ্মভাব অবস্থায় জীব তখন দর্শন করেন যে, অব্যয় এই আত্মা অনাদি, নির্গুণ ও জড়া প্রকৃতির অতীত। হে কৌন্তেয় ! জড় দেহে অবস্থান করলেও আত্মা কোন কিছু করে না এবং কোন কিছুতেই লিপ্ত হয় না।
শ্লোক:33:
যথা সর্বগতং সৌক্ষ্ম্যাদাকাশং নোপলিপ্যতে ।
সর্বত্রাবস্থিতো দেহে তথাত্মা নোপলিপ্যতে ॥৩৩॥

যথা, সর্বগতম্, সৌক্ষ্ম্যাৎ, আকাশম্, ন, উপলিপ্যতে,
সর্বত্র, অবস্থিতঃ, দেহে, তথা, আত্মা, ন, উপলিপ্যতে ॥৩৩॥
অর্থ:- আকাশ যেমন সর্বগত হয়েও সূক্ষ্মতা হেতু অন্য বস্তুতে লিপ্ত হয় না, তেমনই ব্রহ্ম দর্শন-সম্পন্ন জীবাত্মা দেহে অবস্থিত হয়েও দেহধর্মে লিপ্ত হন না।
শ্লোক:34:
যথা প্রকাশয়ত্যেকঃ কৃৎস্নং লোকমিমং রবিঃ ।
ক্ষেত্রং ক্ষেত্রী তথা কৃৎস্নং প্রকাশয়তি ভারত ॥৩৪॥

যথা, প্রকাশয়তি, একঃ, কৃৎস্নম্, লোকম্, ইমম্, রবিঃ,
ক্ষেত্রম্, ক্ষেত্রী, তথা, কৃৎস্নম্, প্রকাশয়তি, ভারত ॥৩৪॥
অর্থ:- হে ভারত ! এক সূর্য যেমন সমগ্র জগৎকে প্রকাশ করে, সেই রকম ক্ষেত্রী আত্মাও সমগ্র ক্ষেত্রকে প্রকাশ করে।
শ্লোক:35:
ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞয়োরেবমন্তরং জ্ঞানচক্ষুষা ।
ভূতপ্রকৃতিমোক্ষং চ যে বিদুর্যান্তি তে পরম্ ॥৩৫॥

ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞয়োঃ, এবম্, অন্তরম্, জ্ঞানচক্ষুষা,
ভূত-প্রকৃতি-মোক্ষম্, চ, যে, বিদুঃ, যান্তি, তে, পরম্ ॥৩৫॥
অর্থ:- যাঁরা এভাবেই জ্ঞানচক্ষুর দ্বারা ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের পার্থক্য জানেন এবং জড়া প্রকৃতির বন্ধন থেকে জীবগণের মুক্ত হওয়ার পন্থা জানেন, তাঁরা পরম গতি লাভ করেন।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগো' নাম ত্রয়োদশোঽধ্যায়ঃ ॥১৩॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৩শ অধ্যায়:- ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
          পুরুষ ও প্রকৃতি, দেহ ও আত্মা, জ্ঞান ও জ্ঞেয় ইত্যাদি তত্ত্বের সম্যক ধারণা ব্যতিত পরমেশ্বরের সমগ্র স্বরূপ জানা যায় না। তাই অধ্যায়ের প্রথম শ্লোকেই অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সমীপে জানতে চাইলেন- প্রকৃতি ও পুরুষ, ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ এবং জ্ঞান ও জ্ঞেয় বস্তু কী – সে সম্পর্কে। তদুত্তোরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, ভগবানই পুরুষ এবং তাঁর শক্তিই প্রকৃতি নামে খ্যাত। আর এই দেহ হচ্ছে ক্ষেত্র এবং এদেহ সম্পর্কে যিনি সম্যকরূপে জানেন তিনিই ক্ষেত্রজ্ঞ। এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এ দেহ সম্পর্কে একজন দেহধারীও সম্যকরূপে জানতে পারেন। হ্যা, কোন দেহধারী দেহ সম্পর্কে সম্যকভাবে জ্ঞাত হলে তিনিও ক্ষেত্রজ্ঞ হতে পারেন। তবে বিষয়টি হচ্ছে যে একজন দেহধারী হয়তো তার নিজ দেহ সম্পর্কে ভাল জানতে পারেন, কিন্তু নিখিল বিশ্বের পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
নিখিল বিশ্বের সকল দেহের সম্যক জ্ঞান একমাত্র পরমেশ্বর ছাড়া অন্য কারো থাকা সম্ভব নয়। তাই পরমেশ্বর ভগবানই প্রকৃত ক্ষেত্রজ্ঞ। অতপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জ্ঞান ওজ্ঞেয় সম্পর্কে বললেন, প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগে থেকেই জীবের উৎপত্তি এবং এই জগৎ-জীবের বাইরে এবং ভেতরেও অন্তরআত্মা রূপে তিনি বিরাজিত। কাজেই সেই পুরুষ ও প্রকৃতি তথা ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ সম্পর্কিত যে জ্ঞান তাকেই জ্ঞান বলে এবং প্রকৃতির অন্তরাত্মারূপী যে ব্রহ্মসত্ত্বা- তাই হচ্ছে জ্ঞাতব্য বিষয় বা জ্ঞেয়। এই প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি এবং তাদের বিকার ও গুণসমূহ প্রকৃতি হতেই উৎপন্ন। জড়া প্রকৃতিতে অবস্থিত হয়ে জীব প্রকৃতিজাত গুণসমূহ ভোগ করে। প্রকৃতির গুণের সঙ্গবশতঃই তার সৎ ও অসৎ যোনিসমূহে জন্ম হয়ে থাকে। এই শরীরে আর একজন আছেন, যিনি হচ্ছেন উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং তাকে পরমাত্মাও বলা হয়। যিনি এই পরমাত্মাকে এবং জড়া প্রকৃতি সম্পর্কে সম্যকরূপে জ্ঞাত হন, তিনিই জন্ম-মৃত্যু অতিক্রম করে চিরমুক্তি লাভ করেন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন