১৮.মোক্ষযোগ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন

       ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..
১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন
 ১৫.পুরুষোত্তমযোগ........
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ...
১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ..
১২.ভক্তিযোগ.............
শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:- - দেখতে ক্লিক করুন  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:- - ক্লিক করুন  ১০.বিভূতিযোগ.......
শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:- -  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..
সুনির্বাচিত শ্লোক০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
০৬.ধ্যানযোগ........
প্রার্থনা০৫.কর্মসন্যাসযোগ
০৪.জ্ঞানযোগ......
০৩.কর্মযোগ........
০২.সাংখ্যযোগ.......
০১.অর্জুনবিষাদযোগ

কর্মষটক

ভক্তিষটক

জ্ঞানষটক

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

1:পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি 2:ইদং জ্ঞানমুপাশ্রি 3: মম যোনির্মহদ্ 4:সর্বযোনিষু কৌন্তে 5: সত্ত্বং রজস্তম ইতি 6:তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ
7: রজো রাগাত্মকং 8: তমস্ত্বজ্ঞানজং 9:সত্ত্বং সুখে সঞ্জয় 10:রজস্তমশ্চাভিভূয় 11: সর্বদ্বারেষু দেহে 12:লোভঃ প্রবৃত্তিরা
13:অপ্রকাশোহপ্রবৃত্তি 14: যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে 15: রজসি প্রলয়ং 16:কর্মণঃ সুকৃতস্যা 17:সত্ত্বাৎ সংজায়তে 18: উর্ধ্বং গচ্ছন্তি
19:নান্যং গুণেভ্য 20:গুণানেতানতীত্য 21: কৈর্লিঙ্গৈস্ত্রীন্ 22:প্রকাশং চ প্রবৃত্তি 23:উদাসীনবদাসীনো 24:সমদুঃখসুখঃ স্বস্থ
25:মানাপোমানয়োস্ত্ত 26:মাং চ যোহব্যভি 27:ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠা উপসংহার:-
শ্লোক: . .

   অর্থ:- . . .

গুণত্রয়বিভাগযোগ- এর সার সংক্ষেপ:-
পোস্টটি বা এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ




শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
শ্রীভগবানুবাচ
পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্।
যজ্ জ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ॥১॥

পরম্, ভূয়ঃ, প্রবক্ষ্যামি, জ্ঞানানাম্, জ্ঞানম্, উত্তমম্,
যৎ, জ্ঞাত্বা, মুনয়ঃ, সর্বে, পরাম্, সিদ্ধিম্, ইতঃ, গতাঃ॥১॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- পুনরায় আমি তোমাকে সমস্ত জ্ঞানের মধ্যে সর্বোত্তম জ্ঞান সম্বন্ধে বলব, যা জেনে মুনিগণ এই জড় জগৎ থেকে পরম সিদ্ধি লাভ করেছিলেন।
শ্লোক:2:
ইদং জ্ঞানমুপাশ্রিত্য মম সাধর্ম্যমাগতাঃ ।
সর্গেহপি নোপজায়ন্তে প্রলয়ে ন ব্যথন্তি চ ॥২॥

ইদম্, জ্ঞানম্, উপাশ্রিত্য, মম, সাধর্ম্যম্, আগতাঃ,
সর্গে, অপি, ন, উপজায়ন্তে, প্রলয়ে, ন, ব্যথন্তি, চ ॥২॥
অর্থ:- এই জ্ঞান আশ্রয় করলে জীব আমার পরা প্রকৃতি লাভ করে। তখন আর সে সৃষ্টির সময়ে জন্মগ্রহণ করে না এবং প্রলয়কালেও ব্যথিত হয় না।
শ্লোক:3:
মম যোনির্মহদ্ ব্রহ্ম তস্মিন্ গর্ভং দধাম্যহম্।
সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততো ভবতি ভারত ॥৩॥

মম, যোনিঃ, মহৎ, ব্রহ্ম, তস্মিন্, গর্ভম্, দধামি, অহম্,
সম্ভবঃ, সর্বভূতানাম্, ততঃ, ভবতি, ভারত ॥৩॥
অর্থ:- হে ভারত ! প্রকৃতি সংজ্ঞক ব্রহ্ম আমার যোনিস্বরূপ এবং সেই ব্রহ্মে আমি গর্ভাধান করি, যার ফলে সমস্ত জীবের জন্ম হয়।
শ্লোক:4:
সর্বযোনিষু কৌন্তেয় মূর্তয়ঃ সম্ভবন্তি যাঃ ।
তাসাং ব্রহ্ম মহদ্ যোনিরহং বীজপ্রদঃ পিতা ॥৪॥

সর্বযোনিষু, কৌন্তেয়, মূর্তয়ঃ, সম্ভবন্তি, যাঃ,
তাসাম্, ব্রহ্ম, মহৎ, যোনিঃ, অহম্, বীজপ্রদঃ, পিতা ॥৪॥
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! সকল যোনিতে যে সমস্ত মূর্তি প্রকাশিত হয়, ব্রহ্মরূপী যোনিই তাদের জননী-স্বরূপা এবং আমি তাদের বীজ প্রদানকারী পিতা।
শ্লোক:5:
সত্ত্বং রজস্তম ইতি গুণাঃ প্রকৃতিসম্ভবাঃ ।
নিবধ্নন্তি মহাবাহো দেহে দেহিনমব্যয়্ম্ ॥৫॥

সত্ত্বম্, রজঃ, তমঃ, ইতি, গুণাঃ, প্রকৃতি-সম্ভবাঃ,
নিবধ্নন্তি, মহাবাহো, দেহে, দেহিনম্, অব্যয়্ম্ ॥৫॥
অর্থ:- হে মহাবাহো ! জড়া প্রকৃতি থেকে জাত সত্ত্ব, রজ ও তম- এই তিনটি গুণ এই দেহের মধ্যে অবস্থিত অব্যয় জীবকে আবদ্ধ করে।
শ্লোক:6:
তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ প্রকাশকমনাময়ম্ ।
সুখেসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ ॥৬॥

তত্র, সত্ত্বম্, নির্মলত্বাৎ, প্রকাশকম্, অনাময়ম্,
সুখেসঙ্গেন, বধ্নাতি, জ্ঞানসঙ্গেন, চ, অনঘ ॥৬॥
অর্থ:- হে নিষ্পাপ ! এই তিনটি গুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ নির্মল হওয়ার ফলে প্রকাশকারী ও পাপশূন্য এবং সুখ ও জ্ঞানের সঙ্গের দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।
শ্লোক:7:
রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্ ।
তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্ ॥৭॥

রজঃ, রাগাত্মকম্, বিদ্ধি, তৃষ্ণা-আসঙ্গ-সম-উদ্ভবম্,
তৎ, নিবধ্নাতি, কৌন্তেয়, কর্মসঙ্গেন, দেহিনম্ ॥৭॥
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! রজোগুণ অনুরাগাত্মক এবং তা তৃষ্ণা ও আসক্তি থেকে উৎপন্ন বলে জানবে এবং সেই রজোগুণই জীবকে সকাম কর্মের আসক্তির দ্বারা আবদ্ধ করে।
শ্লোক:8:
তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্ ।
প্রমাদলস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত ॥৮॥

তমঃ, তু, অজ্ঞানজম্, বিদ্ধি, মোহনম্, সর্বদেহিনাম্,
প্রমাদ-আলস্য-নিদ্রাভিঃ, তৎ, নিবধ্নাতি, ভারত ॥৮॥
অর্থ:- হে ভারত ! অজ্ঞানজাত তমোগুণকে সমস্ত জীবের মোহনকারী বলে জানবে। সেই তমোগুণ প্রমাদ, আলস্য ও নিদ্রার দ্বারা জীবকে আবদ্ধ করে।
শ্লোক:9:
সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত ।
জ্ঞানমাবৃত্য তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত ॥৯॥

সত্ত্বম্, সুখে, সঞ্জয়তি, রজঃ, কর্মণি, ভারত,
জ্ঞানম্, আবৃত্য, তু, তমঃ, প্রমাদে, সঞ্জয়তি, উত ॥৯॥
অর্থ:- হে ভারত ! সত্ত্বগুণ জীবকে সুখে আবদ্ধ করে, রজোগুণ জীবকে সকাম কর্মে আবদ্ধ করে, এবং তমোগুণ প্রমাদে আবদ্ধ করে।
শ্লোক:10:
রজস্তমশ্চাভিভূয় সত্ত্বং ভবতি ভারত ।
রজঃ সত্ত্বং তমশ্চৈব তমঃ সত্ত্বং রজস্তথা ॥১০॥

রজঃ, তমঃ, চ, অভিভূয়, সত্ত্বম্, ভবতি, ভারত,
রজঃ, সত্ত্বম্, তমঃ, চ, এব, তমঃ, সত্ত্বম্, রজঃ, তথা ॥১০॥
অর্থ:- হে ভারত ! রজ ও তমোগুণকে পরাভূত করে সত্ত্বগুণ প্রবল হয়, সত্ত্ব ও তমোগুণকে পরাভূত করে রজোগুণ প্রবল হয় এবং সেভাবেই সত্ত্ব ও রজোগুণকে পরাভূত করে তমোগুণ প্রবল হয়।
শ্লোক:11:
সর্বদ্বারেষু দেহেহস্মিন্ প্রকাশ উপজায়তে ।
জ্ঞানং যদা তদা বিদ্যাদ্ বিবৃদ্ধং সত্ত্বমিত্যুত ॥১১॥

সর্বদ্বারেষু, দেহে, অস্মিন্, প্রকাশঃ, উপজায়তে,
জ্ঞানম্, যদা, তদা, বিদ্যাৎ, বিবৃদ্ধম্, সত্ত্বম, ইতি, উত ॥১১॥
অর্থ:-য্খন এই দেহের সব কয়টি দ্বারে জ্ঞানের প্রকাশ হয়, তখন সত্ত্বগুণ বর্ধিত হয়েছে বলে জানবে।
শ্লোক:12:
লোভঃ প্রবৃত্তিরারম্ভঃ কর্মণামশমঃ স্পৃহা ।
রজস্যেতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে ভরতর্ষভ ॥১২॥

লোভঃ, প্রবৃত্তিঃ, আরম্ভঃ, কর্মণাম, অশমঃ, স্পৃহা,
রজসি, এতানি, জায়ন্তে, বিবৃদ্ধে, ভরতর্ষভ ॥১২॥
অর্থ:- হে ভরতশ্রেষ্ঠ ! রজোগুণ বর্ধিত হলে লোভ, প্রবৃত্তি, কর্মে উদ্যম, ও দুর্দমনীয় স্পৃহা বৃদ্ধি পায় ।
শ্লোক:13:
অপ্রকাশোহপ্রবৃত্তিশ্চ প্রমাদো মোহ এব চ ।
তমস্যেতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে কুরুনন্দন ॥১৩॥

অপ্রকাশঃ, অপ্রবৃত্তিঃ, চ, প্রমাদঃ, মোহঃ, এব, চ,
তমসি, এতানি, জায়ন্তে, বিবৃদ্ধে, কুরুনন্দন ॥১৩॥
অর্থ:- হে কুরুনন্দন ! তমোগুণ বর্ধিত হলে, অজ্ঞান-অন্ধকার, নিষ্ক্রিয়্তা, প্রমাদ ও মোহ উৎপন্ন হয়।
শ্লোক:14:
যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে তু প্রলয়ং যাতি দেহভৃৎ ।
তদোত্তমবিদাং লোকানমলান্ প্রতিপদ্যতে ॥১৪॥

যদা, সত্ত্বে, প্রবৃদ্ধে, তু, প্রলয়ম্, যাতি, দেহভৃৎ,
তদা, উত্তমবিদাম্, লোকান্, অমলান্, প্রতিপদ্যতে ॥১৪॥
অর্থ:- য্খন সত্ত্বগুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কালে দেহ্ধারী জীব দেহ্ত্যাগ করেন, তখন তিনি মহর্ষিদের নির্মল উচ্চতর লোকসমূহ লাভ করেন।
শ্লোক:15:
রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে ।
তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে ॥১৫॥

রজসি, প্রলয়ম্, গত্বা, কর্মসঙ্গিষু, জায়তে,
তথা, প্রলীনঃ, তমসি, মূঢ়যোনিষু, জায়তে ॥১৫॥
অর্থ:- রজোগুণে মৃত্যু হলে কর্মাসক্ত মনুষ্যকুলে জন্ম হয়, তেমনই তমোগুণে মৃত্যু হলে পশুযোনিতে জন্ম হয়।
শ্লোক:16:
কর্মণঃ সুকৃতস্যাহুঃ সাত্ত্বিকং নির্মলং ফলম্ ।
রজসস্তু ফলং দুঃখমজ্ঞানং তমসঃ ফলম্ ॥১৬॥

কর্মণঃ, সুকৃতস্য, আহুঃ, সাত্ত্বিকম্, নির্মলম্, ফলম্,
রজসঃ, তু, ফলম্, দুঃখম্, অজ্ঞানম্, তমসঃ, ফলম্ ॥১৬॥
অর্থ:- সুকৃতি-সম্পন্ন সাত্ত্বিক কর্মের ফলকে নির্মল, রাজসিক কর্মের ফলকে দুঃখ এবং তামসিক কর্মের ফলকে অজ্ঞান বা অচেতন বলা হয়।
শ্লোক:17:
সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং রজসো লোভ এব চ ।
প্রমাদমোহৌ তমসো ভবতোহজ্ঞানমেব চ ॥১৭॥

সত্ত্বাৎ, সংজায়তে, জ্ঞানম্, রজসঃ, লোভঃ, এব, চ,
প্রমাদ-মোহৌ, তমসঃ, ভবতঃ, অজ্ঞানম্, এব, চ ॥১৭॥
অর্থ:- সত্ত্বগুণ থেকে জ্ঞান, রজোগুণ থেকে লোভ এবং তমোগুণ থেকে অজ্ঞান, প্রমাদ ও মোহ উৎপন্ন হয়।
শ্লোক:18:
উর্ধ্বং গচ্ছন্তি সত্ত্বস্থা মধ্যে তিষ্ঠন্তি রাজসাঃ ।
জঘন্যগুণবৃত্তিস্থা অধো গচ্ছন্তি তামসাঃ ॥১৮॥

উর্ধ্বম্, গচ্ছন্তি, সত্ত্বস্থাঃ, মধ্যে, তিষ্ঠন্তি, রাজসাঃ,
জঘন্য-গুণ-বৃত্তিস্থাঃ, অধঃ, গচ্ছন্তি, তামসাঃ ॥১৮॥
অর্থ:- সত্ত্বগুণ- সম্পন্ন ব্যক্তিগণ উর্ধ্বে উচ্চতর লোকে গমন করে, রজোগুণ-সম্পন্ন ব্যক্তিগণ মধ্যে নরলোকে অবস্থান করে এবং জঘন্য গুণসম্পন্ন তামসিক ব্যক্তিগণ অধঃপতিত হয়ে নরকে গমন করে।
শ্লোক:19:
নান্যং গুণেভ্যঃ কর্তারং যদা দ্রষ্টানুপশ্যতি ।
গুণেভ্যশ্চ পরং বেত্তি মদ্ভাবং সোহধিগচ্ছতি ॥১৯॥

ন, অন্যম্, গুণেভ্যঃ, কর্তারম্, যদা, দ্রষ্টা, অনুপশ্যতি,
গুণেভ্যঃ, চ, পরম্, বেত্তি, মৎ-ভাবম্, সঃ, অধিগচ্ছতি ॥১৯॥
অর্থ:- জীব যখন দর্শন করেন যে, প্রকৃতির গুণসমূহ ব্যতীত কর্মে অন্য কোন কর্তা নেই এবং জানতে পারেন যে, পরমেশ্বর ভগবান এই সমস্ত গুণের অতীত, তখন তিনি আমার পরা প্রকৃতি লাভ করেন।
শ্লোক:20:
গুণানেতানতীত্য ত্রীন্ দেহী দেহসমুদ্ভবান্ ।
জন্মমৃত্যুজরাদুঃখৈর্বিমুক্তোহমৃতমশ্নুতে ॥২০॥

গুণান্, এতান্, অতীত্য, ত্রীন্, দেহী, দেহসমুদ্ভবান্,
জন্ম-মৃত্যু-জরা-দুঃখৈঃ, বিমুক্তঃ, অমৃতম্, অশ্নুতে ॥২০॥
অর্থ:- দেহধারী জীব এই তিন গুণ অতিক্রম করে জন্ম, মৃত্যু, জরা ও দুঃখ থেকে বিমুক্ত হয়ে অমৃত ভোগ করেন।
শ্লোক:21:
অর্জুন উবাচ
কৈর্লিঙ্গৈস্ত্রীন্ গুণানেতানতীতো ভবতি প্রভো ।
কিমাচারঃ কথং চৈতাংস্ত্রীন্ গুণানতিবর্ততে ॥২১॥

কৈঃ, লিঙ্গৈঃ, ত্রীন্, গুণান্, এতান্, অতীতঃ, ভবতি, প্রভো,
কিমাচারঃ, কথম্, চ, এতান্, ত্রীন্, গুণান্, অতিবর্ততে ॥২১॥
অর্থ:- অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন- হে প্রভু ! যিনি প্রকৃতির তিন গুণের অতীত, তিনি কি কি লক্ষণ দ্বারা জ্ঞাত হন ? তাঁর আচারণ কি রকম ? এবং তিনি কিভাবে এই তিন গুণ অতিক্রম করেন ?
শ্লোক:22:
শ্রীভগবানুবাচ
প্রকাশং চ প্রবৃত্তিং চ মোহমেব চ পাণ্ডব ।
ন দেষ্টি সংপ্রবৃত্তানি ন নিবৃত্তানি কাঙ্ক্ষতি ॥২২॥

প্রকাশম্, চ, প্রবৃত্তিম্, চ, মোহম্, এব, চ, পাণ্ডব,
ন, দেষ্টি, সংপ্রবৃত্তানি, ন, নিবৃত্তানি, কাঙ্ক্ষতি ॥২২॥
শ্লোক:23:
উদাসীনবদাসীনো গুণৈর্যো ন বিচাল্যতে।
গুণা বর্তন্ত ইত্যেবং যোহবতিষ্ঠতি নেঙ্গতে ॥২৩॥

উদাসীন-বৎ, আসীনঃ, গুণৈঃ, যঃ, ন, বিচাল্যতে,
গুণাঃ, বর্তন্তে, ইতি, এবং, যঃ, অবতিষ্ঠতি, ন, ইঙ্গতে ॥২৩॥
শ্লোক:24:
সমদুঃখসুখঃ স্বস্থঃ সমলোষ্ট্রাশ্মকাঞ্চনঃ ।
তুল্যপ্রিয়াপ্রিয়ো ধীরস্ত্তল্যোনিন্দাত্মসংস্তুতিঃ ॥২৪॥

সম-দুঃখসুখঃ, স্বস্থঃ, সম-লোষ্ট্র-অশ্ম-কাঞ্চনঃ,
তুল্য-প্রিয়-অপ্রিয়ঃ, ধীরঃ, তুল্য-নিন্দা-আত্ম-সংস্তুতিঃ ॥২৪॥
শ্লোক:25:
মানাপোমানয়োস্ত্তল্যস্ত্তল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ।
সর্বারম্ভপরিত্যাগী গুণাতীতঃ সঃ উচ্যতে ॥২৫॥

মান-অপোমানয়োঃ, তুল্যঃ, তুল্যঃ, মিত্র-অরি-পক্ষয়োঃ,
সর্ব-আরম্ভ-পরিত্যাগী, গুণাতীতঃ, সঃ, উচ্যতে ॥২৫॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পাণ্ডব ! যিনি প্রকাশ, প্রবৃত্তি ও মোহ আবির্ভূত হলে দ্বেষ করেন না এবং সেগুলি নিবৃত্ত হলেও আকাঙ্ক্ষা করেন না; যিনি উদাসীনের মতো অবস্থিত থেকে গুণসমূহের দ্বারা বিচলিত হন না, কিন্তু গুণ সমূহ স্বীয় কার্যে প্রবৃত্ত হয়, এভাবেই জেনে অবস্থান করেন এবং তার দ্বারা চঞ্চলতা প্রাপ্ত হন না; যিনি আত্মস্বরূপে অবস্থিত এবং সুখ ও দুঃখে সম-ভাবাপন্ন; যিনি মাটির ঢেলা, পাথর ও স্বর্ণে সমদৃষ্টি-সম্পন্ন; যিনি প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয়ে সম-ভাবাপন্ন; যিনি ধৈর্যশীল এবং নিন্দা, স্তুতি, মান ও অপমানে সম-ভাবাপন্ন; যিনি শত্রু ও মিত্র উভয়ের প্রতি সমভাব-সম্পন্ন এবং যিনি সমস্ত কর্মোদ্যম পরিত্যাগী- তিনিই গুণাতীত বলে কথিত হন।
শ্লোক:26:
মা চ যোহব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সেবতে।
স গুণান্ সমতীত্যৈতান্ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ॥২৬॥

মাম্, চ, যঃ, অব্যভিচারেণ, ভক্তিযোগেন, সেবতে,
সঃ, গুণান্, সম্,-অতীত্য, এতান্, ব্রহ্মভূয়ায়, কল্পতে ॥২৬॥
অর্থ:- যিনি ঐকান্তিক ভক্তিযোগ সহকারে আমার সেবা করেন, তিনি প্রকৃতির সমস্ত গুণকে অতিক্রম করে ব্রহ্মভূত স্তরে উন্নীত হন।
শ্লোক:27:
ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাহমমৃতস্যাব্যয়স্য চ ।
শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সুখস্যৈকান্তিকস্য চ ॥২৭॥

ব্রহ্মণঃ, হি, প্রতিষ্ঠা, অহম্, অমৃতস্য, অব্যয়স্য, চ ,
শাশ্বতস্য, চ, ধর্মস্য, সুখস্য, ঐকান্তিকস্য, চ ॥২৭॥
অর্থ:- অমিই নির্বিশেষ ব্রহ্মের প্রতিষ্ঠা বা আশ্রয়। অব্যয় অমৃতের, শাশ্বত ধর্মের এবং ঐকান্তিক সুখের আমিই আশ্রয়।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'গুণত্রয়বিভাগযোগো ' নাম চতুর্দশোঽধ্যায়ঃ ॥১৪॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৪শ অধ্যায়:- গুণত্রয়বিভাগযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
         জগতপ্রকৃতি পরিচালিত হয় তিনটি গুণের দ্বারা। গুণ তিনটি হচ্ছে সত্ত্ব, রজো ও তমো। জীব মাত্রই এই তিন গুণের অধীন। এই তিনটি গুণের উৎপত্তি, স্বরূপ, গতি, প্রকৃতি, প্রভাব সম্পর্কে আলোচ্য অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে বলেই এই অধ্যায়ের নাম হয়েছে গুণত্রয়বিভাগযোগ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে উপলক্ষ্য করে জানালেন যে, সত্ত্ব, রজো ও তমো – এই তিনটি গুণ মূলতঃ প্রকৃতি হতে উৎপন্ন এবং এই তিনটি গুণ জীবাত্মার বন্ধনস্বরূপ। সত্ত্বগুণ নির্মলহলেও ইহা সুখ ও জ্ঞানের আসক্তি থেকে উৎপন্ন হয় এবং ইহাও আত্মার একপ্রকার বন্ধনস্বরূপ। কামনা ও ভোগাসক্তি থেকে রজোগুণের উৎপত্তি। ইহা জীবাত্মাকে কর্ম ও তার ফলের আসক্তি দ্বারা বন্ধন করে। এছাড়া, অজ্ঞান থেকে তমোগুণের উদ্ভব। পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
এছাড়া, অজ্ঞান থেকে তমোগুণের উদ্ভব। ইহা জীবাত্মাকে নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ দ্বারা আবদ্ধ করে। প্রকৃতিজাত এই তিনটি গুণ প্রতিটি জীবের মধ্যেই বিদ্যমান এবং এরা পর্যায়ক্রমে জীবের মধ্যে ক্রিয়াশীল হয়ে উঠে। তাই জীবদেহে কখনও সত্ত্বগুণের প্রাবল্য, আবার কখনও রজোগুণের এবং তারপর তমোগুণের প্রাবল্য দেখা দেয়। যখন যে গুণের প্রাবল্য দেখা দেয় তখন অন্যদু’টি গুণ জীবদেহে স্তিমিত থাকে। গুণের প্রাবল্য তার কারণে দেহে তার প্রভাবও ভিন্নতর হয়ে থাকে। যেমন সত্ত্বগুণের প্রাধান্য দেখায় তখন জীব সৎকাজ ও সুখে আসক্ত হয়। আবার রজোগুণের প্রাবল্যতাবশতঃ জীব কর্মে আসক্ত এবং তমোগুণের কারণে জীব পাশবিক ও প্রমাদে আসক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু মোক্ষলাভ বা ব্রহ্মপ্রাপ্তির জন্য জীবকে অবশ্যই এই তিন গুণের উর্দ্ধে উঠতে হবে। পরমেশ্বর ভগবান ত্রিগুণাতীত। সে কারণে গুণাতীত ঈশ্বরকে পেতে হলে বা মোক্ষলাভ করতে হলে মানবকে অবশ্যই এইতিন গুণের অতীত অবস্থায় উন্নীত হতে হবে। সেটাই জীবের সাধনার চরম ও পরম প্রাপ্তি। এভাবেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে উপদেশ দান করেছেন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন