১৮.মোক্ষযোগ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন

       ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..
১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন
 ১৫.পুরুষোত্তমযোগ........
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ...
১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ..
১২.ভক্তিযোগ.............
শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:- - দেখতে ক্লিক করুন  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:- - ক্লিক করুন  ১০.বিভূতিযোগ.......
শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:- -  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..
সুনির্বাচিত শ্লোক০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
০৬.ধ্যানযোগ........
প্রার্থনা০৫.কর্মসন্যাসযোগ
০৪.জ্ঞানযোগ......
০৩.কর্মযোগ........
০২.সাংখ্যযোগ.......
০১.অর্জুনবিষাদযোগ

কর্মষটক

ভক্তিষটক

জ্ঞানষটক

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

1:জ্যায়সী চেৎ কর্মণ. 2:ব্যামিশ্রেণেব বাক্য. 3:লোকেহস্মিন্ দ্বিবি. 4:ন কর্মণামনারম্ভান্ 5:ন হি কশ্চিৎ ক্ষণ. 6:কর্মেন্দ্রিয়াণি সংয.
7:যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি মনসা 8:নিয়তং কুরু কর্ম 9:যজ্ঞার্থাৎ কর্মণো. 10:সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ.. 11:দেবান্ ভাবয়তা.. 12:ইষ্টান্ ভোগান্ হি
13:যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ . 14:অন্নাদ্ ভবন্তি ভূ. 15:কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বি. 16:এবং প্রবর্তিতং চ. 17:যস্ত্বাত্মরতিরেব 18:নৈব তস্য কৃতে..
19:তস্মাদসক্তঃ সতত 20:কর্মণৈব হি সং.. 21:যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠ 22:ন মে পার্থাস্তি কর্ত 23:যদি হ্যহং ন বর্তে. 24:উৎসীদেয়ুরিমে..
25:সক্তাঃ কর্মণ্যবিদ্বাং 26:ন বুদ্ধিভেদং জনয়ে্ 27:প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি 28:তত্ত্ববিত্তু মহাবাহো 29:প্রকৃতের্গুণসংমূঢ়া 30:ময়ি সর্বাণি কর্মা.
31:যে মে মতমিদং. 32:যে ত্বেতদভ্যসূয়ন্তো 33:সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যা 34:ইন্দ্রিয়স্যেন্দ্রিয়স্যার্থে 35:শ্রেয়ান্ স্বধর্মো.. 36:অথ কেন প্রযুক্তো.
37:কাম এষ ক্রোধ 38:ধুমেনাব্রিয়তে বহ্নি 39:আবৃতং জ্ঞানমেতেন 40:ইন্দ্রিয়াণি মন বুদ্ধি 41:তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ 42:ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহু
43:এবং বুদ্ধেঃ পরং.. শ্লোক: . .

   অর্থ:- . . .

৩য় অধ্যায়:- কর্মযোগ- এর সার সংক্ষেপ:-
পোস্টটি বা এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ






শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
অর্জুন উবাচ
জ্যায়সী চেৎ কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন ।
তৎ কিং কর্মণি ঘোরে মাং নিয়োজয়সি কেশব ॥১॥

জ্যায়সী, চেৎ, কর্মণঃ, তে, মতা, বুদ্ধিঃ, জনার্দন ,
তৎ, কিম্, কর্মণি, ঘোরে, মাম্, নিয়োজয়সি, কেশব ॥১॥
অর্থ:- অর্জুন বললেন-হে জনার্দন ! হে কেশব ! যদি তোমার মতে কর্ম অপেক্ষা ভক্তি-বিষয়িনী বুদ্ধি শ্রেয়তর হয়, তা হলে এই ভয়ানক যুদ্ধে নিযুক্ত হওয়ার জন্য কেন আমাকে প্ররোচিত করছ ?
শ্লোক:2:
ব্যামিশ্রেণেব বাক্যেন বুদ্ধিং মোহয়সীব মে ।
তদেকং বদ নিশ্চিত্য যেন শ্রেয়োহহমাপ্নুয়াম্ ॥২॥

ব্যামিশ্রেণে, ইব, বাক্যেন, বুদ্ধিম্, মোহয়সি, ইব, মে,
তৎ, একম্, বদ, নিশ্চিত্য, যেন, শ্রেয়ঃ, অহম্, আপ্নুয়াম্ ॥২॥
অর্থ:- তুমি যেন দ্ব্যর্থবোধক বাক্যের দ্বারা আমার বুদ্ধি বিভ্রান্ত করছ। তাই, দয়া করে আমাকে নিশ্চিতভাবে বল কোনটি আমার পক্ষে সবচেয়ে শ্রেয়স্কর।
শ্লোক:3:
শ্রীভগবানুবাচ
লোকেহস্মিন্ দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা ময়ানঘ ।
জ্ঞানযোগেন সাংখ্যানাং কর্মযোগেন যোগিনাম্ ॥৩॥

লোকে, অস্মিন্, দ্বিবিধা, নিষ্ঠা, পুরা, প্রোক্তা, ময়া, অনঘ,
জ্ঞানযোগেন, সাংখ্যানাম্, কর্মযোগেন, যোগিনাম্ ॥৩॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন-হে নিষ্পাপ অর্জুন ! আমি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করেছি যে, দুই প্রকার মানুষ আত্ম-উপলব্ধি করতে চেষ্টা করে। কিছু লোক অভিজ্ঞতালব্ধ দার্শনিক জ্ঞানের আলোচনার মাধ্যমে নিজেকে জানতে চান এবং অন্যেরা আবার তা ভক্তির মাধ্যমে জানতে চান।
শ্লোক:4:
ন কর্মণামনারম্ভান্ নৈষ্কর্ম্যং পুরুষোহশ্নুতে ।
ন চ সন্ন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি ॥৪॥

ন, কর্মণাম্, অনারম্ভাৎ, নৈষ্কর্ম্যম্, পুরুষঃ, অশ্নুতে,
ন, চ, সন্ন্যসনাৎ, এব, সিদ্ধিম্, সমধিগচ্ছতি ॥৪॥
অর্থ:- কেবল কর্মের অনুষ্ঠান না করার মাধ্যমে কর্মফল থেকে মুক্ত হওয়া যায় না, আবার কর্মত্যাগের মাধ্যমেও সিদ্ধি লাভ করা যায় না।
শ্লোক:5:
ন হি কশ্চিৎ ক্ষণমপি জাতু তিষ্টত্যকর্মকৃৎ ।
কার্যতে হ্যবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈর্গুণৈঃ ॥৫॥

ন, হি, কশ্চিৎ, ক্ষণম্, অপি, জাতু, তিষ্টতি, অকর্মকৃৎ,
কার্যতে, অবশঃ, কর্ম, সর্বঃ, প্রকৃতিজৈঃ, গুণৈঃ ॥৫॥
অর্থ:- সকলেই মায়াজাত গুণসমূহের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অসহায়ভাবে কর্ম করতে বাধ্য হয়; তাই কর্ম না করে কেউই ক্ষণকালও থাকতে পারে না।
শ্লোক:6:
কর্মেন্দ্রিয়াণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্ ।
ইন্দ্রিয়ার্থান্ বিমূঢ়াত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে ॥৬॥

কর্মেন্দ্রিয়াণি, সংযম্য, যঃ, আস্তে, মনসা, স্মরন্,
ইন্দ্রিয়ার্থান্, বিমূঢ়াত্মা, মিথ্যাচারঃ, সঃ, উচ্যতে ॥৬॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি পঞ্চ-কর্মেন্দ্রিয় সংযত করেও মনে মনে শব্দ, রস আদি ইন্দ্রিয়গুলি স্মরণ করে, সেই মূঢ় অবশ্যই নিজেকে বিভ্রান্ত করে এবং তাকে মিথ্যাচারী ভণ্ড বলা হয়ে থাকে ।
শ্লোক:7:
যস্ত্বিন্দ্রিয়াণি মনসা নিয়ম্যারভতেহর্জুন ।
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ কর্মযোগমসক্তঃ সঃ বিশিষ্যতে ॥৭॥

যঃ, তু, ইন্দ্রিয়াণি, মনসা, নিয়ম্য, আরভতে, অর্জুন,
কর্মেন্দ্রিয়ৈঃ, কর্মযোগম্, অসক্তঃ, সঃ, বিশিষ্যতে ॥৭॥
অর্থ:- কিন্তু যিনি মনের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত করে অনাসক্তভাবে কর্মযোগের অনুষ্ঠান করেন, তিনি পূর্বোক্ত মিথ্যাচারী অপেক্ষা অনেক গুণে শ্রেষ্ঠ ।
শ্লোক:8:
নিয়তং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যায়ো হ্যকর্মণঃ ।
শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিদ্ধ্যেদকর্মণঃ ॥৮॥

নিয়তম্, কুরু, কর্ম, ত্বম্, কর্ম, জ্যায়ঃ, হি, অকর্মণঃ ।
শরীরযাত্রা, অপি, চ, তে, ন, প্রসিদ্ধ্যেৎ, অকর্মণঃ ॥৮॥
অর্থ:- তুমি শাস্ত্রোক্ত কর্মের অনুষ্ঠান কর, কেন না কর্মত্যাগ থেকে কর্মের অনুষ্ঠান শ্রেয়। কর্ম না করে কেউ দেহযাত্রাও নির্বাহ করতে পারে না।
শ্লোক:9:
যজ্ঞার্থাৎ কর্মণোহন্যত্র লোকোহয়ং কর্মবন্ধনঃ ।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর ॥৯॥

যজ্ঞার্থাৎ, কর্মণঃ, অন্যত্র, লোকঃ, অয়ম্, কর্মবন্ধনঃ,
তদর্থম্, কর্ম, কৌন্তেয়, মুক্তসঙ্গঃ, সমাচর ॥৯॥
অর্থ:- বিষ্ণুর প্রীতি সম্পাদন করার জন্য কর্ম করা উচিত; তা না হলে কর্মই এই জড় জগতে বন্ধনের কারণ। তাই, হে কৌন্তেয় ! ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই কেবল তুমি তোমার কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান কর এবং এভাবেই তুমি সর্বদাই বন্ধন থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।
শ্লোক:10:
সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ ।
অনেন প্রসবিষ্যধ্বমেষ বোহস্ত্বিষ্টকামধুক্ ॥১০॥

সহযজ্ঞাঃ, প্রজাঃ, সৃষ্ট্বা, পুরা, উবাচ, প্রজাপতিঃ,
অনেন, প্রসবিষ্যধ্বম্, এষঃ, বঃ, অস্তু, ইষ্টকামধুক্ ॥১০॥
অর্থ:- সৃষ্টির প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা যজ্ঞাদি সহ প্রজাসকল সৃষ্টি করে বলেছিলেন- "এই যজ্ঞের দ্বারা তোমরা উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হও ৷ এই যজ্ঞ তোমাদের সমস্ত অভীষ্ট পূর্ণ করবে।"
শ্লোক:11:
দেবান্ ভাবয়তানেন তে দেবা ভাবয়ন্ত্ত বঃ ।
পরস্পরং ভাবয়ন্তঃ শ্রেয়ঃ পরমবাপ্স্যথ ॥১১॥

দেবান্, ভাবয়ত, অনেন, তে, দেবাঃ, ভাবয়ন্ত্ত, বঃ,
পরস্পরম্, ভাবয়ন্তঃ, শ্রেয়ঃ, পরম্, অবাপ্স্যথ ॥১১॥
অর্থ:- তোমাদের যজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রীত হয়ে দেবতারা তোমাদের প্রীতি সাধন করবেন। এভাবেই পরস্পরের প্রীতি সম্পাদন করার মাধ্যমে তোমরা পরম মঙ্গল লাভ করবে।
শ্লোক:12:
ইষ্টান্ ভোগান্ হি বো দেবা দাস্যন্তে যজ্ঞভাবিতাঃ ।
তৈর্দত্তানপ্রদায়ৈভ্যো যো ভুঙক্তে স্তেন এব সঃ ॥১২॥

ইষ্টান্, ভোগান্, হি, বঃ, দেবাঃ, দাস্যন্তে, যজ্ঞভাবিতাঃ,
তৈঃ, দত্তান্, অপ্রদায়, এভ্যঃ, যঃ, ভুঙক্তে, স্তেনঃ, এব, সঃ ॥১২॥
অর্থ:- যজ্ঞের ফলে সন্তুষ্ট হয়ে দেবতারা তোমাদের বাঞ্ছিত ভোগ্যবস্তু প্রদান করবেন। কিন্তু দেবতাদের প্রদত্ত বস্তু তাঁদের নিবেদন না করে যে ভোগ করে, সে নিশ্চয়ই চোর।
শ্লোক:13:
যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ ।
ভুঞ্জতে তে ত্বঘং পাপা যে পচন্ত্যাত্মকারণাৎ ॥১৩॥

যজ্ঞ-শিষ্ট-আশিনঃ, সন্তঃ, মুচ্যন্তে, সর্ব-কিল্বিষৈঃ,
ভুঞ্জতে, তে, তু, অঘম্, পাপাঃ, যে, পচন্তি, আত্মকারণাৎ ॥১৩॥
অর্থ:- ভগবদ্ভক্তেরা সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হন, কারণ তাঁরা যজ্ঞাবশিষ্ট অন্নাদি গ্রহণ করেন। যারা কেবল স্বার্থপর হয়ে নিজেদের ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তির জন্য অন্নাদি পাক করে, তারা কেবল পাপই ভোজন করে।
শ্লোক:14:
অন্নাদ্ ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাদন্নসম্ভবঃ ।
যজ্ঞাদ্ ভবতি পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ ॥১৪॥

অন্নাৎ, ভবন্তি, ভূতানি, পর্জন্যাৎ, অন্নসম্ভবঃ,
যজ্ঞাৎ, ভবতি, পর্জন্যঃ, যজ্ঞঃ, কর্মসমুদ্ভবঃ ॥১৪॥
অর্থ:- অন্ন খেয়ে প্রাণীগণ জীবন ধারণ করে৷ বৃষ্টি হওয়ার ফলে অন্ন উৎপন্ন হয় ৷ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার ফলে বৃষ্টি উৎপন্ন হয় এবং শাস্ত্রোক্ত কর্ম থেকে যজ্ঞ উৎপন্ন হয়।
শ্লোক:15:
কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্ ।
তস্মাৎ সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্ ॥১৫॥

কর্ম, ব্রহ্ম-উদ্ভবম্, বিদ্ধি, ব্রহ্ম, অক্ষর-সমুদ্ভবম্,
তস্মাৎ, সর্বগতম্, ব্রহ্ম, নিত্যম্, যজ্ঞে, প্রতিষ্ঠিতম্ ॥১৫॥
অর্থ:- যজ্ঞাদি কর্ম বেদ থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং বেদ অক্ষর বা পরমেশ্বর ভগবান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। অতএব সর্বব্যাপক ব্রহ্ম সর্বদা যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিত আছেন।
শ্লোক:16:
এবং প্রবর্তিতং চক্রং নানুবর্তয়তীহ যঃ ।
অঘায়ুরিন্দ্রিয়ারামো মোঘং পার্থ স জীবতি ॥১৬॥

এবম্, প্রবর্তিতম্, চক্রম্, ন, অনুবর্তয়তি, ইহ যঃ,
অঘায়ুঃ, ইন্দ্রিয়ারামঃ, মোঘম্, পার্থ, সঃ, জীবতি ॥১৬॥
অর্থ:- হে অর্জুন ! যে ব্যক্তি এই জীবনে বেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যজ্ঞ অনুষ্ঠানের পন্থা অনুসরণ করে না, সেই ইন্দ্রিয়সুখ-পরায়ণ পাপী ব্যক্তি বৃথা জীবন ধারণ করে।
শ্লোক:17:
যস্ত্বাত্মরতিরেব স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ ।
আত্মন্যেব চ সন্ত্তষ্টস্তস্য কার্যং ন বিদ্যতে ॥১৭॥

যঃ, তু, আত্মরতিঃ, এব, স্যাৎ, আত্মতৃপ্তঃম, চ, মানবঃ,
আত্মনি, এব, চ, সন্ত্তষ্টঃ, তস্য, কার্যম্, ন, বিদ্যতে ॥১৭॥
অর্থ:- কিন্তু যে ব্যক্তি আত্মাতেই প্রীত, আত্মাতেই তৃপ্ত আত্মাতেই সন্তুষ্ট, তাঁর কোন কর্তব্যকর্ম নেই।
শ্লোক:18:
নৈব তস্য কৃতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন ।
ন চাস্য সর্বভূতেষু কশ্চিদর্থব্যপাশ্রয়ঃ ॥১৮॥

ন, এব, তস্য, কৃতেন, অর্থঃ, ন, অকৃতেন, ইহ, কঃ-চন,
ন, চ, অস্য, সর্বভূতেষু, কঃ-চিৎ, অর্থ-ব্যপাশ্রয়ঃ ॥১৮॥
অর্থ:- আত্মানন্দ অনুভবকারী ব্যক্তির এই জগতে ধর্ম অনুষ্ঠানের কোন প্রয়োজন নেই এবং এই প্রকার কর্ম না করারও কোন কারণ নেই। তাকে অন্য কোন প্রাণীর উপর নির্ভর করতেও হয় না।
শ্লোক:19:
তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর ।
অসক্তো হ্যাচরন্ কর্ম পরমাপ্নোতি পুরুষঃ ॥১৯॥

তস্মাৎ, অসক্তঃ, সততম্, কার্যম্, কর্ম, সমাচর,
অসক্তঃ, হি, আচরন্, কর্ম, পরম্, আপ্নোতি, পুরুষঃ ॥১৯॥
অর্থ:- অতএব, কর্মফলের প্রতি আসক্তি রহিত হয়ে কর্তব্যকর্ম সম্পাদন কর৷ অনাসক্ত হয়ে কর্ম করার ফলেই মানুষ পরতত্ত্বকে লাভ করতে পারে ৷
শ্লোক:20:
কর্মণৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদয়ঃ ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্ কর্তুমর্হসি ॥২০॥

কর্মণা, এব, হি, সংসিদ্ধিম্, আস্থিতাঃ, জনকাদয়ঃ,
লোকসংগ্রহম্, এব, অপি, সংপশ্যন্, কর্তুম্, অর্হসি ॥২০॥
অর্থ:- জনক আদি রাজারাও কর্ম দ্বারাই সংসিদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন ৷ অতএব, জনসাধারণকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তোমার কর্ম করা উচিত।
শ্লোক:21:
যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ ।
স যৎ প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে ॥২১॥

যৎ, যৎ, আচরতি, শ্রেষ্ঠঃ, তৎ, তৎ, এব, ইতরঃ, জনঃ,
সঃ, যৎ, প্রমাণম্, কুরুতে, লোকঃ, তৎ, অনুবর্ততে ॥২১॥
অর্থ:- শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যে ভাবে আচরণ করেন, সাধারণ মানুষেরা তার অনুকরণ করে। তিনি যা প্রমাণ বলে স্বীকার করেন, সমগ্র পৃথিবী তারই অনুসরণ করে।
শ্লোক:22:
ন মে পার্থাস্তি কর্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিঞ্চন ।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বর্ত এব চ কর্মণি ॥২২॥

ন, মে, পার্থ, অস্তি, কর্তব্যম্, ত্রিষু, লোকেষু, কিঞ্চন, ।
ন, অনবাপ্তম্, অবাপ্তব্যম্, বর্তে, এব, চ, কর্মণি ॥২২॥
অর্থ:- হে পার্থ ! এই ত্রিজগতে আমার কিছুই কর্তব্য নেই। আমার অপ্রাপ্ত কিছু নেই এবং প্রাপ্তব্যও কিছু নেই৷ তবুও আমি কর্মে ব্যাপৃত আছি।
শ্লোক:23:
যদি হ্যহং ন বর্তেয়ং জাতু কর্মণ্যতন্দ্রিতঃ ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ॥২৩॥

যদি, হি, অহম্, ন, বর্তেয়ম্, জাতু, কর্মণি, অতন্দ্রিতঃ,
মম, বর্ত্ম, অনুবর্তন্তে, মনুষ্যাঃ, পার্থ, সর্বশঃ ॥২৩॥
অর্থ:- হে পার্থ ! আমি যদি অনলস হয়ে কর্তব্যকর্মে প্রবৃত্ত না হই, তবে আমার অনুবর্তী হয়ে সমস্ত মানুষই কর্ম ত্যাগ করবে।
শ্লোক:24:
উৎসীদেয়ুরিমে লোকা ন কুর্যাং কর্ম চেদহম্॥
সঙ্করস্য চ কর্তা স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ॥২৪॥

উৎসীদেয়ুঃ, ইমে, লোকাঃ, ন, কুর্যাম্, কর্ম, চেৎ, অহম্,
সঙ্করস্য, চ, কর্তা, স্যামু, উপহন্যাম্, ইমাঃ, প্রজাঃ॥২৪॥
অর্থ:- আমি যদি কর্ম না করি, তা হলে এই সমস্ত লোক উৎসন্ন হবে। আমি বর্ণসঙ্কর সৃষ্টির কারণ হব এবং তার ফলে আমার দ্বারা সমস্ত প্রজা বিনষ্ট হবে।
শ্লোক:25:
সক্তাঃ কর্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্বন্তি ভারত ।
কুর্যাদ্ বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্ ॥২৫॥

সক্তাঃ, কর্মণি, অবিদ্বাংসঃ, যথা, কুর্বন্তি, ভারত,
কুর্যাৎ, বিদ্বান্, তথা, অসক্তঃ, চিকীর্ষুঃ, লোকসংগ্রহম্ ॥২৫॥
অর্থ:- হে ভারত ! অজ্ঞানীরা যেমন কর্মফলের প্রতি আসক্ত হয়ে তাদের কর্তব্যকর্ম করে, তেমনই জ্ঞানীরা অনাসক্ত হয়ে, মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য কর্ম করবেন।
শ্লোক:26:
ন বুদ্ধিভেদং জনয়েদজ্ঞানাং কর্মসঙ্গিনাম্ ।
জোষয়েৎ সর্বকর্মাণি বিদ্বান্ যুক্তঃ সমাচরন্ ॥২৬॥

ন, বুদ্ধিভেদম্, জনয়েৎ, অজ্ঞানাম্, কর্মসঙ্গিনাম্,
জোষয়েৎ, সর্বকর্মাণি, বিদ্বান্, যুক্তঃ, সমাচরন্ ॥২৬॥
অর্থ:- জ্ঞানবান ব্যক্তিরা কর্মাসক্ত জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের বুদ্ধি বিভ্রান্ত করবেন না। বরং, তাঁরা ভক্তিযুক্ত চিত্তে সমস্ত কর্ম অনুষ্ঠান করে জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের কর্মে প্রবৃত্ত করবেন।
শ্লোক:27:
প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ ।
অহঙ্কারবিমূঢ়াত্মা কর্তাহমিতি মন্যতে ॥২৭॥

প্রকৃতেঃ, ক্রিয়মাণানি, গুণৈঃ, কর্মাণি, সর্বশঃ,
অহঙ্কার-বিমূঢ়-আত্মা, কর্তা, অহম্, ইতি, মন্যতে ॥২৭॥
অর্থ:- অন্ধকারে মোহাচ্ছন্ন জীব জড়া প্রকৃতির ত্রিগুণ দ্বারা ক্রিয়মাণ সমস্ত কার্যকে স্বীয় কার্য বলে মনে করে 'আমি কর্তা'- এই রকম অভিমান করে।
শ্লোক:28:
তত্ত্ববিত্তু মহাবাহো গুণকর্মবিভাগয়োঃ ।
গুণা গুণেষু বর্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে ॥২৮॥

তত্ত্ব-বিৎ, তু, মহাবাহো, গুণ-কর্ম-বিভাগয়োঃ,
গুণাঃ, গুণেষু, বর্তন্তে, ইতি, মত্বা, ন, সজ্জতে ॥২৮॥
অর্থ:- হে মহাবাহো ! তত্বজ্ঞ ব্যক্তি ভগবদ্ভক্তিমুখী কর্ম ও সকাম কর্মের পার্থক্য ভালভাবে অবগত হয়ে, কখনও ইন্দ্রিয়সুখ ভোগাত্মক কার্যে প্রবৃত্ত হন না।
শ্লোক:29:
প্রকৃতের্গুণসংমূঢ়া সজ্জন্তে গুণকর্মসু ।
তানকৃৎস্নবিদো মন্দান্ কৃৎস্নবিন্ন বিচালয়েৎ ॥২৯॥

প্রকৃতেঃ, গুণ-সংমূঢ়াঃ, সজ্জন্তে, গুণ-কর্মসু,
তান্, অকৃৎস্নবিদঃ, মন্দান্, কৃৎস্নবিৎ, ন, বিচালয়েৎ ॥২৯॥
অর্থ:- জড়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন হয়ে, অজ্ঞান ব্যক্তিরা জাগতিক কার্যকলাপে প্রবৃত্ত হয়। কিন্তু তাদের কর্ম নিকৃষ্ট হলেও তত্বজ্ঞানী পুরুষেরা সেই মন্দবুদ্ধি ও অল্পজ্ঞ ব্যক্তিগণকে বিচলিত করেন না।
শ্লোক:30:
ময়ি সর্বাণি কর্মাণি সংন্যস্যাধ্যাত্মচেতসা ।
নিরাশীর্নির্মমো ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ ॥৩০॥

ময়ি, সর্বাণি, কর্মাণি, সন্ন্যস্য, অধ্যাত্ম-চেতসা,
নিঃ-আশীঃ, নির্মমঃ, ভূত্বা, যুধ্যস্ব, বিগতজ্বরঃ ॥৩০॥
অর্থ:-অতএব, হে অর্জুন ! আধ্যাত্মচেতনা-সম্পন্ন হয়ে তোমার সমস্ত কর্ম আমাকে সমর্পণ কর এবং মমতাশুন্য, নিষ্কাম ও শোকশূন্য হয়ে তুমি যুদ্ধ কর।
শ্লোক:31:
যে মে মতমিদং নিত্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ ।
শ্রদ্ধাবন্তোহনসূয়ন্তো মুচ্যন্তে তেহপি কর্মভিঃ ॥৩১॥

যে, মে, মতম্, ইদম্, নিত্যম্, অনুতিষ্ঠন্তি, মানবাঃ,
শ্রদ্ধাবন্তঃ, অনসূয়ন্তঃ, মুচ্যন্তে, তে, অপি, কর্মভিঃ ॥৩১॥
অর্থ:- আমার নির্দেশ অনুসারে যে-সমস্ত মানুষ তাঁদের কর্তব্যকর্ম অনুষ্ঠান করেন এবং যাঁরা শ্রদ্ধাবান ও মাৎসর্য রহিত হয়ে এই উপদেশ অনুসরণ করেন, তাঁরাও কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত হন।
শ্লোক:32:
যে ত্বেতদভ্যসূয়ন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্ ।
সর্বজ্ঞানবিমূঢ়াংস্তান্ বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ ॥৩২॥

যে, তু, এতৎ, অভ্যসূয়ন্তঃ, ন, অনুতিষ্ঠন্তি, মে, মতম্,
সর্বজ্ঞান-বিমূঢ়ান্, তান্, বিদ্ধি, নষ্টান্, অচেতসঃ ॥৩২॥
অর্থ:- কিন্ত যারা অসূয়াপূর্বক আমার এই উপদেশ পালন করে না, তাদেরকে সমস্ত জ্ঞান থেকে বঞ্চিত, বিমূঢ় এবং পরমার্থ লাভের সকল প্রচেষ্টা থেকে ভ্রষ্ট বলে জানবে।
শ্লোক:33:
সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি ।
প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি ॥৩৩॥

সদৃশম্, চেষ্টতে, স্বস্যাঃ, প্রকৃতেঃ, জ্ঞানবান্, অপি,
প্রকৃতিম্, যান্তি, ভূতানি, নিগ্রহঃ, কিম্, করিষ্যতি ॥৩৩॥
অর্থ:- জ্ঞানবান ব্যক্তিও তাঁর স্বভাব অনুসারে কার্য করেন, কারণ প্রত্যকেই ত্রিগুণজাত তাঁর স্বীয় স্বভাবকে অনুগমন করেন। সুতরাং নিগ্রহ করে কি লাভ হবে ?
শ্লোক:34:
ইন্দ্রিয়স্যেন্দ্রিয়স্যার্থে রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ ।
তয়োর্ন বশমাগচ্ছেৎ তৌ হ্যস্য পরিপন্থিনৌ ॥৩৪॥

ইন্দ্রিয়স্য, ইন্দ্রিয়স্য, অর্থে, রাগদ্বেষৌ, ব্যবস্থিতৌ,
তয়োঃ, ন, বশম্, আগচ্ছেৎ, তৌ, হি, অস্য, পরিপন্থিনৌ ॥৩৪॥
অর্থ:- সমস্ত জীবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুতে আসক্তি অথবা বিরক্তি অনুভব করে, কিন্তু এভাবে ইন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়ের বিষয়ের বশীভূত হওয়া উচিত নয়, কারণ তা পারমার্থিক প্রগতির পথে প্রতিবন্ধক।
শ্লোক:35:
শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ ।
স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ ॥৩৫॥

শ্রেয়ান্, স্বধর্মঃ, বিগুণঃ, পরধর্মাৎ, সু-অনুষ্ঠিতাৎ,
স্বধর্মে, নিধনম্, শ্রেয়ঃ, পরধর্মঃ, ভয়াবহঃ ॥৩৫॥
অর্থ:- স্বধর্মের অনুষ্ঠান দোষযুক্ত হলেও উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম থেকে উৎকৃষ্ট। স্বধর্ম সাধনে যদি মৃত্যু হয়, তাও মঙ্গলজনক, কিন্তু অন্যের ধর্মের অনুষ্ঠান করা বিপজ্জনক।
শ্লোক:36:
অর্জুন উবাচ
অথ কেন প্রযুক্তোহয়ং পাপং চরতি পুরুষঃ ।
অনিচ্ছন্নপি বার্ঞ্চেয় বলাদিব নিয়োজিতঃ ॥৩৬॥

অথ, কেন, প্রযুক্তঃ, অয়ম্, পাপম্, চরতি, পুরুষঃ,
অনিচ্ছন্, অপি, বার্ঞ্চেয়, বলাৎ, ইব, নিয়োজিতঃ ॥৩৬॥
অর্থ:- অর্জুন বললেন- হে বার্ঞ্চেয় ! মানুষ কার দ্বারা চালিত হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেন বলপূর্বক নিয়োজিত হয়েই পাপাচরণে প্রবৃত্ত হয়?
শ্লোক:37:
শ্রীভগবানুবাচ
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ ।
মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্ ॥৩৭॥

কামঃ, এষঃ, ক্রোধঃ, এষঃ, রজোঃ-গুণ-সমুদ্ভবঃ,
মহাশনঃ, মহাপাপ্মা, বিদ্ধি, এনম্, ইহ, বৈরিণম্ ॥৩৭॥
অর্থ:-পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে অর্জুন ! রজোগুণ থেকে সমুদ্ভূত কামই মানুষকে এই পাপে প্রবৃত্ত করে এবং এই কামই ক্রোধে পরিণত হয়। কাম সর্বগ্রাসী ও পাপাত্মক; কামকেই জীবের প্রধান শত্রু বলে জানবে।
শ্লোক:38:
ধূমেনাব্রিয়তে বহ্নির্যথাদর্শো মলেন চ ।
যথোল্বেনাবৃতো গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্ ॥৩৮॥

ধূমেন, আব্রিয়তে, বহ্নিঃ, যথা, আদর্শঃ, মলেন, চ,
যথা, উল্বেন, আবৃতঃ, গর্ভঃ, তথা, তেন, ইদম্, আবৃতম্ ॥৩৮॥
অর্থ:- অগ্নি যেমন ধূম দ্বারা আবৃত থাকে, দর্পণ যেমন ময়লার দ্বারা আবৃত থাকে অথবা গর্ভ যেমন জরায়ুর দ্বারা আবৃত থাকে, তেমনই জীবাত্মা বিভিন্ন মাত্রায় এই কামের দ্বারা আবৃত থাকে।
শ্লোক:39:
আবৃতং জ্ঞানমেতেন জ্ঞানিনো নিত্যবৈরিণা ।
কামরূপেণ কৌন্তেয় দুষ্পূরেণানলেন চ ॥৩৯॥

আবৃতম্, জ্ঞানম্, এতেন, জ্ঞানিনঃ, নিত্যবৈরিণা,
কামরূপেণ, কৌন্তেয়, দুষ্পূরেণ, অনলেন, চ ॥৩৯॥
অর্থ:- কামরূপী চির শত্রুর দ্বারা জীবের শুদ্ধ চেতনা আবৃত হয় । এই কাম দুর্বারিত অগ্নির মতো চিরঅতৃপ্ত।
শ্লোক:40:
ইন্দ্রিয়াণি মনো বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে ।
এতৈর্বিমোহয়ত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্ ॥৪০॥

ইন্দ্রিয়াণি, মনঃ, বুদ্ধিঃ, অস্য, অধিষ্ঠানম্, উচ্যতে,
এতৈঃ, বিমোহয়তি, এষঃ, জ্ঞানম্, আবৃত্য, দেহিনম্ ॥৪০॥
অর্থ:- ইন্দ্রিয়সমূহ, মন ও বুদ্ধি এই কামের আশ্রয়স্থল ৷এই ইন্দ্রিয় আদির দ্বারা কাম জীবের প্রকৃত জ্ঞানকে আচ্ছন্ন করে তাকে বিভ্রান্ত করে।
শ্লোক:41:
তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিয়াণ্যাদৌ নিয়ম্য ভরতর্ষভ ।
পাপ্মানং প্রজহি হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্ ॥৪১॥

তস্মাৎ, ত্ত্বম্, ইন্দ্রিয়াণি, আদৌ, নিয়ম্য, ভরত-ঋষভ,
পাপ্মানম্, প্রজহি, হি, এনম্, জ্ঞান-বিজ্ঞান-নাশনম্ ॥৪১॥
অর্থ:- অতএব, হে ভরতশ্রেষ্ঠ ! তুমি প্রথমে ইন্দ্রিয়গুলিকে নিয়ন্ত্রিত করে জ্ঞান ও বিজ্ঞান-নাশক পাপের প্রতীকরূপ এই কামকে বিনাশ কর।
শ্লোক:42:
ইন্দ্রিয়াণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিয়েভ্যঃ পরং মনঃ ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধির্যো বুদ্ধেঃ পরতস্ত্ত সঃ ॥৪২॥

ইন্দ্রিয়াণি, পরাণি, আহুঃ, ইন্দ্রিয়েভ্যঃ, পরম্, মনঃ,
মনসঃ, তু, পরা, বুদ্ধিঃ, যঃ, বুদ্ধেঃ, পরতঃ, তু, সঃ ॥৪২॥
অর্থ:- স্থূল জড় পদার্থ থেকে ইন্দ্রিয়গুলি শ্রেয়; ইন্দ্রিয়গুলি থেকে মন শ্রেয়; মন থেকে বুদ্ধি শ্রেয়; আর তিনি (আত্মা) সেই বুদ্ধি থেকেও শ্রেয়।
শ্লোক:43:
এবং বুদ্ধেঃ পরং বুদ্ধা সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা।
জহি শত্রুং মহাবাহো কামরূপংদুরাসদম্॥ ॥৪৩॥

এবম্, বুদ্ধেঃ, পরম্, বুদ্ধা, সংস্তভ্য, আত্মানম্, আত্মনা,br> জহি, শত্রুম্, মহাবাহো, কামরূপম্, দুরাসদম্॥ ॥৪৩॥
অর্থ:-হে মহাবীর অর্জুন ! নিজেকে জড় ইন্দ্রীয়, মন ও বুদ্ধির অতীত জেনে, নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধির দ্বারা মনকে স্থির কর এবং এভাবেই চিৎ-শক্তির দ্বারা কামরূপ দুর্জয় শত্রুকে জয় কর।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'কর্মযোগো' নাম তৃতীয়োঽধ্যায়ঃ ॥৩॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৩য় অধ্যায়:- কর্মযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
          ৪৩ টি মন্ত্র বিশিষ্ট তৃতীয় অধ্যায় শুরু হয়েছে অজুর্নের জিজ্ঞাসা দিয়ে। পূর্ববর্তী অধ্যায়ের শেষার্ধে শ্রীকৃষ্ণের মুখে ব্রহ্মজ্ঞান, ব্রাহ্মিস্থিতি ও নিষ্কাম কর্মের কথা শ্রবণ করে অর্জুন যেন কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়লেন। তিনি যেন ঠিক বুঝতে পারলেন না যে ব্রহ্মজ্ঞান ও নিষ্কামকর্ম –এ দু’য়ের মধ্যে কোন্ টি অধিকতর গ্রহণীয়। অর্জুনের এ দ্বিধা দুর করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ বেদের দুটি প্রধান পথ- একটি জ্ঞান, অপরটি নিষ্কাম কর্ম সম্পর্কে ব্যাখ্যা করলেন। তিনি বললেন, আজীবন ব্রহ্মচর্যে ব্রতী ব্যক্তিগণই জ্ঞান পথের অধিকারী। এতে কঠোর যোগসাধনার প্রয়োজন। অতি অল্প লোকই এ পথ অনুসরণ করে সিদ্ধি লাভ করে। সে কারণে সাধারণ গৃহীদের নিষ্কাম কর্মের পথানুসরণই শ্রেয়ঃ। নিষ্কাম কর্মযোগ অবলম্বনে কর্মীর জ্ঞানও বিশুদ্ধ হয়ে থাকে। তাছাড়া জীব কখনও পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
তাছাড়া জীব কখনও কর্মহীন থাকতে পারে না। জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিটি জীবকেই সর্বদা কর্ম করতে হয়। তবে সে কর্ম যখন কামনাবিহীন হয় তখন তা কোন বন্ধনের কারণ হয় না, অর্থাৎ সে কর্মের দায়ভার নিষ্কামকর্মীর উপর বর্তায় না। নিষ্কাম কর্মযোগী পরিণামে ব্রহ্মপদই লাভ করে থাকে। তাই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে সম্পূর্ণ অনাসক্তভাবে কর্তব্যবোধে কর্ম করার জন্য বললেন। তিনি আরও উপদেশ দিলেন যে স্বধর্ম কিঞ্চিৎ দোষযুক্ত হলেও ইহা উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। স্বধর্মে নিধনও কল্যাণকর, কিন্তু পরধর্ম গ্রহণ করা ভয়াবহ। অর্জুন পুনরায় জানতে চাইলেন যে, লোকে কার দ্বারা প্রযুক্ত হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেন বলপূর্বক নিয়োজিত হয়েই পাপাচার করে থাকে? তদুত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, জ্ঞানীগণের নিত্যশত্রু দুষ্পূরণীয় অগ্নিতুল্য কামদ্বারা জ্ঞান আচ্ছন্ন থাকে বলেই লোকে কখনোকখনো অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাপাচারে লিপ্ত হয়। আর একারণেই অগ্রে ইন্দ্রিয়গণকে বশীভূত করে জ্ঞান বিনাশী কামকে বিনষ্ট বা পরিত্যাগ করা প্রয়োজন। মানুষের বুদ্ধি বা শুদ্ধবিবেক-ই মনকে বশ করে কামরূপ দুর্জয় শক্রকে বিনাশ করতে সক্ষম। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন