১৮.মোক্ষযোগ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন

       ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..
১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন
 ১৫.পুরুষোত্তমযোগ........
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ...
১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ..
১২.ভক্তিযোগ.............
শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:- - দেখতে ক্লিক করুন  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:- - ক্লিক করুন  ১০.বিভূতিযোগ.......
শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:- -  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..
সুনির্বাচিত শ্লোক০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
০৬.ধ্যানযোগ........
প্রার্থনা০৫.কর্মসন্যাসযোগ
০৪.জ্ঞানযোগ......
০৩.কর্মযোগ........
০২.সাংখ্যযোগ.......
০১.অর্জুনবিষাদযোগ

কর্মষটক

ভক্তিষটক

জ্ঞানষটক

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

1:সন্ন্যাসং কর্মণাং 2:সন্ন্যাসঃ কর্মযোগশ্চ 3:জ্ঞেয় স নিত্যসন্ন্যাসী 4:সাংখ্যযোগৌ পৃথগ্ 5:যৎ সাংখ্যৈঃ প্রাপ্যতে 6:সন্নাসস্ত্ত মহাবাহো
7:যোগযুক্তো বিশুদ্ধ 8:নৈব কিঞ্চিৎ করো. 9:প্রলপন্ বিসৃজন্ 10:ব্রহ্মণ্যাধায় কর্মাণি 11:কায়েন মনসা বুদ্ধ্যা 12:যুক্তঃ কর্মফলং ত্যক্ত্বা
13:সর্বকর্মাণি মনসা 14:ন কর্তৃত্বং ন কর্ম 15:নাদত্তে কস্যচিৎ 16:জ্ঞানেন তু তদ্ 17:তদ্বুদ্ধয়স্তদাত্মানস্ত. 18:বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে
19:ইহৈব তৈর্জিতঃ স 20:ন প্রহৃষ্যেৎ প্রিয়ং 21:বাহ্যস্পর্শেষ্বসক্তাত্মা 22:যে হি সংস্পর্শজা 23:শক্নোতীহৈব যঃ সো 24:যোহন্তঃসুখোহন্তরারাম
25:লভন্তে ব্রহ্মনির্বাণ 26:কামক্রোধবিমুক্তানা 27:স্পর্শান্ কৃত্বা বহি 28:যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধি 29:ভোক্তারং যজ্ঞতপসা উপসংহার
শ্লোক: . .

  অর্থ:- . . .

৫ম অধ্যায়:- কর্মসন্যাসযোগ- এর সার সংক্ষেপ:-
পোস্টটি বা এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ




শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
অর্জুন উবাচ
সন্ন্যাসং কর্মণাং কৃষ্ণ পুনর্যোগং চ শংসসি ।
যচ্ছ্রেয় এতয়োরেকং তন্মে ব্রূহি সুনিশ্চিতম্ ॥১॥

সন্ন্যাসম্, কর্মণাম্, কৃষ্ণ, পুনঃ, যোগম্, চ, শংসসি,
যৎ, শ্রেয়ঃ, এতয়োঃ, একম্, তৎ, মে, ব্রূহি, সুনিশ্চিতম্ ॥১॥
অর্থ:- অর্জুন বললেন- হে শ্রীকৃষ্ণ ! প্রথম তুমি আমাকে কর্ম ত্যাগ করতে বললে এবং তারপর কর্মযোগের অনুষ্ঠান করতে বললে। এই দুটির মধ্যে কোন্ টি অধিক কল্যাণকর, তা সুনিশ্চিতভাবে আমাকে বল।
শ্লোক:2:
শ্রীভগবানুবাচ
সন্ন্যাসঃ কর্মযোগশ্চ নিঃশ্রেয়সকরাবুভৌ ।
তয়োস্তু কর্মসন্ন্যাসাৎ কর্মযোগো বিশিষ্যতে ॥২॥

সন্ন্যাসঃ, কর্মযোগঃ, চ, নিঃশ্রেয়সকরৌ, উভৌ,
তয়োঃ, তু, কর্মসন্ন্যাসাৎ, কর্মযোগঃ, বিশিষ্যতে ॥২॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- কর্মত্যাগ কর্মযোগ উভয়ই মুক্তিদায়ক। কিন্তু, এই দুটির মধ্যে কর্মযোগ কর্মসন্ন্যাস থেকে শ্রেয়।
শ্লোক:3:
জ্ঞেয় স নিত্যসন্ন্যাসী যো ন দ্বেষ্টি ন কাঙ্ক্ষতি ।
নির্দ্বন্দ্বো হি মহাবাহো সুখং বন্ধাৎ প্রমুচ্যতে ॥৩॥

জ্ঞেয়ঃ, স, নিত্যসন্ন্যাসী, যঃ, ন, দ্বেষ্টি, ন, কাঙ্ক্ষতি,
নির্দ্বন্দ্বো, হি, মহাবাহো, সুখম্, বন্ধাৎ, প্রমুচ্যতে ॥৩॥
অর্থ:- হে মহাবাহো ! যিনি তাঁর কর্মফলের প্রতি দ্বেষ বা আকাঙ্ক্ষা করেন না, তাঁকেই নিত্য সন্ন্যাসী বলে জানবে ৷ এই প্রকার ব্যক্তি দ্বন্দ্বরহিত এবং পরম সুখে কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন।
শ্লোক:4:
সাংখ্যযোগৌ পৃথগ্ বালাঃ প্রবদন্তি ন পণ্ডিতাঃ ৷
একমপ্যাস্থিতঃ সম্যগুভয়োর্বিন্দতে ফলম্ ॥৪॥

সাংখ্যযোগৌ, পৃথক্, বালাঃ, প্রবদন্তি, ন, পণ্ডিতাঃ,
একম্, অপি, আস্থিতঃ, সম্যক্, উভয়োঃ, বিন্দতে, ফলম্ ॥৪॥
অর্থ:- অল্পজ্ঞ ব্যক্তিরাই কেবল সাংখ্যযোগ ও কর্মযোগকে পৃথক পৃথক পদ্ধতি বলে প্রকাশ করে, পণ্ডিতেরা তা বলেন না। উভয়ের মধ্যে যে-কোন একটিকে সুষ্ঠুরূপে আচরণ করলে উভয়ের ফলই লাভ হয়।
শ্লোক:5:
যৎ সাংখ্যৈঃ প্রাপ্যতে স্থানং তদ্ যোগৈরপি গম্যতে।
একং সাংখ্যং চ যোগং চ যঃ পশ্যতি স পশ্যতি ॥৫॥

যৎ, সাংখ্যৈঃ, প্রাপ্যতে, স্থানম্, তৎ, যোগৈঃ, অপি, গম্যতে,
একম্, সাংখ্যম্, চ, যোগম্, চ, যঃ, পশ্যতি, সঃ, পশ্যতি ॥৫॥
অর্থ:- যিনি জানেন, সাংখ্য-যোগের দ্বারা যে গতি লাভ হয়, কর্মযোগের দ্বারাও সেই গতি প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং তাই যিনি সাংখ্যযোগ ও কর্ম-যোগকে এক বলে জানেন, তিনিই যথার্থ তত্ত্বদ্রষ্টা।
শ্লোক:6:
সন্নাসস্ত্ত মহাবাহো দুঃখমাপ্তুমযোগতঃ ।
যোগযুক্তো মুনির্ব্রহ্ম ন চিরেণাধিগচ্ছতি ॥৬॥

সন্নাসঃ, তু, মহাবাহো, দুঃখম্, আপ্তুম্, অযোগতঃ,
যোগযুক্তঃ, মুনিঃ, ব্রহ্ম, ন, চিরেণ, অধিগচ্ছতি ॥৬॥
অর্থ:- হে মহাবাহো ! কর্মযোগ ব্যতীত কেবল কর্মত্যাগরূপ সন্ন্যাস দুঃখজনক৷ কিন্তু যোগযুক্ত মুনি অচিরেই ব্রহ্মকে লাভ করেন।
শ্লোক:7:
যোগযুক্তো বিশুদ্ধাত্মা বিজিতাত্মা জিতেন্দ্রিয়ঃ ।
সর্বভূতাত্মভূতাত্মা কুর্বন্নপি ন লিপ্যতে ॥৭॥

যোগযুক্তঃ, বিশুদ্ধ-আত্মা, বিজিত-আত্মা, জিত-ইন্দ্রিয়ঃ,
সর্বভূত-আত্ম-ভূত-আত্মা, কুর্বন্, অপি, ন, লিপ্যতে ॥৭॥
অর্থ:- যোগযুক্ত জ্ঞানী বিশুদ্ধ বুদ্ধি, বিশুদ্ধ চিত্ত ও জিতেন্দ্রিয় এবং তিনি সমস্ত জীবের অনুরাগভাজন হয়ে সমস্ত কর্ম করেও তাতে লিপ্ত হন না।
শ্লোক:8:
নৈব কিঞ্চিৎ করোমীতি যুক্তো মন্যেত তত্ত্ববিৎ ।
পশ্যন্ শৃণ্বন্ স্পৃশন্ জিঘ্রন্নশ্নন্ গচ্ছন্ স্বপন্ শ্বসন্ ॥৮॥

ন, এব, কিঞ্চিৎ, করোমি, ইতি, যুক্তঃ, মন্যেত, তত্ত্ববিৎ,
পশ্যন্, শৃণ্বন্, স্পৃশন্, জিঘ্রন্, অশ্নন্, গচ্ছন্, স্বপন্, শ্বসন্ ॥৮॥
অর্থ:- চিন্ময় চেতনায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি দর্শন, শ্রবণ, স্পর্শ, ঘ্রাণ, ভোজন, গমন, নিদ্রা ও নিঃশ্বাস, আদি ক্রিয়া করেও সর্বদা জানেন যে, প্রকৃতপক্ষে তিনি কিছুই করছেন না।
কারণ প্রলাপ, ত্যাগ, গ্রহণ, চক্ষুর উন্মেষ ও নিমেষ করার সময় তিনি সব সময় জানেন যে, জড় ইন্দ্রিয়গুলিই কেবল ইন্দ্রিয়ের বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়েছে, তিনি নিজে কিছুই করছেন না।
শ্লোক:9:
প্রলপন্ বিসৃজন্ গৃহ্নন্নুন্মিষন্নিমিষন্নপি ।
ইন্দ্রিয়াণীন্দ্রিয়ার্থেষু বর্তন্ত ইতি ধারয়ন্ ॥৯॥

প্রলপন্, বিসৃজন্, গৃহ্নন্, উন্মিষন্, নিমিষন্, অপি,
ইন্দ্রিয়াণি, ইন্দ্রিয়ার্থেষু, বর্তন্তে, ইতি, ধারয়ন্ ॥৯॥
শ্লোক:10:
ব্রহ্মণ্যাধায় কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা করোতি যঃ ।
লিপ্যতে ন স পাপেন পদ্মপত্রমিবাম্ভসা ॥১০॥

ব্রহ্মণি, আধায়, কর্মাণি, সঙ্গম্, ত্যক্ত্বা, করোতি, যঃ,
লিপ্যতে, ন, সঃ, পাপেন, পদ্মপত্রম্, ইব, অম্ভসা ॥১০॥
অর্থ:- যিনি সমস্ত কর্মের ফল পরমেশ্বর ভগবানকে অর্পণ করে অনাসক্ত হয়ে কর্ম করেন, কোন পাপ তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারে না, ঠিক যেমন জল পদ্মপাতাকে স্পর্শ করতে পারে না।
শ্লোক:11:
কায়েন মনসা বুদ্ধ্যা কেবলৈরিন্দ্রিয়ৈরপি ।
যোগিনঃ কর্ম কুর্বন্তি সঙ্গং ত্যক্ত্বাত্মশুদ্ধয়ে ॥১১॥

কায়েন, মনসা, বুদ্ধ্যা, কেবলৈঃ, ইন্দ্রিয়ৈঃ, অপি,
যোগিনঃ, কর্ম, কুর্বন্তি, সঙ্গম্, ত্যক্ত্বা, আত্মশুদ্ধয়ে ॥১১॥
অর্থ:- আত্মশুদ্ধির জন্য যোগীরা কর্মফলের আসক্তি ত্যাগ করে দেহ, মন, বুদ্ধি, এমন কি ইন্দ্রিয়ের দ্বারাও কর্ম করেন।
শ্লোক:12:
যুক্তঃ কর্মফলং ত্যক্ত্বা শান্তিমাপ্নোতি নৈষ্ঠিকীম্ ।
অযুক্তঃ কামকারেণ ফলে সক্তো নিবধ্যতে ॥১২॥

যুক্তঃ, কর্মফলম্, ত্যক্ত্বা, শান্তিম্, আপ্নোতি, নৈষ্ঠিকীম্ ।
অযুক্তঃ, কামকারেণ, ফলে, সক্তঃ, নিবধ্যতে ॥১২॥
অর্থ:- যোগী কর্মফল ত্যাগ করে নৈষ্ঠিকী শান্তি লাভ করেন; কিন্তু সকাম কর্মী কর্মফলের প্রতি আসক্ত হয়ে কর্ম করার ফলে কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
শ্লোক:13:
সর্বকর্মাণি মনসা সংন্যস্যাস্তে সুখং বশী ।
নবদ্বারে পুরে দেহী নৈব কুর্বন্ন কারয়ন্ ॥১৩॥

সর্বকর্মাণি, মনসা, সংন্যস্য, আস্তে, সুখম্, বশী,
নবদ্বারে, পুরে, দেহী, ন, এব, কুর্বন্, ন, কারয়ন্ ॥১৩॥
অর্থ:- বাহ্যে সমস্ত কার্য করেও মনের দ্বারা সমস্ত কর্ম ত্যাগ করে জীব নবদ্বার-বিশিষ্ট দেহরূপ গৃহে পরম সুখে বাস করতে থাকেন; তিনি নিজে কিছুই করেন না এবং কাউকে দিয়েও কিছু করান না।
শ্লোক:14:
ন কর্তৃত্বং ন কর্মাণি লোকস্য সৃজতি প্রভুঃ ।
ন কর্মফলসংযোগং স্বভাবস্তু প্রবর্ততে ॥১৪॥

ন, কর্তৃত্বম্, ন, কর্মাণি, লোকস্য, সৃজতি, প্রভুঃ,
ন, কর্মফলসংযোগম্, স্বভাবঃ, তু, প্রবর্ততে ॥১৪॥
অর্থ:- দেহরূপ নগরীর প্রভু জীব কর্ম সৃষ্টি করে না, সে কাউকে দিয়ে কিছু করায় না এবং সে কর্মের ফলও সৃষ্টি করে না ৷ এই সবই হয় জড়া প্রকৃতির গুণের প্রভাবে।
শ্লোক:15:
নাদত্তে কস্যচিৎ পাপং ন চৈব সুকৃতং বিভুঃ ।
অজ্ঞানেনাবৃতং জ্ঞানং তেন মুহ্যন্তি জন্তবঃ ॥১৫॥

ন, আদত্তে, কস্যচিৎ, পাপম্, ন, চ, এব, সুকৃতম্, বিভুঃ,
অজ্ঞানেন, আবৃতম্, জ্ঞানম্, তেন, মুহ্যন্তি, জন্তবঃ ॥১৫॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান জীবের পাপ অথবা পুণ্য কিছুই গ্রহণ করেন না। অজ্ঞানের দ্বারা প্রকৃত জ্ঞান আবৃত হওয়ার ফলে জীবসমূহ মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
শ্লোক:16:
জ্ঞানেন তু তদ্ জ্ঞানং যেষাং নাশিতমাত্মনঃ ।
তেষামাদিত্যবজ্ জ্ঞানং প্রকাশয়তি তৎ পরম্ ॥১৬॥

জ্ঞানেন, তু, তৎ, অজ্ঞানম্, যেষাম্, নাশিতম্, আত্মনঃ,
তেষাম্, আদিত্যবৎ, জ্ঞানম্, প্রকাশয়তি, তৎপরম্ ॥১৬॥
অর্থ:- জ্ঞানের প্রভাবে যাঁদের অজ্ঞান বিনষ্ট হয়েছে, তাঁদের সেই জ্ঞান অপ্রাকৃত পরমতত্ত্বকে প্রকাশ করে, ঠিক যেমন দিনমানে সূর্যের উদয়ে সব কিছু প্রকাশিত হয়।
শ্লোক:17:
তদ্বুদ্ধয়স্তদাত্মানস্তন্নিষ্ঠাস্তৎপরায়ণাঃ ।
গচ্ছন্ত্যপুনরাবৃত্তিং জ্ঞাননির্ধূতকল্মষাঃ ॥১৭॥

তদ্-বুদ্ধয়ঃ, তদ্-আত্মানঃ, তৎ-নিষ্ঠাঃ, তৎপরায়ণাঃ ।
গচ্ছন্তি, অপুনরাবৃত্তিম্, জ্ঞাননির্ধূত-কল্মষাঃ ॥১৭॥
অর্থ:- যাঁর বুদ্ধি ভগবানের প্রতি উন্মুখ হয়েছে, মন ভগবানের চিন্তায় একাগ্র হয়েছে, নিষ্ঠা ভগবানে দৃঢ় হয়েছে এবং যিনি ভগবানকে তাঁর একমাত্র আশ্রয় বলে গ্রহণ করেছেন, জ্ঞানের দ্বারা তাঁর সমস্ত কলুষ সম্পূর্ণরূপে বিধৌত হয়েছে এবং তিনি জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন।
শ্লোক:18:
বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি ।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ॥১৮॥

বিদ্যা-বিনয়-সম্পন্নে, ব্রাহ্মণে, গবি, হস্তিনি,
শুনি, চ, এব, শ্বপাকে, চ, পণ্ডিতাঃ, সমদর্শিনঃ ॥১৮॥
অর্থ:- জ্ঞানবান পণ্ডিতেরা বিদ্যা-বিনয়সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, গাভী, হস্তী, কুকুর ও চণ্ডাল সকলের প্রতি সমদর্শী হন।
শ্লোক:19:
ইহৈব তৈর্জিতঃ সর্গো যেষাং সাম্যে স্থিতং মনঃ ।
নির্দোষং হি সমং ব্রহ্ম তস্মাদ্ ব্রহ্মণি তে স্থিতাঃ ॥১৯॥

ইহ, এব, তৈঃ, জিতঃ, সর্গঃ, যেষাম্, সাম্যে, স্থিতম্, মনঃ,
নির্দোষম্, হি, সমম্, ব্রহ্ম, তস্মাৎ, ব্রহ্মণি, তে, স্থিতাঃ ॥১৯॥
অর্থ:- যাঁদের মন সাম্যে অবস্থিত হয়েছে, তাঁরা ইহলোকেই জন্ম ও মৃত্যুর সংসার জয় করেছেন। তাঁরা ব্রহ্মের মতো নির্দোষ। তাই তাঁরা ব্রহ্মেই অবস্থিত হয়ে আছেন।
শ্লোক:20:
ন প্রহৃষ্যেৎ প্রিয়ং প্রাপ্য নোদ্বিজেৎ প্রাপ্য চাপ্রিয়ম্ ।
স্থিরবুদ্ধিরসংমূঢ়ো ব্রহ্মবিদ্ ব্রহ্মণি স্থিতঃ ॥২০॥

ন, প্রহৃষ্যেৎ, প্রিয়ম্, প্রাপ্য, ন, উদ্বিজেৎ, প্রাপ্য, চ, অপ্রিয়ম্,
স্থিরবুদ্ধিঃ, অসংমূঢ়ঃ, ব্রহ্মবিৎ, ব্রহ্মণি, স্থিতঃ ॥২০॥
অর্থ:- যে ব্যক্তি প্রিয় বস্তুর প্রাপ্তিতে উৎফুল্ল হন না এবং অপ্রিয় বস্তুর প্রাপ্তিতে বিচলিত হন না, যিনি স্থিরবুদ্ধি, মোহশূন্য ও ভগবৎ-তত্ত্ববেত্তা, তিনি ব্রহ্মেই অবস্থিত ।
শ্লোক:21:
বাহ্যস্পর্শেষ্বসক্তাত্মা বিন্দত্যাত্মনি যৎ সুখম্ ।
স ব্রহ্মযোগযুক্তাত্মা সুখমক্ষয়মশ্নুতে ॥২১॥

বাহ্যস্পর্শেষু, অসক্তাত্মা, বিন্দতি, আত্মনি, যৎ, সুখম্,
সঃ, ব্রহ্মযোগ-যুক্ত-আত্মা, সুখম্, অক্ষয়ম্, অশ্নুতে ॥২১॥
অর্থ:- সেই প্রকার ব্রহ্মবিৎ পুরুষ কোন রকম জড় ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হন না, তিনি চিদ্গত সুখ লাভ করেন। ব্রহ্মে যোগযুক্ত হয়ে তিনি অক্ষয় সুখ ভোগ করেন।
শ্লোক:22:
যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখযোনয় এব তে ।
আদ্যন্তবন্তঃ কৌন্তেয় ন তেষু রমতে বুধঃ ॥২২॥

যে, হি, সংস্পর্শজাঃ, ভোগাঃ, দুঃখযোনয়ঃ, এব, তে,
আদি-অন্তবন্তঃ, কৌন্তেয়, ন, তেষু, রমতে, বুধঃ ॥২২॥
অর্থ:- বিবেকবান পুরুষ দুঃখের কারণ যে ইন্দ্রিয়জাত বিষয়ভোগ তাতে আসক্ত হন না। হে কৌন্তেয় ! এই ধরনের সুখভোগ আদি ও অন্তবিশিষ্ট৷ তাই, জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাতে প্রীতি লাভ করেন না।
শ্লোক:23:
শক্নোতীহৈব যঃ সোঢুং প্রাক্ শরীরবিমোক্ষণাৎ ।
কামক্রোধোদ্ভবং বেগং স যুক্তঃ স সুখী নরঃ ॥২৩॥

শক্নোতি, ইহ, এব, যঃ, সোঢুম্, প্রাক্, শরীর-বিমোক্ষণাৎ,
কাম-ক্রোধ-উদ্ভবম্, বেগম্, সঃ, যুক্তঃ, সঃ, সুখী, নরঃ ॥২৩॥
অর্থ:- এই দেহ ত্যাগ করার পূর্বে যিনি কাম, ক্রোধ থেকে উদ্ভূত বেগ সহ্য করতে সক্ষম হন, তিনি যোগী এবং এই জগতে তিনিই সুখী হন।
শ্লোক:24:
যোহন্তঃসুখোহন্তরারামস্তথান্তর্জ্যোতিরেব যঃ ।
স যোগী ব্রহ্মনির্বাণং ব্রহ্মভূতোহধিগচ্ছতি ॥২৪॥

যঃ, অন্তঃসুখঃ, অন্তঃ-আরামঃ, তথা, অন্তর্জ্যোতিঃ, এব, যঃ,
সঃ, যোগী, ব্রহ্মনির্বাণম্, ব্রহ্মভূতঃ, অধিগচ্ছতি ॥২৪॥
অর্থ:- যিনি আত্মাতেই সুখ অনুভব করেন, যিনি আত্মাতেই ক্রীড়াযুক্ত এবং আত্মাই যাঁর লক্ষ্য, তিনিই যোগী৷ তিনি ব্রহ্মে অবস্থিত হয়ে ব্রহ্মনির্বাণ লাভ করেন।
শ্লোক:25:
লভন্তে ব্রহ্মনির্বাণম্ ঋষয়ঃ ক্ষীণকল্মষাঃ ।
ছিন্নদ্বৈধা যতাত্মানঃ সর্বভূতহিতে রতাঃ ॥২৫॥

লভন্তে, ব্রহ্মনির্বাণম্, ঋষয়ঃ, ক্ষীণকল্মষাঃ,
ছিন্নদ্বৈধাঃ, যত-আত্মানঃ, সর্বভূতহিতে, রতাঃ ॥২৫॥
অর্থ:- সংযতচিত্ত, সমস্ত জীবের কল্যাণে রত এবং সংশয় রহিত নিষ্পাপ ঋষিগণ ব্রহ্মনির্বাণ লাভ করেন।
শ্লোক:26:
কামক্রোধবিমুক্তানাং যতীনাং যতচেতসাম্ ।
অভিতো ব্রহ্মনির্বাণং বর্ততে বিদিতাত্মনাম্ ॥২৬॥

কামক্রোধ-বিমুক্তানাম্, যতীনাম্, যতচেতসাম্,
অভিতঃ, ব্রহ্মনির্বাণম্, বর্ততে, বিদিত-আত্মনাম্ ॥২৬॥
অর্থ:- কাম-ক্রোধশূন্য, সংযতচিত্ত, আত্মতত্ত্বজ্ঞ সন্ন্যাসীরা সর্বতোভাবে অচিরেই ব্রহ্মনির্বাণ লাভ করেন।
শ্লোক:27:
স্পর্শান্ কৃত্বা বহির্বাহ্যাংশ্চক্ষুচৈবান্তরে ভ্রুবোঃ ।
প্রাণাপানৌ সমৌ কৃত্বা নাসাভ্যন্তরচারিণৌ ॥২৭॥

স্পর্শান্, কৃত্বা, বহিঃ, বাহ্যান্, চক্ষুঃ, চ, এব, অন্তরে, ভ্রুবোঃ,
প্রাণ-অপানৌ, সমৌ, কৃত্বা, নাসা-অভ্যন্তর-চারিণৌ ॥২৭॥
অর্থ:- মন থেকে বাহ্যইন্দ্রিয়ের বিষয় প্রত্যাহার করে, ভ্রূযুগলের মধ্যে দৃষ্টি স্থির করে, নাসিকার মধ্যে বিচরণশীল প্রাণ ও অপান বায়ুর উর্ধ্ব ও অধোগতি রোধ করে, ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি সংযম করে এবং ইচ্ছা, ভয় ও ক্রোধ শূন্য হয়ে যে মুনি সর্বদা বিরাজ করেন, তিনি নিশ্চিতভাবে মুক্ত।
শ্লোক:28:
যতেন্দ্রিয়মনোবুদ্ধির্মুনির্মোক্ষপরায়ণঃ ।
বিগতেচ্ছাভয়ক্রোধো যঃ সদা মুক্ত এব সঃ ॥২৮॥

যত-ইন্দ্রিয়-মনঃ-বুদ্ধিঃ, মুনিঃ, মোক্ষ-পরায়ণঃ,
বিগত-ইচ্ছা-ভয়-ক্রোধঃ, যঃ, সদা, মুক্ত, এব, সঃ ॥২৮॥
শ্লোক:29:
ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্ ।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি ॥২৯॥

ভোক্তারম্, যজ্ঞ-তপসাম্, সর্বলোক-মহেশ্বরম্,
সুহৃদম্, সর্বভূতানাম্, জ্ঞাত্বা, মাম্, শান্তিম্, ঋচ্ছতি ॥২৯॥
অর্থ:- আমাকে সমস্ত যজ্ঞ ও তপস্যার পরম ভোক্তা, সর্বলোকের মহেশ্বর এবং সমস্ত জীবের সুহৃদরূপে জেনে যোগীরা জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি লাভ করেন।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'কর্মসন্ন্যাসযোগো' নাম পঞ্চমোঽধ্যায়ঃ ॥৫॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৫ম অধ্যায়:- কর্মসন্যাসযোগ- এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
         কর্ম ও সন্ন্যাসের সম্বন্ধ এবং কর্মফলাফল সম্পর্কিত আলোচনাই এই অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আলোচনার বিষয়বস্তুর সংগে সামঞ্জস্য রেখেই এ অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে 'কর্ম-সন্ন্যাস যোগ'। অধ্যায়টি অর্জুনের জিজ্ঞাসা দিয়ে শুরু হয়েছে। এখানে অর্জুনের জিজ্ঞাসা-কর্ম ত্যাগ ও সন্ন্যাস গ্রহণ পূর্বক জ্ঞানযোগের অনুশীলন অথবা নিষ্কাম কর্মযোগের অনুশীলন, এর মধ্যে কোনটি তার জন্য শ্রেয়স্কর। অর্জুনের মনে এপ্রশ্নের উদ্রেক হওয়ার কারণ পূর্ববর্তী অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক জ্ঞানযোগের ভূয়সী প্রশংসা করা সত্ত্বেও অধ্যায়ের শেষ শ্লোকে তিনি অর্জুনকে নিষ্কাম কর্মযোগীর ন্যায় কর্মে লিপ্ত হবার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। তাই অর্জুনের সংশয় যে তিনি কি কর্ম ত্যাগ করে সন্ন্যাসীর ন্যায় জ্ঞানের সাধনায় ব্রতী হবেন, নাকি নিষ্কামভাবে পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
নাকি নিষ্কামভাবে স্বধর্ম পালনে ব্রতী হবেন। অর্জুনের মনের এই সংশয় দূরীকরণার্থে শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, সন্ন্যাস ও কর্ম যোগ উভয়ই মোক্ষপ্রদ তবে এ দু'টির মধ্যে কর্ম যোগই শ্রেষ্ঠ। তিনি ব্যাখ্যা করে বললেন যে, কেবল অজ্ঞ ব্যক্তিগণই সন্ন্যাস ও কর্মযোগকে পৃথক মনে করে থাকেন; পন্ডিতগণ এমনটি মনে করেন না। কারণ এ উভয় পথের যে কোন একটিতেনিষ্ঠাবান পুরুষ একই ফল, 'মোক্ষ’ লাভ করে থাকেন। জ্ঞান নিষ্ঠ সন্ন্যাসীগণ জ্ঞান যোগের সাধনায় যে স্থান লাভ করেন, কর্মযোগীগণও সেই একই স্থান লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে যিনি জ্ঞান যোগ ও কর্মযোগের ফল একইরূপে দেখেন, তিনিই যথার্থদর্শী। অতপর তিনি বললেন যে, কর্মযোগ ব্যতীত সন্ন্যাস কেবল দুঃখের কারণ। কিন্ত্ত কর্মযোগযুক্ত সাধক অচিরেই ব্রহ্মপদ লাভ করেন। যিনি কর্মযোগযুক্ত, বিশুদ্ধচিত্ত, জিতেন্দ্রিয় এবং সর্বভূতের আত্মাই যার আত্মস্বরূপ, এরূপ পুরুষ কর্ম করেও কর্মে আবদ্ধ হয় না। ফলাসক্তি ও কর্তৃত্বাভিমান পরিত্যাগী কর্মযোগী কর্ম করেও জলে পদ্মপাতার ন্যায় পাপে লিপ্ত হয় না। এভাবে শ্রীকৃষ্ণ নিষ্কাম কর্মযোগের প্রসস্তি প্রতিপাদন করে অর্জুনের সংশয় ঘুচালেন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন