১৮.মোক্ষযোগ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন

       ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..
১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন
 ১৫.পুরুষোত্তমযোগ........
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ...
১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ..
১২.ভক্তিযোগ.............
শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:- - দেখতে ক্লিক করুন  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.
শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:- - ক্লিক করুন  ১০.বিভূতিযোগ.......
শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:- -  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..
সুনির্বাচিত শ্লোক০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ
০৬.ধ্যানযোগ........
প্রার্থনা০৫.কর্মসন্যাসযোগ
০৪.জ্ঞানযোগ......
০৩.কর্মযোগ........
০২.সাংখ্যযোগ.......
০১.অর্জুনবিষাদযোগ

কর্মষটক

ভক্তিষটক

জ্ঞানষটক

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

1:অনাশ্রিতঃ কর্মফলং 2:যং সন্ন্যাসমিতি প্রাহু 3:আরুরুক্ষোর্মুনের্যোগং 4:যদা হি নেন্দ্রিয়ার্থেষু 5:উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং 6:বন্ধুরাত্মাত্মনস্তস্য
7:জিতাত্মনঃ প্রশান্তস্য 8:জ্ঞানবিজ্ঞানতৃপ্তাত্মা 9:সুহৃন্মিত্রার্যুদাসীনমধ্যস্থ 10:যোগী যুঞ্জীত সতত 11:শুচৌ দেশে প্রতিষ্ঠা. 12:তত্রৈকাগ্রং মনঃ কৃ.
13:সমং কায়শিরোগ্রী 14:প্রশান্তাত্মা বিগতভী 15:যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং 16:নাত্যশ্নতস্ত্ত যোগো 17:যুক্তাহারবিহারস্য 18:যদা বিনিয়তং চিত্ত
19:যথা দীপো নিবাত 20:যত্রোপরমতে চিত্তং 21:সুখমাত্যন্তিকং 22:যং লব্ধা চাপরং . 23:তং বিদ্যাদ্দুঃখসং. 24:স নিশ্চয়েন যোক্ত
25:শনৈঃ শনৈরুপরমে 26:যতো যতো নিশ্চল 27:প্রশান্তমনসং হ্যেনং 28:যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং 29:সর্বভূতস্থমাত্মানং 30:যো মাং পশ্যতি সর্ব
31:সর্বভূতস্থিতং যো. 32:আত্মৌপম্যেন সর্বত্র 33:যোহয়ং যোগোস্ত্বয়া 34:চঞ্চলং হি মনঃ কৃষ্ণ 35:অসংশয়ং মহাবাহো 36:অসংযতাত্মনা যো.
37:অযতিঃ শ্রদ্ধয়োপে 38:কচ্চিন্নোভয়বিভ্রষ্ট. 39:এতন্মে সংশয়ং কৃষ্ণ 40:পার্থ নৈবেহ নামুত্র 41:প্রাপ্য পুণ্যকৃতাং 42:অথবা যোগিনামেব
43:তত্র তং বুদ্ধিসং 44:পূর্বাভ্যাসেন তেনৈব 45:প্রযত্নাদ্ যতমানস্তু 46:তপস্বিভ্যোহধিকো. 47:যোগিনামপি সর্বে উপসংহার:-
শ্লোক: . .

  অর্থ:- . . .

৬ষ্ঠ অধ্যায়:- ধ্যানযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-
পোস্টটি বা এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ




শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
শ্রীভগবানুবাচ
অনাশ্রিতঃ কর্মফলং কার্যং কর্ম করোতি যঃ ৷
স সন্ন্যাসী চ যোগী চ নিরগ্নির্ন চাক্রিয়ঃ ॥১॥

অনাশ্রিতঃ, কর্মফলম্, কার্যম্, কর্ম, করোতি, যঃ,
সঃ, সন্ন্যাসী, চ, যোগী, চ, ন, নিরগ্নিঃ, ন, চ, অক্রিয়ঃ ॥১॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- যিনি অগ্নিহোত্রাদি কর্ম ত্যাগ করেছেন এবং দৈহিক চেষ্টাশূন্য তিনি সন্ন্যাসী বা যোগী নন৷ যিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে তাঁর কর্তব্য কর্ম করেন তিনিই যথার্থ সন্ন্যাসী বা যোগী।
শ্লোক:2:
যং সন্ন্যাসমিতি প্রাহুর্যোগং তং বিদ্ধি পাণ্ডব ৷
ন হ্যসংন্যস্তসংকল্পো যোগী ভবতি কশ্চন ॥২॥

যম্, সন্ন্যাসম্, ইতি প্রাহুঃ, যোগম্, তম্, বিদ্ধি, পাণ্ডব,
ন, হি, অসংন্যস্ত-সংকল্পঃ, যোগী, ভবতি, কশ্চন ॥২॥
অর্থ:- হে পাণ্ডব ! যাকে সন্ন্যাস বলা যায়, তাকেই যোগ বলা যায়, কারণ ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা ত্যাগ না করলে কখনই যোগী হওয়া যায় না।
শ্লোক:3:
আরুরুক্ষোঃর্মুনের্যোগং কর্ম কারণমুচ্যতে ৷
যোগারূঢ়স্য তস্যৈব শমঃ কারণমুচ্যতে ॥৩॥

আরুরুক্ষোঃ, মুনেঃ, যোগম্, কর্ম, কারণম্, উচ্যতে,
যোগারূঢ়স্য, তস্য, এব, শমঃ, কারণম্, উচ্যতে ॥৩॥
অর্থ:- অষ্টাঙ্গযোগ অনুষ্ঠানে যারা নবীন, তাদের পক্ষে কর্ম অনুষ্ঠান করাই উৎকৃষ্ট সাধন, আর যাঁরা ইতিমধ্যেই যোগরূঢ় হয়েছেন তাঁদের পক্ষে সমস্ত কর্ম থেকে নিবৃত্তিই উৎকৃষ্ট সাধন।
শ্লোক:4:
যদা হি নেন্দ্রিয়ার্থেষু ন কর্মস্বনুষজ্জতে ৷
সর্বসংকল্পসন্ন্যাসী যোগারূঢ়স্তদোচ্যতে ॥৪॥

যদা, হি, ন, ইন্দ্রিয়ার্থেষু, ন, কর্মসু, অনুষজ্জতে ৷
সর্ব-সংকল্প-সন্ন্যাসী, যোগ-আরূঢ়ঃ, তদা, উচ্যতে ॥৪॥
অর্থ:- যখন যোগী জড় সুখভোগের সমস্ত সংকল্প ত্যাগ করে ইন্দ্রিয়ভোগ্য বিষয়ে এবং সকাম কর্মের প্রতি আসক্তি রহিত হন, তখন তাঁকেই যোগারূঢ় বলা হয়।
শ্লোক:5:
উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং নাত্মানমবসাদয়েৎ ৷
আত্মৈব হ্যত্মনো বন্ধুরাত্মৈব রিপুরাত্মনঃ ॥৫॥

উদ্ধরেৎ, আত্মনা, আত্মানম্, ন, আত্মনম্, অবসাদয়েৎ,
আত্মা, এব, হি, আত্মনঃ, বন্ধুঃ, আত্মা, এব, রিপুঃ, আত্মনঃ ॥৫॥
অর্থ:- মানুষের কর্তব্য তার মনের দ্বারা নিজেকে জড় জগতের বন্ধন থেকে উদ্ধার করা, মনের দ্বারা আত্মাকে অধঃপতিত করা কখনই উচিত নয়। মনই জীবের অবস্থা ভেদে বন্ধু ও শত্রু হয়ে থাকে ।
শ্লোক:6:
বন্ধুরাত্মাত্মনস্তস্য যেনাত্মৈবাত্মনা জিতঃ ৷
অনাত্মনস্ত্ত শত্রুত্বে বর্তেতাত্বৈব শত্রুবৎ ॥৬॥

বন্ধুঃ, আত্মা, আত্মনঃ, তস্য, যেন, আত্মা, এব, আত্মনা, জিতঃ,
অনাত্মনঃ, তু, শত্রুত্বে, বর্তেত, আত্মা, এব, শত্রুবৎ ॥৬॥
অর্থ:- যিনি তাঁর মনকে জয় করেছেন, তাঁর মন তাঁর পরম বন্ধু, কিন্তু যিনি তা করতে অক্ষম, তাঁর মনই তাঁর পরম শত্রু।
শ্লোক:7:
জিতাত্মনঃ প্রশান্তস্য পরমাত্মা সমাহিতঃ ৷
শীতোষ্ণসুখদুঃখেষু তথা মানাপমানয়োঃ ॥৭॥

জিত-আত্মনঃ, প্রশান্তস্য, পরমাত্মা, সমাহিতঃ,
শীত-উষ্ণ-সুখ-দুঃখেষু, তথা, মান-অপমানয়োঃ ॥৭॥
অর্থ:- জিতেন্দ্রিয় ও প্রশান্তচিত্ত ব্যক্তি পরমাত্মাকে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাঁর কাছে শীত ও উষ্ণ, সুখ ও দুঃখ এবং সন্মান ও অপমান সবই সমান।
শ্লোক:8:
জ্ঞানবিজ্ঞানতৃপ্তাত্মা কূটস্থো বিজিতেন্দ্রিয়ঃ৷
যুক্ত ইত্যুচ্যতে যোগী সমলোষ্ট্রাশ্মকাঞ্চনঃ ॥৮॥

জ্ঞান-বিজ্ঞান-তৃপ্ত-আত্মা, কূটস্থঃ, বিজিতেন্দ্রিয়ঃ,
যুক্তঃ, ইতি, উচ্যতে, যোগী, সম-লোষ্ট্র-অশ্ম-কাঞ্চনঃ ॥৮॥
অর্থ:- যে যোগী শাস্ত্রজ্ঞান ও তত্ত্ব অনুভূতিতে পরিতৃপ্ত, যিনি চিন্ময় স্তরে অধিষ্ঠত ও জিতেদ্রিয় এবং যিনি মৃৎখণ্ড, প্রস্তর ও সুবর্ণে সমদর্শী, তিনি যোগরূঢ় বলে কথিত হন।
শ্লোক:9:
সুহৃন্মিত্রার্যুদাসীনমধ্যস্থদ্বেষ্যবন্ধুষু ৷
সাধুষ্বপি চ পাপেষু সমবুদ্ধির্বিশিষ্যতে ॥৯॥

সুহৃৎ-মিত্র-অরি-উদাসীন-মধ্যস্থ-দ্বেষ্য-বন্ধুষু ৷
সাধুষু, অপি, চ, পাপেষু, সমবুদ্ধিঃ, বিশিষ্যতে ॥৯॥
অর্থ:- যিনি সুহৃদ, মিত্র, শত্রু, উদাসীন, মধ্যস্থ, মৎসর, বন্ধু, ধার্মিক ও পাপাচারী- সকলের প্রতি সমবুদ্ধি, তিনিই শ্রেষ্ঠতা লাভ করেন।
শ্লোক:10:
যোগী যুঞ্জীত সততমাত্মানং রহসি স্থিতঃ ৷
একাকী যতচিত্তাত্মা নিরাশীরপরিগ্রহঃ ॥১০॥

যোগী, যুঞ্জীত, সততম্, আত্মানম্, রহসি, স্থিতঃ,
একাকী, যত-চিত্ত-আত্মা, নিঃ-আশীঃ, অপরিগ্রহঃ ॥১০॥
অর্থ:- যোগরূঢ় ব্যক্তি সর্বদা পরব্রহ্মে সম্পর্কযুক্ত হয়ে তাঁর দেহ, মন ও নিজেকে নিয়োজিত করবেন; তিনি একাকী নির্জন স্থানে বসবাস করবেন এবং সর্বদা সতর্কভাবে তাঁর মনকে বশীভূত করবেন৷তিনি বাসনামুক্ত ও পরিগ্রহ রহিত হবেন।
শ্লোক:11:
শুচৌ দেশে প্রতিষ্ঠাপ্য স্থিরমাসনমাত্মনঃ ৷
নাত্যুচ্ছ্রিতং নাতিনীচং চৈলাজিনকুশোত্তরম্ ॥১১॥

শুচৌ, দেশে, প্রতিষ্ঠাপ্য, স্থিরম্, আসনম্, আত্মনঃ,
ন, অতি-উচ্ছ্রিতম্, ন, অতি-নীচম্, চৈল-অজিন-কুশ-উত্তরম্ ॥১১॥
অর্থ:- যোগ অভ্যাসের নিয়ম এই যে, কুশাসনের উপর মৃগচর্মের আসন, তার উপরে বস্ত্রাসন রেখে অত্যন্ত উচ্চ বা অত্যন্ত নীচ না করে, সেই আসন পবিত্র স্থানে স্থাপন করে তাতে আসীন হবেন। সেখানে উপবিষ্ট হয়ে চিত্ত, ইন্দ্রিয় ও ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিত করে চিত্ত শুদ্ধির জন্য মনকে একাগ্র করে যোগ অভ্যাস করবেন।
শ্লোক:12:
তত্রৈকাগ্রং মনঃ কৃত্বা যতচিত্তেন্দ্রিয়ক্রিয়ঃ ৷
উপবিশ্যাসনে যুঞ্জ্যাদ্ যোগমাত্মবিশুদ্ধয়ে ॥১২॥

তত্র, একাগ্রম্, মনঃ, কৃত্বা, যত-চিত্ত-ইন্দ্রিয়-ক্রিয়ঃ,
উপবিশ্য, আসনে, যুঞ্জ্যাৎ, যোগম্, আত্মবিশুদ্ধয়ে ॥১২॥
শ্লোক:13:
সমং কায়শিরোগ্রীবং ধারয়ন্নচলং স্থিরঃ ৷
সংপ্রেক্ষ্য নাসিকাগ্রং স্বং দিশশ্চানবলোকয়ন্ ॥১৩॥

সমম্, কায়-শিরঃ-গ্রীবম্, ধারয়ন্, অচলম্, স্থিরঃ,
সংপ্রেক্ষ্য, নাসিকা-অগ্রম্, স্বম্, দিশঃ, চ, অনবলোকয়ন্ ॥১৩॥
অর্থ:- শরীর, মস্তক ও গ্রীবাকে সমানভাবে রেখে অন্য দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে, নাসিকার অগ্রভাগে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে প্রশান্তাত্মা, ভয়শূন্য ও ব্রহ্মচর্য-ব্রতে স্থিত পুরুষ মনকে সমস্ত জড় বিষয় থেকে প্রত্যাহার করে, আমাকে জীবনের চরম লক্ষ্যরূপে স্থির করে হৃদয়ে আমার ধ্যানপূর্বক যোগ অভ্যাস করবেন।
শ্লোক:14:
প্রশান্তাত্মা বিগতভীর্ব্রহ্মচারিব্রতে স্থিতঃ ৷
মনঃ সংযম্য মচ্চিত্তো যুক্তঃ আসীত মৎপরঃ ॥১৪॥

প্রশান্ত-আত্মা, বিগতভীঃ, ব্রহ্মচারি-ব্রতে, স্থিতঃ,
মনঃ, সংযম্য, মৎ-চিত্তঃ, যুক্তঃ, আসীত, মৎপরঃ ॥১৪॥
শ্লোক:15:
যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী নিয়তমানসঃ ৷
শান্তিং নির্বাণপরমাং মৎসংস্থামধিগচ্ছতি ॥১৫॥

যুঞ্জন্, এবম্, সদা, আত্মানম্, যোগী, নিয়ত-মানসঃ,
শান্তিম্, নির্বাণ-পরমাম্, মৎসংস্থাম্, অধিগচ্ছতি ॥১৫॥
অর্থ:- এভাবেই দেহ, মন ও কার্যকলাপ সংযত করার অভ্যাসের ফলে যোগীর জড় বন্ধন মুক্ত হয় এবং তিনি তখন আমার ধাম প্রাপ্ত হন।
শ্লোক:16:
নাত্যশ্নতস্ত্ত যোগোহস্তি ন চৈকান্তমনশ্নতঃ।
ন চাতিস্বপ্নশীলস্য জাগ্রতো নৈব চার্জুন ॥১৬

ন, অতি, অশ্নতঃ, তু, যোগঃ, অস্তি, ন, চ, একান্তম্, অনশ্নতঃ,
ন, চ, অতি. স্বপ্নশীলস্য, জাগ্রতঃ, ন, এব, চ, অর্জুন ॥১৬
অর্থ:- অধিক ভোজনকারী, নিতান্ত অনাহারী, অধিক নিদ্রাপ্রিয় ও নিদ্রাশূন্য ব্যক্তির যোগী হওয়া সম্ভব নয়।
শ্লোক:17:
যুক্তাহারবিহারস্য যুক্তচেষ্টস্য কর্মসু ৷
যুক্তস্বপ্নাববোধস্য যোগো ভবতি দুঃখহা ॥১৭॥

যুক্ত-আহার-বিহারস্য, যুক্ত-চেষ্টস্য, কর্মসু,
যুক্ত-স্বপ্ন-অববোধস্য, যোগঃ, ভবতি, দুঃখহা ॥১৭॥
অর্থ:- যিনি পরিমিত আহার ও বিহার করেন, পরিমিত প্রয়াস করেন, যাঁর নিদ্রা ও জাগরণ নিয়মিত, তিনিই যোগ অভ্যাসের দ্বারা সমস্ত জড়-জাগতিক দুঃখের নিবৃত্তি সাধন করতে পারেন।
শ্লোক:18:
যদা বিনিয়তং চিত্তমাত্মন্যেবাবতিষ্ঠতে ৷
নিস্পৃহঃ সর্বকামেভ্যো যুক্ত ইত্যুচ্যতে তদা ॥১৮॥

যদা, বিনিয়তম্, চিত্তম্, আত্মনি, এব, অবতিষ্ঠতে,
নিস্পৃহঃ, সর্ব-কামেভ্যঃ, যুক্তঃ, ইতি, উচ্যতে, তদা ॥১৮॥
অর্থ:- যোগী যখন অনুশীলনের দ্বারা চিত্তবৃত্তির নিরোধ করেন এবং সমস্ত জড় কামনা-বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মাতে অবস্থান করেন, তখন তিনি যোগযুক্ত হয়েছেন বলে বলা হয়।
শ্লোক:19:
যথা দীপো নিবাতস্থো নেঙ্গতে সোপমা স্মৃতা ৷
যোগিনো যতচিত্তস্য যুঞ্জতো যোগমাত্মনঃ ॥১৯॥

যথা, দীপঃ, নিবাতস্থঃ, ন, ইঙ্গতে, সা, উপমা, স্মৃতা,
যোগিনঃ, যত-চিত্তস্য, যুঞ্জতঃ, যোগম্, আত্মনঃ ॥১৯॥
অর্থ:- বায়ুশূন্য স্থানে দীপশিখা যেমন কম্পিত হয় না, চিত্তবৃত্তির নিরোধ অভ্যাসকারী যোগীর চিত্তও তেমনইভাবে অবিচলিত থাকে।
শ্লোক:20:
যত্রোপরমতে চিত্তং নিরুদ্ধং যোগসেবয়া ৷
যত্র চৈবাত্মনাত্মানং পশ্যন্নাত্মনি তুষ্যতি ॥২০॥

যত্র, উপরমতে, চিত্তম্, নিরুদ্ধম্, যোগসেবয়া,
যত্র, চ, এব, আত্মনা, আত্মানম্, পশ্যন্, আত্মনি, তুষ্যতি ॥২০॥
শ্লোক:21:
সুখমাত্যন্তিকং যত্তদ্ বুদ্ধি গ্রাহ্যমতীন্দ্রিয়ম্ ৷
বেত্তি যত্র ন চৈবায়ং স্থিতশ্চলতি তত্ত্বতঃ ॥২১॥

সুখম্, আত্যন্তিকম্, যৎ, তৎ, বুদ্ধি-গ্রাহ্যম্, অতি-ইন্দ্রিয়ম্,
বেত্তি, যত্র, ন, চ, এব, অয়ম্, স্থিতঃ, চলতি, তত্ত্বতঃ ॥২১॥
অর্থ:- যোগ অভ্যাসের ফলে যে অবস্থায় চিত্ত সম্পূর্ণরূপে জড় বিষয় থেকে প্রত্যহৃত হয়, সেই অবস্থাকে যোগসমাধি বলা হয়। এই অবস্থায় শুদ্ধ অন্তঃকরণ দ্বারা আত্মাকে উপলব্ধি করে যোগী আত্মাতেই পরম আনন্দ আস্বাদন করেন। সেই আনন্দময় অবস্থায় অপ্রাকৃত ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অপ্রাকৃত সুখ অনুভূত হয়। এই পারমার্থিক চেতনায় অবস্থিত হলে যোগী আর আত্ম-তত্ত্বজ্ঞান থেকে বিচলিত হন না এবং তখন আর অন্য কোন কিছু লাভই এর থেকে অধিক বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় স্থিত হলে চরম বিপর্যয়েও চিত্ত বিচলিত হয় না। জড় জগতের সংযোগ-জনিত সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা থেকে এটিই হচ্ছে প্রকৃত মুক্তি।
শ্লোক:22:
যং লব্ধ্বা চাপরং লাভং মন্যতে নাধিকং ততঃ ৷
যস্মিন্ স্থিতো ন দুঃখেন গুরুণাপি বিচাল্যতে ॥২২॥

যম্, লব্ধ্বা, চ, অপরম্, লাভম্, মন্যতে, ন, অধিকম্, ততঃ,
যস্মিন্, স্থিতঃ, ন, দুঃখেন, গুরুণা, অপি, বিচাল্যতে ॥২২॥
শ্লোক:23:
তং বিদ্যাদ্দুঃখসংযোগবিয়োগং যোগসংজ্ঞিতম্ ॥২৩॥

তম্, বিদ্যাৎ,দুঃখ-সংযোগ-বিয়োগম্, যোগ-সংজ্ঞিতম্ ॥২৩॥
শ্লোক:24:
স নিশ্চয়েন যোক্তব্যো যোগোহনির্বিণ্ণচেতসা ৷
সংকল্পপ্রভবান্ কামাংস্ত্যক্ত্বা সর্বানশেষতঃ ৷
মনসৈবেন্দ্রিয়গ্রামং বিনিয়ম্য সমন্ততঃ ॥২৪॥

সঃ, নিশ্চয়েন, যোক্তব্যঃ, যোগঃ, অনির্বিণ্ণ-চেতসা,
সংকল্প-প্রভবান্, কামান্, ত্যক্ত্বা, সর্বান্, অশেষতঃ,
মনসা, এব, ইন্দ্রিয়গ্রামম্, বিনিয়ম্য, সমন্ততঃ ॥২৪॥
অর্থ:- অবিচলিত অধ্যবসায় ও বিশ্বাস সহকারে এই যোগ অনুশীলন করা উচিত৷ সংকল্পজাত সমস্ত কামনা সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করে মনের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলিকে সব দিক থেকে নিয়ন্ত্রিত করা কর্তব্য।
শ্লোক:25:
শনৈঃ শনৈরুপরমেদ্ বুদ্ধ্যা ধৃতিগৃহীতয়া ৷
আত্মসংস্থং মনঃ কৃত্বা ন কিঞ্চিদপি চিন্তয়েৎ ॥২৫॥

শনৈঃ, শনৈঃ, উপরমেৎ, বুদ্ধ্যা, ধৃতিগৃহীতয়া,
আত্মসংস্থম্, মনঃ, কৃত্বা, ন, কিঞ্চিৎ, অপি, চিন্তয়েৎ ॥২৫॥
অর্থ:- ধৈর্যযুক্ত বুদ্ধির দ্বারা মনকে ধীরে ধীরে আত্মাতে স্থির করে এবং অন্য কোন কিছুই চিন্তা না করে সমাধিস্থ হতে হয়।
শ্লোক:26:
যতো যতো নিশ্চলতি মনশ্চঞ্চলমস্থিরম্ ৷
ততস্ততো নিয়ম্যৈতদাত্মন্যেব বশং নয়েৎ ॥২৬॥

যতঃ, যতঃ, নিশ্চলতি, মনঃ, চঞ্চলম্, অস্থিরম্ ৷
ততঃ, ততঃ, নিয়ম্য, এতৎ, আত্মনি, এব, বশম্, নয়েৎ ॥২৬॥
অর্থ:- চঞ্চল ও অস্থির মন যে যে বিষয়ে ধাবিত হয়, সেই সেই বিষয় থেকে নিবৃত্ত করে আত্মার বসে আনতে হবে।
শ্লোক:27:
প্রশান্তমনসং হ্যেনং যোগিনং সুখমুত্তমম্ ৷
উপৈতি শান্তরজসং ব্রহ্মভূতমকল্মষম্ ॥২৭॥

প্রশান্ত-মনসম্, হি, এনম্, যোগিনম্, সুখম্, উত্তমম্,
উপৈতি, শান্তরজসম্, ব্রহ্মভূতম্, অকল্মষম্ ॥২৭॥
অর্থ:- ব্রহ্মভাব-সম্পন্ন, প্রশান্ত চিত্ত, রজগুণ প্রশমিত ও নিষ্পাপ হয়ে যাঁর মন আমাতে নিবিষ্ট হয়েছে, তিনিই পরম সুখ প্রাপ্ত হন।
শ্লোক:28:
যুঞ্জন্নেবং সদাত্মানং যোগী বিগতকল্মষঃ ৷
সুখেন ব্রহ্মসংস্পর্শমত্যন্তং সুখমশ্নুতে ॥২৮॥

যুঞ্জন্, এবম্, সদা, আত্মানম্, যোগী, বিগতকল্মষঃ,
সুখেন, ব্রহ্মসংস্পর্শম্, অত্যন্তম্, সুখম্, অশ্নুতে ॥২৮॥
অর্থ:- এভাবেই আত্মসংযমী যোগী জড় জগতের সমস্ত কলুষ থেকে মুক্ত হয়ে ব্রহ্ম-সংস্পর্শরূপ পরম সুখ আস্বাদন করেন।
শ্লোক:29:
সর্বভূতস্থমাত্মানং সর্বভূতানি চাত্মনি ৷
ঈক্ষতে যোগযুক্তাত্মা সর্বত্র সমদর্শনঃ ॥২৯॥

সর্বভূতস্থম্, আত্মানম্, সর্বভূতানি, চ, আত্মনি,
ঈক্ষতে, যোগযুক্তাত্মা, সর্বত্র, সমদর্শনঃ ॥২৯॥
অর্থ:- প্রকৃত যোগী সর্বভূতে আমাকে দর্শন করেন এবং আমাতে সব কিছু দর্শন করেন ৷ যোগযুক্ত আত্মা সর্বত্রই আমাকে দর্শন করেন ।
শ্লোক:30:
যো মাং পশ্যতি সর্বত্র সর্বং চ ময়ি পশ্যতি ৷
তস্যাহং ন প্রণশ্যামি স চ মে ন প্রণশ্যতি ॥৩০॥

যঃ, মাম্, পশ্যতি, সর্বত্র, সর্বম্, চ, ময়ি, পশ্যতি,
তস্য, অহম্, ন, প্রণশ্যামি, সঃ, চ, মে, ন, প্রণশ্যতি ॥৩০॥
অর্থ:- যিনি সর্বত্র আমাকে দর্শন করেন এবং আমাতেই সমস্ত বস্তু দর্শন করেন, আমি কখনও তাঁর দৃষ্টির অগোচর হই না এবং তিনিও আমার দৃষ্টির অগোচর হন না ।
শ্লোক:31:
সর্বভূতস্থিতং যো মাং ভজত্যেকত্বমাস্থিতঃ ৷
সর্বথা বর্তমানোহপি স যোগী ময়ি বর্ততে ॥৩১॥

সর্বভূতস্থিতম্, যঃ, মাম্, ভজতি, একত্বম্, আস্থিতঃ,
সর্বথা, বর্তমানঃ, অপি, সঃ, যোগী, ময়ি, বর্ততে ॥৩১॥
অর্থ:- যে যোগী সর্বভূতে স্থিত পরমাত্মা রূপে আমাকে জেনে আমার ভজনা করেন, তিনি সর্ব অবস্থাতেই আমাতে অবস্থান করেন।
শ্লোক:32:
আত্মৌপম্যেন সর্বত্র সমং পশ্যতি যোহর্জুন ৷
সুখং বা যদি বা দুঃখং স যোগী পরমো মতঃ ॥৩২॥

আত্ম-উপম্যেন, সর্বত্র, সমম্, পশ্যতি, যঃ, অর্জুন ৷
সুখম্, বা, যদি, বা, দুঃখম্, সঃ, যোগী, পরমঃ, মতঃ ॥৩২॥
অর্থ:- হে অর্জুন ! যিনি সমস্ত জীবের সুখ ও দুঃখকে নিজের সুখ ও দুঃখের অনুরূপ সমানভাবে দর্শন করেন, আমার মতে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী।
শ্লোক:33:
অর্জুন উবাচ
যোহয়ং যোগোস্ত্বয়া প্রোক্তঃ সাম্যেন মধুসূদন ৷
এতস্যাহং ন পশ্যামি চঞ্চলত্বাৎ স্থিতিং স্থিরাম্ ॥৩৩॥

যঃ, অয়ম্, যোগঃ, ত্বয়া, প্রোক্তঃ, সাম্যেন, মধুসূদন,
এতস্য, অহম্, ন, পশ্যামি, চঞ্চলত্বাৎ, স্থিতিম্, স্থিরাম্ ॥৩৩॥
অর্থ:- অর্জুন বললেন- হে মধুসূদন ! তুমি সর্বত্র সমদর্শনরূপ যে যোগ উপদেশ করলে, মনের চঞ্চল স্বভাববশত আমি তার স্থায়ী স্থিতি দেখতে পাচ্ছি না।
শ্লোক:34:
চঞ্চলং হি মনঃ কৃষ্ণ প্রমাথি বলবদ্দৃঢ়ম্ ৷
তস্যাহং নিগ্রহং মন্যে বায়োরিব সুদুষ্করম্ ॥৩৪॥

চঞ্চলম্, হি, মনঃ, কৃষ্ণ, প্রমাথি, বলবৎ, দৃঢ়ম্ ৷
তস্য, অহম্, নিগ্রহম্, মন্যে, বায়োঃ, ইব, সুদুষ্করম্ ॥৩৪॥
অর্থ:- হে কৃষ্ণ ! মন অত্যন্ত চঞ্চল, শরীর ও ইন্দ্রিয় আদির বিক্ষেপ উৎপাদক, দুর্দমনীয় এবং অত্যন্ত বলবান, তাই তাকে নিগ্রহ করা বায়ুকে বশীভূত করার থেকেও অধিকতর কঠিন বলে আমি মনে করি৷
শ্লোক:35:
শ্রীভগবানুবাচ
অসংশয়ং মহাবাহো মনো দুর্নিগ্রহং চলম্ ৷
অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেণ চ গৃহ্যতে ॥৩৫॥

অসংশয়ম্, মহাবাহো, মনঃ, দুর্নিগ্রহম্, চলম্,
অভ্যাসেন, তু, কৌন্তেয়, বৈরাগ্যেণ, চ, গৃহ্যতে ॥৩৫॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে মহাবাহো ! মন যে দুর্দমনীয় ও চঞ্চল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু হে কৌন্তেয় ! ক্রমশ অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা মনকে বশীভূত করা যায়।
শ্লোক:36:
অসংযতাত্মনা যোগো দুষ্প্রাপ ইতি মে মতিঃ ৷
বশ্যাত্মনা তু যততা শক্যোহবাপ্তুমুপায়তঃ ॥৩৬॥

অসংযত-আত্মনা, যোগঃ, দুষ্প্রাপঃ, ইতি, মে, মতিঃ,
বশ্যাত্মনা, তু, যততা, শক্যঃ, অবাপ্তুম্, উপায়তঃ ॥৩৬॥
অর্থ:- অসংযত চিত্ত ব্যাক্তির পক্ষে আত্ম-উপলব্ধি দুষ্প্রাপ্য৷ কিন্তু যার মন সংযত এবং যিনি যথার্থ উপায় অবলম্বন করে মনকে বশ করতে চেষ্টা করেন, তিনি অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করেন। সেটিই আমার অভিমত৷
শ্লোক:37:
অর্জুন উবাচ
অযতিঃ শ্রদ্ধয়োপেতো যোগাচ্চলিতমানসঃ ৷
অপ্রাপ্য যোগসংসিদ্ধিং কাং গতিং কৃষ্ণ গচ্ছতি ॥৩৭॥

অযতিঃ, শ্রদ্ধয়া, উপেতঃ, যোগাৎ, চলিতমানসঃ,
অপ্রাপ্য, যোগসংসিদ্ধিম্, কাম্, গতিম্, কৃষ্ণ, গচ্ছতি ॥৩৭॥
অর্থ:- অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন- হে কৃষ্ণ ! যিনি প্রথমে শ্রদ্ধা সহকারে যোগে যুক্ত থেকে পরে চিত্তচাঞ্চল্য হেতু ভ্রষ্ট হয়ে যোগে সিদ্ধিলাভ করতে না পারেন, তবে সেই ব্যর্থ যোগীর কি গতি লাভ হয় ?
শ্লোক:38:
কচ্চিন্নোভয়বিভ্রষ্টশ্ছিন্নাভ্রমিব নশ্যতি ৷
অপ্রতিষ্ঠো মহাবাহো বিমূঢ়ো ব্রহ্মণঃ পথি ॥৩৮॥

কচ্চিৎ, ন, উভয়বিভ্রষ্টঃ, ছিন্নাভ্রম্, ইব, নশ্যতি,
অপ্রতিষ্ঠঃ, মহাবাহো, বিমূঢ়ঃ, ব্রহ্মণঃ, পথি ॥৩৮॥
অর্থ:- হে মহাবাহো কৃষ্ণ ! কর্ম ও যোগ হতে ভ্রষ্ট ব্যাক্তি ব্রহ্ম লাভের পথ থেকে বিমূঢ় হয়ে অপ্রতিষ্ঠ হয়ে যে আশ্রয়্হীন হয়ে পড়ে, সে কি ছিন্ন মেঘের মতো একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে ?
শ্লোক:39:
এতন্মে সংশয়ং কৃষ্ণ ছেত্তুমর্হস্যশেষতঃ ৷
ত্বদন্যঃ সংশয়স্যাস্য ছেত্তা ন হ্যুপপদ্যতে ॥৩৯॥

এতৎ, মে, সংশয়ম্, কৃষ্ণ, ছেত্তুম্, অর্হসি, অশেষতঃ,
ত্বৎ-অন্যঃ, সংশয়স্য, অস্য, ছেত্তা, ন, হি, উপপদ্যতে ॥৩৯॥
অর্থ:- হে কৃষ্ণ ! তুমিই কেবল আমার এই সংশয় দূর করতে সমর্থ। কারণ তুমি ছাড়া আর কেউই আমার এই সংশয় দূর করতে পারবে না।
শ্লোক:40:
শ্রীভগবানুবাচ
পার্থ নৈবেহ নামুত্র বিনাশস্তস্য বিদ্যতে ৷
ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিদ্ দুর্গতিং তাত গচ্ছতি ॥৪০॥

পার্থ, ন, এব, ইহ, ন, অমুত্র, বিনাশঃ, তস্য, বিদ্যতে,
ন, হি, কল্যাণ-কৃৎ, কশ্চিৎ, দুর্গতিম্, তাত, গচ্ছতি ॥৪০॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে পার্থ ! শুভানুষ্ঠানকারী পরমার্থবিদের ইহলোকে ও পরলোকে কোন দুর্গতি হয় না৷ হে বৎস ! তার কারণ, কল্যাণকারীর কখনও অধোগতি হয় না।
শ্লোক:41:
প্রাপ্য পুণ্যকৃতাং লোকানুষিত্বা শাশ্বতীঃ সমাঃ ৷
শুচীনাং শ্রীমতাং গেহে যোগভ্রষ্টোহভিজায়তে ॥৪১॥

প্রাপ্য, পুণ্যকৃতাম্, লোকান্, উষিত্বা, শাশ্বতীঃ, সমাঃ,
শুচীনাম্, শ্রীমতাম্, গেহে, যোগভ্রষ্টঃ, অভিজায়তে ॥৪১॥
অর্থ:- যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি পুণ্যবানদের প্রাপ্য স্বর্গাদি লোকসমূহে বহুকাল বাস করে সদাচারী ব্রাহ্মণদের গৃহে অথবা শ্রীমান ধনী বণিকদের গৃহে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্লোক:42:
অথবা যোগিনামেব কুলে ভবতি ধীমতাম্ ৷
এতদ্ধি দুর্লভতরং লোকে জন্ম যদীদৃশম্ ॥৪২॥

অথবা, যোগিনাম্, এব, কুলে, ভবতি, ধীমতাম্,
এতৎ, হি, দুর্লভতরম্, লোকে, জন্ম, যৎ, ঈদৃশম্ ॥৪২॥
অর্থ:- অথবা যোগভ্রষ্ট পুরুষ জ্ঞানবান যোগীগণের বংশে জন্মগ্রহণ করেন। এই প্রকার জন্ম এই জগতে অবশ্যই অত্যন্ত দুর্লভ।
শ্লোক:43:
তত্র তং বুদ্ধিসংযোগং লভতে পৌর্বদেহিকম্ ৷
যততে চ ততো ভূয়ঃ সংসিদ্ধৌ কুরুনন্দন ॥৪৩॥

তত্র, তম্, বুদ্ধিসংযোগম্, লভতে, পৌর্বদেহিকম্,
যততে, চ, ততঃ, ভূয়ঃ, সংসিদ্ধৌ, কুরুনন্দন ॥৪৩॥
অর্থ:- হে কুরুনন্দন ! সেই প্রকার জন্মগ্রহণ করার ফলে তিনি পুনরায় তাঁর পুর্ব জন্মকৃত পারমার্থিক চেতনার বুদ্ধিসংযোগ লাভ করে সিদ্ধি লাভের জন্য পুনরায় যত্নবান হন।
শ্লোক:44:
পূর্বাভ্যাসেন তেনৈব হ্রিয়তে হ্যবশোহপি সঃ ৷
জিজ্ঞাসুরপি যোগস্য শব্দব্রহ্মাতিবর্ততে ॥৪৪॥

পূর্ব-অভ্যাসেন, তেন, এব, হ্রিয়তে, হি, অবশঃ, অপি, সঃ,
জিজ্ঞাসুঃ, অপি, যোগস্য, শব্দব্রহ্ম, অতিবর্ততে ॥৪৪॥
অর্থ:- তিনি পূর্ব জন্মের অভ্যাস বশে যেন অবশ হয়ে যোগ-সাধনের প্রতি আকৃষ্ট হন। এই প্রকার যোগশাস্ত্রের জিজ্ঞাসু পুরুষ বেদোক্ত সকাম কর্মমার্গকে অতিক্রম করেন, অর্থাৎ সকাম কর্মমার্গে যে ফল নিদৃষ্ট আছে, তার থেকে উৎকৃষ্ট ফল লাভ করেন।
শ্লোক:45:
প্রযত্নাদ্ যতমানস্তু যোগী সংশুদ্ধকিল্বিষঃ ৷
অনেকজন্মসংসিদ্ধস্ততো যাতি পরাং গতিম্ ॥৪৫॥

প্রযত্নাৎ, যতমানঃ, তু, যোগী, সংশুদ্ধকিল্বিষঃ,
অনেক-জন্ম-সংসিদ্ধঃ, ততঃ, যাতি, পরাম্, গতিম্ ॥৪৫॥
অর্থ:- যোগী ইহজন্মে পূর্বজন্মকৃত যত্ন অপেক্ষা অধিকতর যত্ন করে পাপ মুক্ত হয়ে পূর্ব পূর্ব জন্মের সাধন সঞ্চিত সংস্কার দ্বারা সিদ্ধি লাভ করে পরম গতি লাভ করেন।
শ্লোক:46:
তপস্বিভ্যোহধিকো যোগী জ্ঞানিভ্যোহপি মতোহধিকঃ ৷
কর্মিভ্যশ্চাধিকো যোগী তস্মাদ্ যোগী ভবার্জুন ॥৪৬॥

তপস্বিভ্যঃ, অধিকঃ, যোগী, জ্ঞানিভ্যঃ, অপি, মতঃ, অধিকঃ,
কর্মিভ্যঃ, চ, অধিকঃ, যোগী, তস্মাৎ, যোগী, ভব, অর্জুন ॥৪৬॥
অর্থ:- যোগী তপস্বীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সকাম কর্মীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ৷ অতএব, হে অর্জুন ! সর্ব অবস্থাতেই তুমি যোগী হও।
শ্লোক:47:
যোগিনামপি সর্বেষাং মদ্ গতেনান্তরাত্মনা ৷
শ্রদ্ধাবান্ ভজতে যো মাং স মে যুক্ততমো মতঃ ॥৪৭॥

যোগিনাম্, অপি, সর্বেষাম্, মদ্গতেন, অন্তরাত্মনা,
শ্রদ্ধাবান্, ভজতে, যঃ, মাম্, সঃ, মে, যুক্ততমঃ, মতঃ ॥৪৭॥
অর্থ:- যিনি শ্রদ্ধা সহকারে মদ্ গত চিত্তে আমার ভজনা করেন, তিনিই সবচেয়ে অন্তরঙ্গভাবে আমার সঙ্গে যুক্ত এবং তিনিই সমস্ত যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সেটিই আমার অভিমত৷
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'ধ্যানযোগো' নাম ষষ্ঠোঽধ্যায়ঃ ॥৬॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৬ষ্ঠ অধ্যায়:- ধ্যানযোগ-এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
          গীতার ষষ্ঠ অধ্যায় ‘অভ্যাস যোগ’ এর অপর নাম ধ্যান যোগ। এ অধ্যায়ে অভ্যাস শব্দটি ধ্যান অভ্যাস অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের উক্তি দিয়েই অধ্যায়টির শুরু। তিনি প্রথমেই ব্যক্ত করেছেন যে, কর্মযোগী ও ধ্যানযোগী বা সন্ন্যাসীর মধ্যে প্রকৃতপক্ষে তেমন পার্থক্য নেই। কারণ, কর্মযোগী ও সন্ন্যাসী- উভয়েই মূলতঃ ফলাকাঙ্খা পরিহার করে স্বীয়কার্য্ করে থাকেন। অনাসক্তভাবে কর্ম করে কর্মযোগী পরিণামে যে স্থান লাভ করে থাকেন, ধ্যানযোগী সন্ন্যাসীও নিষ্টাযুক্ত ধ্যানের মাধ্যমে একই স্থান লাভে সক্ষম হন। এ ভাবে উভয় যোগের মধ্যে সাদৃশ্য প্রদর্শনপূর্বক শ্রীকৃষ্ণ ধ্যানযোগের প্রক্রিয়া ও ধ্যানযোগীর লক্ষণ বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, যোগ অভ্যাসের জন্য কোন পবিত্র স্থানে কুশাসনের উপর মৃগচর্মের আসন অতি উচু কিংবা নীচু না করে স্বাভাবিক ভূমিতে স্থাপন করতঃ সেখানে উপবিষ্ট হয়ে চিত্ত, ইন্দ্রিয় ও ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিত করে চিত্ত শুদ্ধির জন্য মনকে একাগ্র করে যোগ অভ্যাস করবেন। শরীর, মস্তক, গ্রীবাকে সমানভাবে রেখে অন্য দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না করে, নাসিকার অগ্রভাগে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে প্রশাস্তাত্মা, ভয়শূন্য ও ব্রহ্মচর্য ব্রতে স্থিত পুরুষ মনকে বিষয় বাসনা থেকে প্রত্যাহার করে একমাত্র তাঁকে জীবনের চরম লক্ষ্যরূপে স্থির করে ধ্যানপূর্বক ধ্যানপূর্বক যোগ অভ্যাস করবেন। পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
ধ্যানপূর্বক যোগ অভ্যাস করবেন। এভাবে, দেহ, মন ও কার্যকালাপ সংযত হলে যোগী পরমধাম প্রাপ্ত হন। পরমধাম প্রাপ্ত হন। অতপর শ্রীকৃষ্ণ ধ্যানযোগীর লক্ষণ বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, যোগযুক্ত অবস্থায় শুদ্ধ অন্তঃকরণ দ্বারা আত্মাকে উপলদ্ধি করে যোগী আত্মাতেই পরম আনন্দ আস্বাদন করেন। সে অবস্থায় অপ্রাকৃত ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অপ্রাকৃত সুখানুভব হয়। এরূপ পারমার্থিক চেতনায় অবস্থিত হলে যোগী আর আত্ম-তত্ত্বজ্ঞান থেকে বিচলিত হয় না। জড় জগতের সংযোগ জনিত সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা থেকেই এটাই প্রকৃত মুক্তি। শ্রীকৃষ্ণের নিকট এরূপ যোগতত্ত্ব শ্রবণ করে অর্জুন তাই জিজ্ঞেস করলেন, হে মধুসূদন! তুমি যে মন, ইন্দ্রিয়-ইত্যাদির স্থিরতার কথা বললে, মনের চঞ্চলতা বশতঃ আমি তার স্থায়ী স্থিতি দেখতে পাচ্ছি না। হে কৃষ্ণ! মন অত্যন্ত চঞ্চল, শরীর ও ইন্দ্রিয়াদির বিক্ষেপ উৎপাদক, দুর্দমনীয় এবং অত্যন্ত বলবান। তাই তাকে নিগ্রহ করা বায়ুকে বশীভূত করার চেয়েও অধিক কঠিন বলে মনে করি। তদুত্তোরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, মন যে চঞ্চল তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু পুনঃ পুনঃ অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা এই মনকে সংযত করা সম্ভব। অর্জুন আবার প্রশ্ন করলেন, কোন যোগী চিত্ত চাঞ্চল্য বশতঃ যোগ্রদ্রষ্ট হলে তার গতি কি হবে? তদুত্তোরে শ্রীকৃষ্ণ তাকে শুধালেন যে, শুভানুষ্ঠানকারী পরমার্থবিদের ইহলোকে ও পরলোকে কোন দুর্গতি হয় না। যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি পূণ্যবানদের প্রাপ্য স্বর্গাদিলোকসমূহে বহুকাল বাস করে কোন সদাচারী ব্রাহ্মণের গৃহে অথবা ধনীর গৃহে জন্মলাভ করে পূর্বজন্মকৃত পারমার্থিক চেতনা লাভ করে সিদ্ধি লাভের জন্য পুনরায় যত্নবান হয় এবং সাধনবলে সিদ্ধি লাভ করে পরমধাম লাভ করেন। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন