Krishna vs Arjun @ Gita Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture

* ভগবান শ্রীকৃষ্ণ *
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture

      শ্রীকৃষ্ণের সংগে দেবদেবীগণের সম্পর্ক:-       

সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম।

জড়জগতের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য পরমেশ্বর ভগবানের পরিচালনাধীন যে প্রশাসন-ব্যবস্থা বা ‘সরকার’ রয়েছে, দেবদেবীগণ হচ্ছেন সেই সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মাধ্যক্ষ (অফিসার) ও নির্দেশক বা তত্ত্বাবধায়ক (ডিরেক্টর)। এই সব দেবদেবীগণ প্রকৃতির বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার জন্য ভগবানের দ্বারা শক্তিপ্রাপ্ত হন। ইন্দ্র, বরুণ, বায়ু, ব্রহ্মা ইত্যাদি দেবদেবীগণ সকলেই পরমেশ্বর ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা সর্বজনবিদিত যে যখনই কোন মহাজাগতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, ব্রহ্মাণ্ডে কোন এমন আকারের বিঘ্ন-বিপর্যয় ঘটে যা দেবদেবীগণের নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতার বাইরে, তখন ব্রহ্মার নেতৃত্বে সকল দেবদেবীগণ বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন (যেমন দ্বাপরে ব্রহ্মা-শিব-ইন্দ্র-সহ সকল দেবগণ ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুর নিকটে গিয়ে পুরুষসূক্তে মন্ত্রে তাঁর আবাহন করেন, এবং তাঁরপর শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হন)।

সুতরাং, দেবদেবীগণকে একটি বৃক্ষের পত্র-পল্লব-শাখার সংগে তুলনা করা যায়, আর শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ঐ বৃক্ষটির মূল কাণ্ড। যদি কোনো গাছকে পুষ্ট করতে হয়, তাহলে ঐ গাছের গোড়ায়, মূলে জল ঢালতে হয়, তখন পত্র-পল্লব শাখা সমন্বিত সমস্ত গাছটিই পরিপুষ্ট হয়। প্রতিটি পাতায়, পল্লবে পৃথকভাবে জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, আর সেটা বাস্তবসম্মতও নয়। শ্রীমদ্ভাগবতে নারদমুনি প্রচেতাগণকে বলেন (৪/৩১/১৪)ঃ
যথা তরোর্মূলনিষেচনেন
তৃপ্যন্তি তৎস্কন্ধভুজোপশাখাঃ।
প্রাণাপোহারাচ্চ যথেন্দ্রিয়ানাং
তথৈব সর্বার্হণমুচ্যতেজ্যা।।

“গাছের মূলে জল সেচন করলে যেমন সেই গাছের কাণ্ড, ডাল, উপশাখা প্রভৃতি সকলেই তৃপ্তি লাভ করে এবং উদরকে খাদ্যদ্রব্য দিলে যেমন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-ইন্দ্রিয় পরিপুষ্ট হয়, তেমনি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজে করলে সকলেরই পূজা হয়, সকলেই তৃপ্ত (পুষ্ট) হয়।”

জীবসত্তাসমূহ ও দেবদাবীগণ – সকলেই পরমেশ্বর ভগবানের ইচ্ছাধীন। সাধারণতঃ এই জড়জগতে যেসব ব্যক্তি বিভিন্নভাবে দুর্দশাগ্রস্ত হয় বা নানা কামনা-পূরণে আকুল হয়, তাঁরা দেবদেবীর শরণাপন্ন হয়। বিশেষ কামনা পূরণের জন্য বিশেষ বিশেষ দেবতার নিকটে যেতে হয়। যেমন রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ‘সূর্য পূজা’ করার বিধান রয়েছে, যিনি জড়বিদ্যা লাভ করতে চান, তাঁকে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর আরাধনা করতে হয়; কেউ যদি ধনৈশ্বর্য চান, তাহলে তাঁকে লক্ষ্মীদেবীর পূজা করতে হয়। কেউ যদি সুন্দর স্বামী চান, তিনি শিবের আরাধনা করেন, সুন্দরী স্ত্রী চাইলে শিবের স্ত্রী উমাদেবীর আরাধনা করতে হয়। এইভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জন্য বিভিন্ন রকমের পূজার বিধান শাস্ত্রে নির্দেশিত হয়েছে।

কিন্তু দেব-পূজার এই সুযোগ-সুবিধাগুলি তাঁদের প্রদত্ত হয়েছে, যারা স্বল্প মেধা-সম্পন্ন, এবং জড় কামনা-বাসনা যাঁদের চিত্ত অধিকার করেছে, প্রকৃত জ্ঞান হরণ করেছে। ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন, “যাদের মন জড় কামনা বাসনার দ্বারা বিকৃ্ত, তারা অন্য দেবদেবীর শরণাগত হয়” (৭/২০); “অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের (অল্পমেধসাম্) আরাধনা-লব্ধ সেই ফল ক্ষণস্থায়ী। দেবতাদের উপাসকেরা তাঁদের আরাধ্য দেবতাদের লোক প্রাপ্ত হন (যা জড়, ‘প্রাকৃত’), কিন্তু আমার ভক্তরা আমার পরম ধর্মপ্রাপ্ত হন (চিন্ময়, অপ্রাকৃ্ত) (ভগী-৭/২৩)।”

পরবর্তী বিবরণ

সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম।
Krishna vs Arjun @ Gita Gitashonb_krishna_picture Gitasongho Member's Photo

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন