সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ

নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

Krishna vs Arjun @ Gita







Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact




  • পূর্বোক্ত বিবরণের পর -

    শ্রীকৃষ্ণের সংগে দেবদেবীগণের সম্পর্ক:-

    সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম।


    কিন্তু দেব-পূজার এই সুযোগ-সুবিধাগুলি তাঁদের প্রদত্ত হয়েছে, যারা স্বল্প মেধা-সম্পন্ন, এবং জড় কামনা-বাসনা যাঁদের চিত্ত অধিকার করেছে, প্রকৃত জ্ঞান হরণ করেছে। ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন, “যাদের মন জড় কামনা বাসনার দ্বারা বিকৃ্ত, তারা অন্য দেবদেবীর শরণাগত হয়” (৭/২০); “অল্পবুদ্ধি ব্যক্তিদের (অল্পমেধসাম্) আরাধনা-লব্ধ সেই ফল ক্ষণস্থায়ী। দেবতাদের উপাসকেরা তাঁদের আরাধ্য দেবতাদের লোক প্রাপ্ত হন (যা জড়, ‘প্রাকৃত’), কিন্তু আমার ভক্তরা আমার পরম ধর্মপ্রাপ্ত হন (চিন্ময়, অপ্রাকৃ্ত) (ভগী-৭/২৩)।”



    শ্রীকৃষ্ণ কেন দেবপূজকদের স্বল্প-মেধা বা স্বল্পবুদ্ধি (অল্পমেধসাম্)বলেছেন? (১) তারা গাছের পাতায় জল দেওয়ার মতোই দেবদেবীদের আরাধনা করে, যা কখনো হৃদয়কে পূর্ণ পরিতৃপ্তি দেয় না, এমনকি দেবতারাও তাতে প্রকৃত সন্তুষ্ট হন না, ঠিক যেমন পাতায় জল দিলে পাতা পুষ্ট হয় না, অথবা হাতকে খাদ্য দিলে হাতের পুষ্টিবিধান হয় না। শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পুষ্ট করতে হলে খাদ্য দিতে হবে উদরকে।



    দেবদেবীদের বলা যেতে পারে পরমেশ্বর ভগবানের পরিচালনাধীন সরকারের বিভিন্ন অফিসার বা ডিরেক্টর। রাষ্ট্রপতিকে সন্তুষ্ট করলে যেমন কিছুই অলভ্য থাকেনা, তেমনি ভগবানকে পরিতৃপ্ত করলে সবকিছু আপনা থেকেই সাধিত হয়। পক্ষান্তরে, অফিসার বা ডিরেক্টরদের ঘুষ দিয়ে কিছু লাভ করা যেমন শোভনীয় নয়, তেমনি দেবদেবীগণকে কিছু উপহার দিয়ে অস্থায়ী ফল লাভ করে মূল্যবান মানব-জীবনটি সমাপ্ত করা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নয়।

    ----
    -----

     কিভাবে দেব দেবীগণকে সম্মান জানাতে হয়?  

    একজন কৃষ্ণভক্ত জানেন যে দেবদেবীগণ সকলেই শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা শক্তিপ্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণের আজ্ঞানুবর্তী সেবক-সেবিকা। এঁদের প্রত্যেককেই বিশেষ বিশেষ সেবাভার বা কার্যভার দেওয়া হয়েছে।

    কৃষ্ণভক্ত দেবদেবীগণকে কখনই অসম্মান করেন না, তিনি সকল দেবদেবীগণকে শ্রীকৃষ্ণর বিরাট-রূপের বা বিশ্বরূপের অবিচ্ছেদ্য অংশ রূপে দর্শন করেন এবং তাঁদেরকে সম্মান করেন, প্রণাম করেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। অবশ্য, কৃষ্ণভক্ত তাঁদের কাছ থেকে কোন জড়-লাভ, প্রতিষ্ঠা কামনা করেন না। যখন একজন কৃষ্ণভক্ত শ্রীগণেশকে প্রণাম ও প্রার্থনা করেন, তিনি বলেন, “হে প্রভু! কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাওয়ার পথে যে সব বাধা-বিঘ্ন রয়েছে, কৃপাপূর্বক আপনি সেগুলি দূর করুন।” যখন তিনি শিবের নিকট প্রার্থনা করেন, তিনি বলেন, “আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব। কৃপা করে আমাকেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একজন প্রেমানুরক্ত ভক্ত হবার আশীর্বাদ করুন, যাতে আমি নিত্যকাল তাঁর সেবায় নিয়োজিত হতে পারি।” তিনি সরস্বতীর নিকট প্রার্থনা করেন, “হে মাতা সরস্বতী। আমাকে কৃপাশীষ প্রদান করুন, যাতে আমি এই শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করে উপলদ্ধি করতে পারি এবং শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হতে পারি।”

    এই হচ্ছে দেবদেবীদের প্রতি ভক্তের মনোভাব। ভগবদ্ভক্ত সকল জড়-অভিপ্রায়-শূন্য হয়ে নিরন্তর কেবল শ্রীকৃষ্ণের সেবা করতে আগ্রহী। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তাঁর অনন্য ভক্তের সকল প্রয়োজন পূরণ করেন (যোগক্ষেম বহামি অহম্ – ভ.গী.-৯/২২)।

    একজন কৃষ্ণভক্ত কোন জড় বাসনা পূরণের জন্য কোন দেব-দেবীর নিকটে যাবার কথা এমনকি স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না। বৃন্দাবনের গোপিকাগণ যখন কাত্যায়ণী ব্রত করে কাত্যায়ণী দেবীর (যোগমায়া) নিকট প্রার্থনা করতেন, তাদের প্রার্থনা ছিল এই যে কৃষ্ণকে যেন তাঁরা স্বামীরূপে লাভ করতে পারেন। সুতরাং শ্রীকৃষ্ণের একজন অনন্যচিত্ত শুদ্ধ ভক্ত হওয়ার জন্যই আমাদের আকাঙ্ক্ষিত হওয়া উচিত।

    “জয় শ্রীকৃষ্ণ”।।

    পরবর্তী বিবরণ

    সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম।

    প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ

    সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

    শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.