সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ- দেখতে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করুন-

বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

শ্লোক:
তর্কোহপ্রতিষ্ঠঃ শ্রুতয়ো বিভিন্না
নাসাবৃষির্যস্য মতং ন ভিন্নম্ ।
ধর্মস্য তত্ত্বং নিহিতং গুহায়াং
মহাজনো যেন গতঃ স পন্থাঃ ।।
(মহাভারত, বনপর্ব ৩১৩/১১৭)
অনুবাদঃ- তর্কের দ্বারা প্রকৃত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায় না। পক্ষান্তরে, তার ফলে শ্রুতিসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় এবং যাঁর মত ভিন্ন নয়, তিনি ঋষি হতে পারেন না। তাই ধর্মতত্ত্ব গূঢ়রূপে আচ্ছাদিত হয়ে আছে, অর্থাৎ শাস্ত্র আদি পাঠ করে ধর্মতত্ত্ব পাওয়া কঠিন । সুতরাং যাঁকে মহাজন বলে সাধুরা স্থির করেছেন, তিনি যে পন্থাকে শাস্ত্রপন্থা বলেছেন, সেই পথেই সকলের অনুগমন করা উচিত। (যুধিষ্ঠির মহারাজ)
শ্লোক:
অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবা ন তাংস্তর্কেণ যোজয়েৎ ।
প্রকৃ্তিভ্যঃ পরং যচ্চ তদচিন্ত্যস্য লক্ষণম্।।
(মহাভারত ভীস্মপর্ব ৫/২২)
অনুবাদঃ- যা জড়া-প্রকৃতির অতীত তাকে বলা হয় অচিন্ত্য, কিন্তু সমস্ত যুক্তিতর্ক হচ্ছে জাগতিক। যেহেতু জাগতিক যুক্তিতর্ক জড়াতীত বিষয়কে স্পর্শ করতে পারে না, তাই কারও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে চিন্ময় বিষয় হৃদয়ঙ্গম করার চিন্তা করা উচিত নয়।
শ্লোক:
অহন্যহনি ভূতানি গচ্ছন্তীহ যমালয়ম্ ।
শেষাঃ স্থাবরমিচ্ছন্তি কিমাশ্চর্যমতঃ পরম্ ।।
(মহাভারত, বনপর্ব, ৩১৩/১১৬)
অনুবাদঃ- প্রতিদিন শত সহস্র লক্ষ জীব যমালয়ে গমন করে। তবুও, যারা এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তারা এখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে চায়। এর থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় আর কি হতে পারে?
শ্লোক:
জীবন অনিত্য জানহ সার,
তাহে নানাবিধ বিপদ ভার।
নামাশ্রয় করি' যতনে তুমি,
থাকহ আপন কাজে।।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)
অনুবাদঃ-- এই সার কথা জেনে রাখা উচিত যে, এই জীবন অনিত্য এবং বহু বিপদ ও দুঃখে পরিপূর্ণ। তাই যত্ন সহকারে হরিনামকে আশ্রয় করে কৃষ্ণসেবায় নিযুক্ত থাকতে হবে।
শ্লোক:
এক হরি নামে যত পাপ হরে।
পাপীর সাধ্য নাই তত পাপ করে ।।
একবার মাত্র শুদ্ধভাবে হরিনাম করলে যত পাপ হরণ হয়, তত পাপ করার সাধ্য কোন পাপীর নেই।
শ্লোক:
নাম-অক্ষর বাহির হয় বটে, নাম নাহি হয়।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)
অনুবাদঃ-- হরিনাম যান্ত্রিকভাবে উচ্চারণ করলে, মুখে যদিও হরে কৃষ্ণ উচ্চারণ হচ্ছে, প্রকৃত শুদ্ধ নাম তা কখনই নয়।
শ্লোক:
দুষ্ট মন ! তুমি কিসের বৈষ্ণব ?
প্রতিষ্ঠার তরে , নির্জনের ঘরে ,
তব 'হরিনাম' কেবল 'কৈতব'। (ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী)
অনুবাদঃ--হে দুষ্ট মন! তুমি কি রকম বৈষ্ণব ? সস্তা প্রতিষ্ঠার লোভে তুমি নির্জনে বসে হরিনাম করার ভান করছ, কিন্তু তোমার এই নির্জন ভজন শুধু প্রতারণা মাত্র ।
শ্লোক:
খাব কি খাব না যদি খাও তো পৌষে ।
যাব কি যাব না যদি যাও তো শৌচে ।। বাংলা প্রবাদ
অনুবাদঃ- খাব কি খাব না -এই রকম দ্বন্দ্ব যদি থাকে, তা হলে না খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। আর যদি খেতেই হয় তো পৌষ মাসে খাওয়া যেতে পারে। আর কোথাও যাব কি যাব না- এই রকম সন্দেহ থাকলে, না যাওয়াই ভাল। তবে যদি মল-মূত্র ত্যাগের জন্য যেতে হয়, তবে অবশ্যই যেতে হবে।
শ্লোক:
গৃহম্ শত্রুনপি প্রাপ্তম্ বিশস্তমকুতোভয়ম্ (সংস্কৃত প্রবাদ)
অনুবাদঃ- এমন কি কোন শত্রুও যদি আপনার ঘরে আসেন, তাঁর সঙ্গে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে তিনি যে আপনার শত্রু তা তিনি ভুলে যাবেন।
শ্লোক:
কৃষ্ণ তদীয়পদপঙ্কজ-পঞ্জরান্তম্
অদ্যৈব বিশতু মে মানসরাজহংস ।
প্রাণপ্রয়াণসময়ে কফবাতপিত্তৈঃ
কণ্ঠাবরোধনবিধৌ স্মরণং কুতস্তে ।।
(মুকুন্দমালা-স্তোত্র)
অনুবাদঃ- হে কৃষ্ণ ! আমি প্রার্থনা করি আমার মনের রাজহংস যেন এখনই তোমার পাদপদ্মে ডুব দেয় এবং তাদের পিঞ্জরে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। অন্যথায়, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময়, যখন আমার কণ্ঠ কফ, বাত ও পিত্তে অবরুদ্ধ হবে, তখন তোমাকে স্মরণ করা কি করে সম্ভব হবে?
(সম্রাট কুলশেখর)
শ্লোক:
ভজ গোবিন্দম্ ভজ গোবিন্দম্ ভজ গোবিন্দম্ মূঢ়মতে।
সম্প্রাপ্তে সন্নিহিতে কালে নহি নহি রক্ষতি ডুকৃঙ্করণে ।। (শঙ্করাচার্য)
অনুবাদঃ- হে মূঢ়মতি ! প্রত্যয় ও উপসর্গ বিষয়ে তোমার ব্যাকরণগত বাকচাতুরি এবং তোমার দার্শনিক জল্পনা-কল্পনা মৃত্যুকাল সন্নিহিত হলে তোমাকে আদৌ রক্ষা করতে পারবে না। সুতরাং শুধু গোবিন্দকে ভজনা কর, গোবিন্দকে ভজনা কর, গোবিন্দকে ভজনা কর।
"শ্লোক:
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ৷
পতিতানাং পাবনেভ্যোঃ বৈষ্ণবেভ্যো নমো নমঃ৷৷ "
অনুবাদঃ- আমি সমস্ত বৈষ্ণবগণকে পুনঃপুনঃ আমার সশ্রদ্ধ দণ্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করি। তাঁরা ঠিক কল্পতরুর মতো সকলের বাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারেন এবং তাঁরা সমস্ত পতিত জীবদের প্রতি পূর্ণরূপে দয়াশীল ।
শ্লোক:
তীর্থযাত্রা পরিশ্রম কেবল মনের ভ্রম
সর্বসিদ্ধি গোবিন্দচরণ।
(নরোত্তম দাস ঠাকুর, প্রার্থনা )
অনুবাদঃ- পরিশ্রম করে তীর্থভ্রমণ কেবল মনের ভ্রম মাত্র, কেন না পারমার্থিক প্রগতির জন্য গোবিন্দচরণকে আশ্রয় করলেই সর্বসিদ্ধি লাভ হবে ।
শ্লোক:
মহাপ্রসাদে গোবিন্দে নামব্রহ্মণি বৈষ্ণবে ।
স্বল্পপুণ্যবতাং রাজন্ বিশ্বাসো নৈব জায়তে ।।
(মহাভারত এবং স্কন্দ পূরাণ)
অনুবাদঃ- হে রাজন্ ! স্বল্প পুণ্যবান ব্যক্তিদের কখনও মহাপ্রসাদে, শ্রীগোবিন্দে, হরিনাম-রূপ শব্দব্রহ্মে ও বৈষ্ণবে বিশ্বাস উৎপন্ন হয় না।
শ্লোক:
যেন তেন প্রকারেণ মনঃ কৃষ্ণে নিবেশয়েৎ ।
সর্বে বিধিনিষেধাস্যুরেতয়োরেব কিঙ্করাঃ ।।
(রূপ গোস্বামী)
অনুবাদঃ- যে কোনভাবে হোক মনকে শ্রীকৃষ্ণের পাদপদ্মে নিবিষ্ট করা উচিত। শাস্ত্রের সমস্ত বিধি-নিষেধ এর অনুগত।
শ্লোক:
জন্মনা জায়তে শূদ্রঃ সংস্কারাদ্ ভবেদ্দ্বিজঃ ।
বেদপাঠাদ্ ভবেদ্বিপ্রা ব্রহ্ম জানাতীতি ব্রাহ্মণঃ ।।
(অজ্ঞাত উৎস)
অনুবাদঃ- জন্মসূত্রে প্রত্যেকেই শূদ্র, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে কেউ দ্বিজ বা ব্রাহ্মণ হতে পারে, বেদ পাঠ করলে বিপ্র হওয়া যায় এবং ব্রহ্মকে উপলব্ধি করেছেন যিনি তিনিই ব্রাহ্মণ।
শ্লোক:
মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে ।
শুচি হয়ে মুচি হয় যদি কৃষ্ণ ত্যজে ।।
অনুবাদঃ- একজন মুচি বা মুচিকুলে জাত ব্যক্তিও যদি কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করেন, তা হলে তিনি শুদ্ধ ব্রাহ্মণের স্তরে উন্নীত হতে পারেন। কিন্তু কোন ব্রাহ্মণ যদি কৃষ্ণভাবনামৃত ত্যাগ করেন, তা হলে তিনি একজন মুচি ছাড়া আর কিছুই নন।
শ্লোক:
আহারনিদ্রাভয়মৈথুনং চ
সামান্যমেতদ্ পশুভির্নরাণাম্ ।
ধর্মোঃ হি তেষামধিকো বিশেষো
ধর্মেণ হীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ ।।
(হিতোপদেশ)
অনুবাদঃ- আহার, নিদ্রা, ভয় ও মৈথুন- এই চারটি কর্ম মানুষ ও পশুর মধ্যে সমানভাবে বর্তমান। কিন্তু মানুষের অধিকতর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, তারা পারমার্থিক অনুশীলনে নিযুক্ত হতে সক্ষম। অতএব পারমার্থিক জীবন তথা ধর্ম ছাড়া মানুষ পশুর সমান।
শ্লোক:
দ্বাপরীয়ৈর্জনৈর্বিষ্ণুঃ পঞ্চরাত্রৈস্ত্ত কেবলৈঃ ।
কলৌ তু নামমাত্রেণ পূজ্যতে ভগবান্ হরিঃ ।।
(নারায়ণ-সংহিতা)
অনুবাদঃ- দ্বাপরযুগে বৈষ্ণব তথা কৃষ্ণভক্তেরা পাঞ্চরাত্রিক বিধি অনুসারে ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করতেন। এই কলিযুগে শুধুমাত্র হরিনাম জপকীর্তনের দ্বারাই পরমেশ্বর শ্রীহরি পূজিত হন।
শ্লোক:
বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্ ।
(হিতোপদেশ)
অনুবাদঃ- বিদ্যা বিনয় দান করে।
শ্লোক:
ওঁ জন্মাদাস্য যতঃ
(বেদান্তসূত্র ১/১/২)
অনুবাদঃ- সেই ব্রহ্ম হচ্ছেন তিনি, যাঁর থেকে প্রকাশিত ব্রহ্মাণ্ডসমূহের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় সাধিত হয়।
শ্লোক:
ভাবগ্রাহী জনার্দনঃ
(চৈতন্য-ভাগবত আদি ১১/১০৮)
অনুবাদঃ- ভগবান জনার্দন শুধু ভক্তের ভাবটুকুই গ্রহণ করেন।
শ্লোক:
শরীর অবিদ্যা-জাল, জড়েন্দ্রিয় তাহে কাল,
জীবে ফেলে বিষয়-সাগরে।
তা'র মধ্যে জিহ্বা অতি, লোভময় সুদুর্মতি,
তা'কে জেতা কঠিন সংসারে ।।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, প্রসাদ-সেবায় ১)
অনুবাদঃ- শরীর একটি অবিদ্যার জাল, ইন্দ্রিয়গুলি যেন কালশত্রু, কেন না সেগুলি জীবকে বিষয় ভোগের সাগরে নিক্ষেপ করে। ওই সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে জিহ্বা হচ্ছে সবচেয়ে লোলুপ, অসংযত ও দুর্মতিবিশিষ্ট। এই সংসারে জিহ্বাকে জয় করা খুবই কঠিন।
শ্লোক:
কৃষ্ণ-বহির্মুখ হঞা ভোগ-বাঞ্ছা করে।
নিকটস্থ মায়া তারে জাপটিয়া ধরে।।
(জগদানন্দ পণ্ডিত, প্রেমবিবর্ত)
অনুবাদঃ- যেই মুহূর্তে কেউ কৃষ্ণের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ে ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা করে, সেই মুহুর্তেই ভগবানের মায়াশক্তি তাকে জড় বন্ধনে আবদ্ধ করে।
শ্লোক:
বিষয় ছাড়িয়া কবে শুদ্ধ হবে মন ।
কবে হাম হেরব শ্রীবৃন্দাবন ।।
(নরোত্তম দাস ঠাকুর, গৌরাঙ্গ বলিতে)
অনুবাদঃ- সেদিন আমার কবে হবে যখন আমার মন বিষয় বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে শুদ্ধ হবে, আমি শ্রীবৃন্দাবন ধামে শ্রীশ্রীরাধা-কৃষ্ণের মাধুর্যপ্রেম উপলব্ধি করতে সক্ষম হব এবং আমার পারমার্থিক জীবন পূর্ণরূপে সাফল্যমণ্ডিত হবে।
শ্লোক:
'কাম' কৃষ্ণ-কর্মার্পণে, 'ক্রোধ' ভক্তদ্বেষি-জনে,
'লোভ' ইষ্টলাভ বিনে, 'মদ' কৃষ্ণগুণগানে,
নিযুক্ত করিব যথা তথা ।।
(নরোত্তম দাস ঠাকুর, অন্য অভিলাষ ছাড়ি)
অনুবাদঃ- আমার কর্মফল কৃষ্ণকে নিবেদন করার মাধ্যমে আমি কামকে নিযুক্ত করব। ভক্তবিদ্বেষীদের প্রতি আমার ক্রোধ প্রদর্শন করব। সাধুসঙ্গে হরিকথা শ্রবণ করার জন্য আমি আমার লোভকে নিযুক্ত করব। এই মুহূর্তে আমি আমার আরাধ্য ভগবানক লাভ করতে পারলাম না- এই চিন্তায় আমি মোহগ্রস্ত হব । শ্রীকৃষ্ণের গুণকীর্তনের মধ্যেই আমার মত্ততা প্রকাশিত হবে। এভাবেই এদের আমি কৃষ্ণসেবায় নিযুক্ত করব।
শ্লোক:
পিশাচী পাইলে যেন মতিচ্ছন্ন হয়।
মায়াগ্রস্ত জীবের হয় সে-ভাব উদয় ।।
অনুবাদঃ- জীব যখন মায়াগ্রস্ত হয়, তখন তার অবস্থা ঠিক যেন পিশাচীর আক্রমণগ্রস্ত একজন ব্যক্তির মতো ।
শ্লোক:
জীব জাগ, জীব জাগ, গোরাচাঁদ বলে ।
কত নিদ্রা যাও মায়া-পিশাচীর কোলে ।।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, অরুণোদয় কীর্তন ২)
অনুবাদঃ- গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু ডেকে বলছেন। "হে ঘুমন্ত জীবসকল! উঠ, জেগে উঠ। মায়া পিশাচীর কোলে অনেক ঘুমিয়েছ। আর কত ঘুমাবে?"
শ্লোক:
মানস, দেহ, গেহ, যো কিছু মোর ।
অর্পিলুঁ তুয়া পদে, নন্দকিশোর ।।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, শরণাগতি)
অনুবাদঃ- আমার মন, দেহ, গৃহ, যা কিছু রয়েছে, সবই আমি তোমার চরণে অর্পণ করলাম, হে নন্দকিশোর !
শ্লোক:
আরাধিতো যদি হরিস্তপসা ততঃ কিম্।
নারাধিতো যদি হরিস্তপসা ততঃ কিম্।।
(নারদ-পঞ্চরাত্র)
অনুবাদঃ- যদি শ্রীহরির আরাধনা করা হয়, তা হলে কঠোর তপস্যার কি প্রয়োজন, কেন না তপস্যার লক্ষ্যবস্তু তো লাভ হয়েই গেছে। আর সমস্ত রকমের তপস্যা করেও যদি শ্রীকৃষ্ণকে লাভ করা না যায়, তা হলে তপস্যার কোনও মূল্য নেই, কেন না শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া সকল তপস্যাই বৃথা শ্রম মাত্র।
শ্লোক:
অন্তর্বহির্যদি হরিস্তপসা ততঃ কিম্ ।
নান্তর্বহির্যদি হরিস্তপসা ততঃ কিম্ ।।
(নারদ-পঞ্চরাত্র)
অনুবাদঃ- শ্রীহরি যে সর্বব্যাপক, তিনি যে অন্তরে ও বাইরে সর্বত্রই আছেন, এই উপলব্ধি যার হয়েছে, তপস্যায় তার কি প্রয়োজন। আর শ্রীহরি যে সর্বব্যাপক, এই উপলব্ধিই যদি না হল, তা হলে সব তপস্যাই বৃথা ।
শ্লোক:
আনুকূল্যস্য সঙ্কল্পঃ প্রাতিকূল্যস্য বর্জনম্ ।
রক্ষিষ্যতীতি বিশ্বাসো গোপ্তৃত্বে বরণং তথা ।
আত্মনিক্ষেপকার্পণ্যে ষড়বিধা শরণাগতিঃ ।।
(হরিভক্তি-বিলাস ১১/৪১৭)
অনুবাদঃ- শরণাগতির ছয় প্রকার লক্ষণ- কৃষ্ণভক্তির অনুকূল যা গ্রহণ করা, কৃষ্ণভক্তির প্রতিকূল বিষয় বর্জন করা, কৃষ্ণ সব সময়ই রক্ষা করবেন এই বিশ্বাস, শ্রীকৃষ্ণকে প্রভুরূপে গ্রহণ করা, সর্বতোভাবে শরণাগত হওয়া এবং দৈন্য ।
শ্লোক:
হরিসেবায় যাহা হয় অনুকূল ।
বিষয় বলিয়া তাহার ত্যাগে হয় ভুল ।।
(ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী)
অনুবাদঃ- হরিসেবার অনুকূল বস্তুকে যিনি জড় বিষয় জ্ঞানে পরিত্যাগ করেন, তিনি মহাভুল করছেন ।
(সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= দশাবতার স্তোত্র

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন