সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ- দেখতে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করুন-

দশাবতার স্তোত্র

শ্লোক:
নিন্দসি যজ্ঞবিধেরহহ শ্রুতিজাতং
সদয়হৃদয়দর্শিতপশুঘাতম্ ।
কেশব ধৃতবুদ্ধশরীর জয় জগদীশ হরে ।।
(শ্রীদশাবতার-স্তোত্র ৯)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! পশুবধ দর্শনে আপনার সকরুণ হৃদয় আর্দ্রভূত হলে, আপনি হিংসার দোষ প্রদর্শনপূর্বক (পশুবধাত্মক) যজ্ঞ বিধান-প্রবর্তক বেদের অপবাদ দিয়েছিলেন। হে হরে! বুদ্ধ শরীরধারী আপনি জয়যুক্ত হোন ।
শ্লোক:
অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবা ন তাংস্তর্কেণ যোজয়েৎ ।
প্রকৃ্তিভ্যঃ পরং যচ্চ তদচিন্ত্যস্য লক্ষণম্।।
(মহাভারত ভীস্মপর্ব ৫/২২)
অনুবাদঃ- যা জড়া-প্রকৃতির অতীত তাকে বলা হয় অচিন্ত্য, কিন্তু সমস্ত যুক্তিতর্ক হচ্ছে জাগতিক। যেহেতু জাগতিক যুক্তিতর্ক জড়াতীত বিষয়কে স্পর্শ করতে পারে না, তাই কারও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে চিন্ময় বিষয় হৃদয়ঙ্গম করার চিন্তা করা উচিত নয়।
শ্লোক:
অহন্যহনি ভূতানি গচ্ছন্তীহ যমালয়ম্ ।
শেষাঃ স্থাবরমিচ্ছন্তি কিমাশ্চর্যমতঃ পরম্ ।।
(মহাভারত, বনপর্ব, ৩১৩/১১৬)
অনুবাদঃ- প্রতিদিন শত সহস্র লক্ষ জীব যমালয়ে গমন করে। তবুও, যারা এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তারা এখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে চায়। এর থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় আর কি হতে পারে?
শ্লোক:
জীবন অনিত্য জানহ সার,
তাহে নানাবিধ বিপদ ভার।
নামাশ্রয় করি' যতনে তুমি,
থাকহ আপন কাজে।।
(ভক্তিবিনোদ ঠাকুর)
অনুবাদঃ-- এই সার কথা জেনে রাখা উচিত যে, এই জীবন অনিত্য এবং বহু বিপদ ও দুঃখে পরিপূর্ণ। তাই যত্ন সহকারে হরিনামকে আশ্রয় করে কৃষ্ণসেবায় নিযুক্ত থাকতে হবে।
শ্লোক:
প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদং
বিহিতবহিত্রচরিত্রমখেদম্ ।
কেশব ধৃতমীনশরীর জয় জগদীশ হরে ।।
(দশাবতার-স্তোত্র ১)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! হে হরি ! প্রলয়কালে যখন বেদরাশি সমুদ্রজলে নিমগ্ন হয়, তখন আপনি মীনশরীর ধারণ করে অক্লেশে নৌকার ন্যায় সেই বেদরাশি ধারণ করে রেখেছিলেন। মীন শরীরধারী আপনার জয় হোক ।
শ্লোক:
বসতি দশনশিখরে ধরণী তব লগ্না
শশিনি কলঙ্ককলেব নিমগ্না ।
কেশব ধৃতশূকররূপ জয় জগদীশ হরে ।।
(দশাবতার-স্তোত্র ৩)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! আপনি যখন শূকরমূর্তি ধারণ করেছিলেন, তখন চন্দ্রের কলঙ্করেখার ন্যায় আপনার দন্তাগ্রে এই পৃথিবী সংলগ্না ছিল। হে শূকররূপী জগদীশ! হে হরে ! আপনার জয় হোক ।
শ্লোক:
তব করকমলবরে নখমদ্ভুতশৃ্ঙ্গং
দলিতহিরণ্যকশিপুতনুভৃঙ্গম্ ।
কেশব ধৃতনরহরিরূপ জয় জগদীশ হরে ।।
(দশাবতার-স্তোত্র ৪)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! যখন আপনি নৃ্সিংহরূপ ধারণ করেছিলেন, তখন আপনার করকমলের নখাবলী অতীব আশ্চর্যাবহ অগ্রভাগযুক্ত হয়েছিল। আপনি ওই নখ দ্বারা দৈত্যপতি হিরণ্যকশিপুর তনুভৃঙ্গটিকে বিদীর্ণ করেছিলেন। হে নৃসিংহরূপী জগদীশ! হে হরে! আপনার জয় হোক।
শ্লোক:
ছলয়সি বিক্রমণে বলিমদ্ভূতবামন
পদনখনীরজনিতজনপাবন ।
কেশব ধৃতবামনরূপ জয় জগদীশ হরে ।।
(দশাবতার-স্তোত্র ৫)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! হে বামনরূপধারী শ্রীহরি, আপনার জয় হোক ! হে অদ্ভূত বামন দেব ! আপনার বিক্রমশালী পদক্ষেপে আপনি বলি মহারাজকে প্রতারিত করেছেন। আর আপনার চরণের নখনিঃসৃত জলে আপনি জগতের সমস্ত জীবকে উদ্ধার করেছেন।
শ্লোক:
বহসি বপুষি বিশদে বসনং জলদাভং
হলহতিভীতিমিলিতযমুনাভম্ ।
কেশব ধৃতহলকধররূপ জয় জগদীশ হরে ।।
(দশাবতার-স্তোত্র ৮)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! হে হলধর বলরামের রূপ ধারণকারী শ্রীহরি ! আপনার জয় হোক ! আপনি আপনার শুভ্র দেহে জলভরা নবীন মেঘের মতো বর্ণবিশিষ্ট বসন পরিধান করেন। আপনার হলাকর্ষণে ভীতা যমুনার নীলবর্ণ জলের মতোই সুন্দর এই বসন।
শ্লোক:
ম্লেচ্ছনিবহনিধনে কলয়সি করবালং
ধূমকেতুমিব কিমপি করালম্ ।
কেশব ধৃতকল্কিশরীর জয় জগদীশ হরে।।
(দশাবতার-স্তোত্র ১০)
অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ্বর ! হে কল্কিরূপ ধারণকারী শ্রীহরি ! আপনার জয় হোক ! আপনি কলিযুগের নিধনপর্বে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হন এবং ম্লেচ্ছদের হত্যা করার জন্য হাতে একটি ভয়ঙ্কর তলোয়ার বহন করেন।
(সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সকলের সহায় হোন

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন