সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ- দেখতে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর  ক্লিক করুন- 

জড় জগৎ ও চিন্ময় জগৎ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

"শ্লোক:
নির্মানমোহা জিতসঙ্গদোষা অধ্যাত্মনিত্যা বিনিবৃত্তকামাঃ ।
দ্বন্দ্বৈর্বিমুক্তাঃ সুখদুঃখসংজ্ঞৈ-
র্গচ্ছন্ত্যমূঢ়াঃ পদমব্যয়ং তৎ ॥
(গীতা ১৫/৫)"
অনুবাদঃ- যাঁরা অভিমান ও মোহশূন্য, সঙ্গদোষ রহিত, নিত্য-অনিত্য বিচার-পরায়ণ, কামনা-বাসনা বর্জিত, সুখ-দুঃখ আদি দ্বন্দ্বসমূহ থেকে মুক্ত এবং মোহমুক্ত, তাঁরাই সেই অব্যয় পদ লাভ করেন ।
"শ্লোক:
ন তদ্ ভাসয়তে সূর্যো ন শশাঙ্কো ন পাবকঃ ।
যদ্ গত্বা ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ॥
(গীতা ১৫/৬)"
অনুবাদঃ- সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি বা বিদ্যুৎ আমার সেই পরম ধামকে আলোকিত করতে পারে না। সেখানে গেলে আর এই জড় জগতে ফিরে আসতে হয় না।
"শ্লোক:
মামুপেত্য পুনর্জন্ম দুঃখালয়মশাশ্বতম্ ।
নাপ্নুবন্তি মহাত্মানঃ সংসিদ্ধিং পরমাং গতাঃ ॥
(গীতা ৮/১৫)"
অনুবাদঃ- মহাত্মা, ভক্তিপরায়ণ যোগীগণ আমাকে লাভ করে আর এই দুঃখপূর্ণ নশ্বর সংসারে পুনরায় জন্মগ্রহণ করেন না, কেন না তাঁরা পরম সিদ্ধি প্র্রাপ্ত হয়েছেন।
"শ্লোক:
আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোহর্জুন ।
মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে ॥
(গীতা ৮/১৬)"
অনুবাদঃ- হে অর্জুন ! এই ভুবন থেকে ব্রহ্মলোক পর্যন্ত সমস্ত লোকই পুনরাবর্তনশীল অর্থাৎ পুনর্জন্ম হয় ৷ কিন্তু হে কৌন্তেয় ! আমাকে প্রাপ্ত হলে আর পুনর্জন্ম হয় না।
শ্লোক:
কথা গানং নাট্যং গমনপি বংশী প্রিয়সখী
চিদানন্দং জ্যোতিঃ পরমপি তদাস্বাদ্যমপি চ ।।
স যত্র ক্ষীরাব্ধিঃ স্রবতি সুরভীভ্যশ্চ সুমহান্
নিমেষার্ধ্বখ্যো বা ব্রজতি ন হি যত্রাপি সময়ঃ ।
ভজে শ্বেতদ্বীপং তমহমিহ গোলোকমিতি যং
বিদন্তস্তে সন্তঃ ক্ষিতিবিরলচারাঃ কতিপয়ে ।।
(ব্রহ্মসংহিতা ৫/৫৬)
অনুবাদঃ- যে-স্থলে চিন্ময়ী লক্ষ্মীগণ কান্তারূপা, পরম পুরুষ কৃষ্ণই একমাত্র কান্ত, বৃক্ষমাত্রই চিদগত কল্পতরু, ভূমিমাত্রই চিন্তামণি অর্থাৎ চিন্ময় মণিবিশেষ, জলমাত্রই অমৃত, কথামাত্রই গান, গমনমাত্রই নাট্য, বংশী--প্রিয়সখী, জ্যোতি--চিদানন্দময়, পরম চিৎপদার্থ মাত্রই আস্বাদ্য বা ভোগ্য; যে-স্থলে কোটি কোটি সুরভী হইতে চিন্ময় মহা-ক্ষীরসমুদ্র নিরন্তর স্রাবিত হচ্ছে, তথা ভূত ও ভবিষ্যৎরূপ খণ্ডত্ব রহিত চিন্ময়কাল- নিত্য বর্তমান, সুতরাং নিমেষার্ধ্ব ও ভূতধর্ম প্রাপ্ত হয় না, সেই শ্বেতদ্বীপরূপ পরম পীঠকে আমি ভজন করি। সেই ধামকে এই জড় জগতে বিরলচর অতি স্বল্পসংখ্যক সাধুব্যক্তিই গোলোক বলে জানেন।
"শ্লোক:
পরস্তস্মাত্তু ভাবোহন্যোহব্যক্তোহব্যক্তাৎ সনাতনঃ ।
যঃ স সর্বেষু ভূতেষু নশ্যৎসু ন বিনশ্যতি ॥
(গীতা ৮/২০)"
অনুবাদঃ- কিন্তু আর একটি অব্যক্ত প্রকৃতি রয়েছে, যা নিত্য এবং ব্যক্ত ও অব্যক্ত বস্তুর অতীত। সমস্ত ভূত বিনষ্ট হলেও তা বিনষ্ট হয় না।
"শ্লোক:
অব্যক্তোহক্ষর ইত্যুক্তস্তমাহুঃ পরমাং গতিম্ ।
যং প্রাপ্য ন নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ॥
(গীতা ৮/২১)"
অনুবাদঃ- সেই অব্যক্তকে অক্ষর বলে, তাই সমস্ত জীবের পরমা গতি। কেউ যখন সেখানে যায়, তখন আর তাঁকে এই জগতে ফিরে আসতে হয় না। সেটিই হচ্ছে আমার পরম ধাম।
(সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= যোগ, তপশ্চর্যা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন