* ভগবান শ্রীকৃষ্ণ *
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

Krishna vs Arjun @ Gita Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture
*

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ : সর্বজ্ঞ:-

           জড় দেহধারী কেউই তার অতীতের লক্ষ লক্ষ জন্মের কথা স্মরণ করতে পারে না, সে তার ভবিষ্যত জীবন সম্বন্ধেও কিছু বলতে পারে না৷ কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন,

"হে অর্জুন! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত৷ আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না৷"

(ভ.গী.৭/২৬) কেবল শ্রীকৃষ্ণই জানেন সমস্ত জীবসত্তার অতীত ইতিহাস, তিনিই জানেন কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত জীবের বর্তমান এবং কেবল তিনিই জানেন সকলের ভবিষ্যত৷ আমরা কেউ এমনকি গতকাল ও আগামী কালের কথাও ঠিকভাবে বলতে পারি না৷

        ভগবদ্ গীতার চতুর্থ-অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে জানান যে তিনি কোটি কোটি বছর পূর্বে সূর্যদেব বিবস্বানকে জ্ঞান প্রদান করেছিলেন৷কিন্তু অর্জুন তখন জানতে চান, শ্রীকৃষ্ণের জন্মের এত পূর্বে জন্মানো বিবস্বানকে কিভাবে তিনি জ্ঞান দান করতে পারেন৷ উত্তরে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন-

" হে পরন্তপ অর্জুন ! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে ৷ আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না "

(ভ.গী. ৪/৫)৷

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ : পরম বৈরাগ্যবান

কেউ য্খন উপরোক্ত ঐশ্বর্যগুলির একটিরও অধিকারী হয়, তখন স্বভাবতই সে ঐগুলির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ও গর্বিত হয়ে পড়ে৷ কিন্তু ঐ সমস্ত ঐশ্বর্যের অধিপতি হওয়া সত্ত্বেও শ্রীকৃষ্ণ বিন্দু মাত্রও ঐসবের প্রতি আসক্ত নন৷ এইভাবে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্যটিরও অধিকারী হন : বৈরাগ্য৷ কয়েকটি দৃষ্টান্ত :

       শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় পাণ্ডবদের জন্য সামান্য দূত হিসাবে দুর্যোধনের কাছে যান৷ যিনি লক্ষ্মীপতি, মাধব, সেই শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাঁর সখা অর্জুনের রথের সারথ্য বরণ করে অর্জুনের কথামত রথ চালনা করতে থাকেন৷ মহৈশ্বর্য-শালী শ্রীকৃষ্ণ এতই সুন্দর যে, যে তাঁকে ভালবাসে, তিনি নিজেকে পর্যন্ত তার কাছে বিকিয়ে দেন৷

      মহাভারতে, য্খন রাজসূর্য যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তখন মহারাজ যুধিষ্ঠির ব্যাসদেবের সংগে পরামর্শ করার পর তার বিভিন্ন আত্মীয়্স্বজনদের বিভিন্ন সেবা করার ভার দেন৷ ভীষ্ম-দ্রোণের উপর যজ্ঞ তত্ত্বাবধানের ভার পড়ে, দুঃসাশনের উপর খাদ্য বিতরণের ভার ন্যস্ত হয়, অশ্বথামাকে অনুরোধ করা হ্য় অভ্যাগত ব্রাহ্মণদের দেখাশুনা করার জন্য, দুর্যোধনের উপর ভার ছিল যুধিষ্ঠিরের জন্য আনীত সমস্ত উপহারগুলি গ্রহণ করার৷ বিদূর হয়েছিলেন কোষাধ্যক্ষ৷ সমস্ত অভ্যাগত অতিথিবর্গ ও ব্রাহ্মণদের আশীর্বাদ লাভের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ব্যক্তিগত ভাবে তাদের পদ ধৌত করার ভার নেন ও গভীর যত্ন সহকারে সেই দায়িত্ব সম্পাদন করেন৷ এইভাবে পরম ঐশ্বর্যশালী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম বৈরাগ্য প্রদর্শন করেন৷

      শ্রীকৃষ্ণ যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রূপে অবতীর্ণ হন, তখন সুন্দরী সুবিনীতা স্ত্রী ও পরম স্নেহশীলা মাতৃদেবীকে পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন৷

*ভগবান শ্রীকৃষ্ণ*
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন

Say something

Please enter name.
Please enter valid email adress.
Please enter your comment.