*
  • ঈশ্বর সম্বন্ধীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ- দেখতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করুন-

  • সত্যিই কি ঈশ্বর আছেন?

    -শ্রী পতিত উদ্ধারণ গৌর দাস ব্রহ্মচারী



  • প্রকৃতি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই (Automatically) কাজ করে?


    অনেকেই বলে থাকেন যে, প্রকৃতি সবয়ংক্রিয়ভাবেই কাজ করে। এভাবে তারা স্রষ্টার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে। তারা তর্ক করে যে, দেবতা বা ঈশ্বর প্রকৃতির নিয়ন্তা- এরূপ ধারণা কেবল মানুষের আবেগ মাত্র যা অবৈজ্ঞানিক মানসিকতা থেকে সৃষ্টি করেছে। কিন্তু প্রকৃতি কি সত্যিই সবয়ংক্রিয়ভাবেই কাজ করে? এখানে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ শব্দটি ভালোভাবে বোঝা প্রয়োজন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানে এই নয় যে, এর কোনো নিয়ন্ত্রক থাকবে না। যেমন- যখন আমরা দেখি কোনো মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তখন বুঝতে হবে যে, একজন অপারেটর প্রতিনিয়ত তা নিয়ন্ত্রণ করছে।


    খেলনা গাড়ি দেখে শিশুরা ভাবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলছে। কিন্তু জ্ঞানী ব্যক্তি জানেন যে, কেবল কেউ এর সুইচ অন করে দেয়ার পরই তা চলতে পারে। চলন্ত ঘড়ি বা লাটিম দেখে মনে হতে পারে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরছে। কিন্তু এগুলোও কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে। ঘড়িতে কেউ ব্যাটারি লাগিয়ে দিয়েছে বলেই তা ঘুরছে, আবার লাটিম কেউ ঘুরিয়েছে বলেই ঘুরছে। ছোট্ট একটা লাটিমকে মাটিতে ঘুরাতে যদি লাটিমের সৃষ্টিকর্তা বা নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন হয়, তবে মহাবিশ্বে যে সুবিশাল গ্রহগুলো শূন্যে ঘুরছে, সেগুলোর কি সৃষ্টিকর্তা বা নিয়ন্ত্রক নেই? নিশ্চয়ই আছে। সমগ্র সৃষ্টিতে আমরা কি এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব দেখতে পাই যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন? কীভাবে আমরা কাউকে স্বীকৃতি দেব যে, ইনিই ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা।



    সমগ্র সৃষ্টিতে আমরা কি এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব দেখতে পাই যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন?

    ধরুন, আমি একটি পুরনো ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন আমি জানতে চাই- কে এই ভবনটি সৃষ্টি করেছেন। তখন আমাকে ফিরে যেতে হবে এবং খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। আমাকে ইতিহাস ঘেটে জানতে হবে- কে এটা নির্মাণ করেছে, কে এর মালিক। কোনো ভবন যদি ৫০ বা ১০০০ বছর পূর্বে নির্মিত হয়, তাহলে আপনি হয়ত তার উৎস খুঁজে পেতে পারেন।



    কিন্তু এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হয়েছে আজ থেকে লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি বছর পূর্বে, তার উৎস আপনি কীভাবে খুঁজে বের করবেন? আপনিই ভেবে দেখুন। এটা অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া এই সৃষ্টি অত্যন্ত বিশাল এবং এর সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। এজন্য স্থানগত ও কালগত উভয় দিকথেকেই এর রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য অনেক অনেক দূর যেতে হবে। তাই স্থান কালের অতীত কোনো ঘটনা, ব্যক্তি বা বস্তু সম্বন্ধে আমরা কীভাবে জানতে পারি!


    সমগ্র সৃষ্টির ব্যাপারে বৈদিক সিদ্ধান্ত

    অভ্রান্ত বৈদিকশাস্ত্রে এর উত্তর প্রদান করা হয়েছে। বেদান্তসূত্রের প্রথমেই বলা হয়েছে “জন্ম-আদি অস্য যতঃ”। অর্থাৎ প্রকাশিত ব্রহ্মাণ্ডসমূহের সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয়ের মূল কারণ হচ্ছেন বাসুদেব অর্থাৎ বসুদেব তনয় শ্রীকৃষ্ণ। তিনিই পরমেশ্বর। ব্রহ্মসংহিতায়ও বলা হয়েছে- ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ । অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।। “যে কৃষ্ণকে আমরা গোবিন্দ বলি, তিনিই পরমেশ্বর। তাঁর দেহ সৎ, চিৎ এবং আনন্দময়। তিনিই সবকিছুর আদি উৎস এবং সর্বকারণের পরম কারণ।” শ্রীমদ্ভগবদগীতায় (১০/৮) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন- অহং সর্বস্য প্রভবো মত্তঃ সর্বং প্রবর্ততে । ইতি মত্বা ভজন্তে মাং বুধা ভাব সমন্বিতাঃ ॥৮॥ অর্থাৎ “আমি জড় ও চেতন জগতের সব কিছুর উৎস। সবকিছু আমার থেকেই প্রবর্তিত হয়। সেই তত্ত্ব অবগত হয়ে পণ্ডিতগণ শুদ্ধ ভক্তি সহকারে আমার ভজনা করেন। ”

    তাই যারা জড়বিদ্যার গর্বে নিজেকে পণ্ডিত বলে মনেকরে কোনোদিন সাধুদের শ্রীমুখ থেকে হরিকথা শ্রবণ করে না, এমনকি নিজে কোনো দিন প্রামাণিক বৈদিকশাস্ত্র অধ্যয়ন করে না বা অধ্যয়ন করলেও নিজের মনের মতো অর্থ করে নেয়, তাদের ঈশ্বর সম্বন্ধে যথার্থ ধারণা নেই। কিন্তু যথার্থ পণ্ডিত এবং ভগবদ্ভক্ত জানেন যে, সত্যিই ঈশ্বর আছেন এবং তিনি হলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।

    এই সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে ভগবান বিষয়ক সুবিস্তৃত জ্ঞানের সম্যক আলোচনা সম্ভব নয়, এমনকি জাগতিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজন হয়। ক্রমান্বয়ে উচ্চতর শ্রেণীতে একই বিষয়ের ওপর গভীর থেকে গভীরতর জ্ঞানের আলোচনা হয়। তাই সাধারণ পদার্থ বা রসায়ন সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের জন্য যদি অ আ ক খ অধ্যয়ন থেকে শুরু করে মোটামুটি ১০-১২ বছরের ধারাবাহিক জ্ঞানের প্রয়োজন হয় এবং বহু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জ্ঞান লাভের প্রয়াস করতে হয়; তারপরও সেবিষয়ে কেবল সাধারণ কিছু ধারণা পাওয়া যায়; আবার সে বিষয়ের উপর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরও সে বিষয়ে সম্যক জানা যায় না।

    এ তো গেল প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের একটি অতি ক্ষুদ্র শাখার কথা। তবে পাঠকগণের কাছেই প্রশ্ন- সমস্ত সৃষ্টির অধীশ্বর পরমেশ্বর ভগবান, তাঁর সম্বন্ধে আমরা কেবল ছোট্ট একটা প্রবন্ধ পাঠ করেই কি সম্যক জেনে যাব? এর জন্য বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন। যদিও এই জ্ঞান অসীম তবুও এ প্রবন্ধে মূলত আমরা প্রকৃতপক্ষেই ভগবানের যে অস্তিত্ব রয়েছে, কেবল সে সম্বন্ধে আলোচনা করেছি। সে সম্বন্ধে আলোচনা করেছি। আশা করি এর মাধ্যমে পাঠকগণ সত্যিই যে ভগবানের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তাঁর সম্বন্ধে জানার পন্থা কী? সে সম্বন্ধে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবো।

    তথ্য সূত্রঃ অমৃতের সন্ধানে, ইসকনের ত্রৈমাসিক মুখপাত্র, জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর' ২০১৫,
    এর পর দেখুনঃ সমগ্র সৃষ্টির ব্যাপারে বৈদিক সিদ্ধান্ত কি?

    সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

    শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.