সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ- দেখতে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করুন-

পূরাণ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

শ্লোক:
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্ ।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ।। (বৃহন্নারদীয় পূরাণ ৩/৮/১২৬)
অনুবাদঃ-- এই কলিযুগে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করা ছাড়া আর অন্য কোন গতি নেই, আর অন্য কোন গতি নেই, আর অন্য কোন গতি নেই ।
শ্লোক:
নামাপরাধযুক্তানাং নামান্যেব হরন্ত্যঘম্ ।
অবিশ্রান্তিপ্রযুক্তানি তান্যেবার্থকরাণি চ ।।
(পদ্ম পূরাণ)
অনুবাদঃ-- হরিনামের প্রতি যারা অপরাধ করে, তাদেরও হরে কৃষ্ণ নাম জপের বিধান দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা যদি জপ করে চলে, ক্রমে ক্রমে তারা নিরপরাধে জপ করতে পারবে। শুরুতে যদিও বা অপরাধ হয়, তবুও পুনঃপুনঃ জপের ফলে সেই সব অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
শ্লোক:
যে মে ভক্তজনাঃ পার্থ ন মে ভক্ত্যাশ্চ তে জনাঃ ।
মদ্ভক্তানাং চ যে ভক্তাস্তে মে ভক্ততমাঃ মতাঃ ।।
(আদি পুরাণ)
অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, "হে পার্থ! যারা কেবল আমারই ভক্ত, তাঁরা বস্তুত আমার ভক্ত নয়। কিন্তু যারা আমার ভক্তের ভক্ত তাদেরই উত্তম ভক্ত বলে জানবে।"
শ্লোক:
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা।
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ ।।
(গরুড় পুরাণ)
অনুবাদঃ- অপবিত্র হোক বা পবিত্র হোক, জড়-জাগতিক জীবনের সকল অবস্থা অতিক্রম করেও কেউ যদি কমললোচন শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করেন, তা হলে অন্তরে ও বাইরে শুচিতা লাভ করেন।
শ্লোক:
ষটকর্ম নিপুণো বিপ্রো মন্ত্রতন্ত্রবিশারদঃ ।
অবৈষ্ণবো গুরুর্ন স্যাদ্ বৈষ্ণবঃ শ্বপচো শুরুঃ ।।
(পদ্ম পুরাণ)
অনুবাদঃ- কোন ব্রাহ্মণ যদি ব্রাহ্মণের ছয়টি কর্মে নিপুণ হয় এবং মন্ত্রতন্ত্রে বিশারদও হয়, কিন্তু সে যদি কৃষ্ণভক্ত না হয়, তা হলে সে গুরু হতে পারে না, পক্ষান্তরে চণ্ডাল কুলে উদ্ভূত ব্যাক্তিও যদি শুদ্ধ কৃষ্ণভক্ত হয়, তা হলে সেই গুরু হতে পারে।
শ্লোক:
কলৌ শূদ্রাসম্ভবাঃ
(স্কন্দ পূরাণ)
অনুবাদঃ- কলিযুগে সকলেই শূদ্ররূপে জন্মগ্রহণ করে।
শ্লোক:
রাক্ষসাঃ কলিমাশ্রিত্য জায়ন্তে ব্রহ্মযোনিষু
(বরাহ পুরাণ)
অনুবাদঃ- রাক্ষসগণ কলিযুগের সুযোগ নিয়ে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে।
শ্লোক:
অতঃ শ্রীকৃষ্ণনামাদি ন ভবেদ্গ্রাহ্যমিন্দ্রিয়ৈঃ ।
সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত্যদঃ ।।
(পদ্ম পুরাণ, ভঃ রঃ সিঃ ১/২/২৩৪)
অনুবাদঃ- অতএব শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু, কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়। জীব যখন সেবোন্মুখ হন অর্থাৎ চিৎ-স্বরূপে কৃষ্ণোন্মুখ হন, তখনই অপ্রাকৃত জিহ্বা আদি ইন্দ্রিয়ে কৃষ্ণনাম আদি স্বয়ংই স্ফূর্তি লাভ করে।
শ্লোক:
নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।
(বিষ্ণু পুরাণ)
অনুবাদঃ- ব্রাহ্মণদের আরাধ্যদেব, গুরু ও ব্রাহ্মণদের হিতকারী এবং জগতের কল্যাণকারী শ্রীকৃষ্ণকে আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি। শ্রীকৃষ্ণ ও গোবিন্দ নামে পরিচিত সেই পরমেশ্বর ভগবানকে আমি পুনঃ পুনঃ প্রণাম করি ।
শ্লোক:
ঐশ্বর্যস্য সমগ্রস্য বীর্যস্য যশসঃ শ্রিয়ঃ ।
জ্ঞানবৈরাগ্যয়োশ্চৈব ষণ্ণং ভগ ইতীঙ্গনা ।।
(বিষ্ণু পুরাণ ৬/৫/৭৪)
অনুবাদঃ- পূর্ণ সম্পদ, পূর্ণ শক্তি, পূর্ণ খ্যাতি, পূর্ণ সৌন্দর্য, পূর্ণ জ্ঞান ও পূর্ণ বৈরাগ্য -এগুলি হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের ছয়টি ঐশ্বর্য।
শ্লোক:
নাহং তিষ্ঠামি বৈকুণ্ঠে যোগিণাং হৃদয়েষু বা ।
মদ্ভক্তাঃ যত্র গায়ন্তি তত্র তিষ্ঠামি নারদ ।।
(পদ্ম পুরাণ)
অনুবাদঃ- হে নারদ! আমি বৈকুণ্ঠে থাকি না, যোগীদের হৃদয়েও থাকি না। আমার ভক্তগণ যেখানেই আমার লীলাবিলাসের গুণকীর্তন করে, আমি সেখানেই থাকি।
(সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= ব্রহ্মসংহিতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন