সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ অবশ্যই জানা উচিৎ

শ্রীভগবানের মুখে যুদ্ধের কথা কেন?
-ডঃ শ্রীমন্ মহানামব্রত ব্রহ্মচারী

নিউইয়র্ক হইতে লণ্ডন যাত্রা করিয়াছি জাহাজে। World Congress of Faiths (সর্ব্বধর্ম্ম-সম্মিলন)-এর যে অধিবেশন হইবে লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাহাতে যোগ দিব। ১৯৩৭-এর গ্রীষ্মকাল।

ঐ প্রতিষ্ঠানের লণ্ডন শাখার নাম World Congress of Faiths; আমেরিকান শাখার নাম World Fellowship of Faith; লণ্ডন শাখার সভাপতি স্যার ফ্রান্সিস্ ইয়ংহাজবেণ্ড। আমেরিকান শাখার সভাপতি চার্লস্ ফ্রেডারিক ওয়েলার। আমেরিকান শাখার আমি ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারী।

স্যার ইয়ংহাজবেণ্ড নিজে আমেরিকায় গিয়া আমাদিগকে নিমন্ত্রণ করিয়া আসিয়াছেন। আমরা একদলে বার চৌদ্দজন আমেরিকার ডেলিগেশন। সভাপতি ওয়েলার সাহেবও আমাদের সঙ্গে আসিয়াছেন। জাহাজ ছাড়িবার দুই তিন দিন পরে ওয়েলার সাহেব জাহাজে এক সভার আয়োজন করেন।

সভার বক্তা আমরা পাঁচ ছয় জন। একজন ইসলাম ধর্ম্মের বক্তা, একজন খৃষ্টান ধর্ম্মের বক্তা, একজন বৌদ্ধ ধর্ম্মের বক্তা আর হিন্দুধর্ম্মের বক্তা আমি। ওয়েলার সাহেব সভাপতি। জাহাজের ক্যাপ্টেন ও বিশিষ্ট কর্ম্মচারী অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেশ আনন্দ হয়।

হিন্দুধর্ম্মের বক্তৃতায় আমি গীতার সার্ব্বজনীন বাণীর কথা বহু বলি। সভাশেষে প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা ছিল। আমার বক্তৃতার পরে একজন বিশিষ্ট শ্রোতা গীতা সম্বন্ধে এক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন- “আপনাদের গীতার উদার বাণী বেশ ভালই লাগে, কিন্তু উপক্রমণিকা (setting) পছন্দ হয় না। গীতার বক্তা ভগবান্। শ্রোতা একজন ভক্ত। ভক্ত বলিতেছেন- “যুদ্ধ করিব না।” ভগবান্ তাঁহাকে কঠোরভাবে আদেশ করিতেছেন- “করিতেই হইবে।” ভগবানের মুখে ঐরূপ যুদ্ধের কথা আমরা শুনিতে চাই না।

খৃষ্টান ধর্ম্মের সঙ্গে তুলনা করিয়া প্রশ্নকারী আরও বলিলেন- আমরা যাহাকে ভগবানের তুল্য ত্রাণকর্তা বলি, তিনি বলিয়াছেন- “এক গালে চড় দিলে আর এক গাল ফিরাইয়া দাও। যে তোমার চাদরখানা লইয়া গিয়াছে, তাহাকে জামাটাও দিয়া দাও।” এইরূপ উদার মানবীয় বাণী ভগবানের মুখে শোভন। ভগবান্ হইয়া অনিচ্ছুক ভক্তকে যুদ্ধের প্রেরণা দিলেন কেন- ইহা জানিতে ইচ্ছা হয়।

প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসায় আন্তরিকতা ছিল- কটাক্ষ ছিল না। সভার অধিবেশন চলার সময়ে এই প্রশ্ন। অধিবেশনের মধ্যেই উত্তর করিলাম। উত্তর শুনিতে শ্রোতৃবর্গ বিশেষ উৎসুখ ছিল। “গীতার বক্তা অর্জ্জুনকে যুদ্ধের প্রেরণা দিয়াছেন এই কথা ঠিক নয়।” আমি শান্তভাবে বলিতে লাগিলাম, “গীতার উপদেশ যদি যুদ্ধের প্রেরণাই হইত, তাহা হইলে কেবল সৈন্যদের ব্যারাকেই উহা পাঠ্য হইত। যুগ যুগ ধরিয়া শত সহস্র সাধু সন্ন্যাসী ও সাধারণ নরনারী গীতা পাঠে ভুলিয়া থাকিত না।” “উঠ, যুদ্ধ কর”- এই কথা একাধিকবার গীতায় থাকিলেও বস্তুতঃ, গীতা যুদ্ধের প্রেরণামূলক গ্রন্থ নহে।

“যুদ্ধ করিতে বলিয়াও যুদ্ধ করিতে বলেন নাই”- আমার এই বিরোধী কথায় সামঞ্জস্য কোথায়? জানিবার জন্য সভার আগ্রহ বাড়িয়া উঠিল। তাহা অনুভব করিয়াই স্পষ্টতর ভাষায় বলিতে লাগিলামঃ ‘অর্জ্জুন এক বিরাট কর্তব্যের সম্মুখীন! তাঁহার রাষ্ট্র ও তাঁহার সমাজের দাবী এই কর্ত্তব্য করা। কর্ত্তব্যের দায়িত্ব মাথায় লইয়া অর্জ্জুন অগ্রসর হইয়াছেন; এমন সময় এক ভ্রান্ত বুদ্ধি তাঁহাকে কর্ত্তব্যবিমূঢ় করিয়া দিয়াছে। গীতার বক্তার ভাষায় ঐ ভ্রান্তবুদ্ধির নাম ক্লীবতা, কশ্মল, হৃদয়দৌর্ব্বল্য, অজ্ঞানসম্মোহ। ইহা দূর করা আচার্য্যের কাজ; সদগুরুর কাজ; জগদগুরুর ভগবানের কাজ।

শ্রীকৃষ্ণ অর্জ্জুনকে যুদ্ধের উপদেশ দেন নাই, কর্ত্তব্য পালনের পথে যে মানসিক বাধা, তাঁহাকে অপনোদন করিয়া কর্ত্তব্যে নিযুক্ত করিয়া দিয়াছেন মাত্র। ইহা কি স্নেহময় ভগবানের পক্ষে ঠিক কাজ নয়?

যদি বলেন- “যুদ্ধ কখনও কর্ত্তব্য হয়?” তবে বলিব- হয়। হয়ত অনেকে একমত হইবেন না। আর্য্যঋষিদের সুচিন্তিত অভিমত এই- সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালনে যুদ্ধও অপরিহার্য হয়। যুদ্ধ করিতে হইবে শুধু কর্ত্তব্যের জন্য। হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈরভাব বিন্দুমাত্রও থাকিবে না। কাহারও মনে হইতে পারে যে, ইহা সম্ভব নহে। বৈরভাবহীন যুদ্ধ- সোনার পাথর-বাটির মত। কিন্তু গীতা ইহাই সম্ভব মনে করেন। একাদশ অধ্যায়ে অর্জ্জুনকে যুদ্ধ করিতেও বলিয়াছেন (১১/১৩)। আবার “”নির্ব্বৈরঃ” হইতেও বলিয়াছেন (১১/৫৫)।

আহার করা দেহের ধর্ম্ম। লোভ মনের ধর্ম্ম। নির্লোভ হইয়াও আহার করা চলে। বিশ্রাম করা দেহের ধর্ম্ম। অলসতা মনের ধর্ম্ম। অলস না হইয়াও বিশ্রাম করা চলে। যুদ্ধ রাষ্ট্রধর্ম্ম। হিংসা বৈরভাব মনের ধর্ম্ম। অহিংস নির্ব্বৈর হইয়া যুদ্ধ করা চলিবে না কেন? স্নেহময় হইয়া কি দণ্ড্যজনকে দণ্ড দেওয়া চলে না? বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লিখিয়াছেন-
“দণ্ডিতের সাথে দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমান দরদে। সর্ব্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার।”
দণ্ডনীয়জনকে দণ্ড দিয়া যদি দণ্ডদাতা সুখী হয় তবে বুঝিতে হইবে কোথাও তাহার স্বার্থ লুক্কায়িত আছে। যদি সে ব্যথিত হয়, দণ্ড্য ব্যক্তির সঙ্গে বেদনায় সে আহত হয়, তবে বুঝিতে হইবে তাহার দণ্ড দান স্বার্থগন্ধহীন, শুধুই কর্ত্তব্যের প্রেরণা।

আর্য্যঋষিরা মানুষের সামাজিক কর্ত্তব্যকে গুণানুসারে ভাগ করিয়া দিয়াছিলনে। যে সত্ত্বগুণী সে সমাজকে ঊর্দ্ধে তুলিবে। যে রজগুণী সে সমাজকে মাটিতে টিকাইয়া রাখিবে। সত্ত্বগুণী দিবে আত্মার খাদ্য। রজগুণী দিবে দেহের খাদ্য। যে সত্ত্ব-রজ মিশ্রিত গুণশালী, সে নৈতিক ভিত্তিতে সমাজ রক্ষা করিবে। তাহার নাম ক্ষত্রিয়। ক্ষত্রিয় শব্দের অর্থ ক্ষত হইতে যিনি ত্রাণ করেন।

মানবসমাজে যেখানে ক্ষত বা ক্ষয় বা ক্ষতি দৃষ্ট হইবে, ক্ষত্রিয়ের কার্য্য হইবে তাহা হইতে মানব সংহতিকে রক্ষা করা। সেই ক্ষতি যাহার দ্বারাই হউক, কোন ব্যক্তি বা জাতি বা আদর্শবাদ- ক্ষত্রিয়ের কর্ত্তব্য হইবে তাহার সঙ্গে যুদ্ধ করা। যুদ্ধ কেবল ক্ষত্রিয়ের কর্ত্তব্য নয়- এই জন্যই সে সৃষ্ট ইহা তাহার স্বধর্ম্ম।
অবশিষ্ট অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুন
পার্শ্ববর্তী বিবরণের অবশিষ্ট অংশ
ক্ষত্রিয় আমার আপনার তৈয়ারী কিছু নহে – ক্ষত্রিয় ঈশ্বর বা প্রকৃতির সৃষ্টি। আপনার রক্ত কণিকার মধ্যেও বাস করে কতকগুলি ক্ষত্রিয়। আপনার দেহের বিষ্ফোটকে অস্ত্রোপচার করিয়া চিকিৎসক যখন কতকগুলি পূঁজ ফেলিয়া দেন, তখন আপনি হয়ত ভাবিবার সময় পান না যে উহারা আপনার রক্তপ্রবাহনিবাসী ক্ষত্রিয় শহীদগণের মৃতদেহগুলি মাত্র। উহারা প্রাণ দিয়াছে বলিয়া আপনার প্রাণ বাঁচিয়াছে।

প্রাণ দিয়া প্রাণ বাঁচান যার কর্ত্তব্য, সে ক্ষত্রিয়। সে রাজা, সে নৃপ- নরগণের পালন তার স্বধর্ম্ম। এই স্বধর্ম্মে জীবন আহুতি দিয়া সে ইহকালে যশঃ ও পরকালে স্বর্গ অর্জ্জন করে। সমাজের নরনারীর স্বচ্ছন্দ জীবনযাত্রায় কেহ আঘাত হানিতেছে দেখিয়া, দাঁড়াইয়া তামসা দেখা বা ভাষণ দিয়া শোক প্রকাশ করা, ক্ষত্রিয়ের কর্ম্ম নয়- রাজধর্ম্ম নয়। রাজশক্তির একমাত্র ধর্ম্ম তখন নীতিগতভাবে আঘাত হানা।

দুইটি বিষয় লক্ষ্য করিবেন। যুদ্ধ করার উদ্দেশ্য নরনারীর পালন; পীড়ন বা শোষণ নহে। আর লক্ষ্য করিবেন যে, ক্ষাত্রবীর্য্যশালী ক্ষত্রিয়েরাই যুদ্ধে শক্তির পরীক্ষা করিবেন। উহা সর্ব্বগ্রাসী হইবে না। সাধারণ নর-নারীর সহজ জীবনযাত্রা উহাতে ব্যাহত হইবে না।

যদি বলেন, এখনকার দিনে ঐরূপ যুদ্ধ সম্ভব নয়। তাহাতে আমি একমত হইব। শুধু এই বলিব, এখনকার দিনের যুদ্ধ যুদ্ধই নয়। বিরাট দস্যুতা। যাহার উদ্দেশ্য ধনলোভ ও রাজ্য বিস্তার। দস্যুতা চিরকালই পাপ। ব্যাপক দস্যুতাকে সকল সভ্য সমাজেরই কর্ত্তব্য মহাপাপ বলিয়া ঘৃণা করা। সমাজরক্ষা হেতু নৈতিক প্রয়োজনে ও আদর্শে যুদ্ধ করা রাজশক্তির চিরকালই কর্ত্তব্য। এইরূপ যুদ্ধও যাহাতে না বাধে, সেজন্য যাঁহারা সজ্জন, তাঁহারা পূর্ব্বাহ্নে যথাশক্তি চেষ্টা করিবেন। শেষ পর্য্যন্ত উহা অপরিহার্য্য হইলে কর্ত্তব্যরূপে গ্রহণ করিতে ভীত হইবেন না। কাপুরুষের মত পলায়নপর হইবেন না। ধর্ম্মজ্ঞ নীতিজ্ঞের মত পবিত্র কর্ত্তব্যের সম্মুখীন হইবেন।

গীতার বক্তা ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ কখনও যুদ্ধের পক্ষপাতী ছিলেন না। যুদ্ধের জন্য তৎকালীন ঘটনাপরম্পরা দায়ী। শ্রীকৃষ্ণ নহেন। বরং তিনি শান্তির প্রস্তাব লইয়া কৃতকার্য্য হইবার আশায় সাড়ম্বরে দুর্য্যোধনের সভায় আসিয়াছিলেন। যুদ্ধে প্রবৃত্ত না হইবার জন্য বহু উপদেশ দিয়াছিলেন। শান্তিদূতের মহাবাণী দুর্য্যোধনের বধির কর্ণে প্রবেশ করে নাই। সে দূতকে বন্দী করিবার জন্য ষড়যন্ত্র করিয়াছিল, শ্রীকৃষ্ণ তাহা বুঝিতে পারিয়া কৌশলে সভাস্থল ত্যাগ করেন।

যুদ্ধ যখন অপরিহার্য্য হইয়া উঠিল, তখন তিনি প্রথমে ভাবিলেন, নিরপেক্ষ থাকিবেন, কোন পক্ষেই যোগ দিবেন না। পরে গভীর চিন্তা করিয়া দেখিলেন- নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নহে। বাহিরে নিরপেক্ষতা দেখাইলেও মন এক পক্ষের জয়কামনা করিতে থাকিবে। ইহা একরূপ মিথ্যাচার। অন্তরবাহিরে নিরপেক্ষতা যখন সম্ভব নহে, তখন উভয়পক্ষেই সমভাবে থাকিবেন। এক পক্ষে দিলেন তাঁহার বিপুল নারায়ণী সেনা। অপর পক্ষে দিলেন নিজের বুদ্ধি ও সারথ্য। ঘোড়া চালাইবেন, অর্জ্জুনের বুদ্ধি চালাইবেন, নিজের হাতে অস্ত্র কখনও চালাইবেন না। অর্জ্জুন যখন নারায়ণী সেনার সঙ্গে যুদ্ধ করেন, তখনও তিনি নিজে সারথ্য করিয়াছেন। এইরূপ উভয় পক্ষে সমভাব রক্ষা মানবেতিহাসে আর কোন ব্যক্তি করিয়াছেন –এইরূপ দৃষ্টান্ত কেহ দিতে পারিবেন বলিয়া মনা হয় না।

শান্তিময় ভগবান্ কর্ত্তব্যবিমূঢ় ভক্তকে কর্ত্তব্যে উদ্বুদ্ধ করিয়াছেন- সমগ্র গীতা ভরিয়া ইহাই দেখিতে পাইবেন, ইহাতে অশোভনতা কোথায়? বরং সংসারকর্ম্মক্ষেত্রে কর্ত্তব্যপরাঙ্মুখ জীবের প্রতি ইহাই পরম শোভন উপদেশ। এইজন্যই এই বিশাল কর্ম্মক্ষেত্রে যে যেখানে কর্ত্তব্যের ভূমিকায় দুর্ব্বল, বিভ্রান্ত বা বিমূঢ় হইয়া পড়ে, তখনই গীতার উপদেশ তাহার পক্ষে সঞ্জীবনী-সুধার কার্য্য করে। দিশাহারা মানুষকে পথের সন্ধান দিতে গীতার মত গ্রন্থ আর নাই। সর্ব্বশ্রেণীর মানুষের সর্ব্বপ্রকার অবস্থায় গীতার বাণী জীবনপথের সর্ব্বোজ্জ্বল বর্ত্তিকা।

আলোচনার মধ্যে গীতার কথা আপনাদিগকে বলিয়াছি। আর একবার গীতার সার নির্য্যাস শুনাইব। আমরা সসীম, ক্ষুদ্র, খণ্ড জীব। জগতের যাহা কিছু দেখি- খণ্ড খণ্ড দেখি। ইহা ভ্রান্ত দৃষ্টি। নিখিল বস্তুকে অখণ্ডভাবে দেখা, এক বিরাট দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গরূপে দেখাই ঠিক দেখা। সেই দেখার নাম বিশ্বরূপ দর্শন। বিশ্বের যেটি প্রকৃ্ত রূপ, তাহা যে মহাচৈতন্য সত্তার অবিভক্ত বিশাল রূপ- তাহা দেখাই বিশ্বরূপ দর্শন। অর্জ্জুন তাহা দেখিয়াছেন। কৃষ্ণের –দেওয়া দিব্যদৃষ্টিতে দেখিয়াছেন। দেখিয়া অর্জ্জুন বলিয়াছেন-“হে দেব, তোমার এক দেহে নিখিল বিশ্ব দেখিতেছি”(১১/১৫)

এই দিব্যদৃষ্টি দিয়া, দিব্যদর্শন করাইয়া শ্রীকৃষ্ণ কহিলেন- অখিল বিশ্বের যাহা কিছু, সবই আমি করি। সবই করা হইয়া রহিয়াছে, তবু তোমাকে কর্ম্ম করিতে হইবে-“নিমিত্তমাত্র” হইয়া (১১/৩৩)।

সমগ্র জগৎ ভগবানের। জগতের যাহা কিছু, সবই তাঁহার কাজ। যাহা করিবার তিনিই করেন। আমি নিমিত্তমাত্র- এই একটি উপদেশই বিশ্বমানবের জীবনে শান্তির বাতাস বহাইবার পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী। আমরা শুধু এই একটি কথা নিয়ত স্মরণপথে রাখিয়া চলিব। এই বিশ্বরূপ –বিশ্বের যাহা কিছু, আমি, আপনি, বিশ্বেশ্বররই রূপ। তিনিই কর্ত্তা, তিনিই কর্ম্ম, তিনিই কারণ। আমরা সকলে তাঁহার হাতের ক্রীড়ণক। তাঁহার হাতের ক্রীড়াযন্ত্র। যন্ত্রী যেমন বাজাইবেন, ঠিক তেমনি বাজিব। তাঁহার সত্তাই আমার সত্তা। তাঁহার কর্তৃ্ত্বেই আমার কর্তৃ্ত্ব। আমি অধীন, তিনিই স্বাধীন। তাঁহার স্বাধীনতার সঙ্গে এক হইয়াই আমার স্বাধীনতা, তাঁহার সঙ্গে যুক্ততাতেই আমি কৃ্তার্থ। বিযুক্ততায় অপদার্থ। কেশ মাথায় থাকিয়াই সুন্দর। বিচ্যুত হইলে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

শেষ কথাটুকু বলিবার সঙ্গে সঙ্গেই, সভাপতি ওয়েলার সাহেব হাততালি দিয়া উঠিলেন। আমি তাঁহার পাশে দাঁড়াইয়াই কথা বলিতেছিলাম। সভাপতির হাততালির সঙ্গে সঙ্গে সভাশুদ্ধ লোক সোল্লাসে হাততালি দিয়া উঠিল। সভান্তে প্রশ্নকর্ত্তা আমার করমর্দ্দন করিয়া কহিলেন-“আপনার সূক্ষ্ম বিচারে সুখী হইয়াছি। একটা সংশয় কাটিয়া কাটিয়া গিয়াছে।”
এর পর দেখুনঃ ধর্ম কি বিজ্ঞান ছাড়া ? ভোগবাদীদের কতিপয় যুক্তি!

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন