সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ- দেখতে- সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ক্লিক করুন-

শিক্ষাষ্টক এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকগুলো

শ্লোক:
চেতোদর্পণমার্জনং ভবমহাদাবাগ্নিনির্বাপণং
শ্রেয়ঃকৈরবচন্দ্রিকাবিতরণং বিদ্যাবধূজীবনম্ ।
আনন্দাম্বুধিবর্ধনং প্রতিপদং পূর্ণামৃতাস্বাদনং
সর্বাত্মস্নপনং পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণসঙ্কীর্তনম্ ।। (শিক্ষাষ্টক-১)
অনুবাদঃ-- চিত্তরূপ দর্পনের মার্জনকারী, ভবরূপ মহাদাবাগ্নি নির্বাপণকারী, জীবের মঙ্গলরূপ কৈরবচন্দ্রিকা বিতরণকারী, বিদ্যাবধূর জীবনস্বরূপ, আনন্দ-সমুদ্রের বর্ধনকারী, পদে পদে পূর্ণ অমৃত আস্বাদন-স্বরূপ এবং সর্ব স্বরূপের শীতলকারী শ্রীকৃষ্ণসঙ্কীর্তন বিশেষভাবে জয়যুক্ত হোন।
শ্লোক:
নয়নং গলদশ্রুধারয়া বদনং গদ্ গদরুদ্ধয়া গিরা ।
পুলকৈর্নিচিতং বপুঃ কদা তব নামগ্রহণে ভবিষ্যতি ।।
(শিক্ষাষ্টক-৬)
অনুবাদঃ-- হে প্রভু ! তোমার নাম গ্রহণে কবে আমার নয়নযুগল গলদশ্রুধারায় শোভিত হবে? বাক্য নিঃসরণ সময়ে বদনে গদ্ গদ স্বর বের হবে এবং আমরা সমস্ত শরীর পুলকাঞ্চিত হবে?
শ্লোক:
নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তি-
স্তত্রার্পিতা নিয়মিতঃ স্মরণে ন কালঃ ।
এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্মাপি
দুর্দৈবমীদৃশমিহাজনি নানুরাগঃ ।।
(শিক্ষাষ্টক -২)
অনুবাদঃ-- হে পরমেশ্বর ভগবান ! তোমার নামই জীবের সর্বমঙ্গল বিধান করেন, এই জন্য তোমার 'কৃষ্ণ', 'গোবিন্দ' আদি বহুবিধ নাম তুমি বিস্তার করেছ। সেই নামে তুমি তোমার সর্বশক্তি অর্পণ করেছ এবং সেই নাম স্মরণের স্থান-কাল-পাত্র আদির কোন রকম বিধি বা বিচার করনি। হে প্রভু ! জীবের প্রতি এভাবেই কৃপা করে তুমি তোমার নামকে সুলভ করেছ, তবুও আমার এমনই দুর্দৈব যে, সেই নাম গ্রহণ করার সময় আমি অপরাধ করি এবং তার ফলে তোমার সুলভ নামেও আমার অনুরাগ জন্মায় না।
শ্লোক:
তৃণাদপি সুনীচেন তরোরিব সহিষ্ণুনা ।
অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ ।।
(শিক্ষাষ্টক -৩)
অনুবাদঃ--যিনি নিজেকে সকলের পদদলিত তৃণের থেকেও ক্ষুদ্র বলে মনে করেন, যিনি বৃক্ষের মতো সহিষ্ণু, যিনি মান শূন্য এবং অন্য সকলকে সম্মান প্রদর্শন করেন, তিনি সর্বক্ষণ ভগবানের দিব্যনাম কীর্তনের অধিকারী।
শ্লোক:
অয়ি নন্দতনুজ কিঙ্করং
পতিতং মাং বিষমে ভবাম্বুধৌ ।
কৃপয়া তব পাদপঙ্কজ
স্থিতধূলীসদৃশং বিচিন্তয়ে ।।
(শিক্ষাষ্টক -৫)
ওহে নন্দনন্দন! আমি তোমার নিত্য কিঙ্কর (দাস) হয়েও স্বকর্মবিপাকে বিষম ভবসমুদ্রে পড়েছি। তুমি কৃপা করে আমাকে তোমার পাদপদ্মস্থিত-ধূলিসদৃশ রূপে চিন্তা কর।
শ্লোক:
ন ধনং ন জনং ন সুন্দরীং
কবিতাং বা জগদীশ কাময়ে ।
মম জন্মনি জন্মনীশ্বরে
ভবতাদ্ভক্তিরহৈতুকী ত্বয়ি ।।
(শিক্ষাষ্টক ৪)
অনুবাদঃ- হে জগদীশ ! আমি ধন, জন, সুন্দরী স্ত্রী অথবা সকাম কর্ম কামনা করি না। আমি কেবল এই কামনা করি যে, জন্ম-জন্মান্তরে যেন আমি তোমার প্রতি অহৈতুকী ভক্তি লাভ করতে পারি।
শ্লোক:
যুগায়িতং নিমেষেন চক্ষুষা প্রাবৃষায়িতম্ ।
শূন্যায়িতং জগৎ সর্বং গোবিন্দবিরহেণ মে।।
(শিক্ষাষ্টকম- ৭)
অনুবাদঃ- "হে গোবিন্দ! তোমার অদর্শনে আমার এক নিমেষকে এক যুগ বলে মনে হচ্ছে। চক্ষু থেকে বর্ষার ধারার মতো অশ্রুধারা ঝরে পড়ছে এবং সমস্ত জগৎ শূন্য বলে মনে হচ্ছে।"
শ্লোক:
আশ্লিষ্য বা পাদরতাং পিনষ্টু মা-
মদর্শনান্মর্মহতাং করোতু বা।
যথা তথা বা বিদধাতু লম্পটো
মৎ প্রাণনাথস্তু স এব নাপরঃ ।।
(শিক্ষাষ্টকম-৮)
অনুবাদঃ- এই পাদরতা দাসীকে কৃষ্ণ আলিঙ্গনপূর্বক পেষণ করুক অথবা দেখা না দিয়ে মর্মাহতই করুক, সেই লম্পট পুরুষ আমার প্রতি যেমনই আচরণ করুক না কেন, সে অন্য কেউ নয়, আমারই প্রাণনাথ।
(সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= ভক্তিরসামৃত সিন্ধু থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন