সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক



  • শ্লোক: 1

    ইদং ভাগবতং নাম পুরাণং ব্রহ্মসম্মিতম্ ।
    উত্তমশ্লোকচরিতং চকার ভগবানৃষিঃ ।।
    নিঃশ্রেয়সায় লোকস্য ধন্যং স্বস্ত্যয়নং মহৎ ।।
    (ভাগবত ১/৩/৪০)


  • অনুবাদঃ- এই শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের বাঙ্ময় বিগ্রহ এবং তা সংকলন করেছেন ভগবানের অবতার শ্রীল ব্যসদেব। তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্ত মানুষের পরম মঙ্গল সাধন করা এবং এটি সর্বতোভাবে সার্থক, পূর্ণ আনন্দময় এবং সর্বতোভাবে পরিপূর্ণ।


  • শ্লোক: 2

    অনর্থোপশমং সাক্ষাদ্ভক্তিযোগমধোক্ষজে ।
    লোকস্যাজানতো বিদ্বাংশ্চক্রে সাত্বতসংহিতাম্ ।।
    (ভাগবত ১/৭/৬)


  • অনুবাদঃ- জীবের জাগতিক দুঃখ-দুর্দশা, যা হচ্ছে তার কাছে অনর্থ, ভক্তিযোগের মাধ্যমে অচিরেই তার উপশম হয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ তা জানে না এবং তাই মহাজ্ঞানী ব্যাসদেব পরমতত্ত্ব সমন্বিত এই সাত্বত সংহিতা সংকলন করেছেন।


  • শ্লোক: 3

    ধর্মঃ স্বনুষ্ঠিতঃ পুংসাং বিষ্বকসেনকথাসু যঃ ।
    নোৎপাদয়েদযদি রতিং শ্রম এব হি কেবলম্ ।।
    (ভাগবত ১/২/৮)


  • অনুবাদঃ- মানুষের উত্তমরূপে অনুষ্ঠিত বর্ণাশ্রম-ধর্ম যদি কৃষ্ণকথায় রতি উৎপাদন না করে, তা হলে সেই ধর্মও শ্রম মাত্র।


  • শ্লোক: 4

    নিগমকল্পতরোর্গলিতং ফলং
    শুকমুখাদমৃতদ্রবসংযুতম্ ।
    পিবত ভাগবতং রসমালয়ং
    মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ ।।
    (ভাগবত ১/১/৩)


  • অনুবাদঃ- হে বিচক্ষণ এবং চিন্তাশীল মানুষ, কল্পবৃক্ষরূপী বৈদিক শাস্ত্রের অত্যন্ত সুপক্ব ফল শ্রীমদ্ভাগবত আস্বাদন করুন। তা শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছিল। তাই ফলটি আরও অধিক উপাদেয় হয়েছে, যদিও এই অমৃতময় রস মুক্ত পুরুষেরা পর্যন্ত আস্বাদন করে থাকেন।


  • শ্লোক: 5

    নষ্টপ্রায়েষ্বভদ্রেষু নিত্যং ভাগবতসেবয়া ।
    ভগবত্যুত্তমশ্লোকে ভক্তির্ভবতি নৈষ্ঠিকী ।।
    (ভাগবত ১/২/১৮)


  • অনুবাদঃ- নিয়মিতভাবে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করলে এবং ভগবানের শুদ্ধ ভক্তের সেবা করলে হৃদয়ের সমস্ত কলুষ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয় এবং তখন উত্তমশ্লোকের দ্বারা বন্দিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি প্রেমময়ী ভক্তি সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।


  • শ্লোক: 6

    তস্মাৎ সঙ্কীর্তনং বিষ্ণোর্জগন্মঙ্গলমংহসাম্।
    মহতামপি কৌরব্য বিদ্ধ্যৈকান্তিকনিষ্কৃতম্।।
    (ভাগবত ৬/৩/৩১)


  • অনুবাদঃ-- হে কুরুরাজ, হরিনাম সংকীর্তন এমন কি মহাপাপের ফলকেও নির্মূল করতে পারে। তাই হরিনাম সংকীর্তনই হচ্ছে জগতের সবচেয়ে মঙ্গলময় অনুষ্ঠান। অনুগ্রহ করে তা হৃদয়ঙ্গম করুন যাতে অন্যেরাও তা নিষ্ঠাভরে গ্রহণ করে।


  • শ্লোক: 7

    ধর্মস্য হ্যাপবর্গ্যস্য নার্থোহর্থায়োপকল্পতে ।
    নার্থস্য ধর্মৈকান্তস্য কামো লাভায় হি স্মৃতঃ ।। (ভাগবত ১/২/৯)


  • অনুবাদঃ-- সমস্ত ধর্মের উদ্দেশ্যই হচ্ছে চরম মুক্তি লাভ করা। তা কখনও জড় বিষয় লাভের আশায় অনুষ্ঠান করা উচিত নয় । অধিকন্তু, তত্ত্বদ্রষ্টা মহর্ষিরা নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে, যাঁরা পরম ধর্ম অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন, তাঁরা যেন কখনই ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের উদ্দেশ্যে জড়-জাগতিক লাভের প্রত্যাশী না হন। (সূত গোস্বামী)


  • শ্লোক: 8

    নৈষাং মতিস্তাবদুরুক্রমাঙ্ঘ্রিং
    স্পৃশত্যনর্থাপগমো যদর্থঃ ।
    মহীয়সাং পাদরজোহভিষেকং
    নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ ।।
    (ভাগবত ৭/৫/৩২)


  • অনুবাদঃ- মানুষের মতি যতক্ষণ নিষ্কিঞ্চন ভগবদ্ভক্তদের শ্রীপাদপদ্মের ধূলির দ্বারা অভিসিক্ত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা অনর্থ নাশক কৃষ্ণ-পাদপদ্ম স্পর্শ করতে পারে না। (প্রহ্লাদ মহারাজ)


  • শ্লোক: 9

    সতাং প্রসঙ্গান্মম বীর্যসংবিদো
    ভবন্তি হৃৎকর্ণরসায়নাঃ কথাঃ।
    তজ্জোষণাদাশ্বপবর্গবর্ত্মনি
    শ্রদ্ধা রতির্ভক্তিরনুক্রমিষ্যতি।।
    (ভাগবত ৩/২৫/২৫)


  • অনুবাদঃ- পারমার্থিক মহিমামণ্ডিত ভগবানের কথা ভক্তসঙ্গেই কেবল যথাযথভাবে আলোচনা করা যায় এবং সেই কথা শ্রবণে হৃদয় ও শ্রবণেন্দ্রিয় তৃপ্ত হয়। ভক্তসঙ্গে সেই বাণী প্রীতিপূর্বক শ্রবণ করতে করতে শীঘ্র মুক্তির বর্ত্মস্বরূপ আমার প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা, পরে রতি এবং অবশেষে প্রেমভক্তি ক্রমে ক্রমে উদিত হয়।


  • শ্লোক: 10

    তুলয়াম লবেনাপি ন স্বর্গং নাপুনর্ভবম্ ।
    ভগবৎসঙ্গিসঙ্গস্য মর্ত্যানাং কিমুতাশিষঃ ।।
    (ভাগবত ১/১৮/১৩)


  • অনুবাদঃ- ভগবৎ সঙ্গীর নিমেষ মাত্র সঙ্গ দ্বারা জীবের যে অসীম মঙ্গল সাধিত হয়, তার সঙ্গে স্বর্গসুখ ভোগের বা মুক্তি লাভের কিছুমাত্র তুলনা করা যায় না, তখন মরণশীল মানুষের জাগতিক সমৃদ্ধির কথা আর কি বলার আছে ।


  • শ্লোক: 11

    বিপদঃ সন্তু তাঃ শশ্বত্তত্র তত্র জগদ্ গুরুো ।
    ভবতো দর্শনং যৎ স্যাদপুনর্ভবদর্শনম্ ।।
    (ভাগবত ১/৮/২৫)


  • অনুবাদঃ- হে জগদীশ্বর ! আমি কামনা করি যেন সেই সমস্ত সঙ্কট বারে বারে উপস্থিত হয়, যাতে বারে বারে আমরা তোমাকে দর্শন করতে পারি। কারণ, তোমাকে দর্শন করলেই আমাদের আর জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে না বা এই সংসার চক্র দর্শন করতে হবে না। (শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কুন্তীদেবী)


  • শ্লোক: 12

    তিতিক্ষবঃ কারুণিকাঃ সুহৃদঃ সর্বদেহিনাম্ ।
    অজাতশত্রবঃ শান্তাঃ সাধবঃ সাধুভূষণাঃ ।।
    (ভাগবত ৩/২৫/২১)


  • অনুবাদঃ- ভগবদ্ভক্ত সর্বদাই সহিষ্ণু, অত্যন্ত কৃপা পরায়ণ, সর্বজীবের সুহৃদ, শাস্ত্রানুগ, অজাতশত্রু, শান্ত - এই সকল গুণাবলী সাধুর ভূষণস্বরূপ।


  • শ্লোক: 13

    যৎপাদসংশ্রয়াঃ সূত মুনয়ঃ প্রশমায়নাঃ ।
    সদ্যঃ পুনন্ত্ত্যপস্পৃষ্টাঃ স্বর্ধুন্যাপহনুসেবয়া ।।
    (ভাগবত ১/১/১৫)


  • অনুবাদঃ- হে সূত গোস্বামী ! যে সমস্ত মহর্ষিরা সর্বতোভাবে পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সঙ্গ প্রভাবে অর্থাৎ দর্শন মাত্রই জীব পবিত্র হয়, কিন্তু সুরধনী গঙ্গার জল সাক্ষাৎ সেবা অর্থাৎ স্পর্শন, অবগাহন আদি করার পরেই কেবল মানুষকে পবিত্র করে।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.