সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

Krishna vs Arjun @ Gita






Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact
    0183 45 45 989


















  • Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact
    0183 45 45 989
  • শ্রীমদ্ভাগবত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক


  • শ্লোক:

    বাসুদেবে ভগবতি ভক্তিযোগঃ প্রয়োজিতঃ ।
    জনয়ত্যাশু বৈরাগ্যং জ্ঞানং চ যদহৈতুকম্ ।।
    (ভাগবত ১/২/৭)


  • অনুবাদঃ- ভক্তি সহকারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা হলে অচিরেই শুদ্ধ জ্ঞানের উদয় হয় এবং জড়-জাগতিক বিষয়ের প্রতি অনাসক্তি আসে ।


  • শ্লোক:

    ভক্তিঃ পরেশানুভবো বিরক্তি-
    রন্যত্র চৈষ ত্রিক এককালঃ ।
    প্রপদ্যমানস্য যথাশ্নতঃ স্যু
    স্ত্তষ্টিঃ পুষ্টিঃ ক্ষুদপায়োহনুঘাসম্ ।।
    (ভাগবত ১১/২/৪২)


  • অনুবাদঃ- আহার গ্রহণে নিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি গ্রাস অন্ন গ্রহণে যেমন তুষ্টি, পুষ্টি ও ক্ষুন্নিবৃত্তি যুগপৎ ও বর্ধনশীলভাবে লাভ হয়, তেমনই যিনি পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীচরণে প্রপত্তি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রেও ভক্তি, পরমেশ্বর ভগবানের প্রত্যক্ষ অনুভব এবং কৃষ্ণেতর বিষয়ে বিরক্তি- এই তিনটি ফল যুগপৎ লাভ হয়ে থাকে।


  • শ্লোক:

    তস্মাদ্ভারত সর্বাত্মা ভগবানীশ্বরো হরিঃ ।
    শ্রোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ স্মর্তব্যশ্চেচ্ছতাভয়ম্ ।।
    (ভাগবত ২/১/৫)


  • অনুবাদঃ- হে ভারত! সমস্ত দুঃখ-দুঃর্দশা থেকে যে মুক্ত হওয়ার বাসনা করে, তাকে অবশ্যই পরমাত্মা, পরম নিয়ন্তা এবং সমস্ত দুঃখ হরণকারী পরমেশ্বর ভগবানের কথা শ্রবণ, কীর্তন ও স্মরণ করতে হবে।


  • শ্লোক:

    স বৈ মনঃ কৃষ্ণপদারবিন্দয়ো-
    র্বচাংসি বৈকুণ্ঠগুণানুবর্ণনে ।
    করৌ হরের্মন্দিরমার্জনাদিষু
    শ্রুতিং চকারাচ্যুতসৎকথোদয়ে ।।
    (ভাগবত ৯/৪/১৮)


  • অনুবাদঃ- মহারাজ অম্বরীষ সর্বদা তাঁর মনকে কৃষ্ণের পাদপদ্মে, তাঁর বাক্যকে পরমেশ্বর ভগবানের গুণ বর্ণনায়, তাঁর হস্তাদি হরিমন্দির মার্জনাদিতে, তাঁর কর্ণকে কৃষ্ণকথা শ্রবণে নিযুক্ত করেছিলেন।


  • শ্লোক:

    মুকুন্দলিঙ্গালয়দর্শনে দৃশৌ
    তদ্ভৃত্যগাত্রস্পর্শেহঙ্গসঙ্গমম্ ।
    ঘ্রাণং চ তৎপাদসরোজসৌরভে
    শ্রীমত্তুলস্যা রসনাং তদর্পিতে ।।
    (ভাগবত ৯/৪/১৯)


  • অনুবাদঃ- তিনি (মহারাজ অম্বরীষ) তাঁর চক্ষুদ্বয়কে মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ দর্শনে, তাঁর স্পর্শেন্দ্রিয় বৈষ্ণবদের শ্রীপাদপদ্মে স্পর্শ এবং আলিঙ্গন করায়, তাঁর ঘ্রাণেন্দ্রিয় শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে নিবেদিত তুলসীর ঘ্রাণ গ্রহণে, তাঁর জিহ্বাকে শ্রীকৃষ্ণে নিবেদিত প্রসাদ আস্বাদনে নিযুক্ত করেছিলেন ।


  • শ্লোক:

    পাদৌ হরেঃ ক্ষেত্রপদানুসর্পণে
    শিরো হৃষীকেশপদাভিবন্দনে ।
    কামং চ দাস্যে ন তু কামকাম্যয়া
    যথোত্তমশ্লোকজনাশ্রয়া রতিঃ ।।
    (ভাগবত ৯/৪/২০)


  • অনুবাদঃ- তিনি (মহারাজ অম্বরীষ) তাঁর পদদ্বয়কে ভগবানের লীলাভূমি বৃন্দাবন, মথুরা আদি তীর্থে অথবা ভগবানের মন্দিরে গমনে, তাঁর মস্তককে ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে প্রণতি নিবেদনে এবং কামরহিত দাস্যে কাম এমনভাবে নিযুক্ত করেছিলেন যে, তাঁর হৃদয়ে শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তি জাগ্রত হয়েছিল।


  • শ্লোক:

    স বৈ পুংসাং পরো ধর্মো যতো ভক্তিরধোক্ষজে ।
    অহৈতুক্যপ্রতিহতা যয়াত্মা সুপ্রসীদতি।।
    (ভাগবত ১/২/৬)


  • অনুবাদঃ- সমস্ত মানুষের পরম ধর্ম হচ্ছে সেই ধর্ম যার দ্বারা ইন্দ্রিয়জাত জ্ঞানের অতীত শ্রীকৃষ্ণে অহৈতুকী ও অপ্রতিহতা ভক্তি লাভ কারা যায়। সেই ভক্তি-বলে অনর্থ নিবৃত্তি হয়ে আত্মা যথার্থ প্রসন্নতা লাভ করে।


  • শ্লোক:

    শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্ ।
    অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্ ।।
    ইতি পুংসার্পিতা বিষ্ণৌ ভক্তিশ্চেন্নবলক্ষণা ।
    ক্রিয়েত ভগবত্যদ্ধা তন্মন্যেহধীতমুত্তমম্ ।।
    (ভাগবত ৭/৫/২৩-২৪)


  • অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণের শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, পাদসেবন, অর্চন, বন্দন, দাস্য, সখ্য, আত্মনিবেদন- এই নব লক্ষণ-সম্পন্ন ভক্তি শ্রীকৃষ্ণে অর্পিত হয়ে সাধিত হলে সর্বসিদ্ধি লাভ হয়। এটিই শাস্ত্রের নির্দেশ।


  • শ্লোক:

    গুরুর্ন স স্যাৎ স্বজনো ন স স্যাৎ
    পিতা ন স স্যাজ্জননী ন সা স্যাৎ ।
    দৈবং ন তৎস্যান্ন পতিশ্চ স স্যা-
    ন্ন মোচয়েদ্ যঃ সমুপেতমৃত্যুম্ ।।
    (ভাগবত ৫/৫/১৮)


  • অনুবাদঃ- যিনি তাঁর আশ্রিত জনকে সমুপস্থিত মৃত্যুরূপ সংসার মার্গ থেকে উদ্ধার করতে না পারেন, তাঁর গুরু, পিতা, পতি, জননী অথবা পূজ্য দেবতা হওয়া উচিত নয়।


  • শ্লোক:

    ন তে বিদুঃ স্বার্থগতিং হি বিষ্ণুং
    দুরাশয়া যে বহিরর্থমানিনঃ ।
    অন্ধাঃ যথান্ধৈরুপনীয়মানা-
    স্তেহপীশতন্ত্র্যামুরুদাম্নি বদ্ধাঃ ।।
    (ভাগবত ৭/৫/৩১)


  • অনুবাদঃ- যারা জড় জগৎকে ভোগ করার বাসনার দ্বারা আবদ্ধ এবং তাই যারা তাদেরই মত বিষয়াসক্ত অন্ধ ব্যক্তিকে তাদের নেতা বা গুরুরূপে বরণ করেছে, তারা বুঝতে পারে না যে, জীবনের প্রকৃ্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবৎ-ধামে ফিরে যাওয়া এবং ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সেবায় যুক্ত হওয়া। অন্ধের দ্বারা পরিচালিত হয়ে অন্ধরা যেমন প্রকৃ্ত পথের সন্ধান না জেনে অন্ধকূপে পতিত হয়, তেমনই জড় বিষয়াসক্ত ব্যক্তিরা অন্য বিষয়াসক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে সকাম কর্মরূপ অত্যন্ত দৃঢ় রজ্জুর বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সংসারচক্রে বারবার আবর্তিত হয়ে ত্রিতাপ দুঃখ ভোগ করতে থাকে।


  • শ্লোক:

    অশিতিং চতুরশ্চৈব লক্ষাংস্তাঞ্জীব জাতিষু
    ভমদ্ভিঃ পুরুষৈঃ প্রাপ্যং মানুষ্যং জন্মপর্যায়াৎ ।
    তদপ্যভলতাং জাতঃ তেষামাত্মাভিমানিনাম্
    বরাকাণামনাশ্রিত্য গোবিন্দচরণদ্বয়ম্ ।।
    (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ)


  • অনুবাদঃ- ক্রমবিকাশের ক্রমিক পর্যায়ে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করার পর জীব মনুষ্য-দেহ লাভ করে। এত দুর্লভ এই মনুষ্য জন্ম পেয়েও গণ্ডমূর্খ ব্যক্তিরা শ্রীগোবিন্দের চরণকমল যুগলের আশ্রয় গ্রহণ না করে তা হেলায় নষ্ট করে।


  • শ্লোক:

    লব্ধা সুদুর্লভমিদং বহুসম্ভবান্তে
    মানুষ্যমর্থদমনিত্যমপীহ ধীরঃ ।
    তূর্ণং যতেত ন পতেদনুমৃত্যু যাব-
    ন্নিঃশ্রেয়সায় বিষয়ঃ খলু সর্বতঃ স্যাৎ ।।
    (ভাগবত ১১/৯/২৯)


  • অনুবাদঃ- বহু জন্ম-মৃত্যুর পর জীব এই মনুষ্যদেহ লাভ করে, যা অনিত্য হওয়া সত্ত্বেও জীবকে পূর্ণসিদ্ধি লাভের সুযোগ প্রদান করে। অতএব ধীর ব্যক্তির কর্তব্য হচ্ছে অবিলম্বে এই পূর্ণসিদ্ধি লাভের জন্য প্রযত্ন করা এবং কখনই জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পতিত হওয়া উচিত নয়। ইন্দ্রিয় ভোগের বিষয় তো জঘন্যতম প্রজাতিদের মধ্যেও সুলভ, পক্ষান্তরে কৃষ্ণভাবনামৃত শুধু মানব-জীবনেই লাভ করা সম্ভব।


  • শ্লোক:

    নৃ্দেহমাদ্যং সুলভং সুদুর্লভং
    প্লবং সুকল্পং শুরুকর্ণধারম্ ।
    ময়ানুকূলেন নভস্বতেরিতং
    পুমান্ ভবাব্ধিং ন তরেৎ স আত্মহা।।
    (ভাগবত ১১/২০/১৭)


  • অনুবাদঃ- সমস্ত প্রকার সুফলের মূলস্বরূপ সুদুর্লভ এই মনুষ্যজন্ম প্রকৃ্তির নিয়মে সুলভে লাভ করা যায়। এই মনুষ্যদেহ এক সুপরিকল্পিত নৌকার মতো, গুরুদেব হচ্ছেন সুদক্ষ কর্ণধার এবং পরমেশ্বরের বাণী হচ্ছে অনুকূল বায়ু। এত সুযোগ সত্ত্বেও যে মানুষ এই মনুষ্য-জন্মের সদ্ব্যবহার করে না সে আত্মঘাতী।


  • শ্লোক:

    কামস্য নেন্দ্রিয়প্রীতির্লাভো জীবেত যাবতা ।
    জীবস্য তত্ত্বজিজ্ঞাসা নার্থো যশ্চেহ কর্মভিঃ ।।
    (ভাগবত ১/২/১০)


  • অনুবাদঃ- ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকে কখনই জীবনের উদ্দেশ্য বলে গ্রহণ করা উচিত নয়। সুস্থ জীবন যাপন করা অথবা আত্মাকে নির্মল রাখার বাসনাই কেবল করা উচিত, কেন না মানব-জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমতত্ত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কর্ম করা উচিত নয়।


  • শ্লোক:

    প্রায়েণাল্পায়ুষঃ সভ্য কলাবস্মিন্ যুগে জনাঃ ।
    মন্দাঃ সুমন্দমতয়ো মন্দভাগ্যা হ্যুপদ্রুতাঃ ।।
    (ভাগবত ১/১/১০)


  • অনুবাদঃ- হে মহাজ্ঞানী! এই কলিযুগের মানুষেরা প্রায় সকলেই অল্পায়ু। তারা কলহপ্রিয়, অলস, মন্দ মতি, ভাগ্যহীন এবং সর্বোপরি তারা নিরন্তর রোগাদির দ্বারা উপদ্রুত।


  • শ্লোক:

    ততশ্চানুদিনং ধর্মং সত্যং শৌচ্যং ক্ষমা দয়া।
    কালেন বলিনা রাজন্নঙ্ক্ষ্যত্যায়ুর্বলং স্মৃতিঃ ।।
    (ভাগবত ১২/২/১)


  • অনুবাদঃ- হে রাজন্ ! তারপর কলির প্রবল প্রভাবে দিনে দিনে ধর্ম, সত্য, শুচিতা, সহিষ্ণুতা, দয়া, আয়ু, দৈহিক বল ও স্মৃতি ক্রমে ক্রমে হ্রাস পাবে।


  • শ্লোক:

    বিত্তমেব কলৌ নৃণাং জন্মাচারগুণোদয়ঃ ।
    ধর্মন্যায়ব্যবস্থায়াং কারণং বলমেব হি।।
    (ভাগবত ১২/২/২)


  • অনুবাদঃ- কলিযুগে শুধুমাত্র বিত্তকেই মানুষদের বংশাভিজাত্য, সদাচার ও সদগুণাবলীর লক্ষণ বলে গণ্য করা হবে। শুধুমাত্র ক্ষমতার ভিত্তিতেই ধর্ম ও ন্যায় প্রযুক্ত হবে।


  • শ্লোক:

    দাম্পত্যেহভিরুচির্হেতুর্মায়ৈব ব্যাবহারিকে।
    স্ত্রীত্বে পুংস্ত্বে চ হি রতির্বিপ্রত্বে সূত্রমেব হি।।
    (ভাগবত ১২/২/৩)


  • অনুবাদঃ- নারী ও পুরুষ শুধুমাত্র বাহ্য আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে একত্রে বসবাস করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্য নির্ভর করবে প্রতারণার উপর । যৌন দক্ষতার ভিত্তিতেই পুরুষত্ব ও নারীত্বের বিচার হবে এবং শুধুমাত্র পৈতা ধারণের মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ বলে পরিচিতি লাভ করবেন ।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন এবং দয়াময়ের আশীর্বাদ লাভ করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.