মানুষের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আকৃতির যতুক, তিল ইত্যাদি থাকে। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী এর বিভিন্ন অর্থ নির্দেশ করে। এরকমই কিছু তিলতত্ত্ব ও যতুকতত্ত্ব নিম্নে দেওয়া হল। এছাড়া মানুষের শরীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে কম্পন বা স্পন্দন হয়, এরও কিছু ব্যাখ্যা আছে জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী। নিম্নে এগুলো দেওয়া হল। এছাড়াও দেখতে পারেন সুদর্শন ডাইরেক্টরী পঞ্জিকা অনুসারে স্বপ্নের ফলাফল।

তিলতত্ত্ব , শরীরের কোন স্থানে তিল থাকলে কি নির্দেশ করে

ললাটের দক্ষিণপার্শ্বে নাসার উপরে তিল থাকলে দৈবধন ও যশোলাভের সম্ভাবনা। নেত্রের নিম্নে তিল অধ্যবসায়ীর চিহ্ন।
গণ্ডস্থলে তিল থাকলে কখনই ধনশালী হয় না। নিম্ন ও ওপর ওষ্ঠের তিল বিলাসিতা ও প্রেমিকের চিহ্ন।
কণ্ঠের তিল বিবাহ দ্বারা ধনলাভ প্রকাশ করে। বক্ষস্থ তিল সুস্থদেহ ও ভাগ্যের পরিচায়ক।
দক্ষিণপঞ্জরস্থ তিল হীনবুদ্ধির চিহ্ন। উদরের তিল পেটুক অর্থপর ও পরিচ্ছদ-প্রিয়তার চিহ্ন।
হৃদয়ের বিপরীত দিকস্থ তিল নৃশংতার চিহ্ন। দক্ষিণবাহুস্থ তিল দৃঢ়দেহ ও ধৈর্যশীলতার চিহ্ন।
কণ্ঠস্থ তিল ধৈর্যশীলতা, বিশ্বাস ও ভক্তিমানের চিহ্ন। ভ্রূ-নিম্নস্থ তিল জীবনব্যাপী দুঃখ দারিদ্রের পরিচায়ক।
ললাটের বামপার্শ্বের তিল (কেশের নিকট) দুঃখ ও অসচ্চরিত্রতার চিহ্ন। ললাটের বামপার্শ্বস্থ তিল অপব্যয়, নিন্দা ও অখ্যাতি ঘোষণা করে।
নাসিকার ডান পার্শ্বের (চক্ষুর দিকের) তিল দীর্ঘজীবি, ধনবান ও অধ্যবসায়ীর চিহ্ন। নাসিকার বামপার্শ্বের তিল নির্ধনী, অপব্যয়ী ও মূর্খের পরিচায়ক।
বক্ষস্থলের মধ্যম সরোম তিল বিদ্বান ও কবিত্বশক্তির চিহ্ন। দক্ষিণপদের তিল জ্ঞানের পরিচায়ক।
বামগণ্ডের তিল দাম্পত্য-প্রেমে সুখী ও অসৌভাগ্যের চিহ্ন। কর্ণমধ্যস্থ তিল ভাগ্য ও যশের চিহ্ন।
[জার্মান জ্যোতিষ (Cabinet of Curiosities) হতে গৃহীত।]

যতুকতত্ত্ব (সুব্রহ্মণ্য হতে, শরীরের কোন স্থানে যতুক থাকলে কি নির্দেশ করে

মুখের বামভাগে যতুক থাকলে- সুখী ও ধীর। দক্ষিণভাগে যতুক থাকলে - সম্মান ও রাজবৎ সুখী।
বাম হস্তের কনুয়ের ওপর যতুক থাকলে - দুঃখী। কনুয়ের নিচে যতুক থাকলে - অতিভাষী।
দক্ষিণহস্তের কনুয়ের উপর যতুক থাকলে - নিন্দিত চরিত্র। কনুয়ের নিচে যতুক থাকলে -কামুক।
বামবক্ষে যতুক থাকলে - পরধনলাভে গর্বিত। দক্ষিণবক্ষে যতুক থাকলে - মূর্খ ও পাপী।
নেত্রে যতুক থাকলে - দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন, বুদ্ধিমান ও দাতা। করতলে যতুক থাকলে - অঋণী ও অপ্রবাসী।
পদতলে যতুক থাকলে - ধননাশকারী ও অর্ধমূর্খ। গুহ্যে যতুক থাকলে - পীড়িত ও অসুখী।
জননেন্দ্রিয়ে যতুক থাকলে - কামুক ও নিন্দিত চরিত্র। উরুতে যতুক থাকলে - নষ্টচরিত্র ও পরদার লোভী।
বামপাদমূলে যতুক থাকলে - অজ্ঞ ও অশিক্ষিত। দক্ষিণপাদমূলে যতুক থাকলে - ভ্রমণশীল।
কর্ণে যতুক থাকলে - শ্রুতিধর ও সুভাষী। কটিদেশ যতুক থাকলে - দৈহিক পীড়ায় কাতর ও সর্বদা অসুখী।
নিতম্বে যতুক থাকলে - অস্বাভাবিক অভিগমনপ্রিয়। পৃষ্ঠে যতুক থাকলে - দাতা, ধীর ও শান্ত।
জানুতে যতুক থাকলে - বলিষ্ঠ, ভোক্তা ও পরোপকারী।

কম্পন বৃত্তান্ত , শরীরের কোন স্থান কম্পনে কি নির্দেশ করে

মাথায় কম্পন বা স্পন্দনে – রাজদ্বারে সম্মান লাভের ইঙ্গিত । ললাটে কম্পন বা স্পন্দনে – ঐশ্বর্যলাভ।
ডান চক্ষুতে কম্পন বা স্পন্দনে – বন্ধুদর্শন। ডান চক্ষুর নিম্নদেশে কম্পন বা স্পন্দনে – পীড়া।
বাম চক্ষুতে কম্পন বা স্পন্দনে – অর্থহানী, রাজভয় অথবা কলহ। বাম চক্ষুর উর্ধবদেশ স্পন্দনে – অর্থলাভ।
উভয় চক্ষু কম্পনে – পীড়া। নাসিকায় কম্পন বা স্পন্দনে – পীড়া বা মৃত্যু।
ডান নাসায় কম্পন বা স্পন্দনে – গাত্রপীড়া। বাম নাসায় কম্পন বা স্পন্দনে – মৃত্যু সংবাদ।
ওষ্ঠে কম্পন বা স্পন্দনে – বেদনা। জিহ্বায় ও তালুতে কম্পন বা স্পন্দনে – লাভ।
ডান কানে কম্পন বা স্পন্দনে – কুটুম্ব, বিদ্যা অথবা স্ত্রীলাভ। বাম কানে কম্পন বা স্পন্দনে – শিরোশ্ছেদনের আশঙ্কা।
উভয় কর্ণ স্পন্দনে – অর্থলাভ। দক্ষিণ স্কন্ধে কম্পন বা স্পন্দনে – স্বর্ণলাভ।
বামস্কন্ধে কম্পন বা স্পন্দনে – অর্থাগম। উভয় স্কন্ধের স্পন্দনে – শিরোশ্ছেদ ভয়।
দক্ষিণ হস্তে কম্পন বা স্পন্দনে – বলবৃদ্ধি। বাম হাত স্পন্দনে – কলহ।
ডান পায়ে কম্পন বা স্পন্দনে – প্রবাসী। বাম পায়ে কম্পন বা স্পন্দনে – সুখ।
উদরে কম্পন বা স্পন্দনে – পুত্রলাভ।

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন