স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -


হৃদয়- বাঃ বেশ আশ্চর্য এবং অভিনব উদ্যোগ বলে মনে হচ্ছে। আচ্ছা এধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলস্বরূপ তোমরা ঠিক কি কি বিষয়ে উপকৃত হয়েছ বলে মনে হচ্ছে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ খুব ভাল প্রশ্ন করলে। দেখ হৃদয়, বিশেষ কিছু বলার মত না থাকলেও একটা বিষয় অবশ্যই আছে, আর তা হল- যারা শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে- তাঁদের অন্ততঃ চাকুরীর জন্য বসে থাকতে হয় না। দীর্ঘদিন পেশাগত প্রশিক্ষণ নেয়ার কারনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর যথেস্ট দক্ষ হয়ে ওঠে- যার ফলে তাঁরা তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্হা যেমন করে থাকে; পাশাপাশি অন্যান্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারে। তাছাড়া এধরনের শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে আমাদের দেশে সমস্ত শিক্ষিত জনগণ এখন আর শিক্ষিত বেকার বা রাষ্ট্রের বোঝা বলে পরিগণিত না হয়ে রাষ্ট্রের দক্ষ জনসম্পদ হিসাবেই আখ্যায়িত হয়। এবং আমাদের দেশের সরকার নিজ উদ্যোগে সেই দক্ষ জনসম্পদ বহির্বিশ্বে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।


হৃদয়- বাঃ সত্যিই যদি আমাদের দেশেও এমনটি হতো- তাহলে চাকুরী বা কর্মসংস্থানের জন্য আর কাউকে বসে থাকতে হতো না!


স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়- আমাদের দেশে আরও একটি বিষয়কে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, আর তা হলো- সকলেই মেধাসম্পন্ন না হতে পারে কিন্তু প্রত্যেকের ভিতরে কোন না কোন বিশেষ দিক অবশ্যই খুবই শক্তিশালী; তাই সকলকেই মেধা খাটিয়ে চাকুরীই করতে হবে এমন কোন প্রয়োজন নেই বা সরকার সেটাকে উৎসাহ দেয় না। যে কারণে প্রথম থেকেই যার যার ইচ্ছা, পছন্দ বা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের পেশাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই যেকেউ তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা, সংগীত চর্চা ইত্যাদি বিষয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়; এবং সে অনুযায়ী তাদের দক্ষতার বিকাশ ঘটানোর জন্য- তাঁরা যেমন চেষ্টা করে থাকে, তেমনি বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই তাঁদেরকে সেব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে থাকে। পাশাপাশি রাষ্ট্রও তাঁদেরকে সেভাবেই সহযোগিতা করে থাকে যাতে তাঁদের দক্ষতা রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সত্যি বলতে কি- একটা সময় পরে দেখা যায় সেটিই তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে; পাশাপাশি ভাল কিছু করতে পারলে সেটি রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধিতেও সাহায্য করছে।


হৃদয়- বাঃ খুবই আশার কথা শোনালে ! [হৃদয় মনে মনে ভাবে- সত্যিই তো, সবাই যদি তত্বগত পড়ালেখা শিখে চাকুরীর জন্যই কেবল চেষ্টা করে তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে তো ঘুরে বেড়াতেই হবে; কিন্তু এধরণের ব্যবস্থায় প্রত্যেকের যোগ্যতা অনুযায়ী পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েই সে বেড়ে উঠছে- যার ফলে তাঁর চাকুরীর জন্য ঘুরে বেড়াবার দরকারই পড়বে না; তাছাড়া সকলেই যদি চাকুরীর পিছনেই কেবল ঘোরে তাহলে দেশের নাম বহির্বিশ্বে পরিচিত করানোর মত নামকরা খেলোয়াড়, সংগীত শিল্পী ইত্যাদি গড়ে উঠবে কিভাবে?] আচ্ছা এবার কোনটা শোনাবে?


স্বপ্নিল- হ্যাঁ এবার দ্বিতীয় কৌশলের কথাই বলছি, আমাদের দেশে প্রায়ই সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে বিভিন্ন সময় তথা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিনে খুবই উৎসাহ এবং আড়ম্বরের সাথে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো খুদে বিজ্ঞানীদের তথা সেই সমস্ত মানুষদের যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করতে পছন্দ করে- তাঁদেরকে উৎসাহ দেওয়া, সকলের সাথে পরিচিত করানো, তাঁদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা যাতে তাঁরা নতুন কিছু আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এতে দেখা যায় অনেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন ধারণা বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করে নতুন কিছু উদ্ভাবনের উৎসাহ পায়। সেই সাথে যদি কোন আইডিয়া বা উদ্ভাবন সবার নিকট জনপ্রিয় হয়ে যায়, তখন তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে সরকার তথা বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীও এগিয়ে আসে। এবং তখন সেগুলো যেমন আমরা স্বল্প মূল্যে ব্যবহার করতে পারি পাশাপাশি রপ্তানী করেও বহির্বিশ্ব থেকে বেশ ভালো একটা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।

পৃষ্ঠা নং- ৪১ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।