স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -

হৃদয়- “মুদ্রা” পুনরায় দেখ-


“মুদ্রা”

ওহে মুদ্রা, আমাদের-এ ছোট্ট কুড়েঘরে-
তোমাদের কী এতটুকু সময়ও থাকতে ইচ্ছে হয়না?
অথচ ব্রিফকেসে, লোহার সিন্ধুকে বা আলমারি দেরাজে-
চাপাচাপি করেও থাকতে তোমাদের কোন আপত্তি নেই?
না-কী তোমারা গরু, মহিষ আর মাছের ঝাঁকের মত-
দলবেঁধে, ঝাকবেঁধে থাকতে ভালবাস?
আর তাইতো কখনও বা ভুলকরে- দু’একটা আমাদের কাছে এলেও-
বেশিক্ষণ থাকাটা তোমাদের- ‘ডাঙ্গায় তোলা মীনের মত’লাগে !
আর তাইতো- শশব্যস্ত হয়ে; আমাদেরকে নিয়ে যাও-
মুদীর দোকান, ডাক্তারখানা বা অন্যের নিকট- ধার শোধ করাতে।

অথচ তোমারই পাওয়ার আশায়; বহুফোটা ঘাম আর তাগাদায়-
জীবনটা দুর্বিসহ মনে হয়;
কেউ কেউ ক্ষোভে, দুঃখে ভিন্ন পথ বেছে নেয়।

কারণ শুধু তোমারই জন্য, হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য-
আজ- কারো চিকিৎসা হচ্ছে না;
কারো ঠাঁই হচ্ছে গাছতলা, রেলস্টেশন, বস্তি আর ফুটপাতে;
আবার তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে- কেউবা দশতলায় পার্টিতে করছে ফূর্তি।
হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য- কারও বা অর্ধ্যেক পথেই পড়ালেখা বন্ধ হতে চলেছে।

আচ্ছা, তোমরা কি ভেঙে-চুরে আসতে পারোনা আমাদের কাছে-
যারা তোমায় পাওয়ার আশায় প্রহর গোনে;
যারা মাথার ঘামে সিক্ত করে মাটি,
কেউবা পড়াতে যেয়ে ঘন ঘন দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে?


কিন্তু না, তোমরা তা করতেই পারো না; কারণ-
তোমরা তো নিজেরাই খারাপ, আর তাই-
অন্যায়ভাবে যারা তোমাদেরকে সংগ্রহ করে-
তাদের কাছেই থাকতে তোমাদের বেশি পছন্দ।


স্বপ্নিল- বাঃ! বেশ ভালইতো লিখেছ বন্ধু।
হৃদয়- ধন্যবাদ, তবে এছাড়াও কঠিন বাস্তবতা আছে যা সর্বসাধারণকে প্রায়শই পোহাতে হয়, যেমন-

প্রথমতঃ জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম, দুর্ণীতি, বা প্রতারণার শিকার হতে হয় প্রায়শই।

দ্বিতীয়তঃ বিরোধী রাজনৈতিক দল যখন হরতাল আহ্বান করে- তখন একযোগে শুরু হয় সারাদেশব্যাপী জ্বালাও, পোড়াও, গাড়ী ভাঙ্গচুর, অগ্নিসংযোগ, ইত্যাদি;

অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে দমন, পীড়ন, গ্রেফতার, মামলা- এককথায় দেশব্যাপী অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়; ফলশ্রুতিতে দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি তো হয়ই, সাথে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

এছাড়াও জবর দখল, টেন্ডারবাজী, সিন্ডিকেটের কুপ্রভাব, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, হত্যা প্রভৃতির খবর তো প্রায়শই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে এতকিছুর পরেও এধরনের সংস্কৃতি বা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নেই কোন দৃশ্যমান কার্যকরী পদক্ষেপ। এসমস্ত অরাজকতা নিয়ে সাধারণ জনগণ তথা সেই বৃহত্তর ক্ষমতাধর গোষ্ঠীরও কোন মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া এতকিছুর পরেও মনে হয় –এনিয়ে জবাবদিহি করার বাধ্যবাধকতা বা নিরপেক্ষভাবে কৈফিয়ত চাওয়ার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। আচ্ছা বন্ধু, তোমাদের দেশেতো নিশ্চয়ই এসকল অরাজকতা নেই, তাই না?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু, আমাদের দেশে এসকলের কোন কুপ্রভাব নেই। তবে এমনটা যে ছিল না, তা কিন্তু নয়।

হৃদয়- তার মানে?

পৃষ্ঠা নং- ২৬ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।