হৃদয়- বাঃ সত্যিই তো- এধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, যারা নতুন কিছু আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করতে চেষ্টা করে তাঁরা নিশ্চয়ই খুবই উৎসাহ পাবে, পাশাপাশি ছোটরাও এসমস্ত দেখে অনুপ্রাণিত হবে। তাঁদের মধ্যেও এধরণের উদ্ভাবনী তথা সৃজনশীল মানুষিকতা গড়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাছাড়া যখন সম্ভাবনাময় কোন উদ্ভাবন নিয়ে কেউ কিছুটা সফল হয়েছে বলে দাবি করেন; তখন সরকারী বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও একটু যাচাই বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে সেখান থেকে দু’একটা প্রকল্প নিশ্চয়ই সফল হবে এটাও খুবই যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক ব্যাপার। প্রয়োজন শুধু এরূপ যেকোন সম্ভাবনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সরকারের সুনির্দিস্ট নীতি এবং পরিকল্পনা থাকা, এগুলোকে সংঘবদ্ধ করা, হারিয়ে যেতে না দেওয়া। খুবই ভালো কথা- আশার কথা শোনালে, আচ্ছা এরপর আর কোন কৌশল?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ এবার তৃতীয় কৌশলে আসি, আমাদের দেশে সকল সরকারী , বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সকল প্রোপ্রাইটর দের অর্থাৎ যত ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আছে তাদের মালিকদের সকল সম্পত্তি ও বাৎসরিক আয় ব্যয় বিবরণী আয়কর রিটার্নে উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক। এব্যাপারটাতে সরকার খুবই তীক্ষ্ণ নরজ রাখে এবং কোন প্রকার ছাড় দিতে সরকার রাজী না। যদি কারো আয়কর রিটার্নে উল্লেখ নেই এমন কোন সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায় তবে উপযুক্ত কারণ দর্শানোর প্রেক্ষিতে যথাযথ আয়কর প্রদান সাপেক্ষে তা পরবর্তী আয়কর বর্ষের মধ্যে আয়কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। অন্যথ্যায় সরকার উক্ত সম্পদ সরকারি কোষাগারে জমা করে নেওয়ার আইন করা আছে। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তি ফেরত পেতে গেলে সরকারের সাথে মামলা মোকদ্দমা করে সরকারকে পরাস্ত করে তবে ফেরত পাওয়া যায় যা খুবই বিড়ম্বনার বিষয়।
এছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো
আমাদের দেশে সকল প্রকার মাদক দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপনন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ (শুধুমাত্র বিদেশী কুটনীতিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যাতীত), কারণ সরকার তথা বিজ্ঞজনেরা ভালভাবেই উপলব্ধি করেছে যে, যেকোন অন্যায় এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে এই মাদকাসক্তি। এর জন্যই যেকোন মানুষের অবনতি তথা অধঃপতনের শুরুটা হয়। এই মাদকের টাকা যোগাড় করতে যেয়ে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ইত্যাদি হয়। অবশ্য সরকার –এ থেকে বড় একটা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়; কিন্তু সামগ্রীক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে; সেক্ষেত্রে সরকারের তথা জনগণের ক্ষতির পরিবর্তে লাভের পাল্লাই অনেক ভারী। আর এই মাদকাসক্তি তথা অপরাধ প্রবণতার মূল সূত্র থেকে সকলকে বের করে আনার জন্য, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী চারটি পদক্ষেপ হলো-
১. প্রত্যেকে যাতে তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা করতে পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত উপাসনালয় স্থাপন করা এবং তার জন্য সার্বিক অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সফল ব্যক্তিত্ব এবং খ্যাতনামা পণ্ডিত-সজ্জন ব্যক্তিদের দ্বারা সাপ্তাহিক নিয়োমিত পরিদর্শন এবং ধর্মীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা। এছাড়া সর্বসাধারণের উপস্থিতি নিয়োমিত এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন প্রকার সরকারী সুযোগ-সুবিধার আওতায় এনে সকলকে উৎসাহ দেয়া- অনুপ্রাণিত করা। এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা, কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, তা নিয়োমিত তদারকি করা এবং এসংক্রান্ত নিয়োমিত প্রতিবেদন প্রকাশের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট উপাসনালয় কমিটির উপর; অবশ্য তাঁদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মহোদয়। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বছরে একবার সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয় একটা বিশেষ সম্মাননা ও পুরষ্কারের ব্যবস্থা করে থাকে- সংশ্লিষ্ট উক্ত খ্যাতনামা পণ্ডিত, উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপাসনালয় কমিটি এবং জেলা সাংবাদিক কমিটির সদস্যদের মধ্যে।
হৃদয়- বাঃ, খুবই ভালো উদ্যোগ। এমনিভাবে যদি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সফল ব্যক্তিত্ব এবং খ্যাতনামা পণ্ডিত ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ করা হয় এবং তাঁদের দ্বারা ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়, তাছাড়া সরকারীভাবে উক্ত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয় তবে, সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই উক্ত অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে উৎসাহী হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় আলোচনায় বা এধরনের সংঘে সকলে নিয়মিত উপস্থিত থাকলে, একটা সময় পরে হলেও নিশ্চয়ই সরকারের সৎ উদ্দেশ্য অর্থাৎ নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্যও সফল হবে। আচ্ছা এবার দ্বিতীয় পদক্ষেপটা বলো।
২.
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন, দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো- প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চা করার জন্য আবশ্যিক পাঠ্যসূচীর মধ্যে কিছু কিছু বিষয় যেমন উল্লেখ আছে; তেমনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা করার জন্য একটা নির্দিস্ট সময় রাখা এবং পর্যাপ্ত যায়গা রাখাও বাধ্যতামূলক। এছাড়া
পৃষ্ঠা নং- ৪২ , পরবর্তী বিবরণ