স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -

হৃদয়-- তার অর্থ যেকোন প্রকল্পের কাজ একই সাথে যেমন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তেমনি দুষ্ট চক্র ধরার ফাঁদ হিসাবেও কাজ করে ! বাঃ বেশ ভালই তো মনে হচ্ছে তোমাদের দেশের সকল ব্যবস্থা। আচ্ছা সবই মোটামুটি বুঝলাম কিন্তু সাংবাদিক কমিটি আর জবাবদিহির কথা কি যেন বললে, এই সাংবাদিক কমিটি বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে? আর জবাবদিহি-ই বা কিভাবে চাওয়া হয়? কে জবাবদিহি করে? কার কাছে জবাবদিহি করতে হয়?

স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বন্ধু তুমি খুবই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলে। আমি একে একে বিস্তারিতভাবে তোমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিচ্ছি। মন দিয়ে শোন। আমাদের দেশে সাংবাদিক কমিটি নামে নির্দিস্ট কিছু বিশেষ কমিটি আছে। নির্দিস্ট বলতে বুঝানো হয়েছে নির্বাচনী আসন বা এলাকার সমান সংখ্যক অর্থাৎ যতগুলো নির্বাচনী আসন ততগুলো কমিটি আছে।

এই কমিটি গঠিত হয়- তালিকাভুক্ত রেডিও থেকে=১জন, টিভি থেকে=২জন, পত্রিকা থেকে=২জন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত এবং প্রকাশিত দুটি মাধ্যমের =২জন সর্বমোট (১+২+২+২)=৭জন কর্তব্যরত সিনিয়র/বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে। তবে কেন্দ্রীয় আসন হিসাবে চিহ্নিত এলাকার অধীন কমিটিকে জাতীয় সাংবাদিক কমিটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত সিনিঃ সাংবাদিক বৃন্দই হন উক্ত এলাকার কমিটির সদস্য এবং উক্ত সদস্যদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই হন উক্ত কমিটির সভাপতি। বুঝেছ কোন অসুবিধা?


হৃদয়-- না, অসুবিধা নেই বুঝলাম কিন্তু এটা একটু বুঝিয়ে দাও তো- কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে তা নির্ধারন করা হয় কীভাবে?

স্বপ্নিল-- বলছি মন দিয়ে শোন। এক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করে অনলাইনে জানিয়ে দেয়া হয় যে, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য সাংবাদিক কমিটি গঠিত হল কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে। অর্থাৎ একটি নির্দেশে একই সাথে সারাদেশের কমিটিগুলো গঠিত হয়ে যায় এবং তাঁরা পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য তাঁদের স্ব স্ব এলাকায় দায়িত্ব পালন করে থাকেন।


হৃদয়-- আচ্ছা বুঝলাম, তবে জবাবদিহির ব্যাপারটা এবার একটু বুঝাওতো। জবাবদিহি শব্দটা শুনলেই মনে হয় কেউ হয়তো কোন অন্যায় করেছে, ভুল-ত্রুটি করেছে যেজন্য তাকে কারো নিকট সে অন্যায় বা অপরাধের কৈফিয়ত দিতে হবে। তাকে তার অপকর্মের জবাব দিতে হবে। সত্যি বলতে কী এই শব্দটার অনেক গুরুত্ব! কিন্তু আজকাল আমাদের দেশে এর সার্বজনীন নিরপেক্ষ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ, কেউ যেন কারো নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য না বা জবাবদিহি করতে চায় না। কোথাও কোন অন্যায় বা অপরাধ সংগঠিত হলেও হয়তোবা যথাযথ জবাবদিহি না করেই সে বা তারা পার পেয়ে যায়। আচ্ছা তোমাদের দেশে এই জবাবদিহির পদ্ধতিটা কিরূপ? কীভাবে তা সম্পন্ন হয়? সে সম্পর্কে এবার একটু বলতো।

স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বলছি শোন, একে একে সবই বলবো একটু ধৈর্য্য ধরে শুনতে হবে। অল্পতে অধৈর্য্য হলে কিন্তু চলবে না। এক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি তোমাদের দেশের মতই, তবে আমাদের দেশে ঠিক যেভাবে প্রচলিত আছে সেটিই বলছি।


প্রথমতঃ যে কোন ছোট খাটো অন্যায় বা বিবাদের জবাবদিহিতা বা মিমাংসা করে থাকেন সংশ্লিষ্ট পাড়া / মহল্লা / ওয়ার্ড বা গ্রামের মাতব্বরগণই। বেশিরভাগ ঝগড়া বিবাদের মিমাংশা আমাদের দেশে এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণই সমাধান করে দেন। অর্থাৎ প্রথমে জবাবদিহি করতে হয় সংশ্লিষ্ট এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণের সম্মুখে । কোন কারনে তারা যদি অপারগতা প্রকাশ করেন বা যদি প্রয়োজন পড়ে তবে-

দ্বিতীয়তঃ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনের মাধ্যমে ...


পৃষ্ঠা নং- ১৩ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।