হৃদয়- কেন, এই সহজ বিষয় তোমাকে আবার বুঝানোর কী আছে? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের পছন্দ মত রাজনৈতিক প্রার্থীকে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে জয়যুক্ত করি। সমগ্র দেশ থেকে এমনিভাবে যোগ্য পছন্দের রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং তাঁরা আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন, আমাদের চাওয়া-পাওয়া অধিকারের কথা বলেন, আমাদের সুবিধার জন্য আমাদের প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন এবং আমরা সেই আইন তথা সংবিধান অনুযায়ী শাসিত হই।
স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু- খুবই সুন্দর ব্যবস্থা। তোমার কথা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে সবই ঠিক আছে, কোথাও কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু হৃদয়- একটু ভেবে দেখ তো, তুমি নিজে কতটুকু তোমার চাওয়া-পাওয়া অধিকারের বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছ? তোমার বাস্তবতা কীধরনের সাক্ষ্য বহন করে?
হৃদয়- [হৃদয় মনে মনে ভাবে একজন শান্তিপ্রিয়, অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষ হিসাবে আমি বা আমার মত অনেকেই মোটেও তেমন বাস্তবতার মধ্যে নেই। সেই কবে কিছুদিনের জন্য সমাদৃত হয়েছিলাম। কত ভালো ব্যবহার; কত পরিকল্পনা; কত প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি। সেই যে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদান করেছি তার পর থেকে মনে হয় আমাদের সাথে তানার আর কোন সম্পর্ক নেই। আপাততঃ তানার কাছে আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়। এখন দৈনন্দিন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই জীবন অতিবাহিত হচ্ছে।] তোমার প্রশ্নের উত্তরের সাথে মিল আছে এমন একটা কবিতা লিখেছিলাম এক সময়, শুনবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোনাও।
হৃদয়- এর একটা নামও দিয়েছিলাম; “মুদ্রা” শোন তাহলে-
“মুদ্রা”
ওহে মুদ্রা, আমাদের-এ ছোট্ট কুড়েঘরে-
তোমাদের কী এতটুকু সময়ও থাকতে ইচ্ছে হয়না?
অথচ ব্রিফকেসে, লোহার সিন্ধুকে বা আলমারি দেরাজে-
চাপাচাপি করেও থাকতে তোমাদের কোন আপত্তি নেই?
না-কী তোমারা গরু, মহিষ আর মাছের ঝাঁকের মত-
দলবেঁধে, ঝাকবেঁধে থাকতে ভালবাস?
আর তাইতো কখনও বা ভুলকরে- দু’একটা আমাদের কাছে এলেও-
বেশিক্ষণ থাকাটা তোমাদের- ‘ডাঙ্গায় তোলা মীনের মত’লাগে !
আর তাইতো- শশব্যস্ত হয়ে; আমাদেরকে নিয়ে যাও-
মুদীর দোকান, ডাক্তারখানা বা অন্যের নিকট- ধার শোধ করাতে।
অথচ তোমারই পাওয়ার আশায়; বহুফোটা ঘাম আর তাগাদায়-
জীবনটা দুর্বিসহ মনে হয়;
কেউ কেউ ক্ষোভে, দুঃখে ভিন্ন পথ বেছে নেয়।
কারণ শুধু তোমারই জন্য, হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য-
আজ- কারো চিকিৎসা হচ্ছে না;
কারো ঠাঁই হচ্ছে গাছতলা, রেলস্টেশন, বস্তি আর ফুটপাতে;
আবার তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে- কেউবা দশতলায় পার্টিতে করছে ফূর্তি।
হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য- কারও বা অর্ধ্যেক পথেই পড়ালেখা বন্ধ হতে চলেছে।
আচ্ছা, তোমরা কি ভেঙে-চুরে আসতে পারোনা আমাদের কাছে-
যারা তোমায় পাওয়ার আশায় প্রহর গোনে;
যারা মাথার ঘামে সিক্ত করে মাটি,
কেউবা পড়াতে যেয়ে ঘন ঘন দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে?
কিন্তু না, তোমরা তা করতেই পারো না; কারণ-
তোমরা তো নিজেরাই খারাপ, আর তাই-
অন্যায়ভাবে যারা তোমাদেরকে সংগ্রহ করে-
তাদের কাছেই থাকতে তোমাদের বেশি পছন্দ।
স্বপ্নিল- বাঃ! বেশ ভালইতো লিখেছ বন্ধু।
পৃষ্ঠা নং- ২৫ , পরবর্তী বিবরণ