একবার এক এলাকার গণ্যমান্য ধনী ব্যক্তি থানায় এক ঘি বিক্রেতার নামে অভিযোগ করেছিল। তার অভিযোগ হলো, সে দীর্ঘ্য সাত বৎসর যাবত ঐ ঘি বিক্রেতার নিকট থেকে ঘি কিনে খাচ্ছে কোনদিন কোন রকম সমস্যা হয়নি। কিন্তু গত দুই দিন আগে ঐ ঘি বিক্রেতা ওনাকে ভেজাল ঘি দিয়েছে, যা খেয়ে ওনার বাড়ীর সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে, সকলেরই পেট খারাপ হয়েছে। তো যথারীতি ঘি বিক্রেতাকে থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হলো। থানার বড়বাবু ঘি বিক্রেতাকে ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করলেন-
থানার বড়বাবু বললেন, “বল- সত্যি করে বল তুই ওনাকে ভেজাল ঘি দিয়েছিস? মিথ্যা বলে পার পাবিনা কিন্তু, সত্যি করে বল।”
ঘি বিক্রেতার তো খুব খারাপ অবস্থা, সে কাঁদ কাঁদ স্বরে বলল-
“বিশ্বাস করেন হুজুর, আমি ওনাকে ভেজাল ঘি দেইনি, একদম খাঁটি ঘি দিয়েছি।”
এদিকে ঘি ক্রেতার আবারও অনুযোগ,
“দেখেন স্যার, আপনার সামনেও কেমন মিথ্যে বলছে,
“দেখেন স্যার, আপনার সামনেও কেমন মিথ্যে বলছে, এ বেটার নিকট থেকে আমি দীর্ঘ্যদিন যাবত ঘি কিনে খাচ্ছি- কোনদিন কোন রকম সমস্যা হয়নি; যদি ভেজাল ঘি না-ই দেবে তাহলে গত দুই দিন আগের কেনা ঘি খেয়ে আমার বাড়ীর সকলেরই কেন পেট খারাপ হলো? বেটা নিশ্চয়ই মিথ্যে বলছে।”
থানার বড়বাবু রেগে গিয়ে বলল, “তুই সত্যি কথাটা বলবি- নাকি দু’ঘা দেওয়া লাগবে?”
এবার ঘি বিক্রেতা বলল, “আসলে হুজুর গত দু’দিন আগে ওনাকে যে ঘি দিয়েছি তা একদম খাঁটি ঘি- আমার বাড়ীতে নিজ হাতে বানানো, এতদিন ওনাকে আমি যে ঘি দিয়েছিলাম তা ছিল বাজার থেকে কেনা ভেজাল ঘি। ভেজাল খেতে খেতে ওনার অভ্যাস হয়ে গেছে, এখন খাঁটি ঘি ওনার সহ্য হচ্ছে না, তাই পেট খারাপ হতে পারে। বিশ্বাস করেন হুজুর আমি যা বলেছি একদম সত্যি বলেছি।”
কথাগুলো এজন্য বললাম যে, আসলে এখন এমনই অবস্থা আমাদের চারিদিকে। অনিয়ম, ভেজাল, দূর্ণীতি এগুলো আমাদের একপ্রকার সহ্য হয়ে গেছে। এখন ব্যতিক্রম কোন কিছু যদি বলো- তা হয়তো আমাদের মেনে নিতে অনেক কষ্ট হবে, খাঁটি ঘি এর মতো হজম না-ও হতে পারে। তাছাড়া এক্ষেত্রে আমাদের দেশে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে যে কারনে আমরা এই ব্যাপারটায় পুরোপুরি সফল হতে পারছি না।
যেমন- প্রথমতঃ ব্যক্তিকেন্দ্রিক হীনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চলাই কিছু কিছু মানুষের রীতি অর্থাৎ “দেশের ক্ষতি হলে, দশের ক্ষতি হলে আমার কি? আমি-তো লাভবান হচ্ছি" -এই নীতি নিয়েই চলা; যার ফলশ্রুতিতে সকলকেই এর কুফল ভোগ করতে হয় বা হচ্ছে।
দ্বিতীয়তঃ যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারনেও অনেকে এধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক (ফরমালিন, কার্বাইড) ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে বলে শোনা যায়।
হৃদয়- হ্যাঁ হৃদয়, তুমি একদম ঠিক কথাই বলেছ। অনেকে তার সামান্য একটুখানি স্বার্থের জন্য দেশের- দশের বৃহত্তর স্বার্থকে ভুলুন্ঠিত করতেও পিছপা হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকার যেমন আন্তরিক, তেমনি জনগণও যথেস্ট সচেতন।
তাঁরা অন্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে নিজের স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে সর্বদা সচেস্ট। গ্রাম্য একটা কথা প্রচলিত আছে, কোন এক খাওয়ার অনুষ্ঠানে ডাল খেতে ইচ্ছে হচ্ছে একজনের অথচ বলছে- ‘বেয়াই এর পাতে ডাল দাও’।
কিন্তু দেখা গেল- বেয়াইকে যখন ডাল দিচ্ছে অমনি বেয়াইও বলে দিল, ‘আরে না না আমার ডাল লাগবে না- … অল্প একটু দাও, ওনাকে একটু বেশি দাও’। বিষয়টা এমন, তোমার স্বার্থ আমি দেখলাম- আর আমার স্বার্থ তুমি দেখলে,
ফলে আমাদের দুজনের স্বার্থই বজায় থাকল; লাভটা হলো এই- যদি বড় কোন বিপদ আসে দুজনে মিলে মোকাবেলা করার মানসিকতা অর্জন করলাম।