স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -


চতুর্থতঃ অনেক সময় দেখা যেত দলীয় প্রধানকে এককভাবে সমগ্র দেশের নেতা কর্মীদের নিয়ন্ত্রন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ত; কখনোবা দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য, দলের অসৎ বা বিতর্কিত নেতা কর্মীদের অন্যায় অপকর্মকে প্রশ্রয় দিতে হত; আবার এমনও শোনা যেত অনেক খারাপ ব্যক্তি বা তাদের ছোট ছোট গ্রুপই আছে যারা সারা দেশে চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই ইত্যাদি অপকর্ম করে বেড়ায় কিন্তু নাম ব্যবহার করে যে দল ক্ষমতায় যায় সেই দলের। এরা আসলে কোন দলেরই না; কিন্তু দলীয় প্রধানকে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের অন্যায় কাজের দায়ভার নিজের মাথায় নিতে হত। কিন্তু এখন আর সেই ধরনের কোন প্রকার অন্যায় কাজকে মৌন সমর্থন দেওয়ার প্রয়োজনই নেই- যে কারনে অন্যায়কারী যে কোন অন্যায় করতেও যেমন ভয় পায়; তেমনি যেকোন অন্যায়-অপকর্ম সংঘঠিত হলে তার সুবিচার তথা শিক্ষামূলক শাস্তি সকলেই দেখতে পারে; এবং তা অতি দ্রুততার সাথে।


পঞ্চমতঃ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা কুপ্রভাব থেকে সমগ্র দেশ তথা দেশের সকল মানুষ মুক্ত আছে বলে- চাকুরীতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, দরপত্র অনুমোদন, সরকারী অনুদান বা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বন্টন প্রভৃতি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়; যার সুফল সর্বসাধারণ সমানভাবে ভোগ করে থাকে। তাছাড়া শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ কোনপ্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তাঁদের উপর অর্পিত গুরুদায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারেন। এমনি বিভিন্ন প্রকার সুযোগ-সুবিধা আমরা ভোগ করে থাকি; তুমিও একটু ভেবে দেখ অনেক কিছুই বুঝতে পারবে।

হৃদয়- সত্যিই তো! একটি কঠিন সিদ্ধান্তের পিছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে! এটা কি সত্যিই সম্ভব? আচ্ছা বন্ধু হরতাল তো জনগণের প্রতিবাদের চূড়ান্ত রূপ, তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার। এটা কি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে?

স্বপ্নিল- না সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি। এখনও ধর্মঘট, হরতাল অবরোধ প্রভৃতি হয়ে থাকে; তবে তা সমস্যা অনুযায়ী ও এলাকাভিত্তিক এবং অবশ্যই অপেক্ষাকৃত কম ভয়ঙ্কর। কারণ কোন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বা কোন একটা নির্দিস্ট এলাকার জনগণের নির্দিস্ট কোন অধিকার আদায়ের ব্যাপারে হয়তো সংশ্লিষ্ট এলাকার জননেতা তাদেরকে ধর্মঘট, হরতাল অবরোধ ইত্যাদির জন্য উৎসাহিত করতে ঐক্যবদ্ধ করে থাকেন। আবার ন্যায্য দাবি থাকলে, জনসমর্থন থাকলে তা পূরণ সাপেক্ষে সে সমস্যার সমাধানও করা হয়ে থাকে অতি দ্রুততার সাথে। কিন্তু সারা দেশব্যাপী একযোগে হরতাল অবরোধ বা অচলাবস্থা তৈরি হয় না।


হৃদয়- বুঝলাম খুবই কঠিন ব্যাপার, তবে অসম্ভবও নয় এবং অযৌক্তিকও নয়। আচ্ছা বন্ধু- তাহলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন তথা মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ প্রভৃতি ক্ষেত্রেতো খুবই সমস্যা হওয়ার কথা?

স্বপ্নিল- তুমি ঠিকই বলেছ, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করাটা একটা কঠিন কাজ। একটু ধৈর্য্য ধরো একে একে সকল প্রক্রিয়াই বলছি। তবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রধান দায়িত্ব যাদের উপর তাঁদের কথা তোমার আগে শোনা দরকার।

হৃদয়- আচ্ছা ঠিক আছে তাঁদের কথাই না হয় আগেই শোনাও।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন, আমাদের ওখানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য আছে স্বাধীন, স্বচ্ছ, সর্বপ্রকার প্রভাবমুক্ত এবং নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন কমিশন। তবে এক্ষেত্রে একটা কথা তোমায় বলা দরকার তা হলো- উক্ত নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ১জন এবং মধ্য ও নিম্নস্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬জন সর্বমোট ৭জন কর্মকর্তা তথা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অস্থায়ীভাবে জাতিসংঘ কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তবে এসংখ্যা এবং তাঁদের নিয়োগের সময়কাল নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনও আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, হয়তো কিছুটা রদবদল হতে পারে।


হৃদয়- বলো কী! তবে এটা কি খুব জরুরী? তাছাড়া ওনারা কত দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন?


পৃষ্ঠা নং- ৩০ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।