স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -

দরপত্র মূল্যমানের উপর ভিত্তিকরে নির্ধারিত হারে ফি বা সার্ভিস চার্জ পেয়ে থাকেন।

হৃদয়- যদিও ব্যতিক্রম কিছু তবুও বেশ ভালইতো মনে হচ্ছে। আচ্ছা বন্ধু- দরপত্রের বাক্স যেদিন খোলা হয় সেদিনই কি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে থাকেন?

স্বপ্নিল- দেখ হৃদয় দরপত্র যখন আহ্বান করা হয়, তখনই এসংক্রান্ত সকল শর্তাবলী উল্লেখ করা থাকে- তাই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট দিনে চূড়ান্ত কার্যাদেশ দিয়ে থাকেন। তবে যদি কোন প্রতিষ্ঠান কোন কারনে তাদের দরপত্রগুলো যাচাই বাছাই বা মূল্যায়নের জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিতে দ্বিমত পোষণ করেন তবে উপযুক্ত কারণসহ তাৎক্ষণিক সারাংশ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করেন। তোমায় এব্যাপারে আরও একটু বলে রাখি তা হলো, আমাদের দেশে যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোন দরপত্র বা কার্যাদেশে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় তার অনধিক ৩য় কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসম্মুখে সংক্ষেপে একাধিক সাইনবোর্ড-এর মাধ্যমে তা প্রচার করতে হয়।


হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু জনসম্মুখে সাইনবোর্ড-এর মাধ্যমে প্রচার করার কি দরকার? এর জন্য বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এব্যাপারে তোমাদের বিজ্ঞজনেরা কি ধরনের যুক্তি দেখিয়েছেন বলে তোমার মনে হয়?

স্বপ্নিল- দেখ হৃদয় বিজ্ঞজনেরা কোন্ যুক্তিতে এমন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন তা জানার প্রয়োজনই বা কি? তবে একজন সাধারন নাগরিক হিসাবে আমার কাছে যা মনে হয়- এক্ষেত্রে আমি অন্ততঃ জানতে পারি যে, আমার সম্মুখে যে কাজটি চলছে তা কতদিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা, কতটাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি কোন্ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করার অনুমতি পেয়েছে; এছাড়া দরপত্রের বিবরণ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ চলছে কি-না ইত্যাদি।


এক্ষেত্রে আমার অবস্থান থেকে যতটুকু তদারকি করার সুযোগ আছে সেটা আমি করতে পারব এবং যদি কোন অনিয়ম বা ব্যতিক্রম চোখে পড়ে তবে সাংবাদিক কমিটির মাধ্যমে তার জবাবদিহি চাওয়ার অধিকার বা সুযোগ আমার আছে। এছাড়া আমাদের দেশে আরও একটি ব্যবস্থা যুক্ত আছে তা হলো অন্যান্য সকল নিয়ম প্রতিপালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের প্রাথমিক, মধ্যবর্তী এবং চূড়ান্ত বা সমাপনী পর্যায়ের প্রতিবেদন বা তদারকি পত্র প্রস্তুত করতে হয় যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার যেকোন একটি সাংবাদিক কমিটির সভাপতি সহ কমপক্ষে চারজন সদস্যের স্বাক্ষর থাকতে হবে যা উক্ত কাজের বিল পরিশোধে সুপারিশ করবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে যেকোন সাংবাদিক কমিটির সভাপতি বরাবর চিঠি দিয়ে উক্ত কাজ পর্যবেক্ষণের আবেদন জানাতে হয় এবং তার পরবর্তী তিন থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত কমিটির সদস্যরা তা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে কমপক্ষে দুটি গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করেন এবং উক্ত তদারকি পত্রে সুপারিশ করেন।

হৃদয়-- সত্যিই তো ! [হৃদয় মনে মনে ভাবে- সকল প্রকল্পগুলো যদি এমনিভাবে তদারকি করার সুযোগ থাকে তাহলে তো যেকোন প্রকার অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবেই। তাছাড়া কোন ঠিকাদার বা কোন প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করে বা কাগজে কলমে কাজ দেখিয়ে দেশ ও দশের সাথে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবে।] আচ্ছা কোন দুষ্ট চক্র যদি এক্ষেত্রে চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করে তখন তোমরা কি করো?


স্বপ্নিল-- দেখ হৃদয়- আমি যতদূর জানি কোন দুষ্ট চক্র যদি প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করার দুঃসাহস দেখায় তবে ধরে নিতে হবে তাদের পিছনে বড় কোন আশ্রয়দাতা-প্রশয়দাতা আছে যেটা আমাদের দেশেও ছিল। তবে তা এখন আর নেই কারণ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রভাব নেই। আর গোপনে যদি কিছু থেকে থাকে সেটাও অতি নগণ্য অথবা অতি দুঃসাহসী। সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদেরকে মোকাবেলা করে থাকে। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের বেশে সর্বক্ষণ প্রস্তুত আছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য এবং এমন জোরাল আইনি ব্যবস্থা প্রবর্তিত আছে যাতে তাদের মূলসহ শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়।


পৃষ্ঠা নং- ১২ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।