হৃদয়- আচ্ছা বুঝলাম, এবার পদ্ধতিটা একটু বলো।
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন- এক্ষেত্রে প্রথমে যে কাজটি করা হয় তা হলো- আগে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচনী আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা ক্রমিক নং অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য উক্ত ক্রমিক নং-ই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এরপর প্রত্যেক প্রার্থী যেকোন ২টি ক্রমিক নং উল্লেখ করে (একটি প্রধানমন্ত্রী এবং অপরটি উপ-প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ) RMM Vote করে থাকেন। সংক্ষেপে এরকম {SL. No.“_” ,SL. No.“_”-Purpose Vote Code “_”- Send to Area Code “_”} অর্থাৎ প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার বিজয়ী জনপ্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী এর উদ্দেশ্যে ১ টি ভোট করবেন যাতে ২টি ক্রমিক নং উল্ল্যেখ থাকবে। এভাবে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচিত হয়ে থাকেন।( অর্থাৎ সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত ক্রমিক নম্বরই হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত ক্রমিক নম্বর এর প্রার্থীই হবেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ।)
হৃদয়- আচ্ছা যদি কোনভাবে শীর্ষথেকে প্রথম ও দ্বিতীয় ক্রমিক নং সমান সংখ্যক ভোট পেয়ে থাকে তবে তোমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কী করো?
স্বপ্নিল- দেখ বন্ধু আমার যতদুর মনে পড়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বা উপ-প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছে এমনটা কখনও ঘটেনি। তবে কোনভাবে যদি তেমনটা হয়ও তবে জনগণের RMM Vote এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা আছে।
হৃদয়- বাঃ খুব সুন্দর ব্যবস্থা জনগণই প্রত্যক্ষভাবে তাঁদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে এটাতো আরও ভালো কথা। যাহোক- এবার বলতো তোমাদের সরকারের মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় ঠিক করা হয় কীভাবে? এক্ষেত্রে তোমাদের কী বিশেষ কোন ব্যবস্থা আছে?
স্বপ্নিল- এক্ষেত্রে আমাদের খুবই সুন্দর ব্যবস্থা আছে। আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের প্রাথমিক যোগ্যতা জনগণের সম্মুখে প্রমাণ সাপেক্ষে কাংক্ষিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন।
হৃদয়- ঠিক বুঝলাম না, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পূর্বেই তিনি কীভাবে তাঁর যোগ্যতার প্রমান দেবে? একটু বুঝিয়ে বলবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ বলছি। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নিয়ে থাকেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে সাহায্য করে থাকে একটা সফটওয়ার। এ সফটওয়ারটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই হাজার হাজার MCQ প্রশ্ন সেট করে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা থাকে।
পরবর্তীতে এর সাহায্যেই আগ্রহী মন্ত্রীদের যাচাইপূর্বক বাছাই করা হয়।
হৃদয়- আচ্ছা বিষয়টা কি সকলে ভালভাবে নিয়েছেন? এটাতো কিছুটা মানহানিকর বলে মনে হচ্ছে। তাঁরা এটিকে অর্থাৎ এই প্রক্রিয়াকে ঠিক কীভাবে নিয়েছেন?
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়, আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা দেশ সেবার জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্যই জনপ্রতিনিধির খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তারা সকলেই চান বা প্রত্যাশা করেন যে, সবচেয়ে যোগ্য লোকই যেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন যাতে তাঁদের সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশ সামনে এগিয়ে যায়, দেশের সর্বাধিক কল্যাণ ত্বরান্বিত হয়।
হৃদয়- বাঃ খুব ভালো, খুব ভালো কথা। তা এর পুরো প্রক্রিয়াটা একটু সংক্ষেপে বলবে?
পৃষ্ঠা নং- ৩৪ , পরবর্তী বিবরণ