পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
স্বপ্নিল–
হ্যাঁ বলছি – আমাদের দেশের উন্নয়নের পিছনে বিভিন্ন ধরণের কৌশল আছে; তোমার নিকট সত্যিই খুবই আশ্চর্যের মনে হবে। যদি শুনতে চাও আমি একে একে কয়েকটা বিষয়ে তোমার সাথে আলোচনা করতে বা শেয়ার করতে পারি; শুনবে?
হৃদয়–
অবশ্যই শুনব। আমি শোনার জন্যই তো তোমায় অনুরোধ করছি। দয়াকরে বলো।
স্বপ্নিল–
তাহলে মন দিয়ে শোন –
যেমন প্রথমতঃ আমাদের দেশের শিক্ষাব্যস্থা – তোমাদের দেশের মত এমনটা নয়। তবে একটা সময় এমনটাই ছিল। তখন শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ ধাপ শেষ করতে যেয়ে এবং কর্মসংস্থান বা চাকুরী অর্থাৎ নিজের পায়ে দাঁড়ানো বলতে যা বুঝায়, অতঃপর সংসার জীবন শুরু করতে যেয়ে – একজন ছাত্রের জীবন থেকে অনেকটা সোনালী সময় অতীত হয়ে যেত।
পরবর্তীতে সংসার সাজানো, সন্তান–সন্ততি লালন পালন ও তাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত রেখে যাওয়ার জন্য তেমন যথেষ্ট সহযোগিতা করার সামর্থ তাঁর থাকত না। কখনও বা সন্তান–সন্ততির শিক্ষাজীবন শেষ না হতেই পিতা–মাতার বিয়োগ ঘটার কারণে উক্ত সন্তানেরা এক সীমাহীন দুর্ভোগে নিমজ্জিত হয়ে পড়ত।
এতকিছু দেখে আমাদের দেশের বিজ্ঞজনেরা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন –
১. সবার জন্য অভিন্ন ভিত্তি শিক্ষা (১ম–৫ম শ্রেণী)
সকলের জন্য একই কারিকুলামে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে ছয় বৎসর বয়সেই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংগীত চর্চার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা। এবং এই সময়ের (অর্থাৎ তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী) মধ্যেই কোন্ ছাত্রের কোন্ কোন্ বিষয়ের উপর বেশি আগ্রহ তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়; সেটা হতে পারে বিশেষ কোন খেলাধুলা, সংগীত চর্চা, বা বিশেষ কোন বিষয়ের উপর।
অবশেষে তাকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সেই সেই বিশেষ বিষয়ের উপর পড়ার বা চর্চা করার ব্যবস্থা করা (অবশ্য আবশ্যিক কয়েকটা বিষয় এই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই থাকে)।
২. একাদশ শ্রেণী থেকে পেশাগত/কারিগরি শিক্ষা
একাদশ থেকে শুরু হয় তাঁর পেশাগত শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা – অর্থাৎ সে যেটাকে পেশা হিসাবে বেছে নিতে আগ্রহী সেই সংক্রান্ত পড়া।
এক্ষেত্রে একটা কথা বলে রাখি – আমাদের সমাজে চারিদিকে যা কিছু নজরে আসে তার প্রতিটি কর্মই, উদাহরণস্বরূপ চুল ছাটাই থেকে শুরু করে কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগী পালন, গরু-ছাগল পালনকারী, বিক্রয়কর্মী, দর্জী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব ডেভেলপার, গ্রাফিক ডিজাইনার, ডিজিটাল মার্কেটার, ইউটিউবার, ফ্রিল্যান্সার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল প্রভৃতি – এই শিক্ষা বা পেশাগত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্গত।
এটা সমাপ্ত করার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি ধাপ আছে; তবে কোন কোনটা এক বা দুই ধাপেই সমাপ্ত।
অবশ্য কোন্ ধরণের পেশা বা বিষয়ে কয়টা ধাপ হবে এবং সেখানে কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা শিক্ষা কমিশনই ঠিক করে থাকেন। তবে প্রতি দুই বছরে এক একটা ধাপ; এবং প্রতিটা ধাপে একটা করে সার্টিফিকেট দেয়া হয়, যেটা ব্যবহার করে সে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান বা চাকুরীতে যোগদান করতে পারে।
এতে দেখা যায় যে, কেউ চাইলে ১৮ বছর বয়স থেকেই কর্মজীবন শুরু করার সুযোগ পেয়ে থাকে, এবং পরবর্তীতে হাতে–কলমে পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও দক্ষ হয়ে তাঁর কর্মক্ষেত্রে সেটি প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর যাতে সে পরবর্তী ধাপের পড়াগুলো – অর্থাৎ পেশাগত হাতে–কলমে অবশিষ্ট প্রশিক্ষণগুলো সমাপ্ত করতে পারে – সে ব্যাপারে উক্ত প্রতিষ্ঠান তাকে সহযোগিতা করে থাকে। তবে কেউ চাইলে সবগুলো ধাপ সমাপ্ত করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে।
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেশাগত সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন বা একটা নির্দিষ্ট ধাপ অতিক্রম করার পরেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হয়, যেমন – ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ইত্যাদি – এটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কমিশন নির্ধারণ করে থাকেন। এছাড়াও আরও উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য তাকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থেকে বা বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ডিগ্রী নিতে হয়।
হৃদয়- বাঃ বেশ আশ্চর্য এবং অভিনব উদ্যোগ বলে মনে হচ্ছে। আচ্ছা এধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলস্বরূপ তোমরা ঠিক কি কি বিষয়ে উপকৃত হয়েছ বলে মনে হচ্ছে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ খুব ভাল প্রশ্ন করলে। দেখ হৃদয়, বিশেষ কিছু বলার মত না থাকলেও একটা বিষয় অবশ্যই আছে, আর তা হল- যারা শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে কর্মজীবন শুরু করতে যাচ্ছে- তাঁদের অন্ততঃ চাকুরীর জন্য বসে থাকতে হয় না। দীর্ঘদিন পেশাগত প্রশিক্ষণ নেয়ার কারনে তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর যথেস্ট দক্ষ হয়ে ওঠে- যার ফলে তাঁরা তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্হা যেমন করে থাকে; পাশাপাশি অন্যান্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারে। তাছাড়া এধরনের শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে আমাদের দেশে সমস্ত শিক্ষিত জনগণ এখন আর শিক্ষিত বেকার বা রাষ্ট্রের বোঝা বলে পরিগণিত না হয়ে রাষ্ট্রের দক্ষ জনসম্পদ হিসাবেই আখ্যায়িত হয়। এবং আমাদের দেশের সরকার নিজ উদ্যোগে সেই দক্ষ জনসম্পদ বহির্বিশ্বে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে।
হৃদয়- বাঃ সত্যিই যদি আমাদের দেশেও এমনটি হতো- তাহলে চাকুরী বা কর্মসংস্থানের জন্য আর কাউকে বসে থাকতে হতো না!
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়- আমাদের দেশে আরও একটি বিষয়কে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, আর তা হলো- সকলেই মেধাসম্পন্ন না হতে পারে কিন্তু প্রত্যেকের ভিতরে কোন না কোন বিশেষ দিক অবশ্যই খুবই শক্তিশালী; তাই সকলকেই মেধা খাটিয়ে চাকুরীই করতে হবে এমন কোন প্রয়োজন নেই বা সরকার সেটাকে উৎসাহ দেয় না। যে কারণে প্রথম থেকেই যার যার ইচ্ছা, পছন্দ বা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের পেশাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই যেকেউ তাঁর পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা, সংগীত চর্চা ইত্যাদি বিষয়কে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়; এবং সে অনুযায়ী তাদের দক্ষতার বিকাশ ঘটানোর জন্য- তাঁরা যেমন চেষ্টা করে থাকে, তেমনি বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই তাঁদেরকে সেব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে থাকে। পাশাপাশি রাষ্ট্রও তাঁদেরকে সেভাবেই সহযোগিতা করে থাকে যাতে তাঁদের দক্ষতা রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সত্যি বলতে কি- একটা সময় পরে দেখা যায় সেটিই তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে; পাশাপাশি ভাল কিছু করতে পারলে সেটি রাষ্ট্রের সুনাম বৃদ্ধিতেও সাহায্য করছে।
হৃদয়- বাঃ খুবই আশার কথা শোনালে ! [হৃদয় মনে মনে ভাবে- সত্যিই তো, সবাই যদি তত্বগত পড়ালেখা শিখে চাকুরীর জন্যই কেবল চেষ্টা করে তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে তো ঘুরে বেড়াতেই হবে; কিন্তু এধরণের ব্যবস্থায় প্রত্যেকের যোগ্যতা অনুযায়ী পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েই সে বেড়ে উঠছে- যার ফলে তাঁর চাকুরীর জন্য ঘুরে বেড়াবার দরকারই পড়বে না; তাছাড়া সকলেই যদি চাকুরীর পিছনেই কেবল ঘোরে তাহলে দেশের নাম বহির্বিশ্বে পরিচিত করানোর মত নামকরা খেলোয়াড়, সংগীত শিল্পী ইত্যাদি গড়ে উঠবে কিভাবে?] আচ্ছা এবার কোনটা শোনাবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ এবার দ্বিতীয় কৌশলের কথাই বলছি, আমাদের দেশে প্রায়ই সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে বিভিন্ন সময় তথা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ছুটির দিনে খুবই উৎসাহ এবং আড়ম্বরের সাথে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো খুদে বিজ্ঞানীদের তথা সেই সমস্ত মানুষদের যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করতে পছন্দ করে- তাঁদেরকে উৎসাহ দেওয়া, সকলের সাথে পরিচিত করানো, তাঁদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা যাতে তাঁরা নতুন কিছু আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এতে দেখা যায় অনেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নতুন নতুন ধারণা বা আইডিয়া নিয়ে কাজ করে নতুন কিছু উদ্ভাবনের উৎসাহ পায়। সেই সাথে যদি কোন আইডিয়া বা উদ্ভাবন সবার নিকট জনপ্রিয় হয়ে যায়, তখন তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে সরকার তথা বিভিন্ন বেসরকারী কোম্পানীও এগিয়ে আসে। এবং তখন সেগুলো যেমন আমরা স্বল্প মূল্যে ব্যবহার করতে পারি পাশাপাশি রপ্তানী করেও বহির্বিশ্ব থেকে বেশ ভালো একটা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।
হৃদয়- বাঃ সত্যিই তো- এধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, যারা নতুন কিছু আবিষ্কার বা উদ্ভাবন করতে চেষ্টা করে তাঁরা নিশ্চয়ই খুবই উৎসাহ পাবে, পাশাপাশি ছোটরাও এসমস্ত দেখে অনুপ্রাণিত হবে।
তাঁদের মধ্যেও এধরণের উদ্ভাবনী তথা সৃজনশীল মানুষিকতা গড়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। আর তাছাড়া যখন সম্ভাবনাময় কোন উদ্ভাবন নিয়ে কেউ কিছুটা সফল হয়েছে বলে দাবি করেন;
তখন সরকারী বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আরও একটু যাচাই বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে সেখান থেকে দু’একটা প্রকল্প নিশ্চয়ই সফল হবে এটাও খুবই যৌক্তিক এবং স্বাভাবিক ব্যাপার।
প্রয়োজন শুধু এরূপ যেকোন সম্ভাবনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতি এবং পরিকল্পনা থাকা, এগুলোকে সংঘবদ্ধ করা, হারিয়ে যেতে না দেওয়া। খুবই ভালো কথা- আশার কথা শোনালে, আচ্ছা এরপর আর কোন কৌশল?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ এবার তৃতীয় কৌশলে আসি, আমাদের দেশে সকল সরকারী , বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সকল প্রোপ্রাইটর দের অর্থাৎ যত ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আছে তাদের মালিকদের সকল সম্পত্তি ও বাৎসরিক আয় ব্যয় বিবরণী আয়কর রিটার্নে উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক।
এব্যাপারটাতে সরকার খুবই তীক্ষ্ণ নরজ রাখে এবং কোন প্রকার ছাড় দিতে সরকার রাজী না। যদি কারো আয়কর রিটার্নে উল্লেখ নেই এমন কোন সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায় তবে উপযুক্ত কারণ দর্শানোর প্রেক্ষিতে যথাযথ আয়কর প্রদান সাপেক্ষে তা পরবর্তী আয়কর বর্ষের মধ্যে আয়কর রিটার্নে অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে। অন্যথ্যায় সরকার উক্ত সম্পদ সরকারি কোষাগারে জমা করে নেওয়ার আইন করা আছে। পরবর্তীতে উক্ত সম্পত্তি ফেরত পেতে গেলে সরকারের সাথে মামলা মোকদ্দমা করে সরকারকে পরাস্ত করে তবে ফেরত পাওয়া যায় যা খুবই বিড়ম্বনার বিষয়।
এছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো আমাদের দেশে সকল প্রকার মাদক দ্রব্য উৎপাদন এবং বিপনন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ (শুধুমাত্র বিদেশী কুটনীতিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যাতীত), কারণ সরকার তথা বিজ্ঞজনেরা ভালভাবেই উপলব্ধি করেছে যে, যেকোন অন্যায় এবং সামাজিক অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে এই মাদকাসক্তি। এর জন্যই যেকোন মানুষের অবনতি তথা অধঃপতনের শুরুটা হয়। এই মাদকের টাকা যোগাড় করতে যেয়ে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ইত্যাদি হয়। অবশ্য সরকার –এ থেকে বড় একটা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়; কিন্তু সামগ্রীক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় যে; সেক্ষেত্রে সরকারের তথা জনগণের ক্ষতির পরিবর্তে লাভের পাল্লাই অনেক ভারী। আর এই মাদকাসক্তি তথা অপরাধ প্রবণতার মূল সূত্র থেকে সকলকে বের করে আনার জন্য, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকরী চারটি পদক্ষেপ আছে, শুনবে ?
হৃদয়- হ্যাঁ অবশ্যই শুনবো, তুমি বলো, আমি মন দিয়ে শুনছি।
স্বপ্নিল- শোন-
পদক্ষেপ ১. প্রত্যেকে যাতে তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন চর্চা করতে পারে তার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত উপাসনালয় স্থাপন করা এবং তার জন্য সার্বিক অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সফল ব্যক্তিত্ব এবং খ্যাতনামা পণ্ডিত-সজ্জন ব্যক্তিদের দ্বারা সাপ্তাহিক নিয়মিত পরিদর্শন এবং ধর্মীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা। এছাড়া সর্বসাধারণের উপস্থিতি নিয়মিত এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন প্রকার সরকারী সুযোগ-সুবিধার আওতায় এনে সকলকে উৎসাহ দেয়া- অনুপ্রাণিত করা। এছাড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা, কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, তা নিয়মিত তদারকি করা এবং এসংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট উপাসনালয় কমিটির উপর; অবশ্য তাঁদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মহোদয়। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে বছরে একবার সরকারের ধর্মমন্ত্রণালয় একটা বিশেষ সম্মাননা ও পুরষ্কারের ব্যবস্থা করে থাকে- সংশ্লিষ্ট উক্ত খ্যাতনামা পণ্ডিত, উপস্থিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপাসনালয় কমিটি এবং জেলা সাংবাদিক কমিটির সদস্যদের মধ্যে।
হৃদয়- বাঃ, খুবই ভালো উদ্যোগ। এমনিভাবে যদি বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সফল ব্যক্তিত্ব এবং খ্যাতনামা পণ্ডিত ব্যক্তিদেরকে আমন্ত্রণ করা হয় এবং তাঁদের দ্বারা ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়, তাছাড়া সরকারীভাবে উক্ত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয় তবে, সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই উক্ত অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে উৎসাহী হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় আলোচনায় বা এধরনের সংঘে সকলে নিয়মিত উপস্থিত থাকলে, একটা সময় পরে হলেও নিশ্চয়ই সরকারের সৎ উদ্দেশ্য অর্থাৎ নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্যও সফল হবে। আচ্ছা এবার দ্বিতীয় পদক্ষেপটা বলো।



Comments