স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত, এব্যাপারে আপনিও আপনার মতামত দিতে পারেন ।



অধ্যায় ১৪ :
খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ধর্ম – নৈতিক মানুষ গড়ার তিন ভিত্তি

পূর্ববর্তী বিবরণের পর-


স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন,

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হলো- প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চা করার জন্য আবশ্যিক পাঠ্যসূচীর মধ্যে কিছু কিছু বিষয় যেমন উল্লেখ আছে; তেমনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় রাখা এবং পর্যাপ্ত যায়গা রাখাও বাধ্যতামূলক। এছাড়া সরকারী উদ্যোগে এসমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্ক্ষলা ছাড়াই সকলেই সেসমস্ত মাঠ ও অডিটরিয়াম ব্যবহার করতে পারে। অবশ্য স্কুল চলাকালে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য কেউ সেসমস্ত মাঠ ও অডিটরিয়াম ব্যবহার করতে পারে না। এপ্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি- আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জাতীয় খেলা হলো ‘ভলিবল’।

হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু, এতো খেলা থাকতে ভলিবল কেন? এখন তো ক্রিকেট এবং ফুটবলই খেলার প্রতিই মানুষের বেশি আকর্ষণ।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ তোমার কথাই সঠিক, তবে আমাদের বিজ্ঞজনেরা মনে করেন- অপেক্ষাকৃত অল্প পরিসরে, অল্প খরচে, অল্প সময়ের মধ্যে, বেশি মানুষের ঝুঁকিবিহীন শরীরচর্চার সুযোগ এবং দর্শকসহ সকলের অফুরন্ত আনন্দের সুযোগ সবচেয়ে বেশি আছে এই ভলিবল খেলাতেই। অন্যান্য খেলার সাথে একটু তুলনা করে দেখো ঠিকই বুঝতে পারবে। আর এজন্যেই ভলিবল খেলাকে যতটা সম্ভব জনপ্রিয় করার বিশেষ চেষ্টা আছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট সকলের।

এছাড়া সর্বসাধারণের জন্যও বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা, শরীর চর্চা এবং সংস্কৃতি চর্চা করার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তথা সুযোগ আছে। অর্থাৎ প্রতিটি এলাকায় সকলের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার এবং সংস্কৃতি চর্চার জন্য অডিটরিয়ামের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া সেগুলোকে প্রচার করার ব্যাপারেও সরকার খুবই আগ্রহী, বলতে পারো একপ্রকার বাধ্যবাধকতা আছে। কারণটা হলো- সরকার মনে প্রাণে বিশ্বাস করে “সকলের সুস্থ্য শরীর, সুন্দর মন, সমগ্র দেশ তথা জাতীর কল্যাণ”।

হৃদয়- বাঃ খুবই সুন্দর এবং জনকল্যাণকর তোমাদের সকল পদক্ষেপগুলো। এমনিভাবে প্রত্যেকে যদি খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সংস্কৃতি চর্চা করার সুযোগ পায় তবে সকলের শরীর যেমন সুস্থ্য থাকবে, তেমনি মনও ভালো থাকবে। আর শরীর মন ভালো থাকলে সকল কাজে ভালোভাবে আত্মনিয়োগ করা যায় এটাই তো স্বাভাবিক। আচ্ছা এবার তৃতীয় পদক্ষেপের কথা কি বলবে?

স্বপ্নিল-হ্যাঁ এবার তৃতীয় পদক্ষেপের কথাই শোন, সেটা হলো প্রতিযোগিতার আয়োজন- এ পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারী বিশেষ ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকার প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় এবং তা বিশেষভাবে প্রচারের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা সাংবাদিক কমিটির উপর।
এছাড়া সময়ে সময়ে সরকারী উদ্যোগে বা বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় এবং সেগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে- যেমন উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতার আয়োজন করার মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বা শিল্পী বা ক্ষুদে বিজ্ঞানী খুঁজে বের করা হয়, তাঁদেরকে সম্মানিত করা হয়।
এক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি মহোদয়ের উপর। অবশ্য এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এর পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ তাঁদের প্রতিভা যাতে আরও বিকশিত হতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে- সে ব্যাপারে সকল দায়িত্ব নিয়ে থাকে সরকার এবং এ সংক্রান্ত একটা বাজেট এবং পরিকল্পনা আছে সরকারের।

হৃদয়- অর্থাৎ প্রতিভাবান শিল্পী, ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও খেলোয়াড়দেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের প্রতিভা যাতে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারে তার সকল দায়িত্ব নিয়ে থাকে সরকার এটাতো খুবই ভালো কথা। অবশ্য আমাদের দেশেও হয়তো এমনটা আছে। যাহোক এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পদক্ষেপ।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ হৃদয়, উপরোক্ত পদক্ষেপগুলোর সুস্পষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ্য হলো- সাধারণ মানুষের মনের সকল প্রকার উদ্বেগ- অশান্তি দূর করা, মন শান্ত করা, তাঁদেরকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া, মানবতার শিক্ষা দেওয়া।
তাঁদের চরিত্র নির্মাণে সেই সাথে সুস্থ্য শরীর গঠনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া। আর এটা সম্ভব হলেই মানুষ নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে যেমন দূরে থাকবে- তেমনি দেশের সুনাম, সম্মান বৃদ্ধির জন্য প্রতিভাবানদের সন্ধান পাওয়াও সহজলভ্য হবে।
আসলে বিজ্ঞজনেরা সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা থেকেই এধরণের পদক্ষেপ নিতে একমত হয়েছেন। তাঁরা এটাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, শরীর সুস্থ্য থাকলে- মনও ভালো থাকে; তখন যেকোন ধরণের চর্চা বা সাধনায় মনোনিবেশ করলে অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে অধিক সুফল পাওয়া যায়। আচ্ছা এবার কি চতুর্থ পদক্ষেপ-এর কথাই বলবে ?

হ্যাঁ এবার চতুর্থ পদক্ষেপ এর কথা শোন- সেটা হলো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীর উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ। একটা উদাহরণ দিচ্ছি নিচের ছবিটার দিকে আগে একটু দেখো।
Sopnopuri_images pic 69
এখানে লক্ষ করলে দেখবে উভয়ই সঠিক। তুমি যদি কারো সিদ্ধান্তকে বুঝতে চেষ্টা করো তবে তোমাকে তার অবস্থান থেকে বিষয়টাকে দেখতে হবে, ভাবতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ তোমার মতো করে তখনই ভাববে যখন সে তোমার মতো মানসিকতার হবে, তোমার মতো অবস্থায় থাকবে। চোর কখনও সাধুর মতো চিন্তা-ভাবনা করবে না, তখনই করবে যখন সে সাধুর সংগ পেয়ে সাধু হবে। তাই আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ তা সে যেই হোক শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, ধনী বা গরীব, চোর থেকে সাধু বা ছোট থেকে বড়ো সকলেই এমনকি একটা ইতর প্রাণীও সেই কাজই করে যা তার দিক থেকে বিবেচনা করে সেই সময়ের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হিসাবে সে সিদ্ধান্ত নেয়।
অর্থাৎ সকলেই তাদের নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী সবসময় সর্বোত্তম বিকল্প উপায়ই অবলম্বন করে থাকে। যেকারণে সমাজের মানুষের দ্বারা কৃত সামগ্রিক কর্মকান্ডের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সমাজের সকলের মানসিকতা বা বিবেচনার মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।

একটা চোর যখন চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চুরি করে তবে তার জন্য শুধুমাত্র চোরকেই দায়ী করে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। পাশাপাশি তার মানসিকতা বা বিবেচনা পরিবর্তনের জন্য এর দায়ভার চোরের পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রকে নিতে হবে। সবাই যদি নিজ নিজ দায় স্বীকার করে সে অনুযায়ী কর্তব্য পালন করে তবেই উক্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

হৃদয়- হ্যাঁ বন্ধু তুমি বলে যাও আমি খুব মনদিয়ে তোমার প্রত্যেকটা কথা শুনছি, এবং আশ্চর্য হচ্ছি এমন সুন্দর পদ্ধতিগত ভাবে সমস্যার গভীরে ঢুকে সমাধানের উপায় বের করা, সত্যিই অসাধারণ।

স্বপ্নিল- তাছাড়া আমরা এটাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে, একটা ভাল গুণের চর্চার সাথে সাথে চরিত্রের অন্যান্য ভাল গুণাবলীগুলো যেমন উজ্জীবিত হয়, তেমনি খারাপ গুণাবলীগুলোও আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে। অনুরূপভাবে একটি খারাপ গুণের চর্চা করলেই- চরিত্রের অন্যান্য খারাপ গুণাবলীগুলো যেমন উজ্জীবিত হয়, তেমনি ভালো গুণাবলী গুলোও আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে। তুমি দেখবে- একটি খারাপ কাজের সাথে সাথে অন্যান্য একাধিক খারাপ কাজের দরজা আপনা থেকেই খুলে হাতছানি দিয়ে ডাকবে - এসো এসো! ঠিক তেমনি একটি ভালো কাজ বা ভালো উদ্যোগ গ্রহণের সাথে সাথে অন্যান্য একাধিক ভালো কাজের অনুপ্রেরণা মনের মধ্যে আপনা থেকেই তৈরি হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে এটা আমরা আমাদের চলার পথের ধ্রুব নীতি হিসাবে মনে প্রাণে মেনে নিয়েছি যে, “সত্যকে গ্রহণ করো তথা মিথ্যাকে বর্জন করো”। এই একটা গুণকে যদি সবাই প্রাধান্য দিয়ে আঁকড়ে ধরে থাকতে পারি- তবেই দেশ তথা সমগ্র মানবজাতি সকলেরই সর্বাঙ্গিন কল্যাণ সাধিত হবে। -এতেই চরিত্রের অন্যান্য সকল খারাপ গুণগুলো আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাবে এবং ভালো গুণগুলো বিকশিত হতে থাকবে। বিষয়গুলো পরীক্ষিত, সম্ভব হলে তোমার নিজের জীবন থেকে মিলিয়ে নিও।

হৃদয়- সত্যিই তো! তোমাদের এসমস্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমী পদক্ষেপগুলো আমার মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে। অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো এরই মধ্যে লুকিয়ে আছে। আচ্ছা এসংক্রান্ত বিশেষ উল্ল্যেখ করার মতো আর কোন কৌশল আছে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ এসংক্রান্ত আরও একটি উল্ল্যেখ করার মতো কৌশল আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে আর তা হলো-

এই অংশের বিশেষজ্ঞ মতামত বা মূল্যায়ন দেখতে ক্লিক করুন।

এরপর- অধ্যায় ১৫ : কর্মজীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়ক সংগঠন (CGSO)

Comments


স্পষ্টীকরণ (Disclaimer)=> এই গ্রন্থ “স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী”–তে বর্ণিত দেশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নীতি, আইন, চরিত্র, সংলাপ, সংগঠন ও ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক এবং সাহিত্যিক বিন্যাসে উপস্থাপিত। বাস্তব কোনো রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত।

* * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।