শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্দ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ১: শ্রীশুক উবাচ
    বরীয়ানেষ তে প্রশ্নঃ কৃতো লোকহিতং নৃপ ৷
    আত্মবিৎসম্মতঃ পুংসাং শ্রোতব্যাদিষু যঃ পরঃ ॥১॥

  • অনুবাদ : শ্রীশুকদেব গোস্বামী বললেনঃ হে রাজন্ , আপনার প্রশ্ন যথার্থই মহিমান্বিত , কেননা তা সমস্ত মানুষের পরম হিতকর । এই বিষয়টি সমস্ত শ্রবণীয় বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং আত্মতত্ত্বজ্ঞ মুক্তকুল কর্তৃক অনুমোদিত ।
  • তাৎপর্যঃ- পরীক্ষিৎ মহারাজের জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন এত সুন্দর ছিল যে , তা সমস্ত শ্রবণীয় বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম । কেবল এই প্রশ্ন এবং উত্তর শ্রবণ করার মাধ্যমেই জীবনের পরম স্তর প্রাপ্ত হওয়া যায় । যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পুরুষ , তাই তার সম্বন্ধীয় সমস্ত প্রশ্নই সর্বাঙ্গসুন্দর এবং মঙ্গলময় । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে , জীবনের পরম সিদ্ধি হচ্ছে ভগবদ - উপলব্ধির প্রথম স্তর কৃষ্ণভক্তি লাভ করা । যেহেতু কৃষ্ণবিষয়ক প্রশ্ন এবং উত্তরের মাধ্যমে দিব্য স্তরে উন্নীত হওয়া যায় , তাই শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় মহারাজ পরীক্ষিতকৃত প্রশ্নগুলির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে । মহারাজ পরীক্ষিৎ চেয়েছিলেন তার মনকে সর্বতোভাবে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তায় মগ্ন করতে । শ্রীকৃষ্ণের অলৌকিক কার্যকলাপ শ্রবণ করার ফলেই কেবল এইভাবে মগ্ন হওয়া যায় । যেমন , ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে যে , কেবলমাত্র শ্রীকৃষ্ণের অপ্রাকৃত আবির্ভাব , তিরোভাব এবং কার্যকলাপের দিব্য প্রকৃতি হৃদয়ঙ্গম করার মাধ্যমেই ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া যায় এবং সেখান থেকে আর কখনই এই দুঃখ - দুর্দশাক্লিষ্ট জড় জগতে ফিরে আসতে হয় না । তাই শ্রীকৃষ্ণের কথা সর্বদা শ্রবণ করা পরম মঙ্গলপ্রদ । তাই মহারাজ পরীক্ষিৎ শ্রীল শুকদেব গোস্বামীকে অনুরোধ করছেন শ্রীকৃষ্ণের কার্যকলাপ বর্ণনা করতে , যাতে তিনি তার মনকে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তায় মগ্ন করতে পারেন । শ্রীকৃষ্ণের কার্যকলাপ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ থেকে অভিন্ন । যতক্ষণ মানুষ শ্রীকৃষ্ণের এই . অপ্রাকৃত কার্যকলাপ শ্রবণে মগ্ন থাকেন , ততক্ষণ তিনি জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত থাকেন । শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধীয় সমস্ত বিষয় এতই মঙ্গলময় যে , তা বক্তা , শ্রোতা এবং প্রশ্নকর্তা সকলেরই পরম মঙ্গলসাধন করে । তাই কৃষ্ণকথাকে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্ম থেকে উদ্ভূত গঙ্গার জলের সঙ্গে তুলনা করা হয় । গঙ্গার জল যেখানেই যায় সেই স্থান এবং তার জলে অবগাহনকারী মানুষদের পবিত্র করে । তেমনই , কৃষ্ণকথা বা কৃষ্ণ সম্বন্ধীয় আলোচনা , এতই পবিত্র যে যেখানেই তা আলোচিত হোক না কেন , সেই স্থান , বক্তা , প্রশ্নকর্তা , শ্রোতা আদি সকলেই পবিত্র হয়ে যান ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.