ভক্তসঙ্গে তীর্থ দর্শন, পূণ্যভূমী- তীর্থক্ষেত্র , গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রের মহিমা ও এসংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ।

গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র গুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত, সেখানে কীভাবে যাবেন? তীর্থক্ষেত্র দর্শনে যেয়ে কোথায় থাকবেন, কি খাবেন ইত্যাদি বিষয়ে ভগবদ্ভক্তদের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ।

  • শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর আবির্ভাব লীলাভূমি

    একচক্রা

    সনাতনগোপাল দাস ব্রহ্মচারী


        দ্বাপরযুগে একচক্রা নগরীতে বহু জনগণের বসতি ছিল। বনবাসী পাণ্ডবগণ ব্রাহ্মণ বেশে ভ্রমণ করতে করতে এ স্থানে এক সহৃদয় ব্রাহ্মণের গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দিনের বেলায় পাঁচ ভাই একচক্রার লোকের বাড়িতে বাড়িতে ভিক্ষা করতে যেতেন। তাঁদের গুণ , সৌহার্দ্য ভাব এমন ছিল যে , একচক্রাবাসী জনগণের কাছে তাঁরা বিশেষ প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ভিক্ষালব্ধ ভক্ষ্য বস্তু রন্ধন করতেন কুন্তীদেবী। তিনি প্রতিদিন অন্ন দুইভাগ করতেন। একভাগ ভীমের জন্য , বাকী একভাগকে পাঁচভাগ করতেন , তার চারভাই এবং নিজের জন্য। এভাবে ভোজন করতেন।

        একদিন যুধিষ্ঠির , অর্জুন , নকুল ও সহদেব বাইরে গিয়েছিলেন। কুন্তীদেবী এবং পুত্র ভীম ব্রাহ্মণগৃহে ছিলেন। হঠাৎ গৃহের মধ্যে ব্রাহ্মণ , তাঁর পত্নী , পুত্র ও কন্যার আতক্রন্দন শোনা গেল। কুন্তীদেবী কী ব্যাপার হয়েছে , দেখতে গেলেন। জানলেন যে , একচক্রা নগরীতে এক দুর্ধর্ষ রাক্ষস বাস করছে। বকাসুর নামে বিখ্যাত। সে নাকি দেশ রক্ষক। তার প্রভাবে বহিঃশত্রু কিংবা কোনও হিংস্র প্রাণী একচক্রাতে আসতে পারে না। কিন্তু রাক্ষস নিজেই একচক্রার বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন পালাক্রমে এক এক করে গৃহস্থের বাড়ি থেকে খাবার তার জন্য দিতে হবে। তার খাদ্যপদগুলি ভয়ংকর। একটা মানুষ , দুটি মহিষ , চল্লিশ মণ অন্ন ও সবজী। বহুদিন থেকে এই নিয়ম চলে আসছে। সবাই বিব্রত আছে। ব্রাহ্মণটি ক্রন্দন করতে করতে বললেন , একচক্রা ছেড়ে পালিয়ে যাবারও পথ নেই। রাক্ষসের নিয়মের ব্যতিক্রম বা বিরোধিতা করলে সে অবশ্যই সবংশ ধ্বংস করে দেবে। আর আমাদের রাজ্যের রাজা নির্বোধ ও অকর্মণ্য। লোকে আগে রাজার আশ্রয় নিয়ে ঘর বাঁধে। তারপর স্ত্রীপুত্র পরিবার গড়ে এবং অর্থ সংগ্রহ ও সঞ্চয় করে। রাজা , ভার্যা ও ধন এই তিনের সমৃদ্ধি দ্বারাই লোকে জ্ঞাতিবর্গ ও বংশকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য , আমি দুর্বিপাক গ্রস্ত। আমার বংশ আজ মরণাপন্ন। আজ রাক্ষসের কাছে আমাকেই খাদ্য পাঠাতে হবে। স্ত্রী পুত্র কন্যা সবাই রাক্ষসের হাতে মরতে চায়। তাই স্থির করেছি , দুঃখমোচন হবে সপরিবারে রাক্ষসের হাতে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে। কুন্তীদেবী বললেন , ব্রাহ্মণ , আপনি আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। আমার পাঁচ পুত্র। এক পুত্রকে পাঠাতে চাই রাক্ষসের কাছে। খাবার দিয়ে আসতে। আপনারা কেউ যাবেন না ।

        ব্রাহ্মণ বললেন , না না , আপনারা আমার অতিথি। আমাদের পরিবার রক্ষার জন্য আপনাদের কারও প্রাণ বিয়োগ হলে আমাদের মহাপাপ হবে। এরকম নৃশংস কর্ম আমি কখনও করব না। কুন্তীদেবী ব্রাহ্মণকে বললেন , আমার পুত্র বলশালী ও মন্ত্রসিদ্ধ। খাবার নেওয়ার ছলে রাক্ষসকে বধ করে সে ফিরে আসবে। আমি স্বচক্ষে দেখেছি , আমার পুত্র বড় বড় রাক্ষসকে বধ করেছে। একথা আপনি কাউকে বলবেন না , কেননা অনেকে এসে আমার পুত্রকে বিরক্ত করতে পারে।

        তারপর মা ও ব্রাহ্মণের আশীর্বাদ নিয়ে ভীম মহিষের গাড়ী করে খাবার নিয়ে গেলেন। পথমাঝে বসে ভীম নিজেই সমস্ত অন্ন - সবজী খেলেন। সব খাবার ভীম খেয়ে নিয়েছে জানতে পেরে রাক্ষস অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে ভীমকে আক্রমণ করল। শুরু হল ভীষণ যুদ্ধ। দশহাজার হাতীর বল সমন্বিত ভীমের হাতে বলশালী বকাসুর নিহত হল। সেই ভয়ংকর রাত্রে মহা গর্জনকারী বকাসুর মৃত্যুমুখে পতিত হলে একচক্রাবাসীরা জানতে পারল , ব্রাহ্মণ - গৃহের মন্ত্রসিদ্ধ অতিথিরা বকাসুরকে মেরে ফেলেছেন। সবার মধ্যে তখন আনন্দ ফিরে এল। একচক্রা থেকে দক্ষিণ দিকে ৯ কিলোমিটার দূরে কোটাসুর নামক অঞ্চলে ভীম ও বকাসুরের যুদ্ধ হয়েছিল। একচক্রায় যে স্থানে ব্রাহ্মণ - বাড়িতে পাণ্ডবেরা বাস করছিলেন সেই স্থানটি ' পাণ্ডব তলা ' নামে বিদিত।

        কলিযুগে আজ থেকে প্রায় পাঁচশত বছর আগে একচক্রাতে ১৪৭৪ খ্রিস্টাব্দে মাঘী শুক্লা ত্রয়োদশীতে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ শ্রীহাড়ো ওঝা ও তাঁর সহধর্মিণী পদ্মাবতী দেবীর পুত্ররূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বাংশপ্রকাশ শ্রীবলরাম আবির্ভূত হলেন। তাঁর নাম শ্রীনিত্যানন্দ। অপূর্ব সুন্দর শিশুরূপ মাধুরী। যে স্থানে তাঁর সূতিকাগৃহ , ‘ গর্ভবাস ' নামে পরিচিত সে স্থানে একটি মন্দির মধ্যে নিত্যানন্দ মূর্তি রয়েছে। পাশেই ' নিতাইকুণ্ড ' পদ্মাবতী দেবী শিশুপুত্র নিতাইকে এখানে স্নান করাতেন। হাড়ো ওঝা বা হাড়াইপণ্ডিতের বাসভবন , শিশুর মঙ্গলার্থে ষষ্ঠীপূজা স্থান , প্রাচীন দুটি বটবৃক্ষ বিদ্যমান ।

        এই একচক্রা এলাকাটি উত্তর দক্ষিণে ১২ কিলোমিটার বিস্তৃত। বীরভূম জেলায় অবস্থিত একচক্রা ধাম শ্রীমায়াপুর থেকে ১৬৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম দিকে। বাসে করে গেলে পাঁচ ঘণ্টার পথ। বীরভূমের রামপুরহাট শহর থেকে একচক্রা ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ - পূর্ব দিকে মল্লারপুর স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বদিকে মল্লারপুর স্টেশন ছেড়ে বাহিনামোড় থেকে বাসে করে হাজীপুরে আসতে হয় , সেখান থেকে একচক্রা। বহরমপুর - কান্দী সড়কে

        হাজীপুর থেকে উত্তর দিকে ১ কিলোমিটার দূরে একচক্রা। তারাপীঠ থেকে একচক্রা ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ - পূর্বদিকে।

        এখানকার বড় উৎসব হল নিত্যানন্দ আবির্ভাব তিথি। মাঘমাসের শুক্লা ত্রয়োদশীতে। এখানে একটি ইসকন মন্দির আছে। তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি ছোট অতিথিশালাও রয়েছে। সম্পূর্ণ গ্রামীণ এলাকা। এখন অবশ্য বিদ্যুৎ আছে। গ্রামটিতে চোখে পড়ে মাটির দেওয়াল , খড়ের ছাউনী ঘর , পুকুর , তালগাছ , সরসে ক্ষেত , ধানচাষ এলাকা। একচক্রার পশ্চিম জন্মস্থানে নিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীবিগ্রহ অংশটি বীরচন্দ্রপুর পরিচিত , শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর পুত্র বীরচন্দ্রের নাম অনুসারে।

        দর্শনীয় স্থান সমূহ

        ( ১ ) গর্ভবাস : নিত্যানন্দের জন্মস্থান , পাশেই বড় মন্দিরে তিনটি প্রকোষ্ঠ। মাঝখানে নিত্যানন্দ , দুইপাশে অদ্বৈত আচার্য ও গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রীবিগ্রহ। অন্য প্রকোষ্ঠগুলিতে রাধা - কান্ত , নৃত্যরত গৌরাঙ্গ , দশজন সখী।

        ( ২ ) মালাতলা : মন্দিরের পাশেই অশ্বথবৃক্ষ আছে। নিত্যানন্দ প্রভুর ১২ বছর বয়সে এক সন্ন্যাসীর সঙ্গে চলে গেল পিতা হাড়াই পণ্ডিত পুত্র বিরহে হরিনামের জপমালা এই বৃক্ষে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। বহু বছর পরে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখানে এলে বৃক্ষশাখায় গলায় ফুল মালা ঝুলিয়ে রেখেছিলেন।

        ( ৩ ) হাঁটুগাড়া : একসময় দধিচিড়া মহাপ্রসাদ ভোজন কালে বালক শ্রীনিত্যানন্দ এ স্থানে হাটু গেড়ে বসে ছিলেন। স্থানটি বর্তমানে ছোট্ট অগভীর জলাশয় মাত্র। সমস্ত তীর্থকে নিত্যানন্দ প্রভু আহ্বান করলে সর্বতীর্থের জল এই হাঁটুগাড়াতে প্রকাশিত হয়। একচক্রা গ্রামবাসী তাতে মহানন্দে স্নান করতে থাকেন। জলাশয়ের মাঝখানে নিত্যানন্দের বড় ভাই বাঁকারায়ের সমাধি রয়েছে জলের মধ্যে। এই স্থানে অতর্কিতে বাকারায় ভূমি অভ্যন্তরে প্রবেশকালে নিত্যানন্দকে বললেন , আমি বৃন্দাবনে যাব , পরে একদিন এখানে আসব যমুনার কদম্বখণ্ডীতে নিম্ব দারুবিগ্রহরূপে।

        ( ৪ ) বকুলতলা : জন্মস্থান ও হাঁটুগাড়ার মাঝখানে এই স্থানে বালক নিত্যানন্দ অন্যান্য বালকদের নিয়ে রামলীলা কৃষ্ণলীলা নাটক করতেন। গ্রামবাসীরা বাচ্চাদের সেই নাটক দেখে অত্যন্ত চমৎকৃত হতেন। হাড়াই পণ্ডিতের এই স্থানে বকুল বৃক্ষ ছিল। নিত্যানন্দ প্রভু তার শাখায় চড়ে খেলা করতেন। বৃক্ষতলে নিত্যানন্দ প্রভু বসে থাকলে বৃক্ষটির শাখা অনন্তদেবের রূপ ধারণ করত। বর্তমানে একই স্থানে সেই বৃক্ষের বংশধর বিদ্যমান। পাশের জলাশয়ে হনুমানের সেতুবন্ধন লীলা খেলা হত।

        ( ৫ ) পাণ্ডবতলা : নিত্যানন্দের জন্মস্থান থেকে পাঁচমিনিট দক্ষিণপূর্ব দিকে হেঁটে গেলেই ক্ষেতের মাঝে গোলোক চাঁপা ও কেলিকদম্ব গাছ রয়েছে। এখানেই কুন্তীদেবী ও পঞ্চপাণ্ডব ব্রাহ্মণগৃহে বাস করছিলেন।

        ( ৬ ) পদ্মাপুকুর : পদ্মাবতীর বাবা মুকুট রায় কন্যাকে এই পুকুর দিয়েছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর জলখেলা ও স্নানের স্থান। এখনও স্নান করবার মতো একচক্রাতে এটিই সবচেয়ে ভাল জায়গা।

        ( ৭ ) যমুনা নিত্যানন্দের জন্মস্থান থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে পেঁড়োল শিবগ্রাম থেকে যমুনা এসে বীরচন্দ্রপুর জন্মস্থান হয়ে ক্রমে দ্বারকা ও ময়ূরাক্ষী নদীতে মিলিত হয়ে গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যমুনাকে শ্রীবলরাম নিত্যানন্দ এখানে আকর্ষণ করে এনেছেন। এই যমুনা সরু ছোট্ট ও আঁকাবাঁকা গতি। বর্ষাকাল ছাড়া বছরের প্রায় সময়ই জল থাকে না।

        ( ৮ ) ইসকন মন্দির : তোরণদ্বার থেকে কয়েক পা পূর্ব দিকে এগিয়ে গেলেই যমুনা দর্শন হবে। যমুনার সাঁকো পার হলেই বাম পাশে ইসকন মন্দির। শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর কৃপাভিনিবিষ্ট ইসকন প্রতিষ্ঠাতা - আচার্য শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ সারা পৃথিবীতে নিত্যানন্দ - করুণা বিতরণ করেছেন।

        ( ৯ ) বিশ্রাম তলা : যমুনার তীরে প্রাচীন অশ্বত্থবৃক্ষ রয়েছে। নিত্যানন্দ প্রভু এই বৃক্ষের তলে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। ৩০ বছর পর একচক্রাতে নিত্যানন্দ প্রভু ফিরে এসে এই বৃক্ষতলায় বসেছিলেন অসংখ্য বৈষ্ণবের সমাধির প্রাচীন নিদর্শন দেখা যায় ।

        ( ১০ ) কদম খণ্ডী : শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশে নিত্যানন্দ প্রভু গৌড়দেশে হরিনাম প্রচার করতে লাগলেন। তখন তাঁর পিতা - মাতা স্বধামে গমন করেছেন। নিত্যানন্দ প্রভু লক্ষ্য করেছিলেন এই স্থানে যমুনার জলের মধ্যে বাঁকারায়কে ( শ্রীকৃষ্ণ বিগ্রহ )। তিনি তাঁকে তুলে নিয়ে একটি মন্দির বানিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন। তারপর বীরচন্দ্রপুর গ্রামের পশ্চিমদিকে একটি নিমগাছের তলায় রাধারাণীকে আবিষ্কার বাঁকারায়ের পাশে স্থাপন করেন। তখন রাধারাণী ‘ ভড্ডারপুরের ঠাকুরাণী ’ নামে লোক পরিচিত ছিলেন। কদম খণ্ডী ঘাট স্থানে প্রাচীন নিদর্শন চোখে পড়বে। এখানে একটি ছোট মন্দিরে কানাই - বলাই পূজিত হচ্ছেন। ভড্ডারপুর গ্রামে তাঁকে এনে করেন।

        ( ১১ ) বাঁকারায় মন্দিরঃ কথিত আছে নিত্যানন্দ প্রভু এই বাঁকারায়ের সঙ্গে মিশে যান ৷ বাঁকারায়ের ডানপাশে জাহ্নবাদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। নিত্যানন্দ পুত্র বীরচন্দ্র প্রভু এই মন্দিরে অন্তর্হিত হন। মন্দির মধ্যে তাঁর শ্রীশ্রীর্বাকারায় জীউ সমাধি রয়েছে। বীরচন্দ্রপ্রভুর প্রিয় শিষ্য গোপীনাথবল্লভানন্দের বংশধরেরা বাঁকারায়ের পূজা করছেন। পালাক্রমে তাঁরা মন্দিরের দেখাশোনা করেন।

        ( ১২ ) ভাণ্ডীরেশ্বর শিব : বাঁকারায় মন্দিরের উত্তর দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেলে জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রাদেবীর দর্শন হবে। তার পাশে বাঁকারায়ের গোষ্ঠলীলা তলা এবং শিব মন্দির বিদ্যমান। হাড়াই পণ্ডিত এই শিবের পূজা করতেন। জগন্নাথদেবও হাড়াইপণ্ডিতের সেবিত।

        ( ১৩ ) কুণ্ডল তলা : একচক্রা গ্রাম থেকে দক্ষিণ দিকে ৬ কিলোমিটার দূরে কিংবা সাঁইথিয়া থেকে উত্তর - পূর্বদিকে ৬ কিলোমিটার দুরে কুণ্ডল তলা। বহু দিন যাবৎ এ স্থানে একটি ভয়ংকর সাপ বাস করছিল। সে বহু লোকের অনিষ্ট করছিল। বাল্যকালে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু এই স্থানে এসে সাপের গর্ত আবিষ্কার করলেন। তাঁর কানের কুণ্ডল দিয়ে গর্ত বন্ধ করে দিলেন। সেই সাপ চিরতরে ভূগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। নিত্যানন্দ প্রভুর কুণ্ডল এখন এখানে পূজিত হচ্ছে। শ্রীধাম বৃন্দাবনের মতো এই একচক্রাতেও শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর লীলা স্মৃতিময় স্থানে রাধাকুণ্ড , শ্যামকুণ্ড , গোবর্ধন সমস্তকিছুই গুপ্ত ও কিঞ্চিৎ প্রকাশিত রূপে বিদ্যমান। একচক্রা এলাকার বাসিন্দাগণের মুখের সম্বোধন বোল , ‘ জয় নিতাই ’। রাঢ়দেশে লাল ধূলিধূসরিত নিত্যানন্দ আবির্ভাব লীলা ভূমি একচক্রা ধামে এসে ভক্তগণের আপাতত একটি কথা মনে পড়বে , সেটি হল শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা বিনা কেউ মহাবদান্য গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর কৃপা লাভের পাত্র হন না , কেউ রাধাকৃষ্ণভক্তি - লাভে যোগ্য হন না। মানুষ যদি দুঃখময় সংসার - সাগর উত্তীর্ণ হয়ে নিত্যভক্তি - আনন্দসাগর লাভ করতে বাসনা করে , তবে তাঁকে অবশ্যই নিত্যানন্দ পাদপদ্মে শরণাগত হতে হবে। এ বিষয়ে শ্রীচৈতন্য ভাগবত রচয়িতা শ্রীল বৃন্দাবন দাস ঠাকুর ( আদি ১/৭৭ ) বলেছেন—

    সংসারের পার হই ভক্তির সাগরে।
    যে ডুবিবে , সে ভজুক নিতাইচাঁদেরে॥

  • এছাড়াও দেখতে পারেন => পূর্বোল্লিখিত তীর্থ দর্শনের ভূমিকা অথবা তীর্থস্থান রাজাপুর
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.