* ভগবান শ্রীকৃষ্ণ *
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

Krishna vs Arjun @ Gita Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture
*

  হরিনাম বিনা জীবের গতি নাই  

----------------------------------
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্ ।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা ।।
(বৃহন্নারদীয় পুরাণ)

কলিকালে নামরূপে কৃষ্ণ অবতার ।
নাম হৈতে হয় সর্বজগৎ-নিস্তার ।।
দার্ঢ্য লাগি ‘হরে র্নাম-উক্তি তিনবার ।
জড় লোক বুঝাইতে পুনঃ ‘এব’-কার ।।
‘কেবল’ শব্দে পুনরপি নিশ্চয়-করণ ।
জ্ঞান-যোগ-তপ-কর্ম-আদি নিবারণ ।।
অন্যথা যে মানে, তার নাহিক নিস্তার ।
নাহি, নাহি, নাহি-তিন উক্ত ‘এব’-কার ।।
(চৈঃ চঃ আ ১৭/২১-২৫)

এই মহামন্ত্র জপ্য ও কীর্তনীয়
আপনে সবারে প্রভু করে উপদেশে ।
কৃষ্ণ-নাম মহা-মন্ত্র শুনহ হরিষে- ।।
‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
প্রভু বলে, - “কহিলাম এই মহামন্ত্র ।
ইহা জপ’ গিয়া সবে করিয়া নির্বন্ধ ।।
ইহা হৈতে সর্ব-সিদ্ধি হইবে সবার ।
সর্বক্ষণ বল’ ইথে বিধি নাহি আর ।।
কি ভোজনে, কি শয়নে, কিবা জাগরণে ।
অহর্নিশি চিন্ত কৃষ্ণ বলহ বদনে ।।
দশ-পাঁচ মিলি’ নিজে দ্বারেতে বসিয়া ।
কীর্তন করহ সবে হাতে তালি দিয়া ।।
সন্ধ্যা হৈলে আপনার দ্বারে সবে মিলি’ ।
কীর্তন করেন সবে দিয়া করতালি ।।
এই মত নগরে নগরে সংকীর্তন ।
করাইতে লাগিলেন শচীর নন্দন।।
(চৈঃ ভাঃ মধ্যঃ)

সর্বদা শ্রীমুখে ‘হরে কৃষ্ণ হরে হরে’ ।
বলিতে আনন্দ ধারা নিরবধি ঝরে ।।
(চৈঃ ভাঃ আ ১/১৯৯)

কৃষ্ণনাম-মহামন্ত্রের এই ত’ স্বভাব ।
যেই জপে, তার কৃষ্ণে উপজয়ে ভাব ।।
(চৈঃ ভাঃ আ ৭/৮৩)

গৌর যে শিখাল নাম সেই নাম গাও ।
অন্য সব নাম-মাহাত্ম্য সেই নামে পাও ।।

শ্রীশ্রীনাম-সংকীর্তন

(হরি) হরয়ে নমঃ কৃষ্ণ যাদবায় নমঃ ।
যাদবায় মাধবায় কেশবায় নমঃ ।।
গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন ।
গিরিধারী গোপীনাথ মদনমোহন ।।
শ্রীচৈতন্য নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত সীতা ।
হরি, গুরু, বৈষ্ণব, ভাগবত, গীতা ।।
শ্রীরূপ, শ্রীসনাতন, ভট্ট-রঘুনাথ ।
শ্রীজীব, গোপালভট্ট, দাস-রঘুনাথ ।।
এই ছয় গোসাঞির করি চরণ বন্দন ।
যাহা হৈতে বিঘ্ননাশ অভীষ্ট পুরণ ।।
এই ছয় গোসাঞি যাঁর, মুঞি তাঁর দাস ।
তাঁ’সবার পদরেণু-মোর পঞ্চগ্রাস ।।
তাঁদের-চরণ-সেবি ভক্তসনে বাস ।
জনমে জনমে হয় এই অভিলাষ ।।
এই ছয় গোসাঞি যবে ব্রজে কৈলা বাস ।
রাধাকৃষ্ণ নিত্য লিলা করিলা প্রকাশ ।।
আনন্দে বল হরি, ভজ বৃন্দাবন ।
শ্রীগুরুবৈষ্ণব পদে মজাইয়া মন ।।
শ্রীগুরু-বৈষ্ণব-পাদপদ্ম করি আশ ।
নাম-সংকির্তন কহে নরোত্তম দাস ।।

মহানাম বিতরণের নামে অনেক ব্যবসায়িক সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে, তাদের নাম বিতরণের যে ধরন, ধারা, বা পদ্ধতি বর্তমানে প্রচলিত তা সংশোধন হওয়ার সময় কি এখনও আসেনি? (যেমন- স্টেজে উঠেই ৩০-৪০ মিনিট মাত্রারিক্ত খোল-করতালের শব্দযুক্ত বন্দনা, তারপর ঘণ্টা খানেক রাগ-রাগিনীর দুর্বোধ্য নাম পরিবেশন এবং শেষে বাঁশি বা বেহালায় বিভিন্ন হিন্দি-বাংলা ছবির গানের সুর তোলার প্রতিযোগিতা- সাথে কখনও কখনও অদ্ভুত সব নৃত্য !) যে সমস্ত ভক্তগণ নাম শ্রবণে যান (তাদের বেশীরভাগ মানুষের কার্যকলাপ-- না থাক---) তাঁরা সেখান থেকে কতটুকু ভক্তি বা পুণ্য অর্জনে সমর্থ হন বলে আপনারা মনে করেন ? শ্রীমন্ মহাপ্রভু কি এই মহানাম এভাবে প্রচারের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন?
যাহোক, আমার ব্যক্তিগত অভিমত-
১। নাম পরিবেশন হবে সহজবোধ্য এবং অংশগ্রহণমূলক। (যারা নাম পরিবেশন করবেন তাঁরা এবং সমবেত ভক্তগণের সমন্বয়ে।) কীভাবে ? যারা নাম পরিবেশন করবেন তাঁদের দলের মধ্যে দুইটা ভাগ থাকবে, যার একভাগ একটা সহজ সুরে নাম ধরবেন এবং ছাড়ার পর অপর একভাগ সেই একই সুরে নাম ধরবেন সমবেত ভক্তগণের সাথে। এভাবে সকলে মিলেই নাম পরিবেশন এবং আস্বাদন করবেন।
২। একটা সম্প্রদায়ের গানের সময়সীমা প্রয়োজনে ২ ঘণ্টার পরিবর্তে ১ ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা করা হোক। কথাগুলোর সাথে একমত অথবা আপনার কোন মত থাকলে কমেন্টসে জানান। আর যারা একমত পোষণ করেন তাঁদের কাছে অনুরোধ লেখাটি কপি করে, শেয়ার করে অথবা যেভাবে হোক- মহাপ্রভুর মহানাম সঠিকভাবে প্রচারে সকলকে অনুরোধ করবেন।

*ভগবান শ্রীকৃষ্ণ*
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

* * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

Say something

Please enter name.
Please enter valid email adress.
Please enter your comment.