পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
স্বপ্নিল– দেখ হৃদয়, আমি তো আগেই বলেছি – আমরা পরিপূর্ণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার, প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে থাকি সর্বত্র, আর সেটি গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও। আর এরই ফলস্বরূপ আমরা একবার নয়, দুইবার নয়, অগণিত বার ভোট প্রদান করে থাকি।
যখনই কোন নতুন আইন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, সংবিধান সংশোধন – এরূপ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ভোট প্রদান করে থাকি। তবে শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুইটা পদ্ধতিতে ভোট প্রদান করে থাকি – অর্থাৎ ব্যালট ভোট এবং RMM Vote; আর অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র RMM Vote–এর মাধ্যমে মতামত প্রদান করে থাকি।
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু এই RMM Vote-এর মাধ্যমে জনস্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থ সম্বলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটা আরও একটু বিস্তারিতভাবে বলবে; খুব জানতে ইচ্ছা করছে।
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন- আমাদের দেশে ঠিক যেভাবে এ প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন হয় তা হলো এরকম। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বা বিল প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ সম্বলিত ও স্বাক্ষরিত হয়ে অথবা দুই তৃতীয় (২/৩) অংশ সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত হয়ে প্রথমে প্রস্তাবনা আকারে সংসদে উপস্থাপিত হয় এবং উক্ত সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে আলোচনা পর্যালোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর মাননীয় স্পীকার সেব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন ধার্য করেন। এর পর থেকেই তা গণমাধ্যমে প্রদর্শন করা হয় RMM Vote-এর জন্য এবং সাথে সাথে RMM Vote এর নিয়মাবলীও প্রদর্শন করা হয়। অর্থাৎ “Purpose Vote Code” Space “Yes/No” Send “Area Code”. তবে এক্ষেত্রে সকল এরিয়া কোডের আওতাধীন মোট প্রাপ্ত ভোটের সাথে সাংসদদের ভোট সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এসংক্রান্ত একটা খসড়া হিসাব আমার ল্যাপটপে আছে, যেখানে পরপর দুটি উদাহরণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটা তুলনা করা হয়েছে।
লক্ষ্য করলে দেখবে, কোন একটা জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ২০০ জন জনপ্রতিনিধির ভোটের বিপরীতে ১০ কোটি ১০০০ জন সাধারণ জনগণের ভোটকে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রথম ক্ষেত্রে –
• ধরা যাক, ১০ কোটি সাধারণ জনগণ “No Vote” দিয়েছে,
• এবং ২০০ জন এমপি–ই “Yes Vote” দিয়েছে, কেউ “No Vote” দেয়নি –
• কিন্তু মাত্র ১০০০ জন সাধারণ জনগণ “Yes Vote” দিয়েছে,
এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি এসেছে ACCEPTED, কারণ ১০ কোটি জনগণ (No) vs ২০০ জন এমপি (Yes) কাটাকাটি হলেও অতিরিক্ত ১০০০ জন জনগণের "Yes Vote" দেওয়ায় সিদ্ধান্ত আসছে "ACCEPTED" ।
আবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে –
• ধরা যাক, সকল এমপি “Yes Vote” দিয়েছে, আবার
• সকল সাধারণ জনগণ “No Vote” দিয়েছে –
এই অবস্থায় সিদ্ধান্তটি এসেছে REVOTE – অর্থাৎ পুনরায় ভোট নিতে হবে; কারণ জনগণের স্পষ্ট সমর্থন সেখানে দেখা যায়নি, যেহেতু ২০০ জন এমপি'র ভোটের গুরুত্ব ও ১০ কোটি বা যেকোন সংখ্যক জনগণের ভোটের গুরুত্ব একই।
তুমি যদি খসড়া হিসাবটা দেখো, বুঝতে পারবে কীভাবে সংসদ সদস্যদের ভোট এবং কোটি কোটি RMM ভোটারের ভোট একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়, এবং একটি সিদ্ধান্ত “ACCEPTED / REJECTED / REVOTE” হবে কিনা, সেটা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া তুমি চাইলে এই লিংকে ক্লিক করেও নিজেই হিসাবটা দেখে নিতে পারো।
হৃদয়- [হৃদয় মনে মনে ভাবে – সত্যিই খুব সুন্দর ব্যবস্থা, আহ্ আমাদের দেশেও যদি এমনটা হতো! যদি প্রতিটা জাতীয় স্বার্থ বা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশের ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণও যদি এমন ভোট প্রদানের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারতো! ] আশ্চর্য হয়ে বলে, বাঃ! খুব সুন্দর ব্যবস্থা। এতে তো দেখা যাচ্ছে – সংসদে যারা বসে, তারা শুধু নিজেদের দল বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের প্রকৃত মতামতও চিন্তা করতে বাধ্য হয়। আচ্ছা যদি কোন সংসদ সদস্য সংসদে উপস্থিত না থাকে সেক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে কোন সমস্যা হয়?
স্বপ্নিল- দেখ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ সংসদে উপস্থিত নাও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে সংসদের কাজে অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজে কোন সমস্যা হয় না। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (মনে করো সকাল ১০টা থেকে ১২টা এর মধ্যে) উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা এবং মোট প্রাপ্ত RMM Vote উভয়ের গুরুত্ব সমান ধরা হয় এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আর তাছাড়া আমাদের দেশে একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেউ সংসদে অনুপস্থিত থাকেন না। কারণ প্রত্যেক সাংসদ সংসদে উপস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ সুযোগ সুবিধা সহ নির্দিষ্ট ভাতা পান। এছাড়াও এম.পি. এবং মন্ত্রীদের জন্য অতিরিক্ত নির্দিষ্ট একটা সম্মানী থাকে।
হৃদয়- বেশ সুন্দর ব্যবস্থা তো! আচ্ছা বন্ধু এধরনের ব্যবস্থার জন্য কেউ কোন প্রকার আপত্তি বা অসম্মান বোধ করেন কি-না?
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয় আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা দেশ সেবার তথা জনসেবার ব্রত নিয়েই সংসদে যান। সংসদে উপস্থিত থাকাকে তাঁরা তাঁদের গুরুদায়িত্ব হিসাবে মেনে নিয়েই দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদের সিদ্ধান্ত, জনগণের সিদ্ধান্তকে কেউ অসম্মান বা এবিষয়ে কোন প্রকার বিরূপ মন্তব্য করেন না। আর তাই হয়ত এধরনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা নেতিবাচকভাবে ভাবেন না।
হৃদয়- বাঃ বেশ ভালো এবং প্রশংসনীয় তোমাদের সকল ব্যবস্থা। আচ্ছা বন্ধু অনেক কথাই তো শুনলাম, নিশ্চয়ই তোমারও খুব ক্ষুধা পেয়েছে চলো পার্কের ঐদিকটায় দোকান আছে বসে কিছু খাওয়া যাবে।
স্বপ্নিল- হ্যাঁ ঠিক আছে চলো। কিন্তু এই সকাল বেলা কি খাওয়া যায় বলো তো?
হৃদয়- এইতো সকালের নাস্তা হিসাবে এখানে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। এখান থেকে পছন্দমত খাওয়া যাবে। [তারপর তাঁরা সকালের নাস্তা সম্পন্ন করল।]
স্বপ্নিল- আচ্ছা বন্ধু অনেক কিছুইতো খেলাম কিন্তু মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল।
হৃদয়- কেন বন্ধু এতে মন খারাপ হওয়ার কি আছে? কিছু কি বেশি খেয়ে ফেলেছ? না-কি কিছু খাওয়ার বাকী আছে?
স্বপ্নিল- না-না ওসব কিছু নয়, টিভিতে খবরের শিরোনামগুলো দেখে আমার পুরানো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তো দেখছি বেশ ভয়াবহ। দিনে-দুপুরে ছিনতাই, হত্যা, দখল, অগ্নিসংযোগ সবই তো দেখছি শিরোনাম হয়ে গেছে প্রতিটা সংবাদ মাধ্যমে। মনে হচ্ছে আমাদের দেশের একসময়কার চরম পরিস্থিতিতে পৌঁছতে আর বেশি দেরী নেই। আচ্ছা হৃদয় তোমরা এখনও কেন চুপ করে বসে আছো? সবকিছু যাতে স্থায়ীভাবে সমাধান হয়- সে চেস্টা করছ না কেন?
হৃদয়- হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই বলেছ। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কি হতে পারে সেটা নিয়ে সত্যিই খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। হয়ত আমরা এখনও পর্যন্ত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি যাতে সমস্যাগুলো থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে আমাদের চেষ্টা কিন্তু থেমে নেই বা আন্তরিকতারও অভাব নেই। এব্যাপারে আমার যেটা মনে হয়, “হয়ত সর্বসম্মতিক্রমে বা নিরপেক্ষভাবে নিঃস্বার্থ চেস্টার অভাব আছে।” আর এই একটুখানি ঘাটতি থাকার কারণেই জবাবদিহিতার বিষয়টা অনেকে কম গুরুত্ব দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে। কৈফিয়ত বা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি পরিপূর্ণভাবে গড়ে না ওঠার কারণও ঐ একটুখানি ঘাটতি। অর্থাৎ সর্বসম্মতিক্রমে বা নিরপেক্ষভাবে নিঃস্বার্থ চেষ্টার অভাব।
সত্যিই যদি তোমাদের দেশের মত জবাবদিহিতার ব্যবস্থাটা আমাদের দেশেও থাকত তাহলে আমরাও নিশ্চয়ই অনেক দ্রুত সবদিক থেকে এগিয়ে যেতে পারতাম। এবং আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নও অতি দ্রুততার সাথে সম্ভব হতো।
আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশের এত দ্রুত উন্নয়নের পিছনে আরও বিশেষ কোন কৌশল আছে না-কি, যদি একটু বলো।



Comments