শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ১৩:
    খট্বাঙ্গো নাম রাজর্ষিজ্ঞাত্বেয়ত্তামিহাযুষঃ ।
    মুহূর্তাৎসর্বমুৎসৃজ্য গতবানভয়ং হরিম্ ॥১৩ ৷৷

  • অনুবাদ : রাজর্ষি খট্বাঙ্গ যখন জানতে পারলেন যে তার আয়ুর আর এক মুহূর্ত মাত্র অবশিষ্ট আছে , তিনি তৎক্ষণাৎ সমস্ত জড় জাগতিক বিষয় পরিত্যাগ করে শ্রীহরির অভয়পদে শরণাগত হয়েছিলেন ।
  • তাৎপর্যঃ- বিচক্ষণ মানুষদের সর্বদা মানব জীবনের চরম উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সচেতন থাকা উচিত । জড় - জাগতিক জীবনের আবশ্যিক প্রয়োজনগুলি মেটানোর জন্য কর্ম করাটাই সবকিছু নয় । পরবর্তী জীবনের সবচাইতে ভাল অবস্থা প্রাপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে সর্বদা সচেতন থাকা কর্তব্য । সেই পরম উদ্দেশ্য সাধনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করাটাই মানব জীবনের উদ্দেশ্য । এখানেযে মহারাজ খট্রাঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়েছে , তিনি ছিলেন একজন রাজর্ষি । কেননা রাজ্য শাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনও জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিস্তৃত হন নি । মহারাজ যুধিষ্ঠির , মহারাজ পরীক্ষিৎ আদি অন্যান্য রাজর্ষিরাও ঠিক এরকমই ছিলেন । মানব জীবনের প্রথম কর্তব্য সাধনে তারা সকলেই ছিলেন আদর্শ দৃষ্টান্তস্বরূপ । অসুরদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য স্বর্গের দেবতারা মহারাজ ঘটাঙ্গের কাছে প্রার্থনা করে তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন , এবং প্রবল বিক্রমের সঙ্গে যুদ্ধ করে মহারাজ খট্টাঙ্গ স্বর্গের দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধান করেছিলেন । তার প্রতি প্রসন্ন হয়ে স্বর্গের দেবতারা তাকে কোন বর দিতে চান । কিন্তু মহারাজ খট্টাঙ্গ তার জীবনের পরম কর্তব্য সম্বন্ধে অত্যন্ত সচেতন থাকার ফলে দেবতাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি আর কতদিন জীবিত থাকবেন । এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় , মহারাজ ঘটাঙ্গ জাগতিক সুখ - স্বাচ্ছন্দ্য লাভের জন্য স্বর্গের দেবতাদের কাছ থেকে বর গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলেন না । বরং তিনি পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে তৎপর ছিলেন । দেবতারা তখন তাকে জানিয়েছিলেন যে তার আয়ুষ্কালের আর এক মুহূর্ত সময় অবশিষ্ট রয়েছে । মহারাজ ঘটাঙ্গ তৎক্ষণাৎ সমস্ত ভোগৈশ্বর্যপূর্ণ স্বৰ্গলোক ত্যাগ করে পৃথিবীতে ফিরে এসে পরমেশ্বর ভগবানের অভয় চরণারবিন্দের আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন । তার সেই মহান চেষ্টায় তিনি সফল হয়েছিলেন এবং মুক্তি লাভ করেছিলেন । তার এই চেষ্টা এক মুহূর্তের জন্য হলেও রাজর্ষি খট্টাঙ্গ সফল হয়েছিলেন , কেন না , তিনি সর্বদা তার জীবনের পরম উদ্দেশ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন । যদিও মহারাজ পরীক্ষিতের আয়ুর আর সাতদিন মাত্র অবশিষ্ট ছিল , তথাপি মহাত্মা শ্রীল শুকদেব গোস্বামী তাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন শ্রীমদ্ভাগবতরূপে পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা শ্রবণ করতে । ভগবানের ইচ্ছায় মহারাজ পরীক্ষিতের সঙ্গে তখন শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর সাক্ষাৎকার হয়েছিল , এবং যে পারমার্থিক সম্পদ তিনি প্রদান করেছিলেন তা সুন্দরভাবে শ্রীমদ্ভাগবতে নিবদ্ধ হয়েছে ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।