সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক


  • শ্লোক: 14

    বয়ং তু ন বিতৃপ্যাম উত্তমঃশ্লোকবিক্রমে।
    যচ্ছৃণ্বতাং রসজ্ঞানাং স্বাদু স্বাদু পদে পদে ।।
    (ভাগবত ১/১/১৯)


  • অনুবাদঃ- উত্তম শ্লোকের দ্বারা বন্দিত হন যে পরমেশ্বর ভগবান, তাঁর অপ্রাকৃত লীলাকথা যতই আমরা শ্রবণ করি না কেন, আমাদের তৃপ্তি হবে না। যাঁরা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে অপ্রাকৃত রস আস্বাদন করেছেন, তাঁরা নিরন্তর তাঁর লীলাবিলাসের রস আস্বাদন করেন।


  • শ্লোক: 15

    যথা তরোর্মূলনিষেচনেন
    তৃপ্যন্তি তৎস্কন্ধভুজোপশাখাঃ ।
    প্রাণোপহারাচ্চ যথেন্দ্রিয়াণাং
    তথৈব সর্বার্হণমচ্যুতেজ্যা ।।
    (ভাগবত ৪/৩১/১৪)


  • অনুবাদঃ- গাছের মূলে জল সেচন করলে যেমন সেই গাছের কাণ্ড, ডাল, উপশাখা প্রভৃতি সকলেই তৃপ্তিলাভ করে এবং উদরে আহার্যদ্রব্য প্রদানের দ্বারা যেমন ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি হয়, তেমনই শ্রীকৃষ্ণের পূজা করলে সমস্ত দেবতাদের পূজা হয়ে যায়।।


  • শ্লোক: 16

    দেবর্ষিভূতাপ্তনৃণাং পিতৃণাং
    ন কিঙ্করো নায়মৃণী চ রাজন্ ।
    সর্বাত্মনা যঃ শরণং শরণ্যং
    গতো মুকুন্দং পরিহৃত্য কর্তম্ ।।
    (ভাগবত ১১/৫/৪১)


  • অনুবাদঃ- যিনি সমস্ত জাগতিক কর্তব্য পরিত্যাগ করে, সকলের আশ্রয় পরমেশ্বর ভগবানের শরণাগত হন, তখন আর তিনি দেবতাদের কাছে এবং পিতৃপুরুষদের কাছে ঋণী থাকেন না।


  • শ্লোক: 17

    তদা রজস্তমোভাবাঃ কামলোভাদয়শ্চ যে ।
    চেত এতৈরনাবিদ্ধং স্থিতং সত্ত্বে প্রসীদতি ।।
    (ভাগবত ১/২/১৯)


  • অনুবাদঃ- যখন হৃদয়ে নৈষ্ঠিকী ভক্তির উদয় হয়, তখন রজ ও তমোগুণের প্রভাবজাত কাম, ক্রোধ, লোভ আদি রিপুসমূহ হৃদয় থেকে বিদূরিত হয়ে যায়। তখন ভক্ত সত্ত্বগুণে অধিষ্ঠিত হয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রসন্ন হন।


  • শ্লোক: 18

    এবং প্রসন্নমনসো ভগবদ্ভক্তিযোগতঃ ।
    ভগবত্তত্ত্ববিজ্ঞানং মুক্তসঙ্গস্য জায়তে ।।
    (ভাগবত ১/২/২০)


  • অনুবাদঃ- এভাবেই শুদ্ধ সত্ত্বে অধিষ্ঠিত হয়ে ভক্তিযোগে যুক্ত হওয়ার ফলে যাঁর চিত্ত প্রসন্ন হয়েছে, তিনি সব রকম জড় বন্ধন মুক্ত হয়ে ভগবৎ-তত্ত্ব বিজ্ঞান উপলব্ধি করেন।


  • শ্লোক: 19

    মুক্তিং দদাতি কর্হিচিৎ স্ম ন ভক্তিযোগম্
    (ভাগবত ৫/৬/১৮)


  • অনুবাদঃ- যারা ভগবানের কৃপা অভিলাষী, ভগবান অতি সহজেই তাদেরকে মুক্তি দান করেন, কিন্তু তাঁর প্রতি ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের সুযোগ তিনি খুব সহজে কাউকে দেন না।


  • শ্লোক: 20

    যৎকীর্তনং যৎস্মরণং যদীক্ষণং
    যদ্বন্দনং যচ্ছ্রবনং যদর্হণম্ ।
    লোকস্য সদ্যো বিধুনোতি কল্মষং
    তস্মৈ সুভদ্রশ্রবসে নমো নমঃ ।।
    (ভাগবত ২/৪/১৫)


  • অনুবাদঃ- আমি সেই সর্ব মঙ্গলময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি; যাঁর যশগাথা কীর্তন, স্মরণ, দর্শন, বন্দন, শ্রবণ ও পূজনের ফলে সমস্ত পাপরাশি অচিরেই ধৌত হয়।


  • শ্লোক: 21

    বাসুদেবে ভগবতি ভক্তিযোগঃ প্রয়োজিতঃ ।
    জনয়ত্যাশু বৈরাগ্যং জ্ঞানং চ যদহৈতুকম্ ।।
    (ভাগবত ১/২/৭)


  • অনুবাদঃ- ভক্তি সহকারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা হলে অচিরেই শুদ্ধ জ্ঞানের উদয় হয় এবং জড়-জাগতিক বিষয়ের প্রতি অনাসক্তি আসে ।


  • শ্লোক: 22

    বাসুদেবে ভগবতি ভক্তিযোগঃ প্রয়োজিতঃ ।
    জনয়ত্যাশু বৈরাগ্যং জ্ঞানং চ যদহৈতুকম্ ।।
    (ভাগবত ১/২/৭)


  • অনুবাদঃ- ভক্তি সহকারে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা হলে অচিরেই শুদ্ধ জ্ঞানের উদয় হয় এবং জড়-জাগতিক বিষয়ের প্রতি অনাসক্তি আসে ।


  • শ্লোক: 23

    ভক্তিঃ পরেশানুভবো বিরক্তি-
    রন্যত্র চৈষ ত্রিক এককালঃ ।
    প্রপদ্যমানস্য যথাশ্নতঃ স্যু
    স্ত্তষ্টিঃ পুষ্টিঃ ক্ষুদপায়োহনুঘাসম্ ।।
    (ভাগবত ১১/২/৪২)


  • অনুবাদঃ- আহার গ্রহণে নিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি গ্রাস অন্ন গ্রহণে যেমন তুষ্টি, পুষ্টি ও ক্ষুন্নিবৃত্তি যুগপৎ ও বর্ধনশীলভাবে লাভ হয়, তেমনই যিনি পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীচরণে প্রপত্তি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রেও ভক্তি, পরমেশ্বর ভগবানের প্রত্যক্ষ অনুভব এবং কৃষ্ণেতর বিষয়ে বিরক্তি- এই তিনটি ফল যুগপৎ লাভ হয়ে থাকে।


  • শ্লোক: 24

    তস্মাদ্ভারত সর্বাত্মা ভগবানীশ্বরো হরিঃ ।
    শ্রোতব্যঃ কীর্তিতব্যশ্চ স্মর্তব্যশ্চেচ্ছতাভয়ম্ ।।
    (ভাগবত ২/১/৫)


  • অনুবাদঃ- হে ভারত! সমস্ত দুঃখ-দুঃর্দশা থেকে যে মুক্ত হওয়ার বাসনা করে, তাকে অবশ্যই পরমাত্মা, পরম নিয়ন্তা এবং সমস্ত দুঃখ হরণকারী পরমেশ্বর ভগবানের কথা শ্রবণ, কীর্তন ও স্মরণ করতে হবে।


  • শ্লোক: 25

    স বৈ মনঃ কৃষ্ণপদারবিন্দয়ো-
    র্বচাংসি বৈকুণ্ঠগুণানুবর্ণনে ।
    করৌ হরের্মন্দিরমার্জনাদিষু
    শ্রুতিং চকারাচ্যুতসৎকথোদয়ে ।।
    (ভাগবত ৯/৪/১৮)


  • অনুবাদঃ- মহারাজ অম্বরীষ সর্বদা তাঁর মনকে কৃষ্ণের পাদপদ্মে, তাঁর বাক্যকে পরমেশ্বর ভগবানের গুণ বর্ণনায়, তাঁর হস্তাদি হরিমন্দির মার্জনাদিতে, তাঁর কর্ণকে কৃষ্ণকথা শ্রবণে নিযুক্ত করেছিলেন।


  • শ্লোক: 26

    মুকুন্দলিঙ্গালয়দর্শনে দৃশৌ
    তদ্ভৃত্যগাত্রস্পর্শেহঙ্গসঙ্গমম্ ।
    ঘ্রাণং চ তৎপাদসরোজসৌরভে
    শ্রীমত্তুলস্যা রসনাং তদর্পিতে ।।
    (ভাগবত ৯/৪/১৯)


  • অনুবাদঃ- তিনি (মহারাজ অম্বরীষ) তাঁর চক্ষুদ্বয়কে মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ দর্শনে, তাঁর স্পর্শেন্দ্রিয় বৈষ্ণবদের শ্রীপাদপদ্মে স্পর্শ এবং আলিঙ্গন করায়, তাঁর ঘ্রাণেন্দ্রিয় শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে নিবেদিত তুলসীর ঘ্রাণ গ্রহণে, তাঁর জিহ্বাকে শ্রীকৃষ্ণে নিবেদিত প্রসাদ আস্বাদনে নিযুক্ত করেছিলেন ।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.