সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

:ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক :-

  • শ্লোক: 32

    ছলয়সি বিক্রমণে বলিমদ্ভূতবামন
    পদনখনীরজনিতজনপাবন ।
    কেশব ধৃতবামনরূপ জয় জগদীশ হরে ।।
    (দশাবতার-স্তোত্র ৫)
  • অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! হে বামনরূপধারী শ্রীহরি, আপনার জয় হোক ! হে অদ্ভূত বামন দেব ! আপনার বিক্রমশালী পদক্ষেপে আপনি বলি মহারাজকে প্রতারিত করেছেন। আর আপনার চরণের নখনিঃসৃত জলে আপনি জগতের সমস্ত জীবকে উদ্ধার করেছেন।

  • শ্লোক: 33

    বহসি বপুষি বিশদে বসনং জলদাভং
    হলহতিভীতিমিলিতযমুনাভম্ ।
    কেশব ধৃতহলকধররূপ জয় জগদীশ হরে ।।
    (দশাবতার-স্তোত্র ৮)
  • অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ ! হে হলধর বলরামের রূপ ধারণকারী শ্রীহরি ! আপনার জয় হোক ! আপনি আপনার শুভ্র দেহে জলভরা নবীন মেঘের মতো বর্ণবিশিষ্ট বসন পরিধান করেন। আপনার হলাকর্ষণে ভীতা যমুনার নীলবর্ণ জলের মতোই সুন্দর এই বসন।

  • শ্লোক: 34

    ম্লেচ্ছনিবহনিধনে কলয়সি করবালং
    ধূমকেতুমিব কিমপি করালম্ ।
    কেশব ধৃতকল্কিশরীর জয় জগদীশ হরে।।
    (দশাবতার-স্তোত্র ১০)
  • অনুবাদঃ- হে কেশব ! হে জগদীশ্বর ! হে কল্কিরূপ ধারণকারী শ্রীহরি ! আপনার জয় হোক ! আপনি কলিযুগের নিধনপর্বে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হন এবং ম্লেচ্ছদের হত্যা করার জন্য হাতে একটি ভয়ঙ্কর তলোয়ার বহন করেন।

  • শ্লোক: 35

    যস্মাৎ ক্ষরমতীতোহহমক্ষরাদপি চোত্তমঃ ।
    অতোহস্মি লোকে বেদে চ প্রথিতঃ পুরুষোত্তমঃ ॥
    (গীতা ১৫/১৮)
  • অনুবাদঃ- যেহেতু আমি ক্ষরের অতীত এবং অক্ষর থেকেও উত্তম, সেই হেতু জগতে ও বেদে আমি পুরুষোত্তম নামে বিখ্যাত।

  • শ্লোক: 36

    ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা ।
    মৎস্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ ॥
    (গীতা ৯/৪)
  • অনুবাদঃ- অব্যক্তরূপে আমি সমস্ত জগতে ব্যাপ্ত আছি। সমস্ত জীব আমাতেই অবস্থিত, কিন্তু আমি তাতে অবস্থিত নই।

  • শ্লোক: 37

    নমস্যে পুরুষং ত্বাদ্যমীশ্বরং প্রকৃতেঃ পরম্
    অলক্ষ্যং সর্বভূতানামন্তর্বহিরবস্থিতম্ ।।
    (ভাগবত ১/৮/১৮)
  • অনুবাদঃ- হে কৃষ্ণ ! আমি তোমাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। কারণ তুমি আদি পুরুষ এবং জড়া প্রকৃতির সমস্ত গুণের অতীত। তুমি সকলের অন্তরে ও বাইরে অবস্থিত, তবু তোমাকে কেউ দেখতে পায় না।

  • শ্লোক: 38

    মায়াজবনিকাচ্ছন্নমজ্ঞাধোক্ষজমব্যয়ম্ ।
    ন লক্ষ্যসে মূঢ়দৃশা নটো নাট্যধরো যথা ।।
  • অনুবাদঃ- তুমি ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানের অতীত, তুমি মায়ারূপা যবনিকার দ্বারা আচ্ছাদিত, অব্যক্ত ও অচ্যুত। মূঢ় দ্রষ্টা যেমন অভিনেতার সাজে সজ্জিত শিল্পীকে দেখে সাধারণত চিনতে পারে না, তেমনই অজ্ঞ ব্যক্তিরা তোমাকে দেখতে পায় না।

  • শ্লোক: 39

    ইদং হি বিশ্বং ভগবানিবেতরো
    যতো জগৎস্থাননিরোধসম্ভবাঃ ।
  • অনুবাদঃ- পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং এই বিশ্ব, তবুও তিনি তাঁর অতীত। তাঁর থেকেই এই জগৎ প্রকাশিত হয়েছে, তাঁকে আশ্রয় করেই এই জগৎ বর্তমান এবং প্রলয়ের পর তাঁর মধ্যেই তা লীন হয়ে যায়।

  • শ্লোক: 40

    বেদাহং সমতীতানি বর্তমানানি চার্জুন ।
    ভবিষ্যাণি চ ভূতানি মাং তু বেদ ন কশ্চন ॥
    (গীতা ৭/২৬)
  • অনুবাদঃ- হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবানরূপে আমি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত। আমি সমস্ত জীব সম্বন্ধে জানি, কিন্তু আমাকে কেউ জানে না।

  • শ্লোক: 41

    ন মে বিদুঃ সুরগণাঃ প্রভবং ন মহর্ষয়ঃ ।
    অহমাদির্হি দেবানাং মহর্ষীণাং চ সর্বশঃ ॥
    (গীতা ১০/২)
  • অনুবাদঃ- দেবতারা বা মহর্ষিরাও আমার উৎপত্তি অবগত হতে পারে না, কেন না, সর্বতোভাবে আমিই দেবতা ও মহর্ষিদের আদি কারণ।

  • শ্লোক: 42

    নায়মাত্মা প্রবচনেন লভ্যো
    ন মেধয়া ন বহুনা শ্রুতেন ।
    যমেবৈষ বৃণুতে তেন লভ্য-
    স্তস্যৈষ আত্মা বিবৃণুতে তনুং স্বাম্ ।।
    (মুণ্ডক উপঃ ৩/২/৩ এবং কঠ উপঃ ১/২/২৩)
  • অনুবাদঃ- দক্ষ প্রবচনের দ্বারা, গভীর মেধার দ্বারা, এমন কি বহু শ্রবণের দ্বারাও পরমেশ্বর ভগবানকে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। ভগবান যাকে নির্বাচিত এবং পছন্দ করেন, তিনিই কেবল তাঁকে জানতে পারেন। সেই রকম ভক্তের কাছে ভগবান স্বয়ং নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেন।

  • শ্লোক: 43

    অতঃ শ্রীকৃষ্ণনামাদি ন ভবেদ্গ্রাহ্যমিন্দ্রিয়ৈঃ ।
    সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত্যদঃ ।।
    (পদ্ম পুরাণ, ভঃ রঃ সিঃ ১/২/২৩৪)
  • অনুবাদঃ- অতএব শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু, কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়। জীব যখন সেবোন্মুখ হন অর্থাৎ চিৎ-স্বরূপে কৃষ্ণোন্মুখ হন, তখনই অপ্রাকৃত জিহ্বা আদি ইন্দ্রিয়ে কৃষ্ণনাম আদি স্বয়ংই স্ফূর্তি লাভ করে।

  • শ্লোক: 44

    অতঃ শ্রীকৃষ্ণনামাদি ন ভবেদ্গ্রাহ্যমিন্দ্রিয়ৈঃ ।
    সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত্যদঃ ।।
    (পদ্ম পুরাণ, ভঃ রঃ সিঃ ১/২/২৩৪)
  • অনুবাদঃ- অতএব শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু, কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়। জীব যখন সেবোন্মুখ হন অর্থাৎ চিৎ-স্বরূপে কৃষ্ণোন্মুখ হন, তখনই অপ্রাকৃত জিহ্বা আদি ইন্দ্রিয়ে কৃষ্ণনাম আদি স্বয়ংই স্ফূর্তি লাভ করে।

  • শ্লোক: 45

    ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা ।
    ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে ।।
    (গীতা- ৪/১৪)
  • অনুবাদঃ- কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।

  • শ্লোক: 46

    যো মামেবমসংমূঢ় জানাতি পুরুষোত্তমম্ ।
    স সর্ববিদ্ ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত ॥
    (গীতা- ১৫/১৯)
  • অনুবাদঃ- হে ভারত ! যিনি নিঃসন্দেহে আমাকে পুরুষোত্তম বলে জানেন, তিনি সর্বজ্ঞ এবং তিনি সর্বতোভাবে আমাকে ভজনা করেন।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.