সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক


  • শ্লোক: 51

    বাসুদেবপরা বেদা বাসুদেবপরা মখাঃ।
    বাসুদেবপরা যোগা বাসুদেবপরাঃ ক্রিয়াঃ।।
    বাসুদেবপরং জ্ঞানং বাসুদেবপরং তপঃ।
    বাসুদেবপরো ধর্মো বাসুদেবপরা গতিঃ।।
    (ভাগবত ১/২/২৮-২৯)


  • অনুবাদঃ- বৈদিক শাস্ত্রে জ্ঞানের পরম উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। যজ্ঞ সম্পাদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবানের প্রীতিবিধান এবং যোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁকে জানা। সমস্ত সকাম কর্মের চরম ফল তিনিই দান করেন। পরম জ্ঞান ও সমস্ত তপশ্চর্যার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁকে জানা এবং তাঁর প্রতি প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হওয়াই হচ্ছে ধর্মের উদ্দেশ্য। তিনি হচ্ছেন জীবনের পরম উদ্দেশ্য।


  • শ্লোক: 52

    অহমেবাসমেবাগ্রে নান্যদ্ যৎ সদসৎ পরম্ ।
    পশ্চাদহং যদেতচ্চ যোহবশিষ্যেত সোহস্ম্যহম্ ।।
    (ভাগবত ২/৯/৩৩)


  • অনুবাদঃ- হে ব্রহ্মা ! সৃষ্টির পূর্বে কেবল আমি ছিলাম এবং সৎ, অসৎ ও অনির্বচনীয় নির্বিশেষ ব্রহ্ম পর্যন্ত কোনকিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। সৃষ্টির পরে এই সমুদয় স্বরূপে আমিই বিরাজ করি এবং প্রলয়ের পর কেবল আমিই অবশিষ্ট থাকব।


  • শ্লোক: 53

    ততঃ কলৌ সম্প্রবৃত্তে সম্মোহায় সুরদ্বিষাম্ ।
    বুদ্ধো নাম্নাঞ্জনসুতঃ কীকটেষু ভবিষ্যতি ।।
    (ভাগবত ১/৩/২৪)


  • অনুবাদঃ- তারপর কলিযুগের প্রারম্ভে ভগবান ভগবৎ-বিদ্বেষী নাস্তিকদের সম্মোহিত করার জন্য বুদ্ধদেব নামে গয়া প্রদেশে অঞ্জনার পুত্ররূপে আবির্ভূত হবেন।


  • শ্লোক: 54

    অবতারা হ্যসংখ্যেয়া হরেঃ সত্ত্বনিধের্দ্ধিজাঃ ।
    যথাবিদাসিনঃ কুল্যাঃ সরসঃ স্যুঃ সহস্রশঃ ।।
    (ভাগবত ১/৩/২৬)


  • অনুবাদঃ- হে ব্রাহ্মণগণ! বিশাল জলাশয় থেকে যেমন অসংখ্য নদী প্রবাহিত হয়, ঠিক তেমনই ভগবানের থেকে অসংখ্য অবতার প্রকাশিত হন ।


  • শ্লোক: 55

    এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ম্ ।
    ইন্দ্ররিব্যাকুলং লোকং মৃড়য়ন্তি যুগে যুগে ।।
    (ভাগবত ১/৩/২৮)


  • অনুবাদঃ- ভগবানের এই সমস্ত অবতারেরা পুরুষাবতারদের অংস অথবা কলা। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান। যখন নাস্তিকদের অত্যাচার বেড়ে যায়, তখন আস্তিকদের রক্ষা করবার জন্য ভগবান এই ধরাধামে অবতির্ণ হন।


  • শ্লোক: 56

    নমস্যে পুরুষং ত্বাদ্যমীশ্বরং প্রকৃতেঃ পরম্
    অলক্ষ্যং সর্বভূতানামন্তর্বহিরবস্থিতম্ ।।
    (ভাগবত ১/৮/১৮)


  • অনুবাদঃ- হে কৃষ্ণ ! আমি তোমাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। কারণ তুমি আদি পুরুষ এবং জড়া প্রকৃতির সমস্ত গুণের অতীত। তুমি সকলের অন্তরে ও বাইরে অবস্থিত, তবু তোমাকে কেউ দেখতে পায় না।


  • শ্লোক: 57

    নমস্যে পুরুষং ত্বাদ্যমীশ্বরং প্রকৃতেঃ পরম্
    অলক্ষ্যং সর্বভূতানামন্তর্বহিরবস্থিতম্ ।।
    (ভাগবত ১/৮/১৮)

  • অনুবাদঃ- হে কৃষ্ণ ! আমি তোমাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। কারণ তুমি আদি পুরুষ এবং জড়া প্রকৃতির সমস্ত গুণের অতীত। তুমি সকলের অন্তরে ও বাইরে অবস্থিত, তবু তোমাকে কেউ দেখতে পায় না।


  • শ্লোক: 58

    মায়াজবনিকাচ্ছন্নমজ্ঞাধোক্ষজমব্যয়ম্ ।
    ন লক্ষ্যসে মূঢ়দৃশা নটো নাট্যধরো যথা ।।


  • অনুবাদঃ- তুমি ইন্দ্রিয়জ জ্ঞানের অতীত, তুমি মায়ারূপা যবনিকার দ্বারা আচ্ছাদিত, অব্যক্ত ও অচ্যুত। মূঢ় দ্রষ্টা যেমন অভিনেতার সাজে সজ্জিত শিল্পীকে দেখে সাধারণত চিনতে পারে না, তেমনই অজ্ঞ ব্যক্তিরা তোমাকে দেখতে পায় না।


  • শ্লোক: 59

    ইদং হি বিশ্বং ভগবানিবেতরো
    যতো জগৎস্থাননিরোধসম্ভবাঃ ।


  • অনুবাদঃ- পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং এই বিশ্ব, তবুও তিনি তাঁর অতীত। তাঁর থেকেই এই জগৎ প্রকাশিত হয়েছে, তাঁকে আশ্রয় করেই এই জগৎ বর্তমান এবং প্রলয়ের পর তাঁর মধ্যেই তা লীন হয়ে যায়।


  • শ্লোক: 60

    অহো বকী যং স্তনকালকূটং
    জিঘাংসয়াপায়য়দপ্যসাধ্বী ।
    লেভে গতিং ধাক্র্যচিতাং ততোহন্যং
    কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেম ।।
    (ভাগবত ৩/২/২৩)


  • অনুবাদঃ- আহা, কি আশ্চর্য! বকাসুরের ভগ্নী পুতনা কৃষ্ণকে বধ করার জন্য তার স্তনে কালকূট মাখিয়ে তা কৃষ্ণকে পান করিয়েছিল। কিন্তু তবুও, কৃষ্ণ তাকে তাঁর মাতারূপে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে মাতার উপযুক্ত গতি দান করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আমি আর কোন্ দয়ালুর শরণাপন্ন হতে পারি ?


  • শ্লোক: 61

    লোকে ব্যবায়ামিষমদ্যসেবা
    নিত্যা হি জন্তোর্ন হি তত্র চোদনা ।
    ব্যবস্থিতিস্তেষু বিবাহযজ্ঞ
    সুরাগ্রহৈরাসু নিবৃত্তিরিষ্টা ।।
    (ভাগবত ১১/৫/১১)


  • অনুবাদঃ- এই জড় জগতে বদ্ধ জীবেরা সর্বদাই কাম উপভোগ, মাংসাহার ও মদ্যপানের প্রবণতা-সম্পন্ন। সুতরাং ধর্মীয় শাস্ত্র কখনও এগুলিকে উৎসাহ দেয় না। যদিও শাস্ত্রে বিবাহ যজ্ঞের মাধ্যমে কামভোগ, পশুযজ্ঞের মাধ্যমে মাংসাহার এবং সুরাগ্রহ যজ্ঞের মাধ্যমে মদ্যপানের নির্দেশ রয়েছে- কিন্তু এই সমস্ত যজ্ঞের পরম উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐ সমস্ত ভোগ থেকে নিবৃত্তি লাভ করা।


  • শ্লোক: 62

    কর্মণা দৈবনেত্রেণ জন্তুর্দেহোপপত্তয়ে।
    স্ত্রীয়াঃ প্রবিষ্ট উদরং পুংসো রেতঃকণাশ্রয়ঃ।।
    (ভাগবত ৩/৩১/১)


  • অনুবাদঃ- পরমেশ্বরের অধ্যক্ষতায় জীবাত্মা তার পূর্বকৃ্ত কর্মের ফল অনুসারে, বিশেষ প্রকার শরীর ধারণের জন্য, পুরুষের রেতকণা আশ্রয় করে স্ত্রীর গর্ভে প্রবেশ করে।


  • শ্লোক: 63

    নূনং প্রমত্তঃ কুরুতে বিকর্ম
    যদিন্দ্রিয়প্রীতয় আপৃণোতি।
    ন সাধু মন্যে যত আত্মনোহয়-
    মসন্নপি ক্লেশদ আস দেহঃ ।।
    (ভাগবত ৫/৫/৪)


  • অনুবাদঃ- যখন কোন ব্যক্তি ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকেই জীবনের লক্ষ্য বলে গণ্য করে, সে নিঃসন্দেহে জড়বাদী জীবনধারায় প্রমত্ত হয়ে ওঠে এবং সমস্ত প্রকার পাপকর্মে লিপ্ত হয়। সে জানে না যে, তার অতীত পাপকর্মের ফলে সে ইতিমধ্যেই একটি দেহ পেয়েছে, যা ক্ষণস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও তার দুঃখের কারণ। আসলে এই জড় গ্রহণ করা জীবের উচিত হয়নি, কিন্তু ইন্দ্রিয়-ভোগের জন্যই জীবকে এই জড় দেহ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি এভাবেই পুনরায় ইন্দ্রিয়ভোগে লিপ্ত হয়ে একের পর এক জড় দেহ লাভ করা বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে উপযুক্ত নয়।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.