সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

:ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক :-


  • শ্লোক: 43

    অতঃ শ্রীকৃষ্ণনামাদি ন ভবেদ্গ্রাহ্যমিন্দ্রিয়ৈঃ ।
    সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত্যদঃ ।।
    (পদ্ম পুরাণ, ভঃ রঃ সিঃ ১/২/২৩৪)

  • অনুবাদঃ- অতএব শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু, কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়। জীব যখন সেবোন্মুখ হন অর্থাৎ চিৎ-স্বরূপে কৃষ্ণোন্মুখ হন, তখনই অপ্রাকৃত জিহ্বা আদি ইন্দ্রিয়ে কৃষ্ণনাম আদি স্বয়ংই স্ফূর্তি লাভ করে।


  • শ্লোক: 44

    অতঃ শ্রীকৃষ্ণনামাদি ন ভবেদ্গ্রাহ্যমিন্দ্রিয়ৈঃ ।
    সেবোন্মুখে হি জিহ্বাদৌ স্বয়মেব স্ফুরত্যদঃ ।।
    (পদ্ম পুরাণ, ভঃ রঃ সিঃ ১/২/২৩৪)

  • অনুবাদঃ- অতএব শ্রীকৃষ্ণের নাম-রূপ-লীলা কখনও প্রাকৃত চক্ষু, কর্ণ আদির গ্রাহ্য নয়। জীব যখন সেবোন্মুখ হন অর্থাৎ চিৎ-স্বরূপে কৃষ্ণোন্মুখ হন, তখনই অপ্রাকৃত জিহ্বা আদি ইন্দ্রিয়ে কৃষ্ণনাম আদি স্বয়ংই স্ফূর্তি লাভ করে।


  • "শ্লোক: 45

    ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে কর্মফলে স্পৃহা ।
    ইতি মাং যোহভিজানাতি কর্মভির্ন স বধ্যতে ।।
    (গীতা- ৪/১৪)"

  • অনুবাদঃ- কোন কর্মই আমাকে প্রভাবিত করতে পারে না এবং আমিও কোন কর্মফলের আকাঙ্ক্ষা করি না। আমার এই তত্ত্ব যিনি জানেন, তিনিও কখনও সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ হন না।


  • "শ্লোক: 46

    যো মামেবমসংমূঢ় জানাতি পুরুষোত্তমম্ ।
    স সর্ববিদ্ ভজতি মাং সর্বভাবেন ভারত ॥
    (গীতা- ১৫/১৯)"

  • অনুবাদঃ- হে ভারত ! যিনি নিঃসন্দেহে আমাকে পুরুষোত্তম বলে জানেন, তিনি সর্বজ্ঞ এবং তিনি সর্বতোভাবে আমাকে ভজনা করেন।


  • "শ্লোক: 47

    বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জুন ।
    তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ পরন্তপ ।।
    (গীতা- ৪/৫)"

  • অনুবাদঃ- হে পরন্তপ অর্জুন ! আমার ও তোমার বহু জন্ম অতীত হয়েছে ৷ আমি সেই সমস্ত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারি, কিন্তু তুমি পার না।


  • "শ্লোক: 48

    অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি সন্ ।
    প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া ।।
    (গীতা- ৪/৬)"

  • অনুবাদঃ- যদিও আমি জন্মরহিত এবং আমার চিন্ময় দেহ অব্যয় এবং যদিও আমি সর্বভূতের ঈশ্বর, তবুও আমার অন্তরঙ্গা শক্তিকে আশ্রয় করে আমি আমার আদি চিন্ময় রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।


  • "শ্লোক: 49

    রসোহহমপ্সু কৌন্তেয় প্রভাস্মি শশিসূর্যয়োঃ ।
    প্রণবঃ সর্ববেদেষু শব্দঃ খে পৌরুষং নৃষু ॥
    (গীতা- ৭/৮)"

  • অনুবাদঃ- হে কৌন্তেয় ! আমিই জলের রস, চন্দ্র ও সূর্যের প্রভা, সর্ব বেদের প্রণব, আকাশের শব্দ এবং মানুষের পৌরুষ।


  • "শ্লোক: 50

    পূণ্যো গন্ধঃ পৃথিব্যাং চ তেজশ্চাস্মি বিভাবসৌ ।
    জীবনং সর্বভূতেষু তপশ্চাস্মি তপস্বিষু ॥
    (গীতা- ৭/৯)"

  • অনুবাদঃ- আমি পৃথিবীর পবিত্র গন্ধ, অগ্নির তেজ, সর্বভূতের জীবন এবং তপস্বীদের তপ।


  • "শ্লোক: 51

    গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজসা ।
    পুষ্ণামি চৌষধীঃ সর্বাঃ সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ ॥
    (গীতা- ১৫/১৩)"

  • অনুবাদঃ- আমি পৃথিবীতে প্রবিষ্ট হয়ে আমার শক্তির দ্বারা সমস্ত জীবদের ধারণ করি এবং রসাত্মক চন্দ্ররূপে ধান, যব আদি ঔষধি পুষ্ট করছি।


  • শ্লোক: 52

    নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ ।
    জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ ।।
    (বিষ্ণু পুরাণ)

  • অনুবাদঃ- ব্রাহ্মণদের আরাধ্যদেব, গুরু ও ব্রাহ্মণদের হিতকারী এবং জগতের কল্যাণকারী শ্রীকৃষ্ণকে আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি। শ্রীকৃষ্ণ ও গোবিন্দ নামে পরিচিত সেই পরমেশ্বর ভগবানকে আমি পুনঃ পুনঃ প্রণাম করি ।


  • শ্লোক: 53

    কৃষ্ণ- সূর্যসম; মায়া হয় অন্ধকার ।
    যাহাঁ কৃষ্ণ, তাহাঁ নাহি মায়ার অধিকার ।।
    (চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৩১)

  • অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণকে সূর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং মায়াকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সূর্য-কিরণের প্রকাশ হলে যেমন আর সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না, তেমনই কেউ যদি কৃষ্ণভক্তির পন্থা অবলম্বন করেন, তখন মায়ার অন্ধকার তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দূর হয়ে যায়।


  • শ্লোক: 54

    অহো বকী যং স্তনকালকূটং
    জিঘাংসয়াপায়য়দপ্যসাধ্বী ।
    লেভে গতিং ধাক্র্যচিতাং ততোহন্যং
    কং বা দয়ালুং শরণং ব্রজেম ।।
    (ভাগবত ৩/২/২৩)

  • অনুবাদঃ- আহা, কি আশ্চর্য! বকাসুরের ভগ্নী পুতনা কৃষ্ণকে বধ করার জন্য তার স্তনে কালকূট মাখিয়ে তা কৃষ্ণকে পান করিয়েছিল। কিন্তু তবুও, কৃষ্ণ তাকে তাঁর মাতারূপে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে মাতার উপযুক্ত গতি দান করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আমি আর কোন্ দয়ালুর শরণাপন্ন হতে পারি ?


  • শ্লোক: 55

    চিন্তামণিপ্রকরসদ্মসু কল্পবৃক্ষ-
    লক্ষাবৃতেষু সুরভীরভিপালয়ন্তম্ ।
    লক্ষ্মীসহস্রশতসম্ভ্রমসেব্যমানং
    গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ।।
    (ব্রহ্মসংহিতা ৫/২৯)

  • অনুবাদঃ- আমি সেই আদি পুরুষ গোবিন্দের ভজনা করি, যিনি লক্ষ লক্ষ কল্পবৃক্ষ দ্বারা আবৃত, চিন্তামণির দ্বারা রচিত ধামে, সমস্ত বাসনা পূর্ণকারী সুরভী গাভীদের পালন করছেন। তিনি নিরন্তর শত শত লক্ষ্মীদেবীর দ্বারা সম্ভ্রম সহকারে সেবিত হচ্ছেন ।


  • শ্লোক: 56

    আলোলচন্দ্রক লসদবনমাল্যবংশী-
    রত্নাঙ্গদং প্রণয়কেলিকলাবিলাসম্ ।
    শ্যামং ত্রিভঙ্গললিতং নিয়তপ্রকাশং
    গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি ।।
    (ব্রহ্মসংহিতা ৫/৩১)

  • অনুবাদঃ- দোলায়িত চন্দ্রক শোভিতা বনমালা যাঁর গলদেশে, বংশী ও রত্নাঙ্গদ যাঁর করদ্বয়ে, সর্বদা প্রণয়কেলি বিলাসযুক্ত যিনি, ললিত ত্রিভঙ্গ শ্যামসুন্দর রূপই যাঁর নিত্য প্রকাশ, সেই আদিপুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজন করি।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.