সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক


  • শ্লোক: 39

    দাম্পত্যেহভিরুচির্হেতুর্মায়ৈব ব্যাবহারিকে।
    স্ত্রীত্বে পুংস্ত্বে চ হি রতির্বিপ্রত্বে সূত্রমেব হি।।
    (ভাগবত ১২/২/৩)


  • অনুবাদঃ- নারী ও পুরুষ শুধুমাত্র বাহ্য আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে একত্রে বসবাস করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্য নির্ভর করবে প্রতারণার উপর । যৌন দক্ষতার ভিত্তিতেই পুরুষত্ব ও নারীত্বের বিচার হবে এবং শুধুমাত্র পৈতা ধারণের মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ বলে পরিচিতি লাভ করবেন ।


  • শ্লোক: 40

    লিংমেবাশ্রমখ্যাতাবন্যোন্যাপত্তিকারণম্ ।
    অবৃত্ত্যা ন্যায়দৌর্বল্যং পাণ্ডিত্যে চাপলং বচঃ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৪)


  • অনুবাদঃ- বাহ্য প্রতীকের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তির আশ্রম নির্ধারিত হবে এবং এই একই ভিত্তিতে এক আশ্রমস্থিত ব্যক্তি পরবর্তী আশ্রমে প্রবেশ করবে। যে মানুষ ভাল রোজগার করতে পারবে না তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করা হবে। যিনি বাক্চাতুর্যে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবেন, তিনিই বিজ্ঞ পণ্ডিত বলে পরিচিত হবেন।


  • শ্লোক: 41

    অনাঢ়্যতৈবাসাধুত্বে সাধুত্বে দম্ভ এব তু ।
    স্বীকার এব চোদ্বাহে স্নানমেব প্রসাধনম্ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৫)


  • অনুবাদঃ- কোন মানুষ যদি দরিদ্র হয়, তা হলে তাকে অসাধু বলে গণ্য করা হবে এবং দম্ভ ও কপটতাকেই গুণ বলে স্বীকার করা হবে। মৌখিক স্বীকৃ্তির ভিত্তিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে এবং শুধুমাত্র স্নান করলেই (তিলক, চন্দন আদি ধারণ না করেই) মানুষ নিজেকে জনগণের মধ্যে প্রবেশের যোগ্য বলে মনে করবে।


  • শ্লোক: 42

    দূরে বার্যয়নং তীর্থং লাবণ্যং কেশধারণম্ ।
    উদরম্ভরতা স্বার্থঃ সত্যত্বে ধার্ষ্ট্যমেব হি ।
    দাক্ষ্যং কুটুম্বভরণং যশোহর্থে ধর্মসেবনম্ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৬)


  • অনুবাদঃ- দূরে অবস্থিত জলাশয়কে তীর্থ বলে গণ্য করা হবে। কেশ ধারণের ভিত্তিতে সৌন্দর্য নিরূপিত হবে। উদরপূর্তিই হবে জীবনের লক্ষ্য । ধৃষ্ট ব্যক্তিকে সত্যনিষ্ঠ বলে গণ্য করা হবে। কুটুম্বভরণে সমর্থ ব্যক্তিকে দক্ষ বলে গণ্য করা হবে এবং শুধুমাত্র যশ লাভের জন্যই ধর্ম-কর্ম অনুষ্ঠান করা হবে।


  • শ্লোক: 43

    কলের্দোষনিধে রাজন্নস্তি হ্যেকো মহান্ গুণঃ ।
    কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গঃ পরং ব্রজেৎ ।।
    (ভাগবত ১২/৩/৫১)


  • অনুবাদঃ- হে রাজন! দোষের নিধি এই কলিযুগে একটি মহৎ গুণ আছে। কলিযুগে ভগবানের নাম কীর্তনের প্রভাবেই জীব জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন।


  • শ্লোক: 44

    কৃ্তে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ ।
    দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তনাৎ ।।
    (ভাগবত ১২/৩/৫২)


  • অনুবাদঃ- সত্যযুগে বিষ্ণুকে ধ্যান করে, ত্রেতাযুগে যজ্ঞের মাধ্যমে যজন করে এবং দ্বাপরযুগে অর্চন আদি করে যে ফল লাভ হত, কলিকালে 'হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র' কীর্তনে সেই সকল ফল লাভ হয়।


  • শ্লোক: 45

    কলিং সভাজয়ন্ত্যার্যা গুণজ্ঞাঃ সারভাগিণঃ ।
    যত্র সঙ্কীর্তনেনৈব সর্বস্বার্থোহভিলভ্যতে ।।
    (ভাগবত ১১/৫/৩৬)


  • অনুবাদঃ- গুণজ্ঞ সারগ্রাহী মহাত্মারা কলিযুগকে এই জন্য ধন্য বলেন, কেন না কলিযুগে কেবল হরিনাম সংকীর্তনের ফলেই সর্ব স্বার্থ লাভ হয়।


  • শ্লোক: 46

    শ্রেয়ঃসৃ্তিং ভক্তিমুদস্য তে বিভো
    ক্লিশ্যন্তি যে কেবলবোধলব্ধয়ে ।
    তেষামসৌ ক্লেশল এব শিষ্যতে
    নান্যদ্ যথা স্থূলতুষাবঘাতিনাম্ ।।
    (ভাগবত ১০/১৪/৪)


  • অনুবাদঃ- হে ভগবান! তোমাকে ভক্তি করাই সর্বশ্রেষ্ঠ পথ, তা পরিত্যাগ করে যারা কেবল জ্ঞান লাভের জন্য অর্থাৎ 'আমি ব্রহ্ম'


  • শ্লোক: 47

    অথাপি তে দেব পদাম্বুজদ্বয়-
    প্রসাদলেশানুগৃহীত এব হি ।
    জানাতি তত্ত্বং ভগবন্মহিম্নো
    ন চান্য একোহপি চিরং বিচিন্বন ।।
    (ভাগবত ১০/১৪/২৯)


  • অনুবাদঃ- হে ভগবান ! কেউ যদি আপনার শ্রীপাদপদ্ম যুগলের কৃপার লেশমাত্রও লাভ করে থাকেন, তা হলে তিনি আপনার মহিমা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। কিন্তু যারা আপনার মহিমা সম্বন্ধে জল্পনা-কল্পনা করে, তারা দীর্ঘকাল বেদ অধ্যয়ন করেও আপনাকে জানতে পারে না।


  • শ্লোক: 48

    ইদং হি পুংসস্তপসঃ শ্রুতস্য বা
    স্বিষ্টস্য সূক্তস্য চ বুদ্ধিদত্তয়োঃ ।
    অবিচ্যুতোহর্থঃ কবিভির্নিরূপিতো
    যদুত্তমশ্লোকগুণানুবর্ণনম্ ।।
    (ভাগবত ১/৫/২২)


  • অনুবাদঃ- তত্ত্বদ্রষ্টা মহর্ষিরা যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত করেছেন যে, তপশ্চর্যা, বেদপাঠ, যজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ ও দান আদির একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তমশ্লোক ভগবানের অপ্রাকৃত লীলাবিলাসের বর্ণনা করা।


  • শ্লোক: 49

    শব্দব্রহ্মণি নিষ্ণাতো ন নিষ্ণায়াৎ পরে যদি।
    শ্রমস্তস্য শ্রম ফলো হ্যধেনুমিব রক্ষতঃ ।।
    (ভাগবত ১১/১১/১৮)


  • অনুবাদঃ- কেউ হয়তো সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারেন, কিন্তু তিনি যদি পরমেশ্বরকে (শ্রীকৃষ্ণকে) উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন, তা হলে তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান দুগ্ধদানে অক্ষম গাভীর মতোই অর্থহীন। ভারবাহী পশুর মতোই শাস্ত্রের বোঝা বহন করেন তিনি।


  • শ্লোক: 50

    ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
    জন্মাদাস্য যতোহন্বয়াদিতরশ্চার্থেষ্বভিজ্ঞঃ স্বরাট্
    তেনে ব্রহ্ম হৃদা য আদিকবয়ে মুহ্যন্তি যৎ সূরয়ঃ ।
    তেজোবারিমৃদাং যথা বিনিময়ো যত্র ত্রিসর্গোহমৃষা
    ধাম্না স্বেন সদা নিরস্তকুহকং সত্যং পরং ধীমহি ।।
    (ভাগবত ১/১/১)


  • অনুবাদঃ- হে বসুদেব তনয় শ্রীকৃষ্ণ! হে সর্বব্যাপ্ত পরমেশ্বর ভগবান! আমি আপনাকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি। আমি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করি, কেন না তিনি হচ্ছেন প্রকাশিত ব্রহ্মাণ্ডসমূহের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের পরম কারণ। তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব কিছু সম্বন্ধে অবগত এবং তিনি সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন, কেন না তাঁর অতীত আর কোন কারণ নেই। তিনিই আদি কবি ব্রহ্মার হৃদয়ে সর্বপ্রথম বৈদিক জ্ঞান প্রদান করেছিলেন। তাঁর দ্বারা মহান ঋষিরা এবং স্বর্গের দেবতারাও মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, ঠিক যেভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আগুনে জল দর্শন হয়, অথবা জলে মাটি দর্শন হয়। তাঁরই প্রভাবে জড়া প্রকৃতির তিনটি গুণের মাধ্যমে জড় জগৎ সাময়িকভাবে প্রকাশিত হয় এবং তা অলীক হলেও সত্যবৎ প্রতিভাত হয়। তাই আমি সেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করি, যিনি জড় জগতের মোহ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থেকে তাঁর ধামে নিত্যকাল বিরাজ করেন। আমি তাঁর ধ্যান করি, কেন না তিনিই হচ্ছেন পরম সত্য।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.