সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

-: জ্ঞান সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক :-

  • শ্লোক: 1

    বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্ ।
    (হিতোপদেশ)
  • অনুবাদঃ- বিদ্যা বিনয় দান করে।

  • শ্লোক: 2

    শর্বরীভূষণং চন্দ্রো নারীণাং ভূষণং পতিঃ ।
    পৃথিবীভূষণং রাজা বিদ্যা সর্বস্য ভূষণম্ ।।
    (চাণক্য পণ্ডিত)
  • অনুবাদঃ- রাত্রির ভূষণ হচ্ছে চাঁদ। রমনীর ভূষণ হচ্ছে ভাল স্বামী। পৃথিবীর ভূষণ রাজা। আর বিদ্যা সকলেরই ভূষণ ।

  • শ্লোক: 3

    অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবা ন তাংস্তর্কেণ যোজয়েৎ ।
    প্রকৃ্তিভ্যঃ পরং যচ্চ তদচিন্ত্যস্য লক্ষণম্।।
    (মহাভারত ভীস্মপর্ব ৫/২২)
  • অনুবাদঃ- যা জড়া-প্রকৃতির অতীত তাকে বলা হয় অচিন্ত্য, কিন্তু সমস্ত যুক্তিতর্ক হচ্ছে জাগতিক। যেহেতু জাগতিক যুক্তিতর্ক জড়াতীত বিষয়কে স্পর্শ করতে পারে না, তাই কারও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে চিন্ময় বিষয় হৃদয়ঙ্গম করার চিন্তা করা উচিত নয়।

  • শ্লোক: 4

    বহূনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মাং প্রপদ্যতে।
    বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ ॥
  • অনুবাদঃ- বহু জন্মের পর তত্ত্বজ্ঞানী ব্যক্তি আমাকে সর্ব কারণের পরম কারণ রূপে জেনে আমার শরণাগত হন৷ সেইরূপ মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।

  • শ্লোক: 5

    শ্রেয়ঃসৃ্তিং ভক্তিমুদস্য তে বিভো
    ক্লিশ্যন্তি যে কেবলবোধলব্ধয়ে ।
    তেষামসৌ ক্লেশল এব শিষ্যতে
    নান্যদ্ যথা স্থূলতুষাবঘাতিনাম্ ।।
    (ভাগবত ১০/১৪/৪)
  • অনুবাদঃ- হে ভগবান! তোমাকে ভক্তি করাই সর্বশ্রেষ্ঠ পথ, তা পরিত্যাগ করে যারা কেবল জ্ঞান লাভের জন্য অর্থাৎ 'আমি ব্রহ্ম' এটিই জানবার জন্য নানা প্রকার ক্লেশ স্বীকার করেন, স্থূল তুষকে পেষণ করে যেমন চাল পাওয়া যায় না, তেমনই তাদের পরিশ্রম সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।

  • শ্লোক: 6

    অথাপি তে দেব পদাম্বুজদ্বয়-
    প্রসাদলেশানুগৃহীত এব হি ।
    জানাতি তত্ত্বং ভগবন্মহিম্নো
    ন চান্য একোহপি চিরং বিচিন্বন ।।
    (ভাগবত ১০/১৪/২৯)
  • অনুবাদঃ- হে ভগবান ! কেউ যদি আপনার শ্রীপাদপদ্ম যুগলের কৃপার লেশমাত্রও লাভ করে থাকেন, তা হলে তিনি আপনার মহিমা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন। কিন্তু যারা আপনার মহিমা সম্বন্ধে জল্পনা-কল্পনা করে, তারা দীর্ঘকাল বেদ অধ্যয়ন করেও আপনাকে জানতে পারে না।

  • শ্লোক: 7

    ইদং হি পুংসস্তপসঃ শ্রুতস্য বা
    স্বিষ্টস্য সূক্তস্য চ বুদ্ধিদত্তয়োঃ ।
    অবিচ্যুতোহর্থঃ কবিভির্নিরূপিতো
    যদুত্তমশ্লোকগুণানুবর্ণনম্ ।।
    (ভাগবত ১/৫/২২)
  • অনুবাদঃ- তত্ত্বদ্রষ্টা মহর্ষিরা যথাযথভাবে সিদ্ধান্ত করেছেন যে, তপশ্চর্যা, বেদপাঠ, যজ্ঞ, মন্ত্রোচ্চারণ ও দান আদির একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তমশ্লোক ভগবানের অপ্রাকৃত লীলাবিলাসের বর্ণনা করা।

  • শ্লোক: 8

    শব্দব্রহ্মণি নিষ্ণাতো ন নিষ্ণায়াৎ পরে যদি।
    শ্রমস্তস্য শ্রম ফলো হ্যধেনুমিব রক্ষতঃ ।।
    (ভাগবত ১১/১১/১৮)
  • অনুবাদঃ- কেউ হয়তো সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রে পারদর্শী হতে পারেন, কিন্তু তিনি যদি পরমেশ্বরকে (শ্রীকৃষ্ণকে) উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন, তা হলে তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান দুগ্ধদানে অক্ষম গাভীর মতোই অর্থহীন। ভারবাহী পশুর মতোই শাস্ত্রের বোঝা বহন করেন তিনি।

  • শ্লোক: 9

    তচ্ছ্রদ্দধানা মুনয়ো জ্ঞানবৈরাগ্যযুক্তয়া ।
    পশ্যন্ত্যাত্মনি চাত্মানং ভক্ত্যা শ্রুতগৃহীতয়া ।।
    (ভাগবত ১/২/১২)
  • অনুবাদঃ- অপ্রাকৃত বস্তুতে সুদৃঢ় ও নিশ্চয় বিশ্বাসযুক্ত মুনিগণ জ্ঞান ও বৈরাগ্যযুক্ত হয়ে শাস্ত্র শ্রবণজনিত উপলব্ধি অনুসারে ভগবানের প্রতি প্রেমময়ী সেবার দ্বারা তাঁদের শুদ্ধ হৃদয়ে পরমাত্মারূপে সেই তত্ত্ববস্তুকে দর্শন করেন।

  • শ্লোক: 10

    সিদ্ধান্ত বলিয়া চিত্তে না কর অলস ।
    ইহা হইতে কৃষ্ণে লাগে সুদৃঢ় মানস ।।
    (চৈঃ চঃ আদি ২/১১৭)
  • অনুবাদঃ- আলস্যবশত পাঠক যেন এই সমস্ত সিদ্ধান্তের আলোচনা শ্রবণ করার ব্যাপারে কখনও অবহেলা না করেন, কেন না এই সমস্ত আলোচনার মাধ্যমে মন সুদৃঢ়ভাবে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠে।

  • শ্লোক: 11

    বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্
    (হিতোপদেশ)
  • অনুবাদঃ- বিদ্যা বিনয় দান করে।

  • শ্লোক: 12

    বুদ্ধিঃ যস্য বলং তস্য
    (অজ্ঞাত উৎস)
  • অনুবাদঃ- বুদ্ধি যার বল তার ।

  • শ্লোক: 13

    শর্বরীভূষণং চন্দ্রো নারীণাং ভূষণং পতিঃ ।
    পৃথিবীভূষণং রাজা বিদ্যা সর্বস্য ভূষণম্ ।।
    (চাণক্য পণ্ডিত)
  • অনুবাদঃ- রাত্রির ভূষণ হচ্ছে চাঁদ। রমনীর ভূষণ হচ্ছে ভাল স্বামী। পৃথিবীর ভূষণ রাজা। আর বিদ্যা সকলেরই ভূষণ।

  • শ্লোক: 14

    শ্রুতিঃ প্রত্যক্ষমৈতিহ্যমনুমানং চতুষ্টয়ম্ ।
    প্রমাণেষ্বনবস্থানাদ্ বিকল্পাৎ স বিরজ্যতে ।।
    (ভাগবত ১১/১৯/১৭)
  • অনুবাদঃ- শ্রুতি, প্রত্যক্ষ, ঐতিহ্য ও অনুমান—এই চার প্রকার প্রমাণের ভিত্তিতে মানুষ এই জড় জগতের অস্থায়ী অসারত্ব উপলব্ধি করতে পারে এবং এর দ্বারা সে এই জড় জগতের প্রতি বিরাগ বোধ করে।
    (উদ্ধবের প্রতি শ্রীকৃষ্ণ)

  • শ্লোক: 15

    শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-দয়া করহ বিচার ।
    বিচার করিলে চিত্তে পাবে চমৎকার ।।
    (চৈঃ চঃ আদি ৮/১৫)
  • অনুবাদঃ- তুমি যদি সত্যি সত্যি যুক্তিতর্কের প্রতি আসক্ত হও, তা হলে দয়া করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দয়ার কথা বিচার কর। তা বিচার করলে দেখবে যে, তা কি অপূর্ব দয়া এবং তার ফলে তোমার চিত্ত চমৎকৃত হবে।

  • শ্লোক: 16

    বরীয়ানেষ তে প্রশ্নঃ কৃতো লোকহিতং নৃপ ।
    আত্মবিৎসম্মতঃ পুংসাং শ্রোতব্যাদিষু যঃ পরঃ ।।
    (ভাগবত ২/১/১)
  • অনুবাদঃ- হে রাজন্ ! আপনার প্রশ্ন যর্থার্থই মহিমান্বিত, কেন না তা সমস্ত মানুষের পরম হিতকর। এই বিষয়টি সমস্ত শ্রবণীয় বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং আত্মতত্ত্বজ্ঞ মুক্তকুল কর্তৃক অনুমোদিত।
    (শ্রীল শুকদেব গোস্বামী)

  • শ্লোক: 17

    মুনয়ঃ সাধু পৃষ্টোহহং ভবদ্ভির্লোকমঙ্গলম্ ।
    যৎকৃতঃ কৃষ্ণসংপ্রশ্নো যেনাত্মা সুপ্রসীদতি ।।
    (ভাগবত ১/২/৫)
  • অনুবাদঃ- হে ঋষিগণ ! আপনারা আমাকে যথার্থ প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করেছেন। আপনাদের প্রশ্নগুলি অতি উত্তম, কেন না সেগুলি কৃষ্ণ-বিষয়ক এবং তাই তা জগতের মঙ্গল সাধন করে। এই ধরনের পরিপ্রশ্নের দ্বারাই কেবল আত্মা সম্পূর্ণরূপে প্রসন্ন হয়।
    (সূত গোস্বামী)

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= জ্ঞান সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.