সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • শ্লোক: 31

    ন তে বিদুঃ স্বার্থগতিং হি বিষ্ণুং
    দুরাশয়া যে বহিরর্থমানিনঃ ।
    অন্ধাঃ যথান্ধৈরুপনীয়মানা-
    স্তেহপীশতন্ত্র্যামুরুদাম্নি বদ্ধাঃ ।।
    (ভাগবত ৭/৫/৩১)
  • অনুবাদঃ- যারা জড় জগৎকে ভোগ করার বাসনার দ্বারা আবদ্ধ এবং তাই যারা তাদেরই মত বিষয়াসক্ত অন্ধ ব্যক্তিকে তাদের নেতা বা গুরুরূপে বরণ করেছে, তারা বুঝতে পারে না যে, জীবনের প্রকৃ্ত উদ্দেশ্য হচ্ছে ভগবৎ-ধামে ফিরে যাওয়া এবং ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সেবায় যুক্ত হওয়া। অন্ধের দ্বারা পরিচালিত হয়ে অন্ধরা যেমন প্রকৃ্ত পথের সন্ধান না জেনে অন্ধকূপে পতিত হয়, তেমনই জড় বিষয়াসক্ত ব্যক্তিরা অন্য বিষয়াসক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে সকাম কর্মরূপ অত্যন্ত দৃঢ় রজ্জুর বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সংসারচক্রে বারবার আবর্তিত হয়ে ত্রিতাপ দুঃখ ভোগ করতে থাকে।

  • শ্লোক: 32

    অশিতিং চতুরশ্চৈব লক্ষাংস্তাঞ্জীব জাতিষু
    ভমদ্ভিঃ পুরুষৈঃ প্রাপ্যং মানুষ্যং জন্মপর্যায়াৎ ।
    তদপ্যভলতাং জাতঃ তেষামাত্মাভিমানিনাম্
    বরাকাণামনাশ্রিত্য গোবিন্দচরণদ্বয়ম্ ।।
    (ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ)
  • অনুবাদঃ- ক্রমবিকাশের ক্রমিক পর্যায়ে চুরাশি লক্ষ যোনি ভ্রমণ করার পর জীব মনুষ্য-দেহ লাভ করে। এত দুর্লভ এই মনুষ্য জন্ম পেয়েও গণ্ডমূর্খ ব্যক্তিরা শ্রীগোবিন্দের চরণকমল যুগলের আশ্রয় গ্রহণ না করে তা হেলায় নষ্ট করে।

  • শ্লোক: 33

    লব্ধা সুদুর্লভমিদং বহুসম্ভবান্তে
    মানুষ্যমর্থদমনিত্যমপীহ ধীরঃ ।
    তূর্ণং যতেত ন পতেদনুমৃত্যু যাব-
    ন্নিঃশ্রেয়সায় বিষয়ঃ খলু সর্বতঃ স্যাৎ ।।
    (ভাগবত ১১/৯/২৯)
  • অনুবাদঃ- বহু জন্ম-মৃত্যুর পর জীব এই মনুষ্যদেহ লাভ করে, যা অনিত্য হওয়া সত্ত্বেও জীবকে পূর্ণসিদ্ধি লাভের সুযোগ প্রদান করে। অতএব ধীর ব্যক্তির কর্তব্য হচ্ছে অবিলম্বে এই পূর্ণসিদ্ধি লাভের জন্য প্রযত্ন করা এবং কখনই জন্ম-মৃত্যুর চক্রে পতিত হওয়া উচিত নয়। ইন্দ্রিয় ভোগের বিষয় তো জঘন্যতম প্রজাতিদের মধ্যেও সুলভ, পক্ষান্তরে কৃষ্ণভাবনামৃত শুধু মানব-জীবনেই লাভ করা সম্ভব।

  • শ্লোক: 34

    নৃ্দেহমাদ্যং সুলভং সুদুর্লভং
    প্লবং সুকল্পং শুরুকর্ণধারম্ ।
    ময়ানুকূলেন নভস্বতেরিতং
    পুমান্ ভবাব্ধিং ন তরেৎ স আত্মহা।।
    (ভাগবত ১১/২০/১৭)
  • অনুবাদঃ- সমস্ত প্রকার সুফলের মূলস্বরূপ সুদুর্লভ এই মনুষ্যজন্ম প্রকৃ্তির নিয়মে সুলভে লাভ করা যায়। এই মনুষ্যদেহ এক সুপরিকল্পিত নৌকার মতো, গুরুদেব হচ্ছেন সুদক্ষ কর্ণধার এবং পরমেশ্বরের বাণী হচ্ছে অনুকূল বায়ু। এত সুযোগ সত্ত্বেও যে মানুষ এই মনুষ্য-জন্মের সদ্ব্যবহার করে না সে আত্মঘাতী।

  • শ্লোক: 35

    কামস্য নেন্দ্রিয়প্রীতির্লাভো জীবেত যাবতা ।
    জীবস্য তত্ত্বজিজ্ঞাসা নার্থো যশ্চেহ কর্মভিঃ ।।
    (ভাগবত ১/২/১০)
  • অনুবাদঃ- ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকে কখনই জীবনের উদ্দেশ্য বলে গ্রহণ করা উচিত নয়। সুস্থ জীবন যাপন করা অথবা আত্মাকে নির্মল রাখার বাসনাই কেবল করা উচিত, কেন না মানব-জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমতত্ত্ব সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা। এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে কর্ম করা উচিত নয়।

  • শ্লোক: 36

    প্রায়েণাল্পায়ুষঃ সভ্য কলাবস্মিন্ যুগে জনাঃ ।
    মন্দাঃ সুমন্দমতয়ো মন্দভাগ্যা হ্যুপদ্রুতাঃ ।।
    (ভাগবত ১/১/১০)
  • অনুবাদঃ- হে মহাজ্ঞানী! এই কলিযুগের মানুষেরা প্রায় সকলেই অল্পায়ু। তারা কলহপ্রিয়, অলস, মন্দ মতি, ভাগ্যহীন এবং সর্বোপরি তারা নিরন্তর রোগাদির দ্বারা উপদ্রুত।

  • শ্লোক: 37

    ততশ্চানুদিনং ধর্মং সত্যং শৌচ্যং ক্ষমা দয়া।
    কালেন বলিনা রাজন্নঙ্ক্ষ্যত্যায়ুর্বলং স্মৃতিঃ ।।
    (ভাগবত ১২/২/১)
  • অনুবাদঃ- হে রাজন্ ! তারপর কলির প্রবল প্রভাবে দিনে দিনে ধর্ম, সত্য, শুচিতা, সহিষ্ণুতা, দয়া, আয়ু, দৈহিক বল ও স্মৃতি ক্রমে ক্রমে হ্রাস পাবে।

  • শ্লোক: 38

    বিত্তমেব কলৌ নৃণাং জন্মাচারগুণোদয়ঃ ।
    ধর্মন্যায়ব্যবস্থায়াং কারণং বলমেব হি।।
    (ভাগবত ১২/২/২)
  • অনুবাদঃ- কলিযুগে শুধুমাত্র বিত্তকেই মানুষদের বংশাভিজাত্য, সদাচার ও সদগুণাবলীর লক্ষণ বলে গণ্য করা হবে। শুধুমাত্র ক্ষমতার ভিত্তিতেই ধর্ম ও ন্যায় প্রযুক্ত হবে।

  • শ্লোক: 39

    দাম্পত্যেহভিরুচির্হেতুর্মায়ৈব ব্যাবহারিকে।
    স্ত্রীত্বে পুংস্ত্বে চ হি রতির্বিপ্রত্বে সূত্রমেব হি।।
    (ভাগবত ১২/২/৩)
  • অনুবাদঃ- নারী ও পুরুষ শুধুমাত্র বাহ্য আকর্ষণে আকৃষ্ট হয়ে একত্রে বসবাস করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্য নির্ভর করবে প্রতারণার উপর । যৌন দক্ষতার ভিত্তিতেই পুরুষত্ব ও নারীত্বের বিচার হবে এবং শুধুমাত্র পৈতা ধারণের মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ বলে পরিচিতি লাভ করবেন ।

  • শ্লোক: 40

    লিংমেবাশ্রমখ্যাতাবন্যোন্যাপত্তিকারণম্ ।
    অবৃত্ত্যা ন্যায়দৌর্বল্যং পাণ্ডিত্যে চাপলং বচঃ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৪)
  • অনুবাদঃ- বাহ্য প্রতীকের ভিত্তিতে কোন ব্যক্তির আশ্রম নির্ধারিত হবে এবং এই একই ভিত্তিতে এক আশ্রমস্থিত ব্যক্তি পরবর্তী আশ্রমে প্রবেশ করবে। যে মানুষ ভাল রোজগার করতে পারবে না তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করা হবে। যিনি বাক্চাতুর্যে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবেন, তিনিই বিজ্ঞ পণ্ডিত বলে পরিচিত হবেন।

  • শ্লোক: 41

    অনাঢ়্যতৈবাসাধুত্বে সাধুত্বে দম্ভ এব তু ।
    স্বীকার এব চোদ্বাহে স্নানমেব প্রসাধনম্ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৫)
  • অনুবাদঃ- কোন মানুষ যদি দরিদ্র হয়, তা হলে তাকে অসাধু বলে গণ্য করা হবে এবং দম্ভ ও কপটতাকেই গুণ বলে স্বীকার করা হবে। মৌখিক স্বীকৃ্তির ভিত্তিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হবে এবং শুধুমাত্র স্নান করলেই (তিলক, চন্দন আদি ধারণ না করেই) মানুষ নিজেকে জনগণের মধ্যে প্রবেশের যোগ্য বলে মনে করবে।

  • শ্লোক: 42

    দূরে বার্যয়নং তীর্থং লাবণ্যং কেশধারণম্ ।
    উদরম্ভরতা স্বার্থঃ সত্যত্বে ধার্ষ্ট্যমেব হি ।
    দাক্ষ্যং কুটুম্বভরণং যশোহর্থে ধর্মসেবনম্ ।।
    (ভাগবত ১২/২/৬)
  • অনুবাদঃ- দূরে অবস্থিত জলাশয়কে তীর্থ বলে গণ্য করা হবে। কেশ ধারণের ভিত্তিতে সৌন্দর্য নিরূপিত হবে। উদরপূর্তিই হবে জীবনের লক্ষ্য । ধৃষ্ট ব্যক্তিকে সত্যনিষ্ঠ বলে গণ্য করা হবে। কুটুম্বভরণে সমর্থ ব্যক্তিকে দক্ষ বলে গণ্য করা হবে এবং শুধুমাত্র যশ লাভের জন্যই ধর্ম-কর্ম অনুষ্ঠান করা হবে।

  • শ্লোক: 43

    কলের্দোষনিধে রাজন্নস্তি হ্যেকো মহান্ গুণঃ ।
    কীর্তনাদেব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গঃ পরং ব্রজেৎ ।।
    (ভাগবত ১২/৩/৫১)
  • অনুবাদঃ- হে রাজন! দোষের নিধি এই কলিযুগে একটি মহৎ গুণ আছে। কলিযুগে ভগবানের নাম কীর্তনের প্রভাবেই জীব জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেন।

  • শ্লোক: 44

    কৃ্তে যদ্ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ ।
    দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তনাৎ ।।
    (ভাগবত ১২/৩/৫২)
  • অনুবাদঃ- সত্যযুগে বিষ্ণুকে ধ্যান করে, ত্রেতাযুগে যজ্ঞের মাধ্যমে যজন করে এবং দ্বাপরযুগে অর্চন আদি করে যে ফল লাভ হত, কলিকালে 'হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র' কীর্তনে সেই সকল ফল লাভ হয়।

  • শ্লোক: 45

    কলিং সভাজয়ন্ত্যার্যা গুণজ্ঞাঃ সারভাগিণঃ ।
    যত্র সঙ্কীর্তনেনৈব সর্বস্বার্থোহভিলভ্যতে ।।
    (ভাগবত ১১/৫/৩৬)
  • অনুবাদঃ- গুণজ্ঞ সারগ্রাহী মহাত্মারা কলিযুগকে এই জন্য ধন্য বলেন, কেন না কলিযুগে কেবল হরিনাম সংকীর্তনের ফলেই সর্ব স্বার্থ লাভ হয়।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= শ্রীমদ্ভাগবতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.