সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোকঃ-

জ্ঞান-ই শক্তি ! নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

ভক্ত ও ভক্ত সম্বন্ধীয়ঃ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক

  • "শ্লোক: 1

    বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ৷
    পতিতানাং পাবনেভ্যোঃ বৈষ্ণবেভ্যো নমো নমঃ৷৷ "

  • অনুবাদঃ- আমি সমস্ত বৈষ্ণবগণকে পুনঃপুনঃ আমার সশ্রদ্ধ দণ্ডবৎ প্রণাম নিবেদন করি। তাঁরা ঠিক কল্পতরুর মতো সকলের বাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারেন এবং তাঁরা সমস্ত পতিত জীবদের প্রতি পূর্ণরূপে দয়াশীল ।

  • শ্লোক: 2

    যে মে ভক্তজনাঃ পার্থ ন মে ভক্ত্যাশ্চ তে জনাঃ ।
    মদ্ভক্তানাং চ যে ভক্তাস্তে মে ভক্ততমাঃ মতাঃ ।।
    (আদি পুরাণ)

  • অনুবাদঃ- শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন, "হে পার্থ! যারা কেবল আমারই ভক্ত, তাঁরা বস্তুত আমার ভক্ত নয়। কিন্তু যারা আমার ভক্তের ভক্ত তাদেরই উত্তম ভক্ত বলে জানবে।"

  • শ্লোক: 3

    নৈষাং মতিস্তাবদুরুক্রমাঙ্ঘ্রিং
    স্পৃশত্যনর্থাপগমো যদর্থঃ ।
    মহীয়সাং পাদরজোহভিষেকং
    নিষ্কিঞ্চনানাং ন বৃণীত যাবৎ ।।
    (ভাগবত ৭/৫/৩২)

  • অনুবাদঃ- মানুষের মতি যতক্ষণ নিষ্কিঞ্চন ভগবদ্ভক্তদের শ্রীপাদপদ্মের ধূলির দ্বারা অভিসিক্ত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তা অনর্থ নাশক কৃষ্ণ-পাদপদ্ম স্পর্শ করতে পারে না। (প্রহ্লাদ মহারাজ)

  • শ্লোক: 4

    সতাং প্রসঙ্গান্মম বীর্যসংবিদো
    ভবন্তি হৃৎকর্ণরসায়নাঃ কথাঃ।
    তজ্জোষণাদাশ্বপবর্গবর্ত্মনি
    শ্রদ্ধা রতির্ভক্তিরনুক্রমিষ্যতি।।
    (ভাগবত ৩/২৫/২৫)

  • অনুবাদঃ- পারমার্থিক মহিমামণ্ডিত ভগবানের কথা ভক্তসঙ্গেই কেবল যথাযথভাবে আলোচনা করা যায় এবং সেই কথা শ্রবণে হৃদয় ও শ্রবণেন্দ্রিয় তৃপ্ত হয়। ভক্তসঙ্গে সেই বাণী প্রীতিপূর্বক শ্রবণ করতে করতে শীঘ্র মুক্তির বর্ত্মস্বরূপ আমার প্রতি প্রথমে শ্রদ্ধা, পরে রতি এবং অবশেষে প্রেমভক্তি ক্রমে ক্রমে উদিত হয়।

  • শ্লোক: 5

    তুলয়াম লবেনাপি ন স্বর্গং নাপুনর্ভবম্ ।
    ভগবৎসঙ্গিসঙ্গস্য মর্ত্যানাং কিমুতাশিষঃ ।।
    (ভাগবত ১/১৮/১৩)

  • অনুবাদঃ- ভগবৎ সঙ্গীর নিমেষ মাত্র সঙ্গ দ্বারা জীবের যে অসীম মঙ্গল সাধিত হয়, তার সঙ্গে স্বর্গসুখ ভোগের বা মুক্তি লাভের কিছুমাত্র তুলনা করা যায় না, তখন মরণশীল মানুষের জাগতিক সমৃদ্ধির কথা আর কি বলার আছে ।

  • শ্লোক: 6

    'সাধুসঙ্গ', 'সাধুসঙ্গ' - সর্বশাস্ত্রে কয় ।
    লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্বসিদ্ধি হয় ।।
    (চৈঃ চঃ মধ্য ২২/৫৪)

  • অনুবাদঃ- সমস্ত শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে, শুদ্ধ ভক্তের সঙ্গ যদি মুহূর্তের জন্যও লাভ করা যায়, তা হলেই সর্বসিদ্ধি লাভ হয়।

  • শ্লোক: 7

    তর্কোহপ্রতিষ্ঠঃ শ্রুতয়ো বিভিন্না
    নাসাবৃষির্যস্য মতং ন ভিন্নম্ ।
    ধর্মস্য তত্ত্বং নিহিতং গুহায়াং
    মহাজনো যেন গতঃ স পন্থাঃ ।।
    (মহাভারত, বনপর্ব ৩১৩/১১৭)

  • অনুবাদঃ- তর্কের দ্বারা প্রকৃত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা যায় না। পক্ষান্তরে, তার ফলে শ্রুতিসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায় এবং যাঁর মত ভিন্ন নয়, তিনি ঋষি হতে পারেন না। তাই ধর্মতত্ত্ব গূঢ়রূপে আচ্ছাদিত হয়ে আছে, অর্থাৎ শাস্ত্র আদি পাঠ করে ধর্মতত্ত্ব পাওয়া কঠিন । সুতরাং যাঁকে মহাজন বলে সাধুরা স্থির করেছেন, তিনি যে পন্থাকে শাস্ত্রপন্থা বলেছেন, সেই পথেই সকলের অনুগমন করা উচিত। (যুধিষ্ঠির মহারাজ)

  • শ্লোক: 8

    দুর্জনঃ পরিহর্তব্যো বিদ্যয়ালঙ্কৃতোহপি সন।
    মণিনা ভূষিতঃ সর্পঃ কিমসৌ ন ভয়ঙ্করঃ ।।
    ( চাণক্য পণ্ডিত)

  • অনুবাদঃ- বিদ্যার দ্বারা অলঙ্কৃত হলেও দুর্জন ব্যক্তিকে পরিহার করা কর্তব্য। সে ঠিক একটি মণিভূষিত বিষাক্ত সর্পের মতো। সেই রকম সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়?

  • শ্লোক: 9

    তীর্থযাত্রা পরিশ্রম কেবল মনের ভ্রম
    সর্বসিদ্ধি গোবিন্দচরণ।
    (নরোত্তম দাস ঠাকুর, প্রার্থনা )

  • অনুবাদঃ- পরিশ্রম করে তীর্থভ্রমণ কেবল মনের ভ্রম মাত্র, কেন না পারমার্থিক প্রগতির জন্য গোবিন্দচরণকে আশ্রয় করলেই সর্বসিদ্ধি লাভ হবে ।

  • শ্লোক: 10

    মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ ।
    আগমাপায়িনোহনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত ॥
    (গীতা ২/১৪)

  • অনুবাদঃ- হে কৌন্তেয় ! ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিষয়ের সংযোগের ফলে অনিত্য সুখ ও দুঃখের অনুভব হয় ৷ সেগুলি ঠিক যেন শীত এবং গ্রীষ্ম ঋতুর গমনাগমনের মতো । হে ভরতকুল-প্রদীপ ! সেই ইন্দ্রিয়্জাত অনুভূতির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সেগুলি সহ্য করার চেষ্টা কর।

  • শ্লোক: 11

    যং হি ন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ ।
    সমদুঃখসুখং ধীরং সোহমৃতত্বায় কল্পতে ॥
    (গীতা ২/১৫)

  • অনুবাদঃ- হে পুরুষশ্রেষ্ঠ (অর্জুন) ! যে জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ ও দুঃখকে স মান জ্ঞান ক রেন এবং শীত ও উষ্ণ আদি দ্বন্দ্বে বিচলিত হন না, তিনিই মুক্তি লাভের প্রকৃত অধিকারী।

  • শ্লোক: 12

    বিপদঃ সন্তু তাঃ শশ্বত্তত্র তত্র জগদ্ গুরুো ।
    ভবতো দর্শনং যৎ স্যাদপুনর্ভবদর্শনম্ ।।
    (ভাগবত ১/৮/২৫)

  • অনুবাদঃ- হে জগদীশ্বর ! আমি কামনা করি যেন সেই সমস্ত সঙ্কট বারে বারে উপস্থিত হয়, যাতে বারে বারে আমরা তোমাকে দর্শন করতে পারি। কারণ, তোমাকে দর্শন করলেই আমাদের আর জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে না বা এই সংসার চক্র দর্শন করতে হবে না। (শ্রীকৃষ্ণের প্রতি কুন্তীদেবী)

  • শ্লোক: 13

    যং লব্ধ্বা চাপরং লাভং মন্যতে নাধিকং ততঃ
    যস্মিন্ স্থিতো ন দুঃখেন গুরুণাপি বিচাল্যতে ॥
    (গীতা ৬/২২)

  • অনুবাদঃ- পারমার্থিক চেতনায় অবস্থিত হলে যোগী আর আত্ম-তত্ত্বজ্ঞান থেকে বিচলিত হন না এবং তখন আর অন্য কোন কিছু লাভই এর থেকে অধিক বলে মনে হয় না।

  • শ্লোক: 14

    উদ্ধরেদাত্মনাত্মানং নাত্মানমবসাদয়েৎ ৷
    আত্মৈব হ্যত্মনো বন্ধুরাত্মৈব রিপুরাত্মনঃ ॥৫॥
    (গীতা ৬/৫)

  • অনুবাদঃ- মানুষের কর্তব্য তার মনের দ্বারা নিজেকে জড় জগতের বন্ধন থেকে উদ্ধার করা, মনের দ্বারা আত্মাকে অধঃপতিত করা কখনই উচিত নয়। মনই জীবের অবস্থা ভেদে বন্ধু ও শত্রু হয়ে থাকে ।

  • শ্লোক: 15

    চঞ্চলং হি মনঃ কৃষ্ণ প্রমাথি বলবদ্দৃঢ়ম্ ৷
    তস্যাহং নিগ্রহং মন্যে বায়োরিব সুদুষ্করম্ ॥৩৪॥
    (গীতা ৬/৩৪)

  • অনুবাদঃ- হে কৃষ্ণ ! মন অত্যন্ত চঞ্চল, শরীর ও ইন্দ্রিয় আদির বিক্ষেপ উৎপাদক, দুর্দমনীয় এবং অত্যন্ত বলবান, তাই তাকে নিগ্রহ করা বায়ুকে বশীভূত করার থেকেও অধিকতর কঠিন বলে আমি মনে করি৷

  • শ্লোক: 16

    অসংশয়ং মহাবাহো মনো দুর্নিগ্রহং চলম্ ৷
    অভ্যাসেন তু কৌন্তেয় বৈরাগ্যেণ চ গৃহ্যতে ॥৩৫॥
    (গীতা ৬/৩৫)

  • অনুবাদঃ- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে মহাবাহো ! মন যে দুর্দমনীয় ও চঞ্চল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু হে কৌন্তেয় ! ক্রমশ অভ্যাস ও বৈরাগ্যের দ্বারা মনকে বশীভূত করা যায়।

  • শ্লোক: 17

    মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমোক্ষয়োঃ ।
    বন্ধায় বিষয়াসঙ্গো মুক্ত্যৈ নির্বিষয়ং মনঃ ।।
    (অমৃতবিন্দু উপনিষদ-২)

  • অনুবাদঃ- মনই মানুষের বন্ধন ও মুক্তির কারণ। বিষয়ে আসক্ত মনই বন্ধনের কারণ এবং বিষয়ে অনাসক্ত মনই মুক্তির কারণ। অতএব যে মন সর্বদাই শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত, তা পরম মুক্তির কারণ।

  • শ্লোক: 18

    যঃ ইদং পরমং গুহ্যং মদ্ভক্তেষ্বভিধাস্যতি ।
    ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ ॥
    (গীতা ১৮/৬৮)

  • অনুবাদঃ- যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গোপনীয় গীতাবাক্য উপদেশ করেন, তিনি অবশ্যই পরা ভক্তি লাভ করে নিঃসংশয়ে আমার কাছে ফিরে আসবেন।

  • (সূত্রঃ- বৈষ্ণব শ্লোকাবলী) এরপর দেখুন= ভক্ত ও ভক্ত সম্বন্ধীয়ঃ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক :-

  • আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে পারেন। মানসম্মত লেখা নামসহ সাইটে স্থায়ীভাবে পাবলিশ করা হয়।

    সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    এ সময় যারা যারা আছেন বা ছিলেন। Website Tracking

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.