শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ১৭:
    অভ্যসেন্মনসা শুদ্ধং ত্রিবৃদব্রহ্মাক্ষরং পরম্ ৷
    মনো যচ্ছেজ্জিতশ্বাসো ব্রহ্মবীজমবিস্মরণ ॥১৭৷৷

  • অনুবাদ : এইভাবে উপবেশন করে তিনটি চিন্ময় অক্ষর (অ-উ-ম) দ্বারা রচিত বীজমন্ত্র মনে মনে আবৃত্তি করবেন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে মনকে বশীভূত করবেন, যাতে কখনও চিন্ময় বীজটির বিস্মরণ না হয়।
  • তাৎপর্যঃ- ওঁ-কার বা প্রণব হচ্ছে চিন্ময় উপলব্ধির বীজ; এবং তা অ-উ-ম তিনটি চিন্ময় অক্ষর দ্বারা রচিত। অভিজ্ঞ মহাযোগীদের দ্বারা উপদিষ্ট সমাধি লাভের দিব্য অথচ যান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রাণায়াম সহকারে মানসে এই প্রণব জপের ফলে বিষয়াসক্ত মনকে বশীভূত করা যায়। মনের অভ্যাস পরিবর্তন করার এইটিই হচ্ছে পন্থা। মনকে হত্যা করতে হয় না। মন অথবা বাসনা রোধ করা যায় না, কিন্তু আধ্যাত্মিক উপলব্ধি লাভের উদ্দেশ্যে মনের বৃত্তির পরিবর্তন করতে হয়। মন হচ্ছে সমস্ত কর্মেন্দ্রিয়গুলির কেন্দ্রবিন্দু, তাই যদি চিন্তা, অনুভূতি এবং ইচ্ছার প্রকৃতি পরিবর্তন করা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মেন্দ্রিয়গুলির কার্যকলাপের প্রকৃতিও পরিবর্তিত হয়। ওঁ-কার সমস্ত চিন্ময় ধ্বনির বীজ এবং চিন্ময় ধ্বনিই কেবল মন এবং ইন্দ্রিয়গুলির বাঞ্ছিত পরিবর্তন সাধন করতে পারে। এমনকি উন্মাদ ব্যক্তিকেও চিন্ময় ধ্বনির দ্বারা চিকিৎসা করার ফলে সুস্থ্য করা যায়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় প্রণব বা ওঁকারকে পরম সত্যের প্রত্যক্ষ এবং আক্ষরিক অভিব্যক্তি বলে স্বীকার করা হয়েছে। কেউ যদি উপযুক্ত বিধি অনুসারে ভগবানের পবিত্র নাম সরাসরিভাবে উচ্চারণ না করতে পারে, তিনি অনায়াসে প্রণব (ওঁকার) জপ করতে পারেন। এই ওকার হচ্ছে এক সম্বোধন , যথা — ' হে ভগবান ' । ও হরি । ও মানে হচ্ছে ' হে আমার প্রভু হে পরমেশ্বর ভগবান । পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে যে ভগবানের দিব্য নাম ভগবান থেকে অভিন্ন । তেমনই ওকারও ভগবান থেকে অভিন্ন । কিন্তু যারা কনিষ্ঠ স্তরের চেতনাসম্পন্ন , ভ্রাস্ত ইন্দ্রিয়ের বশবর্তী হওয়ার ফলে ভগবানের চিন্ময় স্বরূপ অথবা নাম উপলব্ধি করতে পারে না , তাদের যান্ত্রিকভাবে শ্বাস - প্রশ্বাসের ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার অনুশীলনের মাধ্যমে মানসে প্রণব ( ওকার ) নিরস্তর উচ্চারণ করার মাধ্যমে আত্ম উপলব্ধির অনুশীলনের শিক্ষা দেওয়া হয় । পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভগবানের দিব্য নাম , রূপ , গুণ , লীলা ইত্যাদি যেহেতু জড় ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপলব্ধি করা অসম্ভব , তাই সমস্ত ইন্দ্রিয়ের কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দু মনের মাধ্যমে এই প্রকার দিব্য উপলব্ধির শুরু হয় । ভক্তেরা সরাসরিভাবে পরম সত্য পরমেশ্বর ভগবানে তাদের মনকে নিবদ্ধ করেন । কিন্তু যারা ব্রহ্মের এই সবিশেষ রূপের ধারণা করতে পারে না , তাদের পারমার্থিক প্রগতির জন্য পরম সত্যের নির্বিশেষ উপলব্ধির মাধ্যমে মনকে নিয়ন্ত্রিত করার শিক্ষা দেওয়া হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।