শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ১৯:
    তত্রেকাবয়বং ধ্যায়েদব্যুচ্ছিন্নেন চেতসা ৷
    মনো নির্বিষয়ং যুক্তা ততঃ কিঞ্চন ন স্মরেৎ ।
    পদং তৎপরমং বিষ্ণোর্মনো যত্ৰ প্ৰসীদতি ॥১৯॥

  • অনুবাদ : তারপর শ্রীবিষ্ণুর পূর্ণ শরীরের ধারণা থেকে বিচ্যুত না হয়ে একে একে তার অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের ধ্যান করবে । তার ফলে মন ইন্দ্রিয়ের বিষয় থেকে মুক্ত হবে । অন্য কোন কিছুর চিন্তা করবে না । কেননা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণু হচ্ছেন পরম সত্য , অতএব তাতেই কেবল মন সম্পূর্ণরূপে প্রসন্নতা লাভ করে ।
  • তাৎপর্যঃ- বিষ্ণুর বহিরঙ্গা - প্রকৃতির দ্বারা মোহিত হয়ে মুর্খ মানুষেরা বুঝতে পারে না যে , পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণুর সঙ্গে সরাসরিভাবে যুক্ত হওয়াই হচ্ছে জীবনের চরম লক্ষ্য এবং সুখ অন্বেষণের পরম প্রাপ্তি । বিষ্ণু তত্ত্ব পরমেশ্বর ভগবানের অস্তহীন চিন্ময় রূপের একটি প্রকাশ , এবং আদি বিষ্ণু - তত্ত্ব বা পরম বিষ্ণু - তত্ত্ব হচ্ছে সর্বকারণের পরম কারণ গোবিন্দ বা শ্রীকৃষ্ণ । তাই , শ্রীবিষ্ণুর চিন্তা করা বা শ্রীবিষ্ণুর চিন্ময় রূপের ধ্যান করা , বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের ধ্যান করা হচ্ছে ধ্যানের চরম অবস্থা । এই ধ্যান ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম থেকে শুরু করতে হয় । কিন্তু তা বলে ভগবানের পূর্ণ অবয়বের কথা বিস্মৃত হওয়া উচিত নয় । একে একে ভগবানের চিন্ময় দেহের বিভিন্ন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের ধ্যান করার অনুশীলন করা উচিত । এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে যে পরমেশ্বর ভগবান নির্বিশেষ নন । তিনি সবিশেষ , কিন্তু তার দেহ আমাদের মতো বদ্ধ জীবদের থেকে ভিন্ন । তা না হলে পূর্ণ পারমার্থিক সিদ্ধিলাভের জন্য শ্রীল শুকদেব গোস্বামী প্রণব ওঁকার থেকে শুরু করে শ্রীবিষ্ণুর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের ধ্যান করার নির্দেশ দিতেন না । ভারতবর্ষের বিভিন্ন মন্দিরে যে বিষ্ণু - বিগ্রহের আরাধনা করার পন্থা বিদ্যমান আছে , তা কখনই পৌত্তলিকতা নয় ; যদিও এক শ্রেণীর স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ সে কথা প্রচার করে থাকে । এই সমস্ত মন্দিরগুলি হচ্ছে শ্রীবিষ্ণুর চিন্ময় রূপের ধ্যান করার কেন্দ্র । ভগবানের অচিন্ত্য শক্তির প্রভাবে মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত শ্রীবিষ্ণুর অর্ডা - বিগ্রহ ভগবান থেকে অভিন্ন । তাই শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে , ভগবদ্ভক্তির প্রাথমিক স্তরে মন্দিরে শ্রীবিষ্ণুর অঙ্গ - প্রত্যঙ্গের ধ্যান করা উচিত । এক স্থানে স্থিরভাবে বসে থাকতে অক্ষম মানুষদের পক্ষে ধ্যান করার এটি একটি সহজ প্রক্রিয়া । এইভাবে তারা তাদের মনকে পরে প্রণব ওকারে অথবা শ্রীবিষ্ণুর চিন্ময় অবয়বে একাগ্র করতে পারেন , যে বিষয়ে এখানে মহা ভাগবত শ্রীল শুকদেব গোস্বামী নির্দেশ দিয়েছেন । সাধারণ মানুষের পক্ষে ওকার বা অ - উ - ম এই তিনটি শব্দের অপ্রাকৃত সমন্বয়ে গঠিত বীজমন্ত্রের উপর ধ্যান করার থেকে মন্দিরে শ্রীবিষ্ণুর রূপের ধ্যান করা অধিকতর সহজ এবং ফলপ্রসূ । ওকার এবং শ্রীবিষ্ণুর রূপের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই , কিন্তু পারমার্থিক তত্ত্ব - বিজ্ঞানে অনভিজ্ঞ মানুষেরা শ্রীবিষ্ণু এবং ওকারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে প্রচার করে বিবাদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে । এখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে শ্রীবিষ্ণুর রূপ ধ্যানের চরম লক্ষ্য , এবং তাই শ্রীবিষ্ণুর রূপের ধ্যান করা নির্বিশেষ ওকারের ধ্যান করা থেকে অধিক শ্রেয় , কেননা পরবর্তী পন্থাটি পূর্ববর্তী পন্থাটির থেকে অধিক কষ্টসাপেক্ষ ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।