শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ৮:
    ইদং ভাগবতং নাম পুরাণং ব্রহ্মসম্মিতম্ ।
    অধীতবান্ দ্বাপরাদৌ পিতু্র্দ্বৈপায়নাদহম্ ॥৮ ৷৷

  • অনুবাদ : শ্ৰীমদ্ভাগবত নামক সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের নির্যাসস্বরূপ এই পুরাণ আমি দ্বাপর যুগের শেষে আমার পিতৃদেব শ্রীল কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের কাছে অধ্যয়ন করেছি ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীল শুকদেব গোস্বামী যে বলেছেন যে বিধি - নিষেধের অতীত সর্বশ্রেষ্ঠ পরমার্থবাদীদের প্রধান বৃত্তি হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা শ্রবণ ও কীর্তন করা , তার ব্যক্তিগত দৃষ্টাস্তের মাধ্যমে তার সেই উক্তির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে । পরীক্ষিৎ মহারাজের জীবনের শেষ সাত দিনের সভায় সমবেত সমস্ত মহর্ষিরা শুকদেব গোস্বামীকে মুক্ত পুরুষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ পরমার্থবাদীরূপে স্বীকার করেছিলেন । তিনি তার নিজের জীবন থেকে দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেছিলেন কিভাবে তিনি ভগবানের অপ্রাকৃত কার্যকলাপের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং তার মহান পিতা শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের কাছে শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করেছিলেন । শ্রীমদ্ভাগবত অথবা অন্য কোন বিজ্ঞানভিত্তিক শাস্ত্র নিজে নিজে গৃহে অধ্যয়ন করা যায় না । দৈহিক গঠনতন্ত্র সংক্রান্ত শিক্ষা ( Anatomy ) অথবা শারীরবৃত্ত সংক্রান্ত শিক্ষার ( Physiology ) বিষয়ে চিকিৎসা গ্রন্থ বাজারে কিনতে পাওয়া যায় , কিন্তু সেই বইগুলি বাড়িতে পড়ে কেউ কখনো উপযুক্ত চিকিৎসক বলে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না । চিকিৎসক হতে হলে চিকিৎসা সংক্রান্ত মহাবিদ্যালয়ে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উপযুক্ত অধ্যাপকদের পরিচালনায় যথাযথভাবে উপযুক্ত গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করতে হয় । তেমনই , ভগবত্তত্ত্ব - বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর স্তরের গ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করতে হয় শ্রীল ব্যাসদেবের মতো তত্ত্বজ্ঞানী মহাপুরুষের শ্রীপাদপদ্মে উপবেশন করে । শুকদেব গোস্বামী যদিও তার জন্মের মুহূর্ত থেকেই ছিলেন মুক্ত পুরুষ , তথাপি তিনি শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করেছিলেন তার মহান পিতা ব্যাসদেবের কাছে , যিনি আর একজন মহাপুরুষ শ্রীল নারদ মুনির নির্দেশে শ্রীমদ্ভাগবত প্রণয়ন করেছিলেন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এক বিদ্বান ব্রাহ্মণকে নির্দেশ দিয়েছিলেন , “ যাহ ভাগবত পড় ভাগবত স্থানে । ” শ্রীমদ্ভাগবত ভগবানের অপ্রাকৃত নাম রূপ , গুণ , লীলা , পরিকর এবং বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে রচিত , এবং তা প্রকাশ করেছিলেন ভগবানেরই অবতার শ্রীল ব্যাসদেব ভগবান তার শুদ্ধভক্তদের সঙ্গে তার লীলা বিলাস করেন , এবং তাই এই মহান শাস্ত্রগ্রন্থে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর উল্লেখ করা হয়েছে , কেননা সেগুলি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সম্পর্কিত । শ্রীমদ্ভাগবতকে ব্রহ্ম সম্মিতম বলা হয় , কেননা তা হচ্ছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মতো শব্দরূপে ভগবানের প্রতিনিধি । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা শব্দরূপে ভগবানের অবতার , কেননা ভগবান নিজে তার শ্রীমুখ থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা দান করেছেন , এবং শ্রীমদ্ভাগবত শব্দরূপে ভগবানের প্রতিনিধি , কেননা ভগবানের অবতার কর্তৃক ভগবানের কার্যকলাপই শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে । এই গ্রন্থের প্রথমেই বলা হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে বৈদিক কল্পবৃক্ষের সুপক্ক ফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক - সিদ্ধান্ত ব্রহ্মসূত্রের স্বাভাবিক ভাষ্য । দ্বাপর যুগের শেষে ব্যাসদেব সত্যবতীর পুত্ররূপে আবির্ভূত হন , এবং তাই এখানে দ্বাপরাদৌ বা “ দ্বাপর যুগের শুরুতে " শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । অর্থাৎ , এই প্রসঙ্গে ‘ কলিযুগ শুরু হওয়ার ঠিক পুর্বে –এই অর্থে এই শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে । শ্রীল জীবগোস্বামীর মতে গাছের অগ্রভাগটি যেমন গাছের শুরু বলে বর্ণনা করা হয় , সেই যুক্তি অনুসারে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । প্রকৃতপক্ষে গাছের গোড়াটি হচ্ছে গাছের শুরু কিন্তু সাধারণ দৃষ্টিতে যেহেতু গাছের আগাটি সবার আগে চোখে পড়ে , তাই অনেক সময় গাছের অগ্রভাগটিকেই গাছের শুরু বলে বর্ণনা করা হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।