শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ৭:
    প্রায়েণ মুনয়ো রাজন্নিবৃত্তা বিধিষেধতঃ ৷
    নৈর্গুণ্যস্থা রমত্তে স্ম গুণানুকথনে হরেঃ ॥৭ ॥

  • অনুবাদ : হে মহারাজ পরীক্ষিৎ , সব রকম বিধিনিষেধের অতীত সর্বশ্রেষ্ঠ মুনিগণ ভগবানের মহিমা কীর্তন করার মাধ্যমে অপ্রাকৃত আনন্দ আস্বাদন করেন ।
  • তাৎপর্যঃ- উত্তম অধিকারী ভগবদ্ভক্তগণ হচ্ছেন মুক্ত পুরুষ এবং তাই তারা বিধি - নিষেধের গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ নন । পারমার্থিক স্তরে উন্নীত হওয়ার অভিলাষী কনিষ্ঠ ভক্ত শাস্ত্র - বিধির মাধ্যমে সদ্গুরুর দ্বারা পরিচালিত হন । সেই কনিষ্ঠ অধিকারী ভক্তকে চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন বিধি - নিষেধের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রোগীর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে । সাধারণত , মুক্ত পুরুষেরা ভগবানের অপ্রাকৃত কার্যকলাপ বর্ণনা করার মাধ্যমে আনন্দ আস্বাদন করে থাকেন । পূর্বে যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে — যেহেতু পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণ হরি , জড় সৃষ্টির অতীত , তাই তার রূপ এবং বৈশিষ্ট্য জড় নয় । সর্বশ্রেষ্ঠ পরমার্থবাদী বা মুক্ত পুরুষেরা তাদের অপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভগবানকে উপলব্ধি করতে পারেন , এবং তাই ভগবানের লীলার চিন্ময় গুণাবলী আলোচনা করার মাধ্যমে আনন্দ আস্বাদন করেন । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৪/৯ ) পরমেশ্বর ভগবান ঘোষণা করেছেন যে , তার জন্ম এবং কর্ম দিব্য । জড়া - প্রকৃতির প্রভাবে মোহিত সাধারণ মানুষেরা মনে করে যে ভগবানও তাদেরই মতো একজন , এবং তাই তারা ভগবানের নাম , রূপ , ইত্যাদির চিন্ময়ত্ব স্বীকার করতে চায় না । সর্বশ্রেষ্ঠ পরমার্থবাদীরা জড় - জাগতিক কোন বিষয়ের প্রতি আসক্ত নন , এবং তারা যখন ভগবানের কার্যকলাপের প্রতি আকৃষ্ট হন , তার থেকে এটিই প্রমাণিত হয় যে ভগবান আমাদের মতো জড় জগতের কেউ নন । বৈদিক শাস্ত্রেও প্রতিপন্ন হয়েছে যে পরমেশ্বর ভগবান এক , কিন্তু তিনি তার অনন্য ভক্তদের সঙ্গে লীলা - বিলাস করেন , আবার যুগপৎভাবে তিনি প্রতিটি জীবের হৃদয়ে বলদেবের প্রকাশ পরমাত্মারূপে বিরাজ করেন । তাই সর্বশ্রেষ্ঠ পারমার্থিক সিদ্ধি হচ্ছে ভগবানের অপ্রাকৃত গুণাবলী শ্রবণ এবং কীর্তন করার মাধ্যমে দিব্য আনন্দ আস্বাদন করা ; তার নির্বিশেষ ব্রহ্মে লীন হয়ে যাওয়া নয় , যা নির্বিশেষবাদী অদ্বৈত পন্থীরাই কামনা করেন । প্রকৃত দিব্য আনন্দ আস্বাদন হয় ভগবানের অপ্রাকৃত মহিমা কীর্তন করার মাধ্যমে , তার নির্বিশেষ রূপে তার সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার অনুভূতির মাধ্যমে নয় । একপ্রকার নিকৃষ্ট স্তরের পরমার্থবাদী রয়েছে যারা ভগবানের অপ্রাকৃত কার্যকলাপ বর্ণনা করার আনন্দ আস্বাদন করার পরিবর্তে তার সত্তায় লীন হয়ে যাওয়ার জন্য তার কথা আলোচনা করে । কিন্তু তারা কখনোই উন্নত স্তরের চিন্ময় আনন্দ আস্বাদন করতে পারে না ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।