শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ১
    শ্রীশুক উবাচ
    এবং পুরা ধারণয়াত্মযোনি-
    নষ্টাং স্মৃতিং প্রত্যবরুধ্য তুষ্টাৎ ।
    তথা সসর্জেদমমোঘদৃষ্টি-
    র্যথাপ্যয়াৎ প্রাগ্ ব্যবসায়বুদ্ধিঃ ॥১ ॥

  • অনুবাদ : শ্রীশুকদেব গোস্বামী বললেন, বিশ্বসৃষ্টির পূর্বে ব্রহ্মা বিরাট রূপের ধ্যান করার মাধ্যমে ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করে তার লুপ্ত চেতনা ফিরে পেয়েছিলেন , এবং এই বিশ্ব প্রলয়ের পূর্বে ঠিক যেমন ছিল ঠিক সেইভাবে তার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।
  • তাৎপর্যঃ- এখানে ব্রহ্মার বিস্মৃতির দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে । ব্রহ্মা হচ্ছেন ভগবানের প্রকৃতির একটি গুণের অবতার । জড়া প্রকৃতির রজোগুণের অবতার হওয়ার ফলে তিনি এই সুন্দর জড় জগতকে প্রকাশ করার জন্য ভগবানের শক্তির দ্বারা আবিষ্ট । তথাপি অসংখ্য জীবের মধ্যে একজন হওয়ার ফলে তিনি তার সৃজনাত্মক শক্তির কথা ভুলে যেতে পারেন । ব্রহ্মা থেকে শুরু করে নগণ্য পিপীলিকা পর্যন্ত সমস্ত জীবেরই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে । কিন্তু ভগবানের বিরাটরূপের ধ্যান করার মাধ্যমে সেই প্রবণতা প্রতিহত করা সম্ভব । মনুষ্যজন্ম লাভ করার ফলে সেই সুযোগ পাওয়া যায় , এবং কোন মানুষ য শ্রীমদ্ভাগবতের উপদেশ অনুসরণ করেন এবং ভগবান বিরাটরূপের ধ্যান করতে শুরু করেন , তা হলে তার শুদ্ধ চেতনার পুনর্জাগরণ হবে । আর তখন ভগবানের সঙ্গে তার নিত্য সম্পর্কের কথা ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও প্রতিহত হবে । যখন বিস্মৃতি দূর হয় , তৎক্ষণাৎ ব্যবসায় - বুদ্ধির ( নিশ্চয়াত্থিকা বুদ্ধি ) উদয় হয় , যে সম্বন্ধে এখানে এবং ভগবদ্গীতায় ( ২/৪১ ) বর্ণনা করা হয়েছে । জীবের এই জ্ঞান উদয়ের ফলে ভগবদ্ভক্তির উদয় হয় , যা প্রতিটি জীবেরই পরম প্রয়োজন । ভগবদ্ধাম অন্তহীন ; তাই সেখানে ভগবানের সহকারীও অনস্ত । ভগবদগীতায় ( ১৩/১৪ ) বলা হয়েছে যে , ভগবানের হাত , পা , চক্ষু এবং মুখ তার সৃষ্টির সর্বত্র রয়েছে । অর্থাৎ তার বিভিন্ন অংশ জীবেরা তার সহায়ক এবং তাদের সকলেরই কর্তব্য বিশেষভাবে ভগবানের সেবা করা । বদ্ধ জীবে , এমন কি ব্রহ্মা পর্যন্ত সকলেই অহংকার - প্রসূত মায়ার মোহিনী শক্তির প্রভাবে সে কথা ভুলে যায় । ভগবৎ চেতনার উন্মেষের ফলে এই অহংকার থেকে মুক্ত হওয়া যায় । মুক্তি শব্দটির অর্থ হচ্ছে বিস্মৃতির সুযুপ্তি থেকে জেগে উঠে ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হওয়া , যা এখানে ব্রহ্মার দৃষ্টাস্তের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে । ব্রহ্মার এই সেবা মুক্ত অবস্থায় সেবার দৃষ্টান্ত , যা ভ্রান্তিপূর্ণ এবং বিস্মৃতিতে পূর্ণ তথাকথিত পরোপকারের সেবার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন । মুক্তি কখনোই নিষ্ক্রিয় নয় , পক্ষান্তরে তা হচ্ছে ত্রুটিবিহীন সেবা ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।