শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ১৬
    মনঃ স্ববুদ্ধ্যামলয়া নিয়ম্য
    ক্ষেত্রজ্ঞে এতাং নিনয়েৎ তমাত্মনি ।
    আত্মানমাত্মন্যবরুধ্য ধীরো
    লব্ধোপশান্তির্বিরমেত কৃত্যাৎ ॥ ১৬ ॥

  • অনুবাদ : তারপর , যোগীর কর্তব্য হচ্ছে তাঁর নির্মল বুদ্ধির দ্বারা তাঁর মনকে আত্মায় লীন করা এবং তারপর আত্মাকে পরমাত্মায় বিলীন করা । তাঁর ফলে পুর্ণরূপে তৃপ্ত জীব তৃপ্তির পরম অবস্থা লাভ করে অন্য সমস্ত কার্যকলাপ থেকে বিরত হন ।
  • তাৎপর্যঃ- মনের কাজ হচ্ছে চিন্তা , অনুভব এবং ইচ্ছা । মন যখন জড়ের দ্বারা প্রভাবিত থাকে , অথবা জড় বিষয়ে মগ্ন থাকে , তখন তা জড় জ্ঞানের প্রগতি সাধনে সক্রিয় থেকে আণবিক অস্ত্র ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক আবিষ্কারে ব্যস্ত থাকে । কিন্তু মন যখন আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণার দ্বারা সক্রিয় হয় , তখন তা জীবনের পূর্ণ আনন্দ এবং নিত্যত্ব লাভের জন্য ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশ্চর্যজনকভাবে ক্রিয়া করে । তাই মনকে সত্ত নির্মল বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা কর্তব্য । পূর্ণবুদ্ধি হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করা । মানুষের কর্তব্য তার বুদ্ধিমত্তা সহকারে হৃদয়ঙ্গম করা যে , সর্ব অবস্থাতেই সে হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের নিত্য সেবক । প্রকৃতির প্রভাবে প্রতিটি বদ্ধজীব কাম , ক্রোধ , লোভ , মোহ , মদ এবং মাৎসর্যের দাসত্ব করছে । এই সমস্ত প্রবৃত্তির আদেশগুলি পালন করা সত্ত্বেও সে সর্বদা অসুখী । কেউ যখন যথাযথভাবে তা অনুভব করে এবং তার বুদ্ধিকে নিরন্তর দুঃখ - দুর্দশার কারণ সম্বন্ধে অবগত হওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত করে , তখন উপযুক্ত সুত্রের মাধ্যমে সে পরমেশ্বর ভগবানের প্রেমময়ী সেবার সন্ধান পায় । উপরিউক্ত দেহের বিভিন্ন প্রবৃত্তিগুলির জড় সেবা করার পরিবর্তে জীবের বুদ্ধিমত্তা তখন দুঃখজনক জড়া প্রকৃতির মোহ থেকে মুক্ত হয়ে নির্মল বুদ্ধিমত্তার দ্বারা পরিচালিত হয়ে পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় যুক্ত হয় । অপ্রাকৃত ভগবান ও তার অপ্রাকৃত সেবা অভিন্ন , সেটি হচ্ছে অপ্রাকৃত স্তরের বৈশিষ্ট্য । তাই প্রেমময়ী সেবার প্রভাবে নির্মল বুদ্ধিমত্তা এবং মন ভগবানে বিলীন হয় , এবং তার ফলে জীব তখন আর দ্রষ্টা থাকে না , পক্ষান্তরে সে অপ্রাকৃত স্তরে ভগবানের কাছে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে । ভগবান যখন সরাসরিভাবে জীবকে দর্শন করেন এবং তার বাসনা অনুসারে কার্য করতে নির্দেশ দেন , তখন জীব পূর্ণরূপে তার নির্দেশ পালন করে এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তি সাধনের সব রকম ভ্রান্ত প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করে। সম্পূর্ণরূপে নির্মল স্তরে জীব সব রকম জড় কামনা - বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে লব্ধোপশান্তির স্তর প্রাপ্ত হয়।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।