শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ২৩
    যোগেশ্বরাণাং গতিমাহুরন্ত-
    বহিস্ত্রিলোক্যাঃ পবনান্তরাত্মনাম্
    ন কর্মভিস্তাং গতিমাপ্নুবন্তি
    বিদ্যাতপোযোগসমাধিভাজাম্ ৷৷ ২৩ ৷৷

  • অনুবাদ : পরমার্থবাদীরা চিন্ময় শরীর লাভের প্রয়াসী । ভগবদ্ভক্তি, তপশ্চর্যা, যোগ এবং দিব্য জ্ঞানের প্রভাবে তাদের গতি জড় জগতের অন্তরে এবং বাহিরে অপ্রতিহত । সকাম কর্মীরা , অথবা জড়বাদীরা কখনোই সেই প্রকার অপ্রতিহত গতিতে গমনাগমন করতে পারে না ।
  • তাৎপর্যঃ- যন্ত্রযানের সাহায্যে জড় বৈজ্ঞানিকদের অন্যান্য গ্রহে যাওয়ার প্রচেষ্টা কেবল একটি ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র । পুণ্যকর্মের প্রভাবে যদিও মানুষ স্বর্গলোকে যেতে পারে , কিন্তু এই প্রকার স্থুল অথবা সূক্ষ্ম যান্ত্রিক অথবা জাগতিক প্রয়াসের মাধ্যমে স্বর্গলোক বা জনলোকের ঊর্ধ্বে তারা যেতে পারে না । পরমার্থবাদীরা , যারা স্থূল জড়দেহের প্রভাব থেকে মুক্ত , তারা এই জড় জগতের ভিতরে এবং বাহিরে সর্বত্র গমনাগমন করতে পারেন । জড় জগতের মধ্যে তারা মহর্লোক , জনলোক , তপলোক ও সত্যলোকের সর্বত্র এবং জড় জগতের ঊর্ধ্বে বৈকুণ্ঠলোকসমূহে অপ্রতিহতভাবে বিচরণ করতে পারেন । এই ধরনের অপ্রাকৃত মহাকাশচারীর এক দৃষ্টান্ত হচ্ছেন নারদ মুনি , এবং দুর্বাসা মুনি হচ্ছেন এই ধরনের একজন যোগী । ভগবদ্ভক্তি , তপশ্চর্যা , যোগসিদ্ধি এবং দিব্য জ্ঞানের প্রভাবে সকলেই নারদ মুনি অথবা দুর্বাসা মুনির মতো বিচরণ করতে পারেন । কথিত আছে , দুর্বাসা মুনি মাত্র এক বছরের মধ্যে সমগ্র জড় জগৎ এবং চিন্ময় জগতের কিয়দংশ পরিভ্রমণ করেছিলেন । স্থূল অথবা সূক্ষ্ম জড়বাদীরা কখনই পরমার্থবাদীদের গতি লাভ করতে পারবে না ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।