শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ২৬
    অথো অনন্তস্য মুখানলেন
    দন্দহ্যমানং স নিরীক্ষ্য বিশ্বম্ ৷
    নির্যাতি সিদ্ধেশ্বর যুষ্টধিষ্ণ্যং
    যদ্দ্বৈপরার্দ্ধ্যং তদু পারমেষ্ঠ্যম্ ৷৷ ২৬ ৷৷

  • অনুবাদ : কল্পান্তে যখন অনন্তদেবের মুখাগ্নির দ্বারা লোকত্রয় দগ্ধ হয়, তখন তিনি শুদ্ধ মহাত্মাদের বিমানে করে সত্যলোকে গমন করেন । সত্যলোকের আয়ুষ্কাল ১,৫৪,৮০,০০,০০,০০,০০০ সৌর বৎসর ।
  • তাৎপর্যঃ- এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে , বিশুদ্ধ মহাত্মাদের আবাস মহর্লোকের অধিবাসীদের আয়ুষ্কাল ৪,৩০,০০,০০,০০০ সৌর বৎসর । তারা বিশেষ বিমানে চড়ে ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ লোক সত্যলোকে যেতে পারেন । এইভাবে শ্রীমদ্ভাগবতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে এখান থেকে বহু বহু দূরে অন্যান্য গ্রহ রয়েছে , যেখানে আমাদের বিমান এবং অন্তরীক্ষযানসমূহ কল্পনাতীত গতিতে ধাবিত হয়েও পৌছাতে পারবে না । শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনা শ্রীধর স্বামী , রামানুজাচার্য এবং বল্লভাচার্য প্রমুখ মহান্ আচার্যেরা স্বীকার করে গেছেন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বিশেষভাবে শ্রীমদ্ভাগবতকে নির্মল বৈদিক প্রমাণ বলে স্বীকার করে গেছেন এবং সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন কোন মানুষই শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনা অগ্রাহ্য করতে পারেন না , বিশেষ করে যখন তা শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর মতো আত্মজ্ঞানী মহাপুরুষ তার মহান্ পিতা বৈদিক শাস্ত্রসমূহের প্রণেতা শ্রীল ব্যাসদেবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বর্ণনা করেছেন । ভগবানের সৃষ্টিতে বহু আশ্চর্যজনক বিষয় রয়েছে , যা আমরা প্রত্যহ স্বচক্ষে দর্শন করতে পারি , অথচ জড় বিজ্ঞানের সাহায্যে সেখানে পৌছাতে পারি না । তাই বিজ্ঞানের সীমিত গণ্ডীর অতীত যা কিছু তা সীমিত জড় বিজ্ঞানের ভিত্তিতে জানবার চেষ্টা করা উচিত নয় । সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান এবং বৈদিক জ্ঞান উভয়ই স্বীকার্য , কেননা তারা দুটি মতামতের কোনটিরই সত্যতা যাচাই করতে পারে না । তাই সাধারণ লোকের কাছে বিকল্প পন্থা হচ্ছে — হয় তাদের একটিকে গ্রহণ করা অথবা দুটিকেই গ্রহণ করা । তবে বৈদিক জ্ঞান অধিক প্রামাণিক , কেননা তা সেই সমস্ত মহান্ আচার্যদের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে , যারা কেবল শ্রদ্ধাবান এবং বিজ্ঞ ব্যক্তিই নন , বদ্ধ জীবের সব কিছু ভ্রান্তি থেকেও সম্পূর্ণরূপে মুক্ত । কিন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা হচ্ছে বদ্ধ জীব , যাদের ভুল করার প্রবণতা রয়েছে । তাই শ্রীমদ্ভাগবত আদি বৈদিক শাস্ত্রের প্রামাণিকতা গ্রহণ করাই শ্রেয় , যা সমস্ত মহান্ আচার্যেরা স্বীকার করে গেছেন।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।